

পবিত্র ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছেন ,ঢাকাই সিনেমার আলোচিত তারকা দম্পতি চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল ও চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা।
বুধবার রাতে সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তারা। সেখানে আগামী দশদিন থাকবেন এ তারকা দম্পতি।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে এক ভিডিও পোস্ট করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা ও প্রযোজক এমডি ইকবাল। ওই ভিডিওতে সবার কাছে দোয়া চান অনন্ত জলিল ও বর্ষা।
উল্লেখ্য, গত রোজার ঈদে ‘কিল হিম’ সিনেমার মাধ্যমে সবশেষ পর্দায় দেখা যায় অনন্ত জলিল ও বর্ষাকে। এমডি ইকবাল পরিচালিত এ সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে মুক্তি অপেক্ষায় রয়েছে এ দম্প্রতির ‘নেত্রী দ্যা লিডার’ সিনেমাটি।
মন্তব্য করুন


একমাত্র ছেলে শাহীম মুহাম্মদ রাজ্যকে নিয়ে ফেসবুকে ফের আবেগঘন পোস্ট করেছেন নায়িকা পরীমণি।
জানালেন, ছেলেকে নিয়ে বেশ চিন্তিত তিনি- কয়েক দিন ধরে রাজ্যকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন। জ্বরে আক্রান্ত ছোট্ট রাজ্যর হাতে ক্যানোলা পরানো একটি ছবি পোস্ট করে শুক্রবার রাতে ফেসবুকে এমনটাই জানান পরীমণি।
তিনি লিখেছেন, আমার পদ্মফুল, মনে পড়ে তোমার প্রথম ভ্যাকসিন দেওয়ার দিন আমি ভয়ে, কষ্টে কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলাম। তখন আমাকে সামলানোর কেউ ছিল বলেই হয়তো কাঁদতেও সহজ লাগছিল আমার। আজ তোমার হাতে ক্যানোলা পরানো হলো তোমার ব্লাড টেস্টের জন্য। আমি একা তোমাকে বুকে ধরে সাহস জোগাই। সামনের এমন আরও কঠিন সময়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি। অনেক কঠিনরে মোকাবিলা করব বলে। আমি জানি তুমি আমার অনেক স্ট্রং বয়। মায়ের সমস্ত বিশ্বাস জুড়ে থেকো। আর আমাকে এমন করে আম্বা বলেই ডেকো।
আমি জানি এই আম্বাটা কী। আমি তোমার আম্মাও, আব্বাও। বাচ্চা আমার, আমি তো এই দিনগুলোর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এরপর স্যাড ইমোজি দিয়ে তার নিচে পরীমনি লিখেছেন, কিছু চিঠি খোলাই হয়...।
মন্তব্য করুন


জিন্দেগি না মিলেগি
দোবারা সিনেমায় একটি গানের শুটিংয়ে ১৬ টন টমেটো লেগেছিল। সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল
২০১১ সালে। জয়া আখতার পরিচালিত সিনেমা এটি। যেখানে ‘এক জুনুন’ গানে হৃতিক রোশন,
ক্যাটরিনা কাইফ, ফারহান আখতার ও অভয় দেওল নাচে মেতেছিলেন! সিনেমাতে প্রদর্শিত সেই
গানটি টোমাটিনা ফেস্টিভ্যালের কারণে বেশ চর্চিত হয়েছিল দর্শকমহলে!
মুক্তির এত যুগ পরও এখনো যেন সিনেমাটিতে
নতুনত্বের ছোঁয়া মেলে!
