

ডেস্ক রিপোর্টঃ
ভারতের অভ্যন্তরে মারা যাওয়া রিজাউল করিমের লাশ হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) মাধ্যমে তার লাশ হস্তান্তর করে বিএসএফ।
রেজাউল করিম শেরপুর জেলার নারায়নপুর গ্রামের আব্দু সাত্তারের ছেলে। তিনি ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি স্বল্পমূল্যে ওষুধ আনার জন্য ওই দিন ভারতের প্রবেশ করার পর রাত ৯টার দিকে সীমান্তে গুলির শব্দ পায় স্থানীয়রা। এরপর রেজাউল করিম আর ফেরত আসেনি।
বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিজিবির নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধীনস্থ মুন্সিপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার দীগলবাঘ এলাকার সীমান্ত পিলারের নিকট দিয়ে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক কাঁটাতার দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে। এসময় ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের দমদমা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে ছয়জন পালাতে সক্ষম হলেও একজন সেখানে একটি কালভার্ট হতে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অচেতন হয়ে কালভার্টের পানিতে তলিয়ে যায়।
সূত্র থেকে আরও বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিক বিএসএফ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করে এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ভারতে মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) এর অধীনস্থ বিজয়পুর বিওপির বিপরীতে ২০০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বাগমারা এলসি দিয়ে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের মাধ্যমে মৃত রিজাউলের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহটি হস্তান্তর করে।
রিজাউলের লাশ পাওয়ার পর বাংলাদেশে পুনরায় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মন্তব্য করুন


ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশায় বিবি কুলসুম (৪০) নামে পাঁচ সন্তানের এক জননীকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বিবি কুলসুম চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা যায়।
রোববার (১৪ মে) গভীর রাতে সদর উপজেলার ২নং পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাজি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
বিবি কুলসুম ওই গ্রামের মো. তছির মাঝির স্ত্রী।
কুলসুমের স্বজনরা জানান, প্রতিপক্ষের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের মামলার ভয়ে ঈদের আগে থেকে কুলসুমের স্বামী অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘটনার দিন রাতে কুলসুম তিন সন্তান নিয়ে ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। কখন কারা কুলসুমকে হত্যা করেছে তা কেউ টের পায়নি। স্বামী তছির রোববার রাত থেকে কুলসুমের ফোনে একাধিকবার কল দিয়েছেন। কল রিসিভ না হওয়ায় তছির তার বড় ছেলেকে সোমবার (১৫ মে) সকালে ফোন করে বাড়িতে যেতে বলেন (বড় ছেলে বিয়ে করে একই গ্রামে থাকেন)। বড় ছেলে বাড়িতে গিয়ে এ হত্যাকাণ্ড দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে তছিরও বাড়িতে ছুটে আসেন।
পূর্ব ইলিশার ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন বলেন, এই ঘটনায় সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ভোলা সদর থানা পুলিশের ওসি মো. শাহীন ফকির জানান, এ ঘটনা জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরেও হতে পারে। তবে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে জেলা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও সিআইডির টিম মাঠে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। খুব দ্রুতই এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সদর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়া বাজার ও দক্ষিণ রামপুরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোঃ রাসেল ও মোহাম্মদ শরীফ নামের দুই দুষ্কৃতকারীকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, এয়ারসফট পিস্তল, ওয়াকিটকি সেট এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২১ জুন) রাতে সেনাবাহিনী নেতৃত্বে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, আটক হওয়া ব্যক্তিরা এই এয়ারসফট পিস্তল ব্যবহার করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত করত।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে । রাসেলের নামে ৩টি এবং শরীফের নামে ২টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
