

স্পোর্টস ডেস্ক:
কোপা আমেরিকা শেষে জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন আনহেল ডি মারিয়া- ঘোষণাটা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। আগামীকালের ফাইনালটাই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডি মারিয়ার শেষ ম্যাচ। কলম্বিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন আর্জেন্টিনার উইঙ্গার।
যাদের হাত ধরে আর্জেন্টিনা ২৯ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়েছে, ডি মারিয়া তাদের একজন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে জিতেছেন অলিম্পিক, কোপা আমেরিকা, লা ফিনালিসিমা ও অধরা বিশ্বকাপ। এখন আরেকটা ফাইনালের সামনে দাঁড়িয়ে গুনছেন বিদায়ের দিনক্ষণ।
তাইতো বিদায়ের আগে ইনস্টাগ্রামে মেসির সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন ডি মারিয়া।
জানিয়েছেন তার চাওয়া আর পাওয়ার হিসাব। চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে ডি মারিয়া লিখেছেন, ‘জীবনে আমি যা চাইতাম, এই জীবন আমাকে তার চেয়ে অনেক বেশি দিয়েছে।’
প্রিয় বন্ধুর শেষ ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া মেসিও। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘ডি মারিয়া আগেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। ওর সঙ্গ আমি দারুণভাবে উপভোগ করেছি। জয়ের আনন্দ নিয়ে সে যাতে মাঠ ছাড়তে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা ফাইনাল খেলতে নামব।’
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
৮ জুলাই ২০১৪। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামের বাইরে দর্শকদের হইহুল্লোড় আর উচ্ছ্বাস। স্টেডিয়ামের ভেতরে ব্রাজিল-জার্মানির মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল উপলক্ষে সব আয়োজন সম্পন্ন। সেখানকার দর্শকদের আনন্দ অভিব্যক্তি দেখে রোমাঞ্চকর এক লড়াই শুরু হওয়ার প্রহর গুনছে পুরো ফুটবলবিশ্ব।
টুর্নামেন্টে তখন পর্যন্ত দুই দলই অপরাজিত। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমে ইনজুরির স্বীকার ব্রাজিলের প্রধান তারকা নেইমার জুনিয়র হাসপাতালে। আর টানা দুই ম্যাচে হলুদকার্ড দেখে নিষিদ্ধ দলের মূল ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা।
ব্রাজিলের দুই তারকা না থাকলেও আশা করা হচ্ছিল, দুর্দান্ত এক সেমিফাইনালই দেখবে বিশ্ব। কারণ, ২০০২ বিশ্বকাপে এই জার্মানিকেই ২-০ গোলে হারিয়ে পঞ্চম শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল।
খেলা শুরুর আগে মারাকানা স্টেডিয়ামের ভেতরের চিত্র।
কিন্তু কে জানতো, কিছুক্ষণ পরই লেখা শুরু হবে ব্রাজিল ফুটবলের কালো অধ্যায়। যে কালোতে ঢাকা পড়বে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ইতিহাসের আগের সব ক্ষত। ব্রাজিলিয়ানদের হতে হবে সেমির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় খলনায়ক। ঘরের মাঠে টানা ৬২ ম্যাচে অপরাজিত সেলেসাওদের হজম করতে হবে ৭-১ গোলের ন্যাক্কারজনক হার।
টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ব্রাজিলের সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের বিভীষিকাময় ঘটনাই ঘটেছিল সেদিন। ১১ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে ডানপায়ের শটে ব্রাজিলের জালে প্রথম কম্পন সৃষ্টি করেন টমাস মুলার। সেই তো শুরু। এরপর ২৯ মিনিটে ম্যাচের স্কোরলাইনের চিত্র ব্রাজিল ০-৫ জার্মানি।
গোল হজমের পর হতাশায় মুখ লুকাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলো।
মারাকানায় সেদিন ৬ মিনিটে ৪ গোল হজম করে ব্রাজিল। ২৩ মিনিটে জার্মানির মিরাস্লাভা ক্লোসা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এতে অনেক ব্রাজিল সমর্থকের অক্ষিকোটর থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে পানির স্রোত। এরপর একের পর এক গোলে সেই পানির স্রোত বইতে শুরু করে পুরো মারাকানায়।
