

স্পোর্টস ডেস্ক:
কোপা আমেরিকার চলতি আসরের শুরু থেকেই ছন্দে নেই আনের্জন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আসরে এখনও পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি ইন্টার মিয়ামির এই তারকা।
চিলির বিপক্ষে খেলতে নেমে ইনজুরিতে পড়েন মেসি। যে কারণে পেরুর বিপক্ষে খেলা হয়নি তার। কোয়ার্টারে ইকুয়েডরের বিপক্ষে খেললেও মেসি ছিলেন না ফর্মে। টাইব্রেকারে পেনাল্টিও মিস করেন।
মেসির এমন ইনজুরি সঙ্গে ফর্ম নিয়ে সমর্থকরা চিন্তিত হলেও চিন্তিত নন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মেসি যদি শতভাগ ফিট নাও থাকেন, তবুও তাকে কানাডার বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ।
মেসির খেলা প্রসঙ্গে কোচ বলেন, আমরা জানি, সে যদি পুরোপুরি ফিট নাও থাকে, তবুও সে দলের জন্য কী দিতে পারে। ৯৯ শতাংশ সময়ে সে সুস্থ থাকে খেলার জন্য। সে সুস্থ না হয়ে খেলতে নামবে, আমার সঙ্গে এমনটা হয়নি কখনো। সে যখনই খেলতে নামে, পুরোপুরি সুস্থ থেকেই খেলতে নামে। আগামীকালকের ম্যাচের জন্যেও সে পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, এটা আমার জন্য একদমই সহজ সিদ্ধান্ত যে, মেসি পুরোপুরি সুস্থ থাকলে পুরো সময় খেলবে এবং কিছুটা ফিট না থাকলে শেষের ৩০ মিনিট খেলবে। সে সুস্থ থাকলে কেন খেলবে না? এটা নিয়ে কি আপনাদের সন্দেহ রয়েছে? আমি দলের কোচ। আমার কোনো সন্দেহ নেই এই ব্যাপারে। সে যদি শতভাগ সুস্থ নাও থাকে, তবুও খেলবে। আমিই এটার দায়িত্ব নিচ্ছি।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
ফ্রেঞ্চ সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে পিএসজি ছাড়ছেন এই খবর বেশ আগেই চাউর হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তার নতুন গন্তব্য হতে যাচ্ছে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ শিরোপাধারী দলে এমবাপ্পে কত নম্বর জার্সি পড়বেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ফরাসি গণমাধ্যম লা পেরিসিয়ানের দাবি, রিয়ালে ১০ নম্বর জার্সি পড়বেন এমবাপ্পে।
রিয়ালের সাবেক খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাড় ভক্ত এমবাপ্পে। তাকে অনুসরণ করেই পিএসজিতে ৭ নম্বর জার্সি পড়েন তিনি। ২০১৮ সালে রিয়াল ছাড়েন রোনালদো।
কিন্তু রিয়ালে রোনালদোর রেখে যাওয়া সাত নম্বর জার্সিটা এমবাপ্পের জন্য পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ, সেখানে সাত নম্বর জার্সিটি পরছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আর সেই জার্সির মান ভালোভাবেই রেখে চলছেন রিয়ালের অন্যতম সেরা এই তারকা।
রিয়ালের হয়ে দশ নম্বর জার্সিতেও খেলে গেছেন বিখ্যাত সব তারকা। হাঙ্গেরির কিংবদন্তি ফুটবলার ফেরেঙ্ক পুসকাস রিয়ালের হয়ে এই নম্বরের জার্সিই গায়ে চাপিয়েছেন। আর এখন রিয়ালে দশ নম্বর জার্সি পরেন ক্রোয়াট তারকা লুকা মদরিচ।
৭ নম্বর জার্সি না পাওয়া নিয়ে এমবাপ্পের অবশ্য কোনো অভিযোগ থাকার কথা নয়। জিদানের এই উত্তরসূরি যে ফ্রান্স দলে ১০ নম্বর জার্সিটাই পরেন!