তাদেরকে দক্ষিণ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনী সূত্র জানায়।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩ টি দেশীয় তৈরি দা, ২টি বড় ছুরি, ২টি ছোট ছুরি, ২টি এয়ারসফট পিস্তল, ৪টি ওয়াকিটকি সেট ও ৩টি মোবাইল ফোন।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সার্ভারের পরিষেবা আবারও চালু করা হয়েছে। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সার্ভার চালুর কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এখন এনআইডি সেবা পাওয়া যাচ্ছে। আজ সকাল থেকে এটি সচল হয়েছে। মাঝে মধ্যে এটির রক্ষণাবেক্ষণের দরকার পড়ে। যার কারণে সার্ভার বন্ধ করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এনআইডি সার্ভারের পরিষেবা বন্ধ করা হয়। এর আগে গত ১৬ আগস্টেও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে এনআইডি সেবা বন্ধ ছিল। এছাড়া চলতি বছরে কয়েকবার এনআইডি সার্ভার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, দেশের প্রায় ১২ কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য রয়েছে এনআইডি সার্ভারে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৩১ জেলেসহ ভারতীয় দুটি ট্রলিং জাহাজ আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে নৌ-বাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ বিএনএস শহীদ আকতার উদ্দিন নিয়মিত অভিযান পরিচালনাকালে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে জয় জগন্নাথ ও মা বাসন্তী নামের দুটি ট্রলিং জসহাজসহ জেলেদের আটক করে। আটককৃতদের বাড়ি ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার বিভিন্ন গ্রামে।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল দশটায় পায়রা বন্দরের জেটি এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনএস শহীদ আকতার উদ্দিন জাহাজের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মশিউল ইসলাম।
মশিউল ইসলাম বলেন, আটককৃত জেলে ও জাহাজ দুটিকে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মা ইলিশ রক্ষায় ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সাগর ও নদীতে ২২ দিন মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।
মন্তব্য করুন


সাপ্তাহিক বাংলাদেশী (আমেরিকা) পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ এর নির্বাহী পরিচালক শরাফাত হোসেন বাবু কুমিল্লা প্রেস ক্লাব পরিদর্শন করে কুমিল্লার কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে কুশল বিনিময় করেছেন। এ সময় কুমিল্লা ইয়ুথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব ও হিউম্যান বিয়িং ফাউন্ডেশনের সৌজন্যে তাকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী দিলশাদ হোসেন, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাদিক মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা শামসুদ্দিন দুলাল, এবি পার্টির কুমিল্লা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালেহ মোঃ মাসুদ, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তাওহীদ হোসেন মিঠু, দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজা মুন্সী, মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মনজুরুল আলম রুবেল, কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি রাসেল সোহেল, সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনোয়ার সৌরভ, কুমিল্লা ইউথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক আবু রায়হান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লার মূখ্য সংগঠক ও এনসিপি নেত্রী ফারহা এমদাদ, এনসিপি কুমিল্লা শ্রমিক উইং এর আহবায়ক ফজলে এলাহী রুবেল, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অনিক, এনসিপি নেত্রী অনন্যা, বুড়িচং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোসলে উদ্দিন, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসাদুজ্জামান খান আকন্দ জনি, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জুয়েল, ডেইলি স্টার কুমিল্লা প্রতিনিধি খালিদ বিন নজরুল, জাগরণী টোয়েন্টি ফোর টিভির প্রতিনিধি আশিকুর রহমান, জিটিভির উত্তর প্রতিনিধি মাইনুদ্দিন, কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক রাফি, বাংলাদেশ সমাচারের ইয়াসিন, চ্যানেল এস টিভির রাজিব সাহাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীতে ৫ আগস্ট আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যা মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক ইশতিয়াক সরকার বিপুকে জড়ানো হয়েছে।
রবিবার ( ১০ আগষ্ট) সকালে কুমিল্লা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইমতিয়াজ সরকার নিপু।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই ইসতিয়াক সরকার বিপু ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৮৯ সাল থেকে সে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ২০১৭ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময় বেশ কয়েকবার তাদের দ্বারা হামলা ও মামলার শিকার হয়। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের দেয়া দুইটি মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করে। দুঃখের বিষয় গণঅভ্যুথানের পরেও বর্তমান সময়ে সেই মামলাগুলো এখনো চলমান রয়েছে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিদায়ের পর ইসতিয়াক সরকার বিপু ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়। সাথে সাথে শুরু হয় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এরপরের ঘটনা আপনারা সকলেই অবগত আছেন। সম্ভাব্য কাউন্সিলর নির্বাচন ও ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপিতে নিজেকে উপস্থাপন করার সাথে সাথেই নানামুখী ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। এতে আওয়ামীলীগের পতিত নেতাকর্মীরাও নিজেদের শত্রুদের সাথে সখ্যতা ও হাত মেলায়। তাদের প্রতিপক্ষতা ও হিংসা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ৫ আগস্ট আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে জড়াতে নানাহ আইনী জটিলতা চালায়। ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি এমন কূটকৌশল ও আইনি জটিলতা তারা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। নিজেদের দলের একজন ত্যাগী কর্মীকে ফাঁসাতে এমন জঘন্য অপকর্ম করতেও তারা পিছপা হয়নি।