টনি ক্রুসের প্রথম গোল উদযাপন করছে জার্মানি।
২৪ মিনিটে গোল করেন টনি ক্রস। তার ২ মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন জার্মান মিডফিল্ডার। ২৯ মিনিটে মাঝমাঠের খেলোয়াড় সামি খাদিরার গোলে ব্যবধান ৫-০ করে বিরতিতে যায় জার্মানি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯ ও ৭৯ মিনিটে আরও দুটি গোল করেন জার্মান ফরোয়ার্ড আন্দ্রে হর্স্ট স্কুরেল। এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ব্রাজিল ০-৭ জার্মানি। ম্যাচের শেষ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন অস্কার (৭-১)।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ছাত্র-জনতার প্রতিবাদের মুখে দেশের মাটিতে শেষ টেস্ট খেলা হলো না সাকিব আল হাসানের। দেশে ফিরতে চাইলেও তাকে দুবাই থেকে ফিরে যেতে হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
সাকিবকে নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দিনের বেলা বেশ নাটক হয়েছে। তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে দুবাই আসেন ট্রানজিটের জন্য। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে সেখানে অবস্থান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে সাকিব নিজেই জানান, তার দেশের মাটিতে টেস্টকে বিদায় জানানো হচ্ছে না। সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে সরকার তাকে দেশে ফিরতে বারণ করেছে।
এরপর গতকাল রাতেই এ বিষয়ে কথা বলেন ড. আসিফ নজরুল। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে সাকিব আল হাসানের দেশে আসা নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, 'সাকিব আমাকে কয়েকবার ফোন দিয়েছিল। আমি বলেছি, উপদেষ্টা আসিফের সঙ্গে কথা বলতে যেহেতু এটি আমার বিষয় নয়।'
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, 'সাকিবের মতো ক্রিকেটার বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসেনি। সাকিব বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি হতে পারত। কিন্তু যখন আন্দোলন চলছে, মানুষ মরছে, ঘরে ঘরে কান্না, ক্ষোভ-কষ্ট—সাকিব তখন পোস্ট দিলো যে সে কোথাও আনন্দ করছে। এটা কি সম্ভব একজন মানুষের পক্ষে?'
তিনি বলেন, 'এছাড়া যে সমস্ত জুয়া, বেটিং, উশৃঙ্খল আচরণ... আমার মনে হয় এটার জন্য শেখ হাসিনার সরকার দায়ী। এমন একটি রাষ্ট্রযন্ত্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শেখ হাসিনার প্রতি অনুগত থাকলে আপনি যা ইচ্ছা করতে পারেন। আপনার শাস্তি হবে না। এটা অনেক মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাকেও করেছে। মায়া লাগে। কিন্তু তার প্রতি মানুষ যে ক্ষোভ দেখায়, সেটি একটুও অযৌক্তিক লাগে না।'
মন্তব্য করুন


অবশেষে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরলেন নেইমার। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে এক রাজকীয় আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে নেইমারকে বরণ করে নিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস। নেইমারের ফেরাকে ঘিরে সান্তোসের স্লোগান ছিল—‘দ্য প্রিন্স ইজ ব্যাক’।
বাংলাদেশ সময় গতকাল রাতে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন নেইমার। এর আগে, ব্রাজিলের স্থানীয় সময় সকালে সাও পাওলোতে অবতরণ করে তার ব্যক্তিগত বিমান। কয়েক ঘণ্টা বিশ্রামের পর হেলিকপ্টারে করে সান্তোসে পৌঁছান ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মাঠের মাঝখানে মঞ্চ সাজানো হয়েছিল। বৃষ্টির মধ্যেই মঞ্চে উঠে দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন নেইমার।
ঘরের ছেলেকে ফিরে পেয়ে দর্শকরাও তাকে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান। মাঠে মাথা ও হাত নুইয়ে নিজের বিখ্যাত গোল উদযাপনের ভঙ্গিমা করেন তিনি। এরপর সান্তোসের মাটিতে চুমু খান। ‘নেইমার মিথ’-এর জন্ম তো এই ভিলা বেলমিরোর মাটিতেই।