মন্তব্য করুন


রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মাঠে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই এই ব্রাজিলিয়ান সেনসেশনের ফুটবল ক্যারিয়ার এগিয়ে চলেছে সাফল্যের পথে। তবে ফুটবল মাঠের পাশাপাশি এবার ভিনিসিয়ুসের নজর ব্যবসায়িক দিকেও। পর্তুগালের একটি দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল ক্লাব কেনার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
ইএসপিএন জানিয়েছে, ব্যবসা ও বিনিয়োগের চিন্তাভাবনায় বৈচিত্র্য আনার জন্য এবং অবসরের পরের জীবনকে মাথায় রেখে ক্লাব কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগ লিগে থাকা ১৮টি ক্লাবের মধ্যে একটি কিনতে আগ্রহী তিনি।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, ক্লাব কেনার জন্য ভিনিসিয়ুসের পাশে রয়েছে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান। স্পেনের রেডিও স্টেশন কাদেনা কোপে-এর সাংবাদিক রবার্তো আন্তোলিন প্রথম এই খবর প্রকাশ করেন যে, ভিনিসিয়ুস ইতোমধ্যে ক্লাব কেনার বিষয়ে আলোচনায় নেমেছেন।
যদিও এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। ঠিক কোন ক্লাবটি কিনতে আগ্রহী ভিনিসিয়ুস, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাবাণিজ্য বিষয়ক সাময়িকী ফোর্বস তাদের এক রিপোর্টে জানিয়েছে, ভিনিসিয়ুস আলভেরকা ক্লাব কেনার বিষয়ে আলোচনা করছেন।
লিসবনের কাছাকাছি অবস্থিত এই ক্লাবটি বর্তমানে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগে অষ্টম স্থানে রয়েছে। ফোর্বসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিনিসিয়ুস ১২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বা আনুমানিক ১ কোটি ইউরো দিয়ে ক্লাবটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন।
২০২৪ সালে ভিনিসিয়ুসের আয় হবে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৪ কোটি ডলার আসবে তার বেতন থেকে এবং বাকি ১.৫ কোটি ডলার আসবে স্পনসরশিপ থেকে।
ভিনিসিয়ুসের স্পনসরদের মধ্যে গ্যাটোরেড, পেপসি, ইউনিলিভার এবং নাইকির মতো বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া, ব্রাজিলে ভিনিসিয়ুসের একটি সামাজিক সেবা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে, যা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগ করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলো ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে গতকাল ৭৫ মিনিটে মাঠে নামেন লুকা মদ্রিচ। নেমেই ডিফেন্সচেরা পাসে মনে করিয়ে দেন ফুরিয়ে যাননি এখনো। ম্যাচে দারুণ একটি মাইলফলকও অর্জন করেন ৩৮ বছরের মদ্রিচ। রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে মদ্রিচই এখন সবচেয়ে বেশি বয়সে ম্যাচ খেলা ফুটবলার।
মদ্রিচ ছাড়িয়ে গেছেন রিয়াল কিংবদন্তি ফেরেঙ্ক পুসকাসকে। অ্যারিয়েঞ্জ অ্যারিনায় গতকালের ম্যাচের দিন মদ্রিচের বয়স ছিল ৩৮ বছর ২৩৪ দিন। পুসকাস রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলেছিলেন ৩৮ বছর ২২৯ দিন বয়সে।
পুসকাসের তৈরি করা কীর্তি ৫৯ বছর পর ভাঙলেন মদ্রিচ। ১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর তৎকালীন ইউরোপিয়ান কাপে কিলমারনকের বিপক্ষে সেই কীর্তি গড়েছিলেন পুসকাস। রিয়ালের হয়ে সবমিলিয়ে ৫২৮তম ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১১৮তম ম্যাচে কীর্তিটি গড়লেন মদরিচ। তথ্য বেইন স্পোর্টসের।
ম্যাচ খেলার রেকর্ডেও এদিন ভাগ বসিয়েছেন মদ্রিচ। ছাড়িয়ে গেছেন ৫২৭ ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার রবার্তো কার্লোসকে। রিয়ালের ইতিহাসে ১৪তম সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার এখন মদ্রিচ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি এখন পঞ্চম। রিয়ালের হয়ে এই প্রতিযোগিতায় তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন ইকার ক্যাসিয়াস, করিম বেনজেমা, রাউল গঞ্জালেস ও সার্জিও রামোস।
ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার মদ্রিচ ৩৯ বছরে পা দিচ্ছেন চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর। তবে রিয়ালের সঙ্গে তার চুক্তি শেষ হবে আগামী ৩০ জুন। রিয়ালের ইতিহাসের সবেচেয়ে বুড়ো খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়তে তাই নতুন চুক্তির আওতায় আসতে হবে মদ্রিচকে। ১৯৬৬ সালের মে মাসে পুসকাস যখন কোপা দেলরেতে রিয়ালের হয়ে শেষ পেশাদার ম্যাচটি খেলেন, তখন তার বয়স হয়েছিল ৩৯ বছর ৩৬ দিন।
রিয়ালের হয়ে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলা সবচেয়ে বুড়ো ফুটবলার
লুকা মদ্রিচ: ৩৮ বছর ২৩৪ দিন
ফেরেঙ্ক পুসকাস: ৩৮ বছর ২২৯ দিন
বুয়ো: ৩৮ বছর ৫৩ দিন
দি স্তেফানো: ৩৭ বছর ৩২৮ দিন
দুদেক: ৩৭ বছর ২৬০ দিন
মন্তব্য করুন


স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন প্রজন্মের আলোচিত নাম লামিনে ইয়ামাল। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ছেন এই প্রতিভাবান তরুণ। শিশুকালে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির সংস্পর্শ পেয়েছিলেন তিনি। এখন নিয়মিত মাঠে মুগ্ধতা ছড়িয়ে বার্সেলোনার হয়ে একের পর এক ট্রফি জিতে নিচ্ছেন নিজের অর্জনের ঝুলিতে।
অনেকে মেসি পরবর্তী যুগে শূন্যস্থান পূরণ হিসেবে এই স্প্যানিশ তারকাকে দেখে থাকেন। তবে মেসি নয়, ইয়ামাল নিজের আইডল মনে করেন সাবেক বার্সা তারকা ব্রাজিলিয়ান সেনসেইশন নেইমারকে। সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল নিজের আদর্শ, ভবিষ্যৎ এবং বার্সেলোনার জীবন নিয়ে কথা বলেছেন।
নিজের ফুটবল আদর্শ প্রসঙ্গে ইয়ামাল বলেন, ‘আমি ৫ বছর বয়সে তাকে (নেইমার) সান্তোসে (ব্রাজিলিয়ান ক্লাব) দেখেছিলাম। পরে যখন বয়স সাত হয়, তাকে বার্সেলোনায় ক্যাম্প ন্যু’র একজন সদস্য হিসেবে পাই। তার সরাসরি সাক্ষাৎ পাওয়াটা ছিল অবিশ্বাস্য কিছু। এটি সত্য যে, সেখানে থাকা (লিওনেল) মেসিও একজন দুর্দান্ত ফুটবলার, তবে সে (নেইমার) সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। নেইমার সবসময়ই আমার আদর্শ (আইডল) ছিলেন, তিনি একজন তারকা এবং ফুটবল কিংবদন্তি।’
বার্সেলোনাতে দীর্ঘ সময় খেলার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন এই স্প্যানিশ তরুণ তারকা। ইয়ামাল বলেন, ‘আমি জানি না কখন কী (চুক্তি স্বাক্ষরের সময়) হবে, তবে বিশ্বাস করি সেটি শিগগিররই হবে। সবমিলে বার্সা ক্লাব আমার জীবন, আমি আশা করব যতটা সম্ভব বেশি সময় ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে যাব। আমি স্প্যানিশ লিগে খেলতে চাই, বার্সার হয়ে খেলতে চাই এবং চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী।’
মন্তব্য করুন


ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যেন সবসময়ই ছন্দময়। আরেকটি ম্যাচে আরেকটি গোল করে তিনি গড়লেন নতুন এক রেকর্ড। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয় লাভ করেছে পর্তুগাল। ম্যাচে দলের দ্বিতীয় গোলটি করে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন রোনালদো।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য শট নেয়ার সময় হাঙ্গেরির লোইক নিগোর হাতে বল লাগলে পেনাল্টি দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল না করে গোল করেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। এটি ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তার ৩৯তম গোল। একই সংখ্যক গোল রয়েছে গুয়েতেমালার সাবেক তারকা কার্লোস রুইজের। তবে সামনে আরও ম্যাচ থাকায় রোনালদো এই রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
গত ফেব্রুয়ারিতে ৪০ পেরিয়ে যাওয়া রোনালদো জাতীয় দলের হয়ে টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছেন। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ২২৩ ম্যাচে ১৪১টি।