সিনেমাটির মুক্তির সময়
প্রযোজক রিতেশ সিধওয়ানি বলেছিলেন, উৎসবটিকে বাস্তব সম্মত দেখাতে সেই সময় তাদের
প্রচুর টমেটো পর্তুগাল থেকে আমদানি করতে হয়েছিল ।
১৬ টন টমেটো পর্তুগাল থেকে আমদানি করতে হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল। অভিনয়কে
ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়ার পর ইচ্ছে ছিল সিনেমায় কাজ করার। কিন্তু বিরূপ
অভিজ্ঞতার কারণে পরবর্তীতে তা আর করা হয়ে ওঠেনি।
ক্যারিয়ারের শুরুতে
সুযোগ পেয়ে যান আকরাম খানের ‘ঘাসফুল’ ছবিতে। এরপর বেশ কিছু সিনেমার প্রস্তাব পেলেও
নিয়মিত হননি বড় পর্দায়।
তানিয়া বৃষ্টি বলেন, সিনেমায়
অনেক প্রস্তাব পেলেও স্বপ্নটা এগিয়ে নিতে পারিনি। তখন মনে হয়েছে, ওই সময়টাতে ওই
জায়গা আমার জন্য নয়। যে কারণে প্রস্তাব গ্রহণ করিনি। আমার বড় পর্দার নায়িকা হওয়ার
খুব ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সেসব প্রস্তাব নিতে পারছিলাম না। সেই কারণে আমার মন খারাপ
ছিল।
তার কথায়, আমি একটা
প্ল্যাটফর্ম থেকে আসছি, কাজ করব। সেই সুযোগ নাটকে সহজেই হয়ে যায়। কিন্তু সিনেমায়
একটু কঠিন। সিনেমার প্রস্তাবে শুনতে হয়েছে, কাজের বিপরীতে কিছু চায়। সবাই না, এই
কথাগুলো কেউ কেউ বলেছেন। তাদের প্রস্তাবে মন খারাপ হতো। হয়তো তারা যথাযথ
প্রতিষ্ঠানের ছিলেন না এবং উদ্দেশ্যও ভালো ছিল না।
আগামী বৃহস্পতিবার
বাংলাভিশনে প্রচারিত হবে ‘ফ্রিল্যান্স ধান্দাবাজ’ নামের একটি নাটক। এস আর
মজুমদারের পরিচালনায় এতে তার বিপরীতে দেখা যাবে নিলয় আলমগীরকে।
মন্তব্য করুন


রাতে রহস্যজনক স্ট্যাটাস আর সকালে অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে শাড়ি দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল ভারতীয় অভিনেত্রী অমৃতা পান্ডের মরদেহ।
অমৃতা পান্ডে ‘অন্নপূর্ণা’ নামে ইন্ডাস্ট্রিতে
পরিচিত ছিলেন। বিহারের ভাগলপুরের জোগসার থানা এলাকার আদমপুর জাহাজ ঘাটে অবস্থিত একটি
অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় অভিনেত্রীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। অভিনেত্রীর
মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ
উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তবে কী কারণে অমৃতা আত্মহত্যা করেছেন, তা এখনো
জানা যায়নি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে,
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অমৃতা তাঁর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি
নোট শেয়ার করেছিলেন।
পুলিশ রিপোর্ট অনুসারে, হোয়াটসঅ্যাপে
অমৃতার নোটে লেখা ছিল, ‘কেন দুই নৌকায় ভাসছিল জীবন, নৌকা ডুবিয়ে জীবন সহজ করে দিয়েছি।’
রিপোর্ট বলছে, অমৃতা তাঁর স্বামীর সঙ্গে
মুম্বাইয়ে থাকতেন। কিন্তু তিনি সম্প্রতি ভাগলপুরে একটি বিয়ের জন্য তাঁর আত্মীয়দের
সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন অমৃতা এবং তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ
স্ট্যাটাসে সেই নোটটি পোস্ট করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে তাঁর ঘরে মৃত
অবস্থায় পাওয়া যায়।
মন্তব্য করুন


হিমু, কুমিল্লা:
আজ ১৯ সেপ্টেম্বর স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ্ এর ৫২ তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন প্রিয় স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ্। সালমান শাহ্ বেঁচে থাকলে আজ ৫৩ বছরে পা রাখতেন। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো তোমার জন্য।
সালমান শাহ্ এর জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, সিলেটের দড়িয়াপাড়ায়। তার পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। সিনেমার জন্যই তিনি সালমান শাহ্ নামটি ধারণ করেছিলেন।
সর্বকালের সেরা বাংলা সিনেমার স্টাইলিশ নায়ক হলো সালমান শাহ্ - কারণ তিনি যুগে চেয়ে ও কয়েক ধাপ এগিয়ে ছিলেন। সালমান শাহ্ এর স্টাইল, তাকানো, বাচনভঙ্গি কথা বলার ধরণ, এক কথায় তার সবকিছুই মানুষের মন কেড়ে নেওয়া মতোই ছিল। অল্প সময়ে যে তিনি বাংলা কোটি ভক্তের মন জয় করে নিয়েছে তা আর বলার বাকি রাখে না।
সালমান এই যুগেরও অভিনেতাদের আইডল। কিন্তু ১৯ শতকে করে যাওয়া সেই সিনেমা আজও মানুষ টিভির সামনে মনোযোগ দিয়ে দেখে একেই বলে ভক্তের ভালোবাসা।
আমাদের একজন সালমান শাহ্ ছিলো! যে কি না তাঁর সময়ের চেয়েও কয়েক যুগ এগিয়ে ছিলো! যার মাঝে অভিনয় আর ব্যাক্তিতের সব গুলো গুণ-ই ছিলো পরিপূর্ণ। তার মধ্যে অন্যতম বিশেষ একটা গুণ হলো তাঁর নজরকাড়া স্টাইল! যা আজও অন্য কারও মাঝে দেখা যায় না! সবাই মুগ্ধ হয়ে যায় তাঁর স্টাইল দেখে! এই জন্যই সালমান হয়তো দিন দিন বেশি প্রিয় হয়ে উঠছে নতুন যুগের নতুন প্রজন্মের কাছে।
এই নাম সহজে বাংলার মানুষের মধ্যে থেকে মুছে যাবে না। সে ছিলো,সে এখনো আছে বাংলার মানুষের মণি কোঠায় এই ভাবেই বেঁচে থাকবে আজীবন।
মাত্র ৩ বছরের অভিনয় জীবনে সর্বমোট ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। ২৭ বছর নেই, অথচ ২৭ বছর পরে আজও সিনেমায়, স্মৃতিতে, ফ্যাশনে স্টাইল আইকন হিসেবে বাঙালীর মনে জ্বলজ্বল করছেন।
সকল মানুষের ভালোবাসা পায় এমন মানুষ খুব কমই জন্ম নেয়। সালমান এমন মানুষ যে, যাকে সকলেই ভালবাসে।
এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আজও পূরণ হয়নি। এই দেশে চলচ্চিত্র প্রেমীরা যত দিন বেঁচে থাকবে, সালমান শাহ্ তত দিন বেঁচে থাকবেন তাদের হৃদয়ে।
নায়ক হিসেবে মৃত্যুর ২৭ বছর পরেও এমন অর্জন বিশ্বের বুকে আর কারো নেই। শুভ জন্মদিনে সালমান শাহ্ কে গভীর ভালোবাসা।
মন্তব্য করুন


এমন রহস্যময় ছবি ও ক্যাপশন দেখে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে । কারণ ছবিতে দেখা যায়, ক্যাজুয়াল কালো এবং সাদা পোশাকে স্ক্রিপ্ট পড়ছেন এই অভিনেত্রী।
এছাড়া সানি লিওন তার ‘কেনেডি’ সিনেমাতে চার্লি চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য প্রচুর প্রশংসা পেয়েছেন। ‘কেনেডি’ সিনেমাটি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৩-এ স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছে এবং কান ২০২৩ সালে মধ্যরাতের স্ক্রীনিংয়ের সময় প্রিমিয়ার হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


টলিউডের
জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা ব্যানার্জি বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলেন। অভিনেত্রীর বাড়িতে