নেইমার মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতেই দর্শকরা তার পায়ে ড্রিবলিং দেখতে চান। উত্তরে নেইমার বলেন, ‘আমি খুবই সুখী। এখানে দারুণ সময় কেটেছে। সামনে তেমন সময় আরও আছে। (ড্রিবল করতে) সাহসের অভাব হবে না।’
গত সোমবার রাতে নেইমারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয় সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলাল। ২০২৩ সালে আল-হিলালে যোগ দেওয়ার পর ইনজুরির কারণে মাত্র ৭ ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন নেইমার। পরে দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই চুক্তি বাতিল হয়।
নেইমারের চুক্তি নিয়ে সান্তোসের সহসভাপতি ফার্নান্দো বোনাভিদেস ক্যানাল বলেন, ‘এই চুক্তিপত্র প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের। তবে তাকে ধরে রাখতে আমরা সব রকম চেষ্টাই করব। আমরা চাই, সে যেন আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকে।’
কালো ক্যাপ ও কালো গেঞ্জি পরা নেইমার ছয় মাসের চুক্তিপত্রে সই করার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সান্তোস শহর এবং ক্লাবটির রাজা হয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ ‘দ্য প্রিন্স ইজ ব্যাক’ নামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে সান্তোস। এর আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পেলের কণ্ঠে নেইমারকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেটারই দ্বিতীয় সংস্করণে প্রয়াত কিংবদন্তি পেলের প্রতি নেইমারকে বলতে শোনা যায়, ‘কিং পেলে, আপনার ইচ্ছাই আমার জন্য নির্দেশ। সিংহাসন ও মুকুট আপনারই আছে। কারণ, আপনি চিরকালীন। কিন্তু পবিত্র ১০ নম্বর জার্সিটি পরা হবে সম্মানের সঙ্গে, যা সান্তোস এবং এই পৃথিবীর জন্য অনেক কিছু। আপনার রেখে যাওয়া লিগ্যাসিকে সম্মান দিতে আমি সবকিছু করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’
সান্তোসের আয়োজনে কোনো কমতি রাখা হয়নি। সবাই জানত, সৌদি আরবের আল-হিলালের পাট চুকিয়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরছেন নেইমার। তার জন্য স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে একটি কনসার্টেরও আয়োজন করে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগের এই ক্লাব। বৃষ্টির মধ্যেই ভিলা বেলমিরোর গ্যালারিতে প্রায় ২০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। স্টেডিয়ামের বাইরেও ছিল ভিড়।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে খেলার এটাই নেইমারের শেষ সুযোগ। সে জন্য ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরতে হলে আগে নিয়মিত ম্যাচ খেলার দরকার, যা আল-হিলালে হচ্ছিল না। সান্তোসে সেই সুযোগ পাবেন নেইমার। বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় দলে ফিরতে চাই। অর্জনের জন্য এখনো একটি (বিশ্বকাপ) মিশন বাকি আছে, যা আমার শেষ সুযোগ বলে মনে করি। যা–ই হোক না কেন, আমি এটার পেছনে ছুটব।’
সংবাদ সম্মেলনে সান্তোসে ফেরার কারণও ব্যাখ্যা করেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘কিছু সিদ্ধান্ত থাকে, যা ফুটবলীয় চুক্তির বাইরে। আল-হিলালে ভালোই ছিলাম। পরিবারও ভালো ছিল। কিন্তু কিছু ঘটনায় সিদ্ধান্তটি নিতেই হলো। অনুশীলনে নিজেকে অসুখী লাগছিল। ফেরার সুযোগটা পেয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার ভাবিনি।’
ফেরার পর কেমন লাগছে, তা-ও জানান নেইমার। তিনি বলেন, ‘এখানে পা রাখার পর থেকেই মনে হচ্ছে, ১৭ বছর বয়সে ফিরে গেছি। খুব ভালো লাগছে এবং খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।’