ম্যাচে পর্তুগাল ২১ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়লেও ৩৬ মিনিটে বার্নান্দো সিলভার গোলে সমতায় ফেরে তারা। এরপর রোনালদোর গোলের মাধ্যমে দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ৮৪ মিনিটে হাঙ্গেরির বার্নাবাস ভার্গা আবার গোল করে সমতা ফেরালেও দুই মিনিটের মধ্যে জোয়াও ক্যান্সেলো গোল করে পর্তুগালের জয় নিশ্চিত করেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ের ‘এফ’ গ্রুপে দুটি ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে পর্তুগাল আর সমান ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে চার দলের মধ্যে তিনে রয়েছে হাঙ্গেরি।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
৮ জুলাই ২০১৪। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামের বাইরে দর্শকদের হইহুল্লোড় আর উচ্ছ্বাস। স্টেডিয়ামের ভেতরে ব্রাজিল-জার্মানির মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল উপলক্ষে সব আয়োজন সম্পন্ন। সেখানকার দর্শকদের আনন্দ অভিব্যক্তি দেখে রোমাঞ্চকর এক লড়াই শুরু হওয়ার প্রহর গুনছে পুরো ফুটবলবিশ্ব।
টুর্নামেন্টে তখন পর্যন্ত দুই দলই অপরাজিত। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমে ইনজুরির স্বীকার ব্রাজিলের প্রধান তারকা নেইমার জুনিয়র হাসপাতালে। আর টানা দুই ম্যাচে হলুদকার্ড দেখে নিষিদ্ধ দলের মূল ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা।
ব্রাজিলের দুই তারকা না থাকলেও আশা করা হচ্ছিল, দুর্দান্ত এক সেমিফাইনালই দেখবে বিশ্ব। কারণ, ২০০২ বিশ্বকাপে এই জার্মানিকেই ২-০ গোলে হারিয়ে পঞ্চম শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল।
খেলা শুরুর আগে মারাকানা স্টেডিয়ামের ভেতরের চিত্র।
কিন্তু কে জানতো, কিছুক্ষণ পরই লেখা শুরু হবে ব্রাজিল ফুটবলের কালো অধ্যায়। যে কালোতে ঢাকা পড়বে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ইতিহাসের আগের সব ক্ষত। ব্রাজিলিয়ানদের হতে হবে সেমির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় খলনায়ক। ঘরের মাঠে টানা ৬২ ম্যাচে অপরাজিত সেলেসাওদের হজম করতে হবে ৭-১ গোলের ন্যাক্কারজনক হার।
টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ব্রাজিলের সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের বিভীষিকাময় ঘটনাই ঘটেছিল সেদিন। ১১ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে ডানপায়ের শটে ব্রাজিলের জালে প্রথম কম্পন সৃষ্টি করেন টমাস মুলার। সেই তো শুরু। এরপর ২৯ মিনিটে ম্যাচের স্কোরলাইনের চিত্র ব্রাজিল ০-৫ জার্মানি।
গোল হজমের পর হতাশায় মুখ লুকাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলো।
মারাকানায় সেদিন ৬ মিনিটে ৪ গোল হজম করে ব্রাজিল। ২৩ মিনিটে জার্মানির মিরাস্লাভা ক্লোসা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এতে অনেক ব্রাজিল সমর্থকের অক্ষিকোটর থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে পানির স্রোত। এরপর একের পর এক গোলে সেই পানির স্রোত বইতে শুরু করে পুরো মারাকানায়।
টনি ক্রুসের প্রথম গোল উদযাপন করছে জার্মানি।
২৪ মিনিটে গোল করেন টনি ক্রস। তার ২ মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন জার্মান মিডফিল্ডার। ২৯ মিনিটে মাঝমাঠের খেলোয়াড় সামি খাদিরার গোলে ব্যবধান ৫-০ করে বিরতিতে যায় জার্মানি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯ ও ৭৯ মিনিটে আরও দুটি গোল করেন জার্মান ফরোয়ার্ড আন্দ্রে হর্স্ট স্কুরেল। এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ব্রাজিল ০-৭ জার্মানি। ম্যাচের শেষ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন অস্কার (৭-১)।
মন্তব্য করুন


মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আজ (১৯ নভেম্বর) ১০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার ও সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তার এই ঐতিহাসিক ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে জমকালো আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মিরপুর শেরে-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে সতীর্থদের নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন মুশফিক। এসময় গ্যালারিতে তার ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ভক্ত-সমর্থকরাও। এই বিশেষ মুহূর্তে মুশফিকের সঙ্গে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরাও।