আগুন লেগে গিয়েছিল। তবে তার ও পরিবারের কারো ক্ষতি হয়নি। এই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে
জানিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা ব্যানার্জি।
অভিনেত্রী
পূজা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে আগুন লেগে যায় তার বাড়িতে। তবে
বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন পূজা ও তার পরিবার।
তবে
একাধিক ভারতীয় প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে।
ইনস্টাগ্রাম
স্টোরিতে পূজা লিখেছেন, একটুর জন্য আজ বেঁচে গেলাম। বাড়িতে আগুন লেগে গিয়েছিল। ভগবানের
অশেষ কৃপা যে আমাকে আর আমার পরিবারকে এই মারাত্মক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছে।
টলিউডের একসময়ের ব্যস্ত
অভিনেত্রী পূজা ব্যানার্জি অনেক দিন বড় পর্দা থেকে দূরেই ছিলেন। বাংলার পাশাপাশি হিন্দি
ছবিতেও কাজ করেছেন পূজা।
মন্তব্য করুন


টালিউড
অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জী ২০১২ সালে ‘আওয়ারা’ সিনেমায় নায়ক জিৎয়ের বিপরীতে অভিনয়
করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। এরপর একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় দেখা গেছে সায়ন্তিকাকে।
সায়ন্তিকা অভিনয়ের বাইরে তার নাচের জন্যও ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে থাকেন। তাকে অভিনয়ের
পাশাপাশি শারীরিক চর্চায়ও বেশ সক্রিয় দেখা যায়।
সম্প্রতি
বাংলাদেশের ২টি সিনেমার প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন সায়ন্তিকা ব্যানার্জী।
বাংলাদেশের
এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সায়ন্তিকার বিয়ের বিষয়ে কথা বলেন।
অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জী জানান, ভালো পাত্র পেলেই বিয়ে করবেন তিনি। তবে বিয়ের আগে তো পাত্র প্রয়োজন। তিনি তার মায়ের নম্বর সবাইকে দিয়ে দেবেন, যে ইচ্ছুক সে যোগাযোগ করতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশের এই দুই সিনেমার চরিত্র নিয়ে ব্যস্ত সায়ন্তিকা ব্যানার্জী।
মন্তব্য করুন


রাঘব-পরিণীতির প্রেম ছিল অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। দুজন দুজনের প্রেমে মজলেও তা একটিবারও মুখ ফুটে স্বীকার করেননি। অবশেষে আংটি বদল হতেই প্রকাশ্যে আসে তাদের সম্পর্কটি। বাগদানের পর তাদের প্রেম নিয়ে মুখ খুললেন পরিণীতি।
সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে পরিণীতি লেখেন, আমাদের সম্পর্ক ও বাগদান নিয়ে যেভাবে ইতিবাচক মনোভাব ছিল সবার, তা দেখে সত্য়িই আপ্লুত আমি ও রাধব। আপনাদের এরকম সঙ্গে থাকা আমাদের শক্তি দিয়েছে। অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
‘আমাদের দুজনের পৃথিবীটা সম্পূর্ণ আলাদা। একেবারে বিপরীতধর্মী কর্মক্ষেত্র থেকে এসেছি। তবে আমাদের সম্পর্ক খুব অটুট। আর এই কারণেই খুব বড় পরিবারকে পেয়েছি আমরা। যা কিনা আমাদের সম্পর্কের ভিত।’
পোস্টে আত্মীয়-পরিজন, সহকর্মী ও বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী।
মন্তব্য করুন