সান্তোসের বয়সভিত্তিক দলে বেড়ে ওঠা নেইমারের। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খেলেছেন ক্লাবটির মূল দলে। এরপর ইউরোপযাত্রা। প্রথমে বার্সেলোনা, এরপর পিএসজি হয়ে দেড় বছর আগে সৌদি আরবের আল-হিলালে যোগ দেন। তবে ব্রাজিল ছাড়ার সাড়ে ১১ বছর পর আবারও সান্তোসে ফিরে নেইমার যেন ক্যারিয়ারের চক্র পূরণ করলেন। এর মধ্যে অনেকবার চোটে পড়েছেন। মৌসুমে নিয়মিত মাঠেও নামতে পারেননি। আগের সেই ধারা আছে কি না, সান্তোস ঠিক নিশ্চিত না হলেও ঘরের ছেলেকে আগের মতো হৃদয় দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন ক্লাবটির সমর্থকেরা। পার্থক্য একটাই, প্রথম দফায় খেলেছেন ১১ নম্বর জার্সিতে, এবার ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন।
সেই জার্সিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নেইমার ফটোসেশনও করেন। এখন অপেক্ষা শুধু মাঠে ফিরে খেলার। গত বছর নভেম্বরে আল-হিলালের হয়ে ম্যাচে চোট পাওয়ার পর আর মাঠে নামা হয়নি তার। সংবাদ সম্মেলনে নেইমার জানান, শারীরিকভাবে আগের চেয়ে ভালো বোধ করলেও এখনো ১০০ শতাংশ ফিরে পাননি।
ক্যাম্পেওনাতো পলিস্তায় আগামী বুধবার বোটাফোগোর মুখোমুখি হবে সান্তোস। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, এই ম্যাচে সান্তোসের হয়ে দ্বিতীয় দফায় অভিষেকের সম্ভাবনা আছে নেইমারের।
মন্তব্য করুন


ব্যালন ডি’অর পুরস্কার নিয়ে গত বছর বেশ কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পরিবর্তে ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রিগেকে ব্যালন ডি’অর দেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ক্ষোভে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। এমনকি তার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদও এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের হাতে ব্যালন ডি’অর না যাওয়ার খবর পেয়ে রিয়াল মাদ্রিদ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। ভিনিসিয়ুস কেন প্যারিসে যাননি, তা নিয়ে দীর্ঘদিন পর এবার তিনি নিজেই কথা বলেছেন।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ব্যালন ডি’অর নিয়ে ভিনিসিয়ুসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমাকে আমার ক্লাব যা করতে বলেছে, আমি তা-ই করেছি। তারা আমাকে মাদ্রিদে থাকতে বলেছে, আমি সেটাই করেছি। কোনো সমস্যা নেই। আমরা এখন পরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।"
ব্যালন ডি’অর জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে ভিনিসিয়ুস বলেন, "আমি কখনোই ব্যালন ডি’অর জেতার স্বপ্ন দেখিনি। তবে আপনি যদি এত কাছাকাছি যান, তাহলে অবশ্যই সেটা পেতে চাইবেন। তবে আমার জন্য এখনও ব্যক্তিগত পুরস্কার এবং ক্লাবের হয়ে ট্রফি জেতার সুযোগ আছে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি ইতিমধ্যে দুটি ইউরোপীয় ট্রফি জিতেছি। আরও জেতার জন্যই আমি এখানে আছি।"
ভিনিসিয়ুস শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, "আমি এখানে ইতিহাস লেখার জন্য এসেছি। এই ক্লাব এবং প্রেসিডেন্ট আমাকে যা দিয়েছেন, আমি তা শোধ করতে চাই। আশা করি, আমি গোল করে যেতে পারব এবং এই জার্সি গায়ে দিয়ে আরও অনেক ম্যাচ খেলব। এখন আমি জয়ের স্বাদ পেয়েছি এবং এখানে আমার ইতিহাস লেখা শুরু করেছি। আমি আরও চাই।"
মন্তব্য করুন


বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন এবং হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা কিংবদন্তি অ্যাগনেস কেলেতি ১০৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার প্রেস কর্মকর্তা তামাস রোখ। তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কেলেতি। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে।
এছাড়া কেলেতির ছেলে রাফায়েল বলেন, 'মায়ের জন্য আমরা প্রার্থনা করি। তার জীবনীশক্তি ছিল অসাধারণ।' হাঙ্গেরির গণমাধ্যম নেমজেতি স্পোর্টের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ জানুয়ারি তাকে সমাহিত করা হবে। কারণ এই দিনটি অ্যাগনেসের জন্য বিশেষ দিন, তার জন্মদিন, বেঁচে থাকলে তিনি এ দিনটিতে ১০৪ বছর বয়সে পা রাখতেন।
