

আমরা নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পর সিইসি’র কাছে একজন সংবাদিক জানতে চান-‘আমরা কি স্যার তাহলে নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেছি? এর প্রত্যুত্তরে সিইসি বলেন, হ্যা, ট্রেনে উঠে গেছে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি জানান, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছি। উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা এক সঙ্গে কাজ করেছি। সেজন্য উনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এসেছি।’
তিনি জানান, ‘উনারা ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটি (নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি) ডেপ্লয় করবেন। আমাদের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে উনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’
প্রধান বিচারপতি আশ্বাস দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মামলা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’
এর আগে, দুপুর দেড়টার দিকে সিইসিকে সুপ্রিম কোর্টে স্বাগত জানান রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা উপলক্ষে সিইসি’র ভাষণ চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) অথবা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশ নিয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার ঠেকাতে মেটাকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার মেটার পরিচালক (মানবাধিকার নীতি) মিরান্ডা সিসন্স প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে এ আহ্বান জানানো হয়।
ড. ইউনূস বলেন, 'ব্যাপক হারে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চলছে এবং আমরা এর ভুক্তভোগী।'
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে নস্যাৎ করতে কিছু দেশ থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মেটা পরিচালক সিসন্স প্রধান উপদেষ্টাকে মেটার মানবাধিকার নীতি ব্যাখ্যা করে বলেন, তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কেউ যেন বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে সেজন্য তারা সতর্ক থাকেন।
প্রধান উপদেষ্টা মেটাকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযুক্তিকে আরও সহজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'ফেসবুকের কারণে আপনাদের সম্ভাবনা প্রচুর। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ফেসবুক ব্যবহার করা যেতে পারে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।'
এ সময় এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সচিব-২ সজীব এম খায়রুল ইসলাম, বাংলাদেশ ও নেপালে মেটার পাবলিক পলিসি প্রধান রুজান সারোয়ার, মেটার অ্যাসোসিয়েট জেনারেল কাউন্সেল নয়নতারা নারায়ণ, মেটার এশিয়া-প্যাসিফিকের মিসইনফর্মেশন প্রধান অ্যালিস বুদিশাত্রিজো উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সময় বিমানবন্দর এলাকা নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কালো গাড়িতে খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। গাড়িটি তিনি নিজেই চালাচ্ছিলেন।
খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও গাড়িতে ছিলেন। এই সময়ে গাড়ির দুই পাশে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। প্রিয় নেত্রীর মুখ দেখার সুযোগ করে দিতে গাড়ি কিছুক্ষণের জন্য থামান তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, লন্ডনে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা আগে থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন।
হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে খালেদা জিয়াকে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে সরাসরি পশ্চিম লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ‘লন্ডন ক্লিনিক’-এ নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার চিকিৎসা শুরু হবে। কিছুদিন চিকিৎসার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাবেন।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।
এর আগে, বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৩টার দিকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছায় খালেদা জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। সেখানে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান তার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান। বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার হযরত আলী খান।
এছাড়া, খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ অনেক নেতাকর্মী।
এর আগে, বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় কাতারের দোহা বিমানবন্দরে পৌঁছায় খালেদা জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। সেখানে আড়াই ঘণ্টা বিরতির পর এটি লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে কাতার থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে খালেদা জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। যাত্রার আগে কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।
তার আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতারের আমিরের বিশেষ উপহার রয়েল কাতার আমারি বিশেষায়িত ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ যোগে ঢাকা ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার জন্য ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে।
শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক, উদার নৈতিক রাজনৈতিক দল। প্রত্যেকটি আসনে আমাদের একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। অনেক আসনে ১০ থেকে ১২ জনের মতো প্রার্থী আছে। খুব শিগগির আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার জন্য ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেব। তবে সেটি অফিশিয়াল হবে তফসিল ঘোষণার পরে।
তিনি জানান, জরুরি কিছু ব্যতীত এমন কোনো বিষয় সামনে আনা উচিত হবে না, যা জাতীয় জীবনে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্তব্য করুন


স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করলেন সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলের ৩১৫ জন চরমপন্থী। রোববার (২১ মে) দুপুর দেড়টায় সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ সদর দপ্তরে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) লাল পাতা ও সর্বহারাসহ বেশ কয়েকটি চরমপন্থী দলের ৩১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, আপনারা জানেন ৮০'র দশক থেকে এই এলাকার কয়েকটি জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় সর্বহারা ও চরমপন্থীরা ঘাঁটি তৈরি করে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ‘সন্ত্রাসের জীবন ছাড়ি, আলোকিত জীবন গড়ি’ স্লোগানে চরমপন্থীরা আলোর পথে ফিরে আসে। প্রধানমন্ত্রী তখন যেমন সবাইকে পুনর্বাসন করেছিলেন, তেমনই প্রধানমন্ত্রী আজকেও আমাকে আসার আগে বলেছেন, আপনারা যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের আর্থিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
তিনি বলেন, র্যাব নানাবিধ ভালো কাজ করে যাচ্ছে, আস্থা অর্জন করেছে। এ জন্যই চরমপন্থীরা আত্মসমর্পণের জন্য র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। র্যাব আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মন্তব্য করুন


