

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন এবং হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা কিংবদন্তি অ্যাগনেস কেলেতি ১০৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার প্রেস কর্মকর্তা তামাস রোখ। তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কেলেতি। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে।
এছাড়া কেলেতির ছেলে রাফায়েল বলেন, 'মায়ের জন্য আমরা প্রার্থনা করি। তার জীবনীশক্তি ছিল অসাধারণ।' হাঙ্গেরির গণমাধ্যম নেমজেতি স্পোর্টের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ জানুয়ারি তাকে সমাহিত করা হবে। কারণ এই দিনটি অ্যাগনেসের জন্য বিশেষ দিন, তার জন্মদিন, বেঁচে থাকলে তিনি এ দিনটিতে ১০৪ বছর বয়সে পা রাখতেন।
এ কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদের মৃত্যুতে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'জাতির শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমাদের গর্বিত করেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি শান্তিতে থাকুন।'
এদিকে অ্যাগনেস শুধু ক্রীড়াবিদ হিসেবেই বিখ্যাত নন; বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুঃসময়ে হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা, তারপর অলিম্পিক গৌরব অর্জন করে জীবনে সাফল্যের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেন। হেলসিঙ্কি (১৯৫২) এবং মেলবোর্ন (১৯৫৬) অলিম্পিকে তিনি মোট ১০টি পদক জেতেন, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল সোনা। তবে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন গেমসে চারটি স্বর্ণ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক নারী জিমন্যাস্ট হিসেবে স্বর্ণ জেতার রেকর্ড গড়েন। এছাড়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপেও রয়েছে তার তিনটি পদক। সেই সময় তিনি 'দ্য কুইন অফ জিমনাস্টিকস' অর্থাৎ 'জিমনাস্টিকসের রানী' হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেন। তবে খেলোয়াড়ি জীবনে তার সাফল্য যেমন অনন্য, তেমনি তার জীবনসংগ্রামও অনুপ্রেরণাদায়ক।
বুদাপেস্টের একটি ইহুদি পরিবারে ১৯২১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্ম হয় অ্যাগনেস কেলেতির। মাত্র চার বছর বয়সে জিমন্যাস্টিকসের সঙ্গে তার শুরু হয় পথচলা। ১৬ বছর বয়সে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন এবং ১৯৩৯ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পান। কিন্তু ইহুদি হওয়ার কারণে ১৯৪০ সালের পর থেকে তাকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়। পরে ১৯৪৪ সালে হাঙ্গেরি জার্মান নাৎসি বাহিনীর দখলে চলে যায়, ঐ সময় নিজের পরিচয় লুকিয়ে খ্রিষ্টান নারীর ছদ্মবেশে বেঁচে থাকেন অ্যাগনেস। বাঁচার জন্য জাল নথি তৈরি করে একটি গ্রামে লুকিয়ে থেকে কাজ করতেন। তবে গোপনে ঠিকই অনুশীলন চালিয়ে যান। কিন্তু অ্যাগনেস বেঁচে গেলেও তার বাবা এবং পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য হলোকাস্টের নির্মমতার শিকার হন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সব খারাপ অতীত পেছনে ফেলে ফের খেলাধুলায় ফেরেন অ্যাগনেস। তার পরের গল্পতো সবারই জানা। তার অর্জনের শুরুটা হয় ১৯৪৬ সালে হাঙ্গেরির হয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ জেতার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৭ সালে তিনি সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান জিমন্যাস্টিকস শিরোপা জয় করেন। ১৯৪৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করলেও, গোড়ালিতে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। ১৯৪৯ সালের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসে তিনি চারটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য এবং একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
এ দিকে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন অলিম্পিক শেষে হাঙ্গেরিতে না ফিরে তিনি ইসরাইলে স্থায়ী হন। সেখানে তিনি জিমন্যাস্টিকস কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেন। যদিও পরে খেলাধুলার জন্য জীবন উৎসর্গ করা কেলেতি জীবনের শেষ পর্যায়ে হাঙ্গেরিতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফ্রান্সের সাবেক সাইক্লিস্ট চার্লস কন্তের নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে ১০০ বছর বয়সী।
মন্তব্য করুন


ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরদিন, মিরপুর স্টেডিয়ামে ক্লাব সতীর্থদের কাছ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ পান মুশফিকুর রহিম। ম্যাচ শেষে কেক কেটে তাকে শুভেচ্ছাও জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন দেখা যায়নি। অবসর নেওয়ার দুদিন পর, বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
আজ মিরপুরে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, মুশফিকের জন্য বিশেষ আয়োজনের ভাবনা তাদের আছে। তিনি মুশফিককে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ার পথে ‘নাবিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘এটা (মুশফিককে বিদায়ী সংবর্ধনা) আমরা পরিকল্পনা করব। এটা তো খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা। মুশফিক সম্ভবত দেশের একজন কিংবদন্তি। দীর্ঘ ১৯ বছরের পথপরিক্রমায় বাংলাদেশ ক্রিকেট যে আজকে এই অবস্থায় এসেছে, তার মধ্যে সে অন্যতম একজন নাবিক, যে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে পথ দেখিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করতে পারি, ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সে যে পথটা দেখিয়েছে, তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য তা অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ক্রিকেট বোর্ড অত্যন্ত কৃতজ্ঞচিত্তে তার সব অর্জন স্মরণ করেছি আমরা। বিসিবি থেকে একটা বার্তা দিয়েছি, আমার লেখা ছিল। আমরা চেষ্টা করব, ক্রিকেট বোর্ড থেকে পরিকল্পনা করব কীভাবে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া যায়।’
মন্তব্য করুন


সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকোর সঙ্গে চুক্তির শুরু থেকেই ফিফাকে নিয়ে সমালোচনা চলছে। এবার নারী ফুটবলাররা ফিফাকে এই চুক্তি বাতিল করতে বলেছেন। ইতোমধ্যে ২৪ দেশের ১০০-এর বেশি নারী ফুটবলার একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে তারা ফিফার কাছে আরামকোর সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার ভিভিয়েন মিদিমাও রয়েছেন।
ভিভিয়েন মিদিমা বিবিসি স্পোর্টকে জানিয়েছেন, "আমার মতে, ফুটবলাররা, বিশেষ করে নারী ফুটবলাররা, দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বকে দেখাতে চান পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কী সঠিক। আমি মনে করি, এই স্পনসরশিপ ফিফার জন্য যথার্থ মনে হচ্ছে না। আমাদের নারী ফুটবলারেরাও এ দাবির পক্ষে।"
ফিফার সঙ্গে আরামকোর চুক্তির শুরু থেকেই সৌদি আরবের 'স্পোর্টসওয়াশিং' আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। স্পোর্টসওয়াশিং হল একটি কার্যকলাপ, যেখানে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত বা রাষ্ট্রীয় স্তরের অপকর্ম ঢাকতে খেলাধুলাকে ব্যবহার করা হয়। সৌদি আরব মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারী অধিকার লঙ্ঘন, সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং বাকস্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করার কারণে সমালোচিত।
আরামকো কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদনকারী কর্পোরেট কোম্পানি। মিদিমা বলেন, "ফিফা সবসময় আওয়াজ তোলে যে তারা খেলাটাকে ছড়িয়ে দিতে চায় এবং একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। যদি তাই হয়, তাহলে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী স্পনসরদের সঙ্গে চুক্তি করুক।"
চলতি বছরের এপ্রিলে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত, এবং এটি ২০২৬ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপের স্পনসর হিসেবে কাজ করবে। পরের বছর নারীদের বিশ্বকাপ ফুটবলেও পৃষ্ঠপোষকতা করবে তারা। এছাড়া, আরামকো ফর্মুলা ওয়ানের সঙ্গেও স্পনসরশিপ চুক্তি করেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) অংশীদার।
মন্তব্য করুন


মিয়ানমারে সাবিনাদের অলিম্পিক বাছাইয়ে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই নানা সমালোচনায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সর্বশেষ আজ হাইকোর্ট থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে চার মাসের মধ্যে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগসহ ফুটবল ফেডারেশনের আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করার।