এ কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদের মৃত্যুতে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'জাতির শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমাদের গর্বিত করেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি শান্তিতে থাকুন।'
এদিকে অ্যাগনেস শুধু ক্রীড়াবিদ হিসেবেই বিখ্যাত নন; বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুঃসময়ে হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা, তারপর অলিম্পিক গৌরব অর্জন করে জীবনে সাফল্যের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেন। হেলসিঙ্কি (১৯৫২) এবং মেলবোর্ন (১৯৫৬) অলিম্পিকে তিনি মোট ১০টি পদক জেতেন, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল সোনা। তবে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন গেমসে চারটি স্বর্ণ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক নারী জিমন্যাস্ট হিসেবে স্বর্ণ জেতার রেকর্ড গড়েন। এছাড়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপেও রয়েছে তার তিনটি পদক। সেই সময় তিনি 'দ্য কুইন অফ জিমনাস্টিকস' অর্থাৎ 'জিমনাস্টিকসের রানী' হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেন। তবে খেলোয়াড়ি জীবনে তার সাফল্য যেমন অনন্য, তেমনি তার জীবনসংগ্রামও অনুপ্রেরণাদায়ক।
বুদাপেস্টের একটি ইহুদি পরিবারে ১৯২১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্ম হয় অ্যাগনেস কেলেতির। মাত্র চার বছর বয়সে জিমন্যাস্টিকসের সঙ্গে তার শুরু হয় পথচলা। ১৬ বছর বয়সে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন এবং ১৯৩৯ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পান। কিন্তু ইহুদি হওয়ার কারণে ১৯৪০ সালের পর থেকে তাকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়। পরে ১৯৪৪ সালে হাঙ্গেরি জার্মান নাৎসি বাহিনীর দখলে চলে যায়, ঐ সময় নিজের পরিচয় লুকিয়ে খ্রিষ্টান নারীর ছদ্মবেশে বেঁচে থাকেন অ্যাগনেস। বাঁচার জন্য জাল নথি তৈরি করে একটি গ্রামে লুকিয়ে থেকে কাজ করতেন। তবে গোপনে ঠিকই অনুশীলন চালিয়ে যান। কিন্তু অ্যাগনেস বেঁচে গেলেও তার বাবা এবং পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য হলোকাস্টের নির্মমতার শিকার হন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সব খারাপ অতীত পেছনে ফেলে ফের খেলাধুলায় ফেরেন অ্যাগনেস। তার পরের গল্পতো সবারই জানা। তার অর্জনের শুরুটা হয় ১৯৪৬ সালে হাঙ্গেরির হয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ জেতার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৭ সালে তিনি সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান জিমন্যাস্টিকস শিরোপা জয় করেন। ১৯৪৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করলেও, গোড়ালিতে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। ১৯৪৯ সালের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসে তিনি চারটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য এবং একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
এ দিকে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন অলিম্পিক শেষে হাঙ্গেরিতে না ফিরে তিনি ইসরাইলে স্থায়ী হন। সেখানে তিনি জিমন্যাস্টিকস কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেন। যদিও পরে খেলাধুলার জন্য জীবন উৎসর্গ করা কেলেতি জীবনের শেষ পর্যায়ে হাঙ্গেরিতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফ্রান্সের সাবেক সাইক্লিস্ট চার্লস কন্তের নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে ১০০ বছর বয়সী।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