মুশফিককে সম্মাননা জানাতে বোর্ড ও সতীর্থরা তার হাতে নানা স্মারক তুলে দেন। তার হাতে শততম টেস্ট উপলক্ষে বিশেষ ক্যাপ পরিয়ে দেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, যিনি ২০০৫ সালে তার অভিষেক টেস্টেও তাকে ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছিলেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার আকরাম খানও তাকে একটি বিশেষ ব্যাগি ক্যাপ উপহার দেন।
এছাড়াও, মুশফিকের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং হাবিবুল বাশার যৌথভাবে মুশফিকের প্রথম ও শততম টেস্টের সতীর্থদের স্বাক্ষর করা জার্সি তাকে উপহার দেন।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্কঃ
একটা সময় নিন্দুকেরা বলছেন, নিজের জন্য এবং ক্লাবের জন্য খেলেন মেসি। জাতীয় দলের জন্য না, তার মধ্যে নেই দেশপ্রেম। তবে জাতীয় দলে হয়েও সবকিছু অর্জন করার পর সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে যখন ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন মেসি।
তখন তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়েছিল বেদনার অশ্রু। একটা ট্রফির জন্য কিংবদন্তির এমন কান্না দেখে কোটি ফুটবল ভক্তদের হৃদয় কেঁদেছে। আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ককে সময়ের সেরা খেলোয়াড় তো বটেই, অনেকে এলএম-টেন মানেন সর্বকালের সেরা ফুটবলার।
এবার এই তালিকায় যোগ দিয়েছে স্প্যানিশ জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম মার্কা। তার হাতে তুলে দিয়েছে সর্বকালের সেরা ও সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ী ফুটবলারের পুরস্কার জিতলেন এই কিংবদন্তি। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের একটা সময় স্প্যানিশদের তল্লাটে কাটিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
এক যুগের বেশি সময় ধরে খেলেছেন স্প্যানিশ জায়েন্ট ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে। ক্লাবটিকে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ১০টি লা লিগায় শিরোপাসহ জিতেছেন মোট ৩৪টি শিরোপা। এছাড়াও পুরো ক্যারিয়ারে ৪৬টি ব্যক্তিগত ও ৫৬টি দলগত শিরোপা জিতেছেন এই কিংবদন্তি। এবার ক্যারিয়ারে গোধূলীলগ্নে এসে স্প্যানিশ জনপ্রিয় দৈনিক মার্কা কর্তৃক সর্বকালের সেরা ও সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ী ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন সর্বোচ্চ আট বারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই ফুটবলার।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
ম্যানচেস্টার সিটিকে দেওয়ার মতো যেন আর কিছুই নেই পেপ গার্দিওলার হাতে। যা ছিল, তার সব এরইমধ্যে দিয়ে দিয়েছেন তিনি। গত মৌসুমে সিটিকে ট্রেবল জিতিয়েছেন এই স্প্যানিশ কোচ। চলতি মৌসুমে শিষ্যদের চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতাতে ব্যর্থ হলেও প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতিয়েছেন ঠিকই।
গতকাল রোববার প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমের শেষ ম্যাচে ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডকে হারিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতেছে সিটি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এর আগে কোনো দল টানা চার শিরোপা জিততে পারেনি।
প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে রেকর্ড গড়ে অনেকটাই অপ্রত্যাশিত এক মন্তব্য করেন গার্দিওলা। সমর্থকদের চমকে দিয়ে ম্যানসিটি ছাড়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে এখনই নয়, ইতিহাদে আরও এক মৌসুম থাকবেন বলে জানিয়েছেন গার্দিওলা। ২০২৪-২৫ মৌসুম শেষ করে সিটিকে বিদায় জানাতে পারেন তিনি।