আজ সকালে হাইকোর্ট থেকে এই নির্দেশনা আসার ঘন্টা দু’য়েকের মধ্যে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ফেডারেশনে আসেন। ভবনের নিচেই উপস্থিত সাংবাদিকরা সালাউদ্দিনের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুক্ষণ পর উপস্থিত সবাইকে ডেকে কথা বলবেন বলে জানান। ফেডারেশনে তার কক্ষে উপস্থিত অন্য কর্মকর্তাদেরও তিনি বলেছিলেন মিডিয়ায় এই বিষয়ে কথা বলবেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। সাংবাদিকরা অবশ্য বাফুফে ভবনে অপেক্ষায় থাকেন দীর্ঘক্ষণ। প্রবেশের মতো সালাউদ্দিন বেরিয়ে যাওয়ার পথেও সাংবাদিকদের সামনে পড়েন। তখন পুনরায় তাকে জিঞাসা করলে তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।
সম্প্রতি বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন গণমাধ্যমে কথা বলতে এসেই নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হচ্ছেন তাই এই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার গণমাধ্যমকে বলেন, 'এখনো আমরা নির্দেশনার কোনো কপি পাইনি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর আপনাদেরও অবহিত করা হবে।’
আরও পড়ুন>>> দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত কাজী সালাউদ্দিন
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তার অধীভুক্ত সংস্থাগুলোতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণ করে না। তৃতীয় পক্ষের বড় ধরনের হস্তক্ষেপ থাকলে সেই সংস্থাকে বহিষ্কারও করে। দুদকের প্রতি হাইকোর্টের এই নির্দেশনা ফিফার আইন ও দৃষ্টিতে কেমন এ নিয়েও বাফুফে কর্তারা কিছু বলেননি।
বাফুফেতে দুর্নীতির বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। এর আগে দুদক বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, নির্বাহী সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আবু হোসেনকে চিঠি দিয়েছিল। সেই তদন্ত বেশ কিছু দিন চলার পর কাজী সালাউদ্দিনের তদন্তে কিছু পাওয়া যায়নি বলে চিঠি দিয়ে নিষ্পত্তিও করেছিল।
মন্তব্য করুন


ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন তামিম ইকবাল। হেলিকপ্টার করে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তবে, ডাক্তাররা এখন জানিয়েছেন যে তার অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।
বিসিবি পরিচালক ও মোহামেডানের শীর্ষ কর্মকর্তা মাহবুব আনাম এবং মোহামেডানের ক্রিকেট ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন শিপন জাগোনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, তামিমের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।
সাজ্জাদ হোসেন শিপন আরও জানান, তামিমের হার্টে একটি ব্লক শতভাগ ছিল, যেখানে রিং পরানো হয়েছে। ডাক্তাররা বলেছেন, যদি এই রিং কাজ করে, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রয়েছে, তবে এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি। তাকে এখনই শিফট করার মতো অবস্থায় নেই। পরিস্থিতি উন্নতি হলে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আপাতত তাকে শিফট করার কোনো চিন্তা নেই।
মোহামেডান কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম টিটু জাগোনিউজকে বলেন, ‘তামিমের হার্টে রিং পরানো হয়েছে, তবে তার অবস্থা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। তার জ্ঞান এখনও ফেরেনি। অবস্থার উন্নতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।’
সাভারের বিকেএসপি ৩ নম্বর মাঠে প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান ও শাইনপুকুরের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তামিম ইকবাল। টস করে এসে দলীয় ম্যানেজার ও সাবেক ক্রিকেটার সাজ্জাদ আহমেদ শিপনকে তামিম বলেন, ‘আমার খুব খারাপ লাগছে, বুকে ব্যথা করছে।’
শিপনসহ সতীর্থ ক্রিকেটার এবং কর্মকর্তারা তার অবস্থা দেখে ধারণা করেন যে হয়তো হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। কোনো বিলম্ব না করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয় এবং তাকে স্থানীয় কেপিজে (সাবেক ফজিলাতুন্নেছা) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে তার এনজিওগ্রাম করা হয় এবং হার্টে ব্লক রয়েছে বলে নিশ্চিত হন ডাক্তাররা।
একই সঙ্গে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার জন্য হেলিকপ্টারও ডেকে আনা হয়। কিন্তু তার পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকায় হেলিকপ্টারে তোলা সম্ভব হয়নি।
অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তামিমকে কেপিজে হাসপাতালের সিসিইউতে নেওয়া হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। হাসপাতালে বিসিবি কর্মকর্তা, সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার এবং তামিমের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন এবং হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা কিংবদন্তি অ্যাগনেস কেলেতি ১০৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার প্রেস কর্মকর্তা তামাস রোখ। তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কেলেতি। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে।