এই পুরো গ্রামটাই হচ্ছে আসলে পুতুলের গ্রাম। পুতুলরাই সড়ক ধরে হাঁটার ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে; দোকানে বসে আছে পুতুল দোকানি; বাড়ির উঠানেও পুতুল এবং এমনকি স্কুলের সারি সারি বেঞ্চে বসে থাকা সব বাচ্চা পুতুল। এই গ্রামে কি জীবিত কেউ থাকে না? অবশ্যই থাকে তবে সঙ্গে নিয়ে প্রাণহীন একঝাঁক পুতুল। আজকের আয়োজনটা এই অদ্ভুত আর রহস্যেঘেরা গ্রামটাকে কেন্দ্র করেই।
ছোট্ট গ্রাম নাগোরো। যে গ্রামে এককালে প্রায় ৩/৪০০ পরিবারের বাস ছিল। কিন্তু, এখন মাত্র ১৫ থেকে ১৬ জন মানুষ থাকেন সেখানে। কারণ কি? গত শতকের পঞ্চাশের দশকে গ্রামটিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে একটি বাঁধ নির্মান করা হয়। এরপর থেকেই গ্রামে পানির অভাব দেখা দেয়। বেশীরভাগ মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে শুরু করে। রয়ে যান হাতে গোণা কয়েকজন কেবল।
জনসংখ্যা ধীরে ধীরে কমতেই থাকে। গ্রামটিতে শেষ শিশুর জন্ম হয়েছিল ২০০১ সালে। গ্রামটিতে এখন কোনো দোকান নেই। নেই কোনো হাসপাতালও। সামান্য অসুখ হলেও শহরে যেতে হয় বাসিন্দাদের। এক সমীক্ষায় জানা যায়, ২০১৪ সালে গ্রামটিতে মাত্র ৩৭ জন বাস করতো। যা ২০১৫ সালে কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৩৫ জনে। এভাবেই ক্রমাগত কমতে থাকে গ্রামের লোকসংখ্যা।
গ্রামের নাম – পুতুলের গ্রাম! কারণ গ্রামের নির্জীব কিছু বাসিন্দা আছে। তারা সকলেই পুতুল! পুরো গ্রাম জুড়েই এদের দেখা পাওয়া যায়।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে পুতুল, দোকানে পুতুল, স্কুলে পুতুল, বাড়ির উঠানে পুতুল! সবখানে পুতুল! পুরো গ্রামটিকে ভরে ফেলা হয়েছে পুতুল দিয়ে। জীবিত বাসিন্দাদের সাথে ওরাও হয়ে উঠেছে এই গ্রামেরই নতুন বাসিন্দা। কিন্তু গ্রামটি পুতুলদের গ্রাম হয়ে উঠলো কী করে? এর জন্য দায়ী সুকিমি আইয়ানো নামের এক নারী।
যিনি বহুকাল আগে গ্রাম ছেড়ে পড়াশোনার জন্য ওসাকায় চলে গিয়েছিলেন। তারপরে সেখানেই বিয়ে করে সংসার পাতেন। ২০০২ সালে নিজের অসুস্থ বাবার দেখাশোনা করার জন্য ফিরে আসেন তিনি গ্রামে। এসে অবাক হয়ে যান! তিনি গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়েও গ্রামে প্রায় ৩০০ মানুষ ছিল। কিন্তু তখন গ্রামের লোকসংখ্যা পঞ্চাশেরও নিচে নেমে গিয়েছিল। হতাশ হয়ে যান সুকিমি। কিন্তু কী আর করা? নিজের বাবার দেখাশোনা আর মাঝে মাঝে টুকটাক ক্ষেতে কাজ করা শুরু করেন তিনি।
২০০৩ সালের কথা। সুকিমির বাবার একটি মূলা আর মটরশুঁটির ক্ষেত ছিল। সেই ক্ষেতের দেখাশোনা করতে লাগলেন সুকিমি। কিন্তু গ্রামে কাক আর অন্যান্য পাখিদের উৎপাত বাড়তে লাগলো দিনকে দিন। নীরব আর জনবিরল জায়গা বলে পাখিরা নিজের আবাসস্থল বানাতে শুরু করলো। সমস্যা বাঁধল, পাখিগুলোর ব্যাপক অত্যাচারে। কোনো গাছের চারা বের হলেই পাখিরা চারাগুলো নষ্ট করে দিতো। বিরক্ত হয়ে একদিন সুকিমি একটি কাকতাড়ুয়া বানালেন। ওটার মুখটা বানালের নিজের বাবার মুখের আদলে! তারপর দাঁড় করিয়ে দিলেন ক্ষেতের ঠিক মাঝ বরাবর।