অথচ ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর দুপুরে ইসতিয়াক সরকার বিপু মোগলটুলি এলাকা থেকে বিজয় মিছিল নিয়ে পূবালী চত্বরে যায়। এরপর পুলিশের ফোনে খবর পায় কুমিল্লা কোতয়ালি থানায় হামলা হতে পারে। তখন বিকেল বেলা সে তার নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় উপস্থিত হয় এবং অবস্থান নেয়। ওই সময়ে থানায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যগণ তাঁদের নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ জানায়। এসময় কোতয়ালী থানায় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার ও সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়াসহ মহানগর ও ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র জনতা । উপস্থিত নেতৃবৃন্দ থানায় মাইকে বক্তব্য রাখেন, যার ভিডিও ফুটেজ কোতয়ালি থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ও বিভিন্ন কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনো রয়েছে। রাতে যখন বিপু এলাকায় ফিরে আসেন তখন জানতে পারেন আইনজীবী আবুল কালাম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই ব্যক্তি একই সময়ে পৃথক দুইটি ঘটনায় উপস্থিত থাকতে পারেন না।
আইনজীবি আবুল কালাম আজাদ হত্যার ঘটনাটি জঘন্যতম অপরাধ। তিনি বিএনপি ঘরানার আইনজীবী ছিলেন। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানাচ্ছি। যারা এই হত্যা কান্ডটি সংঘটিত করে তারা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। হত্যার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে ধারণকৃত ফুটেজ অবশ্যই পুলিশের কাছে আছে, পুলিশ তা জানেও। ওই ফুটেজ সমূহ যাচাই-বাছাই করলে হত্যার সময় বিপু এই ঘটনায় ছিল না বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও ষড়যন্ত্র থেমে নেই ।
মামলায় ইসতিয়াক সরকার বিপু স্বাভাবিকভাবেই আসামির তালিকায় ছিল না, থাকবার কথাও নয়। কিন্তু পরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে বিপুকে জড়িত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বিপুর নামটি জড়ায় সেও আইনজীবী হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি নয়। পরবর্তীতে অন্য মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হলে তাকে এবং তার পরিবারকে বুঝানো হয় তার গ্রেফতারের সাথে বিপুর সম্পর্ক রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিপুকে জড়িয়ে বক্তব্য দেয়। ওই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিপু তাকে গ্রেপ্তার করিয়ে দিয়েছে বলেও বক্তব্য দেয়। শুধু তাই নয় এই মামলায় ৫নং ওয়ার্ডের আরো কয়েকজন নিরপরাধ মানুষকে জড়ানোর চেষ্টা চূড়ান্ত করা হয়েছে ।
পরবর্তীতে এই ষড়যন্ত্র আরো শক্তিশালী করতে আরও আইনী জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি। আমরা এই কুচক্র, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
আমরা গত কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হতে দেখেছি। যেখানে “ফেইস দ্যা পিপল”এর সাংবাদিক সাইফুর রহমান সাগর এই হত্যা মামলার বাদীকে প্রশ্ন করেন ইসতিয়াক সরকার বিপু নামে কাউকে চিনেন কিনা! এবং বাদী সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দেন “না আমি ওই নামের কাউকে চিনি না তদুপরি নামটি আমি এই প্রথম আপনার মুখেই শুনলাম”।
পরিশেষে আমরা বলতে চাই, আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যার ঘটনাটি একটি জঘন্যতম অপরাধ। ওই হত্যার সুষ্ঠু বিচার হোক আমরাও চাই। তবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ইসতিয়াক সরকার বিপুকে জড়ানো হচ্ছে, শুধুমাত্র ফাঁসাতে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পুলিশ ও এলাকার মানুষ সব সত্য জানে। তাই সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সত্য জানাতে ও হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং সুবিচার দাবি করছি।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টার:
তাবলীগ জামাতের একটি পক্ষের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তা অবিলম্বে ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে সচেতন ছাত্র সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে এই দাবি বাস্তবায়ন না হলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইবরাহিম খলিল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, “আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে এক গ্রুপের প্রতি চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। ইজতেমায় প্রধান মুরুব্বিদের অংশগ্রহণ, কাকরাইল মসজিদ ব্যবহারের অনুমতি, টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের নিয়ন্ত্রণ ও ইজতেমার সময় বরাদ্দে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। এ ধরনের বৈষম্য ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে দ্রুত দূর করা জরুরি।”
তিনি আরও জানান, “যদি আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে আমরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হব।”