এছাড়া কেলেতির ছেলে রাফায়েল বলেন, 'মায়ের জন্য আমরা প্রার্থনা করি। তার জীবনীশক্তি ছিল অসাধারণ।' হাঙ্গেরির গণমাধ্যম নেমজেতি স্পোর্টের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ জানুয়ারি তাকে সমাহিত করা হবে। কারণ এই দিনটি অ্যাগনেসের জন্য বিশেষ দিন, তার জন্মদিন, বেঁচে থাকলে তিনি এ দিনটিতে ১০৪ বছর বয়সে পা রাখতেন।
এ কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদের মৃত্যুতে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'জাতির শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমাদের গর্বিত করেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি শান্তিতে থাকুন।'
এদিকে অ্যাগনেস শুধু ক্রীড়াবিদ হিসেবেই বিখ্যাত নন; বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুঃসময়ে হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা, তারপর অলিম্পিক গৌরব অর্জন করে জীবনে সাফল্যের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেন। হেলসিঙ্কি (১৯৫২) এবং মেলবোর্ন (১৯৫৬) অলিম্পিকে তিনি মোট ১০টি পদক জেতেন, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল সোনা। তবে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন গেমসে চারটি স্বর্ণ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক নারী জিমন্যাস্ট হিসেবে স্বর্ণ জেতার রেকর্ড গড়েন। এছাড়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপেও রয়েছে তার তিনটি পদক। সেই সময় তিনি 'দ্য কুইন অফ জিমনাস্টিকস' অর্থাৎ 'জিমনাস্টিকসের রানী' হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেন। তবে খেলোয়াড়ি জীবনে তার সাফল্য যেমন অনন্য, তেমনি তার জীবনসংগ্রামও অনুপ্রেরণাদায়ক।
বুদাপেস্টের একটি ইহুদি পরিবারে ১৯২১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্ম হয় অ্যাগনেস কেলেতির। মাত্র চার বছর বয়সে জিমন্যাস্টিকসের সঙ্গে তার শুরু হয় পথচলা। ১৬ বছর বয়সে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন এবং ১৯৩৯ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পান। কিন্তু ইহুদি হওয়ার কারণে ১৯৪০ সালের পর থেকে তাকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়। পরে ১৯৪৪ সালে হাঙ্গেরি জার্মান নাৎসি বাহিনীর দখলে চলে যায়, ঐ সময় নিজের পরিচয় লুকিয়ে খ্রিষ্টান নারীর ছদ্মবেশে বেঁচে থাকেন অ্যাগনেস। বাঁচার জন্য জাল নথি তৈরি করে একটি গ্রামে লুকিয়ে থেকে কাজ করতেন। তবে গোপনে ঠিকই অনুশীলন চালিয়ে যান। কিন্তু অ্যাগনেস বেঁচে গেলেও তার বাবা এবং পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য হলোকাস্টের নির্মমতার শিকার হন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সব খারাপ অতীত পেছনে ফেলে ফের খেলাধুলায় ফেরেন অ্যাগনেস। তার পরের গল্পতো সবারই জানা। তার অর্জনের শুরুটা হয় ১৯৪৬ সালে হাঙ্গেরির হয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ জেতার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৭ সালে তিনি সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান জিমন্যাস্টিকস শিরোপা জয় করেন। ১৯৪৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করলেও, গোড়ালিতে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। ১৯৪৯ সালের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসে তিনি চারটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য এবং একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
এ দিকে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন অলিম্পিক শেষে হাঙ্গেরিতে না ফিরে তিনি ইসরাইলে স্থায়ী হন। সেখানে তিনি জিমন্যাস্টিকস কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেন। যদিও পরে খেলাধুলার জন্য জীবন উৎসর্গ করা কেলেতি জীবনের শেষ পর্যায়ে হাঙ্গেরিতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফ্রান্সের সাবেক সাইক্লিস্ট চার্লস কন্তের নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে ১০০ বছর বয়সী।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের দুই টেস্টের জন্য যে দল ঘোষণা করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসার পরই হইচই শুরু হয়ে যায়। কারণ দল থেকে ছিটকে পড়েছেন বাবর আজম। তাকে বিশ্রামের কথা বলে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। আর বন্ধুর খারাপ সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দিলেন ফখর জামান। আর তাতেই বাঁহাতি ওপেনারের ওপর চটে লাল পাক ক্রিকেট বোর্ড।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরে সংঘাতটা লেগেই গেল। গতকাল রোববার পাক বোর্ডের তরফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি দুই টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করা হয়। সেখানেই পাকিস্তানের নয়া নির্বাচক কমিটি ক্রিকেটারদের স্পষ্ট বার্তা দেয়— হয় পারফরম্যান্স কর, নয় সরে দাঁড়াও। বোর্ডের এই অবস্থানের জেরে দল থেকে ছাঁটাই হন বাবর আজম। দলে নেই শাহিন আফ্রিদি ও নাসিম শাহ।