কাকতাড়ুয়াটাকে মানুষ ভেবে ভয়ে আর এলো না পাখিগুলো। ব্যাপারটা সুকিমিকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করলো। পুতুল গ্রামের শুরুটা হয়েছিল এভাবেই। মৃত মানুষদের স্মরণে একের পর এক পুতুল বানাতে লাগলেন তিনি। প্রথম পুতুলটা বানালেন নিজের এক মৃত প্রতিবেশীর আদলে। যার সাথে ছোটবেলায় খেলতেন তিনি, তারপর ওটাকে বসিয়ে দিলেন সেই প্রতিবেশীর বাড়িতে। ধীরে ধীরে পুতুলে ভরে যেতে লাগলো গ্রামটি।
গ্রামের অন্য বাসিন্দারাও সুকিমির এই বিচিত্র শখে বেশ উৎসাহই দিতে লাগলেন। ফাঁকা গ্রামে পুতুলগুলোর উপস্থিতি উনাদের মন্দ লাগতো না। এভাবেই চলতে লাগলো। ধীরে ধীরে আলোচিত হয়ে উঠতে লাগলো নাগোরো গ্রামের পুতুলগুলো।
এভাবেই কেটে গেল নয়টি বছর। ২০১২ সালের কথা। গ্রামের স্কুলে তখন মাত্র দুজন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের স্কুলের পড়াশোনাও একটা পর্যায়ে গিয়ে শেষ হলো! উচ্চ শিক্ষার আশায় শহরের দিকে পাড়ি দিল ওরা। স্কুল রয়ে গেল ফাঁকা। কোনো ছাত্র-ছাত্রী নেই। তাই বন্ধ হয়ে গেল গ্রামের একমাত্র স্কুলটিও।
ওই স্কুলে সুকিমিও ছোটবেলাতে পড়তেন। নিজের সহপাঠীদের চেহারা ভেবে ভেবে তিনি পুতুল বানাতে শুরু করলেন। পরিচিত শিক্ষকদেরও পুতুল বানালেন। সেগুলোকে বই-খাতা সহকারে বসিয়ে দিলেন ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীকক্ষে। ধীরে ধীরে প্রতিটি শ্রেণীকক্ষই ভরে উঠলো পুতুলে। যেন সবাই শান্তমনে বসে ক্লাস করছে।
কিন্তু সব কিছু নীবর! তাই, গ্রামের প্রতিটি দোকান খুলে দেওয়া দেওয়া হলো। সেখানেও বসিয়ে দেওয়া হলো পুতুলদের। নেই কোনো মালামাল, নেই কোনো খদ্দের, শুধু আছে পুতুল!
জানা যায়, গ্রামের শেষ বিয়েটি হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। যে জায়গাতে বিয়ের উৎসব হতো সেখানে দুটো বর আর বউ পুতুল বানিয়ে বসিয়ে দেন সুকিমি। আশেপাশে বসে আছে নিমন্ত্রিত অতিথিরা। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাদকেরা। যেন পুতুল বিয়ে হচ্ছে সেখানটাতে।
গ্রামটি আবার ভরে উঠলো। কিন্তু নেই কোনো কোলাহল। নেই কোনো শব্দ। এভাবেই কেটে গেল আরো দুটি বছর। ২০১৪ সালে জার্মান তথ্যচিত্র নির্মাতা ফ্রিটজ স্কুম্যান এই গ্রামটি নিয়ে তৈরী করেন তাঁর বিখ্যাত তথ্যচিত্র ‘ভ্যালি অফ ডলস’। এরপর থেকেই গোটা পৃথিবীতে নাগোরো পরিচিত হয়ে ওঠে ‘পুতুলদের গ্রাম’ হিসাবে। দেশ বিদেশ থেকে পর্যটকেরা আসেন শুধুমাত্র এই গ্রামটি দেখতে।
পর্যটকেরা অবাক না হয়ে পারে না। গাছের নিচে কেউ বসে আছে, পার্কে প্রেমিক-প্রেমিকা, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা…সবকিছুকে কেমন যেন জীবন্ত মনে হয় তাদের কাছে। সুকিমির কাজ এতই নিখুঁত যে তারা চমকে উঠতে বাধ্য হন! পুতুল বানানোর ক্লাসও নিয়ে থাকেন সুকিমি। বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি বুধবার তিনি পর্যটকদের দেখান যে কী করে পুতুল বানাতে হয়। যদিও পুতুল বানানোর সরঞ্জাম শিক্ষার্থীকেই বহন করতে হয়।
বছরের অক্টোবর মাসে গ্রামের সবগুলো পুতুল নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে এমনটা হয়ে আসছে। এই সময়েই সবচেয়ে বেশী পর্যটক আসে গ্রামটিতে। আপনি চাইলে সুকিমির বাড়িতেও যেতে পারেন। তার বাবা এখনো জীবিত। ভদ্রলোকের বয়স এখন ৯০। নাগেরোর সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি তিনিই।
মোটামুটি এই ছিল নাগোরোর পুতুল গ্রামের গল্প।
মন্তব্য করুন