অবশেষে বিদায় বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফ্রান্স ফুটবল দলের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা কোচ দিদিয়ের দেশম। ২০২৬ সালের পর তিনি আর চুক্তি নবায়ন করবেন না বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের ফুটবল ফেডারেশন। এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দেশমের বর্তমান চুক্তি আগামী বিশ্বকাপের পর পর্যন্ত। তবে, সেটি ফ্রান্সের কোয়ালিফাই করার ওপর নির্ভর করবে।
২০১২ সালে ফ্রান্সের দায়িত্ব গ্রহণ করেন দেশম। তার অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয় করে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তার সতীর্থরা। তার আগে ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলেছিল ফ্রান্স। সাবেক অধিনায়কের নেতৃত্বে ফ্রান্স আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল ২০২২ সালে। তবে, আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ হারায় তারা।
মঙ্গলবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ জানায়, বুধবার এ ব্যাপারে ঘোষণা করবেন দেশম নিজেই।
তার আগে ফরাসি ফুটবল প্রধান ফিলিপে দিয়ালো রয়টার্সকে বলেছেন, বিশ্বকাপের পর আর কোচ হিসেবে থাকতে রাজি নন দেশম। ২০২৬ সালে মেয়াদের পর তিনি সরে যাবেন।
ফ্রান্সের কোচ হওয়ার আগে দেশম যেসব ক্লাবের কোচ ছিলেন, প্রতিটিতেই ট্রফি জিতেছেন তিনি। ফ্রান্সের কোচ হয়ে ২০২১ সালে নেশনস লিগও জিতেছিলেন তিনি। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০০০ সালে ইউরো জিতেছিলেন দেশম। ওই দুই আসরে তিনি ছিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক।
মন্তব্য করুন


পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবার শোবিজ জগতে প্রবেশ করছেন! তবে অভিনয় নয়, ব্যবসায়িক উদ্যোগে তিনি নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। তিনি এখন চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন। ব্রিটিশ পরিচালক ম্যাথু ভন-এর সাথে যৌথভাবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি নতুন প্রযোজনা সংস্থা, যার নাম ইউআর-মার্ভ!
এই প্রযোজনা সংস্থার মূল লক্ষ্য হল প্রচলিত চলচ্চিত্র নির্মাণের পদ্ধতির সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় করে শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করা।
রোনালদো এবং ম্যাথু ভনের এই অংশীদারিত্ব ইতিমধ্যেই সফলতার মুখ দেখছে। তারা একসাথে দুটি অ্যাকশন চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। প্রথম ছবিটি সম্পর্কে শীঘ্রই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে রোনালদো বলেন, "এটি আমার জন্য একটি রোমাঞ্চকর অধ্যায়, কারণ আমি সবসময় নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বেড়াই।"
অন্যদিকে, কিক-অ্যাস ও কিংসম্যান-এর মতো ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রের পরিচালক ম্যাথু ভনও রোনালদোর সাথে কাজ করতে খুবই উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, "ক্রিশ্চিয়ানো ফুটবল মাঠে এমন কিছু গল্প তৈরি করেছেন, যা কল্পনাতীত। এবার আমরা একসাথে দর্শকদের জন্য অনুরূপ অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প নিয়ে আসতে চাই।"
ফুটবলের বাইরেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। ২০২৪ সালে তিনি ইউআর ক্রিস্টিয়ানো নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করেন এবং পর্তুগালের বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠান মিডিয়ালিভ্রে-তে বিনিয়োগ করেন। তার লক্ষ্য পরিষ্কার—বিনোদন শিল্পেও একটি শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলা।
এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে রোনালদো শোবিজ জগতে কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে ফ্যানদের মধ্যে এখনই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে!