পাক বোর্ডের তরফে মুলতান ও রাওয়ালপিন্ডিতে পরের দুই টেস্টের জন্য যে দল ঘোষণা করা হয়, তা প্রকাশ্যে আসার পরই জানা যায়, দল থেকে বাদ দেওয়া হয় তিন তারকা ক্রিকেটারকে। এর মধ্যে নাম রয়েছে গত এক দশকে পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজমের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফখর জামানের লিখেছেন—খারাপ সময়ে যখন বিরাট কোহলির গড় অত্যন্ত কম ছিল। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রান পায়নি, তখন ভারতীয় বোর্ড কোহলির পাশে দাঁড়িয়েছিল। অথছ বাবর আজমের খারাপ সময় তার পাশে দাঁড়াল না পাকিস্তান বোর্ড— এটা অত্যন্ত খারাপ একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। পাশাপাশি তিনি এও দাবি করে বলেন, ক্রিকেটারদের ছোট না করে বোর্ডের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।
ফখর জামানের ওপর ক্ষুব্ধ পাকিস্তান বোর্ড। যদিও তার পোস্টের পরই পাক ক্রিকেট বোর্ডের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে তার সঙ্গে। পিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘ফখর জামানের পোস্টে বোর্ড একদমই খুশি নয়। যারা এ বিষয়ে দায়িত্বে রয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
পাক বোর্ডসূত্রে জানা গেছে, নতুন যে নির্বাচক কমিটি হয়েছে, তার অন্যতম সদস্য সাবেক অধিনায়ক আজহার আলি। তিনি বাবর আজমের সঙ্গে শনিবারই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। এ ছাড়া আরেক নতুন নির্বাচক আকিব জাভেদ জানিয়েছেন— এ মুহূর্তে ক্রিকেটারদের ফর্মের দিকে আমাদের নজর রাখতে হচ্ছে। বাবর-শাহিনদের বোঝানো হয়েছে, ওদের আত্মবিশ্বাস ফেরার জন্য এবং ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য এই দুই টেস্টে বিশ্রাম প্রয়োজন। আর আমাদের এই সিরিজে যেভাবেই হোক ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
মন্তব্য করুন


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে হট টপিক সাত নম্বর পজিশন। আসন্ন বিশ্বকাপ দলে কে খেলবেন এই পজিশন? এই নিয়েই যেন যতসব যত জল্পনা-কল্পনা। এই পজিশন নিয়ে এবার কথা সাকিব আল হাসানও।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই জায়গার দাবিদার বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। তাই এই সমস্যা সমাধনে মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। তাই সাকিবও বলছেন এমন পরিস্থিতিতে একজন ক্রিকেটারকে বেছে নেওয়া খুব একটা সহজ কাজ হবে না।
সোমবার ইংল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার বলেন, 'একটা জায়গার জন্য ৬-৭ জনের অপশন। সিদ্ধান্তটা খুবই সহজ না। আমি নিশ্চিত বিশ্বকাপের জন্য কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ মাথায় রেখে নির্বাচক, অধিনায়ক, কোচ সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে।'
'আমি আসলে নির্বাচক না, ডিসিশন মেকিংয়ের অংশও না। আমার জন্য বলা মুশকিল। কিন্তু দল নিয়ে আমি খুশি এবং আমি নিশ্চিত যারাই এই দলে থাকবে তারা তাদের জায়গা থেকে ১৭ কোটি মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করবে এবং বাংলাদেশের জন্য সেরাটাই দেয়ার চেষ্টা করবে।'-আরও যোগ করেন সাকিব।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
আগামী মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি জোরদারে প্রতিটি দেশ খেলায় ব্যস্ত।
বাংলাদেশ দল নিজেদের শেষ সময়ের প্রস্তুতি জোরদারে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে দুই ম্যাচ। দুটি ম্যাচে টানা জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের আগে টানা দুই ম্যাচ জয়ের পরও হাতাশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার বলছেন- জিম্বাবুয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো তুলনামূলক দুর্বল দলের সঙ্গে জিতে আত্মবিশ্বাস তেমন পাওয়া যাবে না। তার চেয়ে ভারত-পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের মতো ক্রিকেট পরাশক্তি দলগুলোর সঙ্গে খেলতে পারলে ভালো হতো।
ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সাকিব আল হাসান বলেছেন, জিম্বাবুয়ে আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলে বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখা উচিত নয়। বিশ্বকাপ পুরো আলাদা একটা মঞ্চ, অনেক চাপ থাকে। সেই চাপ কাটিয়ে উঠলেই ভালো পারফরমেন্স হবে। তবে গতবারের থেকে এবারের পারফরমেন্স ভালো করার চেষ্টা তো থাকবেই দলের, সেক্ষেত্রে গ্রুপপর্বে তিনটি ম্যাচ জিততেই হবে।
জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ যেহেতু আমাদের অজানা, তাই সেখানে তাদের বিরুদ্ধে খেলার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু একদম দুর্বল প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে খেলে কখনো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়। গতবার নিউজিল্যান্ড আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ইতোমধ্যেই দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। ১৫ সদ্যসের সেই স্কোয়াডে জায়গা হয়নি কলিন মুনরোর। তাতে খানিকটা অভিমানেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন এই কিউই ওপেনার।
মুনরো বলেন, ‘ব্ল্যাক ক্যাপসের হয়ে খেলা সবসময়ই আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি সেই জার্সিটি পরার চেয়ে অন্য কোনো কিছুতে বেশি গর্বিত বোধ করিনি। এটি সত্য যে, আমি সব ফরম্যাটে ১২৩ বার এটি করতে পেরেছি। তা নিয়ে আমি সর্বদা অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত হবো।’
‘যদিও আমার শেষ ম্যাচের পর বেশ অনেকটা সময় চলে গেছে। তবে আমি কখনোই আশা ছাড়িনি। আমি মনে করেছি, ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ফর্মে এসে জাতীয় ফিরতে পারবো। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ব্ল্যাক ক্যাপস স্কোয়াড ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সেই দরজা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার উপযুক্ত সময় এসেছে।’-যোগ করেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১২৩টি ম্যাচ খেলেছেন মুনরো। যেখানে একটি টেস্ট, ৫৭টি ওয়ানডে ও ৬৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল। সাদা বলের ক্রিকেটে লম্বা সময় দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন এই ওপেনার।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
ইউরো ২০২৪ শুরু হতে এক মাসের কম সময় সময় বাকি। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসরটির আগে ইনজুরিতে পড়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন এই ফরোয়ার্ড।
কেইন অবশ্য এখনও তার ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখেই আছেন। যেখানে বায়ার্ন কোচ টমাস টুখেল শুক্রবার জানিয়েছেন, পিঠের সমস্যায় ভুগছেন কেইন। বুন্ডেসলিগায় শেষ রাউন্ডে শনিবার হফেনহাইমের মাঠে খেলবে বায়ার্ন, ম্যাচটিতে তারকা স্ট্রাইকার খেলতে পারবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন টুখেল।
তারকা এ স্ট্রাইকারকে নিয়ে টুখেল বলেন, ‘ব্যক্তিগত চিকিৎসকের অধীনে হ্যারির চিকিৎসা চলছে। এই অবস্থায় সে যাত্রা করতে পারবে না। মাদ্রিদে ম্যাচেই সে তার সহ্যসীমার শেষ পর্যায়ে ছিল। তার লাম্বার স্পাইন ব্লকেজ, অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে এবং নড়াচড়া করলেই সে ব্যথা অনুভব করছে।’
এর আগে গত সপ্তাহে ভলফসবুর্কের বিপক্ষে লিগ ম্যাচেও খেলতে পারেননি কেইন। ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছিল বায়ার্ন।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে মৌসুমজুড়েই আলো ছড়িয়েছেন কেইন। বুন্ডেসলিগায় চারটি হ্যাটট্রিকসহ মোট ৩৬ গোল করেছেন তিনি। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন ৪৪ গোল, সঙ্গে অ্যাসিস্ট করেছেন ১২টি। তবে দলগত পারফরম্যান্সের বিচারে বায়ার্নের জার্সিতে অভিষেক মৌসুটা একেবারেই ভালো কাটেনি তার। ১১ মৌসুম পর দলটি হারিয়েছে বুন্ডেসলিগার মুকুট, কোনো শিরোপাই জিততে পারেনি তারা।
এদিকে কেইনের এই চোট ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জন্য হতে পারে বড় দুর্ভাবনার। আগামী ১৪ জুন জার্মানিতে অনুষ্ঠেয় ইউরোয় ইংলিশদের শিরোপাস্বপ্ন অনেকটাই এই তারকাকে ঘিরে। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে দলটি।
আগামী মঙ্গলবার দল ঘোষণা করবেন ইংল্যান্ড কোচ গ্যারি সাউথগেট। চোটাক্রান্ত হওয়ার পরও কেইনের দলে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি
মন্তব্য করুন