এ সময় কুৃমিল্লা সেট্রল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম,উইলস স্কুলের ঢাকার শিক্ষার্থী মো.আবু বক্কর,কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট বাঞ্ছারামপুরের শিক্ষার্থী মো.আনাস খাঁন, ফতেয়াদ নায়েব আলী কলেজের শিক্ষার্থী মো.মহিউদ্দিনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল নেছার উদ্দিন নিশান (১৫) নামে এক কিশোরের।
সে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চিলপাড়া গ্রামের মৃত. আবদুল বারেকের ছেলে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে উপজেলার কনকাপৈত বাজারের বাংলাদেশ স্টীল ওয়ার্কশপে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মো: আবুল হাশেম সবুজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিশান কনকাপৈত বাজারের বাংলাদেশ স্টীল ওয়ার্কশপে গত ৫ বছর ধরে কাজ করে আসছেন। সোমবার দুপুরে ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব মিয়াজী একটি অটো রিক্সা রিফেয়ারিং এর কাজ করছিলেন। এ সময় নিশান মালিকের পিছনের দাঁড়িয়ে কাজ দেখছিলেন। হঠাৎ করে সে মাটিতে আছড়ে পড়ে। এ সময় ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব মিয়াজী তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব মিয়াজী বলেন, নিশান আমার দোকানে গত ৫ বছর ধরে কাজ শিখছিলেন। সোমবার দুপুরে আমি একটি অটো রিক্সায় ইলেকট্রনিক শর্ট দিয়ে রিফারিং এর কাজ করছিলাম। সে আমার পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ করে সে মাটিতে লুটে পড়ে গেলে আমি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে হাসপাতালের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল হাশেম সবুজ বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট কিশোর নিশান মৃত্যু বরণ করে। ইসিজি রিপোর্টে দেখা যায় সে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মারা গেছে।
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.টি.এম আক্তার উজ জামান বলেন, বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যথায় আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীতে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করা যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সুমনকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। শুক্রবার বিকেল ৩ টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুবলীগ নেতা সুমনের ঘরের পাশে ঝোপে বস্তার নিচে লুকানো এলজি টি উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
গ্রেফতার হওয়া সুমন নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের মোগলটুলি উত্তর গাংচর এলাকার মৃত আলাউদ্দিন আহাম্মদের বড় ছেলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা সুমনের অস্ত্রটি বাড়ির পাশের ঝোপঝাড়ের আড়ালে বস্তার নিচে লুকানো রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে সেনাবাহিনীর আদর্শ সদর ক্যাম্প শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মোগলটুলির গাংচর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্রটি উদ্ধার করে।
সদর ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন তৌহিদের নেতৃত্বে একটি পেট্রোল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রটি উদ্ধার করে কোতয়ালী থানায় জমা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সুমন বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নেন। পরে পরে পুলিশের অভিযানে সুমন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সহযোগীরা আতঙ্কে তার অস্ত্রটি তার বাড়ির পাশে ফেলে যায়।
যৌথ গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সুমন ও তার অনুসারীরা আরও অস্ত্রশস্ত্রের মালিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
উল্লেখ্য যে, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সুমন সদরের সাবেক এমপি হাজী আ কম বাহাউদ্দিন বাহারের অন্যতম অনুসারী ছিলেন। ৫ আগস্টের পরে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের সাথে চলাফেরা শুরু করেন। এমনকি মোগলটুলী মোড়ে কুসিকের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্টার ব্যানার করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুবলীগ নেতা সুমন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে এমনকি দুর্বল মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করার জন্য বিএনপি'র একটি অংশ জোর তদবির করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) চান্দগাঁও ক্যাম্পের অফিস থেকে পলাশ সাহা নামে এক কর্মকর্তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের বহদ্দারহাটে অবস্থিত র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের তৃতীয় তলার একটি রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পলাশ সাহা (৩৭) র্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ৩৭তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন।
পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আরিফ হোসেন জানান, পলাশ সাহাকে তার অফিস কক্ষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে তার পরিবারের উদ্দেশে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। পুলিশ এখন বিষয়টি তদন্ত করছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সূত্রে জানা গেছে, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে পলাশ সাহার স্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছেছেন।
মন্তব্য করুন