পুলিশের ওপর হামলা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে রাজস্ব খাতে কেনা ২০টি নতুন গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, একটি মহল নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। তারা ঝটিকা মিছিল করছে। তবে ২৪৪ জনকে হাতেনাতে ধরার পর থেকে এসব মিছিলের সংখ্যা কমে এসেছে। অপরাধের হারও কমছে।
তিনি বলেন, যদি সবাই সহযোগিতা করেন, তাহলে এগুলো একসময় পুরোপুরি কমে যাবে। যখন দেশ নির্বাচনের মুডে ঢুকে যাবে, তখন অপরাধ আরো কমে আসবে। কারণ, তখন প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে যাবে।
পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সংখ্যাটা আগে থেকে একটু কমেছে। কিছুদিন আগে নরসিংদীতে পুলিশের ওপর হামলার একটা ঘটনা ঘটেছে। তবে এটাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।
গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের ওপর হামলার প্রতিবাদে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন একটি বিবৃতি দিয়েছে—এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘জনগণ এখন সচেতন হচ্ছে। আপনারা (মিডিয়া) যেভাবে প্রচার করছেন, এটা আমাদের জন্য ভালো। জনগণ যখন বুঝবে, এসব কাজ খারাপ, তখন নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব থাকে নির্বাচন কমিশনের, এরপর প্রশাসনের, তারপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর। আর বড় ভূমিকা থাকে রাজনৈতিক দলগুলোর।
তারা নমিনেশন দিলে কিছু সমস্যা দেখা দেয়, তবে সবাই মিলে কাজ করলে নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ হবে।
মন্তব্য করুন


ফিটনেসবিহীন বাসের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তাকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ’র প্রধান কার্যালয়ে পরিদর্শন শেষে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সাত হাজার মানুষ নিহত এবং ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। অনেক দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেসবিহীন যানবাহন দায়ী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব ফিটনেসবিহীন যানবাহন কীভাবে সড়কে চলাচল করছে এবং কেন বিআরটিএ এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের যানবাহনের কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফাওজুল কবির খান বলেন, “বিআরটিএকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষার সময় মালিকদের নির্দিষ্ট সময়ের আগে ফোন বা মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। মেসেজে লেখা থাকবে— ‘আপনার গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার সময় হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিটনেস পরীক্ষা করুন।’ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিটনেস পরীক্ষা না করা হয়, তাহলে সেই যানবাহনের রুট পারমিট বাতিল করা হবে।”
গণপরিবহন চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, “চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, চালকরা মাদকাসক্ত কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে। সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা কমানো সম্ভব হচ্ছে না। এটি আমাদের ব্যর্থতা।”
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করতে বিআরটিএকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আহত ও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার কাজ ধীরগতিতে চলছে। এটি দ্রুত করতে হবে।”
বিআরটিএতে প্রায় সাড়ে চার লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স আটকে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিআরটিএকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন এই লাইসেন্সগুলো দ্রুত বিতরণ করা হয়। আশা করা হচ্ছে, আগামী মার্চের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা সদর দপ্তরে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
রোববার এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ ভোরে এই হামলা চালায় তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘হামলায় বেসামরিক হতাহত কমাতে’ বেশ কিছু পদক্ষেপ আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল, যে কারণে ওই এলাকায় আগে থেকে সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের এই হামলায় আল-হাজ আব্বাস সালামা মারা গেছেন।
আল-হাজ আব্বাস সালামা হিজবুল্লাহর দক্ষিণ ফ্রন্টের একজন সিনিয়র কমান্ডার ছিলেন। এ সময় রাদা আব্বাস আওয়াদা এবং আহমাদ আলী হুসেন নামে আরও দুইজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা মারা গেছেন।
ইসরাইলি বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়াদা হিজবুল্লাহর একজন সিনিয়র যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
এছাড়া হুসেন একটি অস্ত্র তৈরির ইউনিটের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন।
তবে, এই হামলার বিষয়ে এখনো কোন মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ চায় মন্তব্য করে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ চায়। আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার যত দ্রুত সম্ভব মৌলিক সংস্কার শেষ করে নির্বাচন দেবে।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
আব্দুল হালিম বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের আমলে জামায়াতের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, ৩০ জন ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন, ১ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ একেক দিন একের রূপে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে দলটির পতন হয়েছে। এখন জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্বাচন জরুরি বলে দাবি করে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব মৌলিক সংস্কার শেষে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দেবে বলে প্রত্যাশা জামায়াতের।
আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক লাখ সেনা সদস্যসহ মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আজ বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী থেকে সদস্য মোতায়েন করা হবে। এরমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবে ১ লাখ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ৫ হাজার, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ (স্থলভাগ-১ হাজার ২৫০), বাংলাদেশ পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, র্যাব ৭ হাজার ৭০০, এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ১৩ হাজার ৩৯০ জনসহ সর্বমোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে চলমান যারা মোতায়েন রয়েছেন, তারা বলবৎ থাকবেন। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, পুলিশ, আনসার ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং র্যাবের সমন্বয়ে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে।
এ সমন্বয় সেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নিশ্চিতকরণে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের নিকট সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি পুরো মাত্রায় থাকলেও তফশিল ঘোষণার তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
শনিবার বিকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা জানানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফশিল ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল ইসির। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনও জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফশিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শনিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের জাতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
আখতার আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১১টা থেকে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে আয়োজিত মিটিংয়ে ছিলাম।’
তফশিল ঘোষণার প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত তফশিল ঘোষণার দিন নির্ধারণ করতে পারে নাই।’
তবে নির্বাচন আয়োজনে ইসি পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচন নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করি, সঠিক তথ্যটা দেন...নিশ্চয়ই নির্বাচনের ব্যাপারে জোর প্রস্তুতি চলছে।’
সাংবাদিকদের নিয়ে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (সর্বশেষ সংশোধনীসহ); সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ (সর্বশেষ সংশোধনীসহ) এবং নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর পরিচিতি’ শিরোনামের কর্মশালায় বক্তব্য দেন আখতার আহমেদ। এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করে ইউএনডিপি ও রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)।
মন্তব্য করুন