গার্দিওলার বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, সিটির সঙ্গে নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে চান না তিনি। চলমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেই সিটিকে বিদায় বলবেন গার্দিওলা। ২০২৫ সালে চলমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ৫৩ বছর বয়সী এই কোচের।
গার্দিওলা বলেন, ‘বাস্তবতা হলো- আমি থাকার চেয়ে চলে যাওয়ার বেশি কাছে। আমি ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমার অনুভূতি হলো, আমি এখন থাকতে চাই। পরের মৌসুমেও থাকবো এবং সে মৌসুম চলাকালীন আমরা (ক্লাবের সঙ্গে) কথা বলবো। সেটা ৮ বছর শেষে নাকি ৯ বছর পরে, সেটা আমরা দেখবো।’
কেন সিটি ছাড়তে চান, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন গার্দিওলা। জানান, গেল ৮ বছর ধরে কাজ করতে করতে এখন তিনি ক্লান্ত। তার বিশ্রাম দরকার। আর বিশ্রাম নিতেই সিটি ছাড়তে চান তিনি।
গার্দিওলা বলেন, ‘আমার একটি চুক্তি আছে। আমি এখনও এখানে আছি। কিছু মুহূর্তে আমি ক্লান্ত। কিন্তু এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যা আমি ভালোবাসি এবং আমরা এখানে খেলা জিতেছি। নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকতেও ভালো লাগছে।’
সিটি কোচ বলেন, ‘আমি ভাবতেছি, কেউ টানা চারটি শিরোপা জিততে পারেনি। এটা এ কারণে যে, আমরা চেষ্টা করি না। আমি মনে করি, এখন এটি সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে কী করা যায়, সেটিই আমাদের ভাবতে হবে।’
২০১৬ সালে সিটিতে যুক্ত হওয়ার পর ১৫টি বড় শিরোপা জিতেছেন গার্দিওলা। আগামী সপ্তাহে এই সংখ্যাকে ১৬-তে পরিণত করতে পারেন তিনি। সামনের ম্যাচে এফএ কাপের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারাতে পারলেই সেটি সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন


সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকোর সঙ্গে চুক্তির শুরু থেকেই ফিফাকে নিয়ে সমালোচনা চলছে। এবার নারী ফুটবলাররা ফিফাকে এই চুক্তি বাতিল করতে বলেছেন। ইতোমধ্যে ২৪ দেশের ১০০-এর বেশি নারী ফুটবলার একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে তারা ফিফার কাছে আরামকোর সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার ভিভিয়েন মিদিমাও রয়েছেন।
ভিভিয়েন মিদিমা বিবিসি স্পোর্টকে জানিয়েছেন, "আমার মতে, ফুটবলাররা, বিশেষ করে নারী ফুটবলাররা, দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বকে দেখাতে চান পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কী সঠিক। আমি মনে করি, এই স্পনসরশিপ ফিফার জন্য যথার্থ মনে হচ্ছে না। আমাদের নারী ফুটবলারেরাও এ দাবির পক্ষে।"
ফিফার সঙ্গে আরামকোর চুক্তির শুরু থেকেই সৌদি আরবের 'স্পোর্টসওয়াশিং' আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। স্পোর্টসওয়াশিং হল একটি কার্যকলাপ, যেখানে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত বা রাষ্ট্রীয় স্তরের অপকর্ম ঢাকতে খেলাধুলাকে ব্যবহার করা হয়। সৌদি আরব মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারী অধিকার লঙ্ঘন, সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং বাকস্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করার কারণে সমালোচিত।
আরামকো কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদনকারী কর্পোরেট কোম্পানি। মিদিমা বলেন, "ফিফা সবসময় আওয়াজ তোলে যে তারা খেলাটাকে ছড়িয়ে দিতে চায় এবং একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। যদি তাই হয়, তাহলে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী স্পনসরদের সঙ্গে চুক্তি করুক।"
চলতি বছরের এপ্রিলে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত, এবং এটি ২০২৬ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপের স্পনসর হিসেবে কাজ করবে। পরের বছর নারীদের বিশ্বকাপ ফুটবলেও পৃষ্ঠপোষকতা করবে তারা। এছাড়া, আরামকো ফর্মুলা ওয়ানের সঙ্গেও স্পনসরশিপ চুক্তি করেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) অংশীদার।
মন্তব্য করুন