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
বিয়ের সাড়ে পাঁচ বছর পর সুখবর দিয়েছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। বুধবার মুস্তাফিজ ও তার স্ত্রী সামিয়া পারভীন শিমুর ঘর আলোকিত করেছে পুত্র সন্তান।
ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে একটি পোস্ট দিয়ে সুখবরটি জানিয়ে মোস্তাফিজ জানান, বর্তমানে মা এবং নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এর আগে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থেকে পারিবারিক কারণে ছুটি নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। স্ত্রীর সন্তানসম্ভবা অবস্থায় পাশে থাকার জন্যই তিনি এই ছুটি নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নিজ জেলা সাতক্ষীরার মেয়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিয়া পারভীন শিমুর সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন মোস্তাফিজ। বিয়ের পর থেকে তারা সুখী দাম্পত্য জীবন উপভোগ করছেন।
মন্তব্য করুন


ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরদিন, মিরপুর স্টেডিয়ামে ক্লাব সতীর্থদের কাছ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ পান মুশফিকুর রহিম। ম্যাচ শেষে কেক কেটে তাকে শুভেচ্ছাও জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন দেখা যায়নি। অবসর নেওয়ার দুদিন পর, বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
আজ মিরপুরে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, মুশফিকের জন্য বিশেষ আয়োজনের ভাবনা তাদের আছে। তিনি মুশফিককে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ার পথে ‘নাবিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘এটা (মুশফিককে বিদায়ী সংবর্ধনা) আমরা পরিকল্পনা করব। এটা তো খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা। মুশফিক সম্ভবত দেশের একজন কিংবদন্তি। দীর্ঘ ১৯ বছরের পথপরিক্রমায় বাংলাদেশ ক্রিকেট যে আজকে এই অবস্থায় এসেছে, তার মধ্যে সে অন্যতম একজন নাবিক, যে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে পথ দেখিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করতে পারি, ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সে যে পথটা দেখিয়েছে, তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য তা অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ক্রিকেট বোর্ড অত্যন্ত কৃতজ্ঞচিত্তে তার সব অর্জন স্মরণ করেছি আমরা। বিসিবি থেকে একটা বার্তা দিয়েছি, আমার লেখা ছিল। আমরা চেষ্টা করব, ক্রিকেট বোর্ড থেকে পরিকল্পনা করব কীভাবে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া যায়।’
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্কঃ
সাকিব আল হাসান ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ দিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় বলতে চেয়েছিলেন। তবে সাবেক এই আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য দেশে ফিরে খেলায় অংশগ্রহণ করুন, এটা চান না একদল ক্রিকেটপ্রেমী। তারা মিরপুর স্টেডিয়াম ঘিরে বেশকিছু কর্মসূচি পালনের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবির পরামর্শে সাকিব এই সিরিজে অংশ নিতে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।
তাই ভারতের বিপক্ষে সেপ্টেম্বরে কানপুরে খেলা টেস্টই সাদা পোশাকে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের তার প্রতি ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনা করে সাকিব কানপুর টেস্ট দিয়েই ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাট থেকে অবসর নিতে পারতেন কিনা, সে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল।
স্থানীয় একটি ক্রীড়াবিষয়ক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আলাপচারিতায় সাকিব ইস্যুতে আশরাফুলের সোজাসাপ্টা মন্তব্য, ‘আগেই বলেছি সাকিব চাইলেই তার টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষটা কানপুরেই করতে পারতেন।’
সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান ক্রিকেট বিশ্লেষক আশরাফুল মনে করেন, সাকিবকে ঘিরে যে পরিস্থিতি এখন তৈরি হয়েছে এটা অনুমান করা খুব কঠিন কিছু ছিল না। তাই ‘রাজনীতিবিদ’ সাকিবের দেশের মাটিতে খেলে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, ‘তাকে ঘিরে দেশে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটা তো তিনি আগেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। আমার কাছে তো মনে হয় সাকিব এখানেও হয়তো বা এই বিষয়ে একটা গেম খেলেছেন। যেহেতু সে এখন রাজনীতিবিদ। আওয়ামী লীগের সাতমাসের এমপি ছিলেন তিনি।’
কানপুর টেস্ট দিয়েই সাকিব লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় বললে ভালো করতেন বলে মত আশরাফুলের, ‘কানপুরেই সাকিব টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করলে আজ হয়তো আমাদের এই পরিস্থিতি দেখতে হতো না।’
মন্তব্য করুন