

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৬০ হাজার সেনাসদস্য নির্বাচনী ডিউটিতে থাকবে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেসসচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
প্রেসসচিব বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার করতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি মিডিয়া সেন্টার খোলার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, অনেক সময় পুলিশ বাহিনী ভালো কাজ করলেও তা প্রচারের ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ জানতে পারে না। মিডিয়া সেন্টার থাকলে সেই ঘাটতি দূর হবে।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং বিশেষ সহকারী খোদা বক্স চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কীভাবে দেশ ছাড়লেন, এ বিষয়ে পুলিশকে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুলিশ প্রধান (আইজিপি) থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি জানান, 'আমরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, ওবায়দুল কাদের গত তিন মাস বাংলাদেশে ছিলেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর থেকে তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে তিনি পালিয়েছেন এবং কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হোক।'
তিনি আরও বলেন, 'আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ কাউকে পালাতে সাহায্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।'
তাজুল ইসলাম আরও জানান, 'গুমের ঘটনার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা পেয়েছে গুম কমিশন। গুম কমিশনের রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ছিলেন জুলাই-আগস্ট গণহত্যার নিউক্লিয়াস।'
'তার (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করার জন্য ট্রাইব্যুনাল দুই মাস সময় দিয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের অগ্রগতি সম্পর্কে আইজিপির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে,' যোগ করেন তিনি।
এদিকে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল নোমান জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত এক মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত শেষ করে আজ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল।
এই ৪৬ জনের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী আনিসুল হক, ফারুক খান, দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাংগীর আলম।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে ২২ জুন পর্যন্ত করেছে। রোববার (২০ এপ্রিল) ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদনের সময়সীমা ৯০ দিন বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। 'নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন' শিরোনামে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী তরুণদের উদ্যোগে গঠিত এনসিপি এ আবেদন করে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও তাজনূভা জাবীন এবং সদস্য মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বর্তমান নির্বাচনী আইনের মধ্যেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও তার অনুগত নির্বাচন কমিশন গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোটবিহীন সংসদ সদস্য নির্বাচন, জাল ভোট, রাতের ভোটসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করেছে। একইভাবে, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশনায় ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিদ্যমান আইনি কাঠামোতেই ইসির মাধ্যমে সরকার নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস ও একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
এনসিপির চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এমন পরিস্থিতিতে দেশের ছাত্র-জনতা বৈষম্য ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলে, যা শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করে।
মন্তব্য করুন


মোবাইলে ফোন করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় কাকরাইলের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।
তিনি জানান, আজ দুপুর ১টায় প্রধান উপদেষ্টা ফোন করেন। এ সময় নুরুল হক নুর প্রধান উপদেষ্টাকে গতকালের ঘটনার বিস্তারিত জানান।প্রধান উপদেষ্টা কাকরাইলের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের পর আল রাজী টাওয়ারের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হন নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। ঘটনাস্থল থেকে নুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, নুরের মুখ থেকে বুক পর্যন্ত পুরো রক্তাক্ত। ফেটে গেছে নাক। এ সময় তাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায় দলীয় নেতাকর্মীদের।
এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘটনার শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান। তবে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু নেতাকর্মী তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালান এবং আনুমানিক রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বাড়ান। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালান।
জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
মন্তব্য করুন


বিজিবি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের শক্ত অবস্থানের কারণে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে ভারত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (১২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্প্রতি সীমান্তের পাঁচটি স্থানে ভারত বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের কঠোর অবস্থানের কারণে ভারত বাধ্য হয়েছে কাজ বন্ধ করতে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে (২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত) ভারত কিছু অসম এবং অনৈতিক কাজ করেছে। তাদের সেই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল। তবে আগের সরকারের নীরব ভূমিকার কারণে ভারত এসব সুযোগ নিতে পেরেছে।”
তিনি বলেন, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরকারের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সেদিকে বিজিবি সর্বদা সজাগ রয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যারা ডিসেম্বরে নির্বাচন চেয়েছিল বা বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের দাবি করেছে তাদের অনেকেই আবার এখন নির্বাচন চাচ্ছে না কিংবা নির্বাচন পেছানোর নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে তিনি পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) নবনিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিসেম্বরে নির্বাচন চেয়েছিল বা বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের দাবি করেছে তাদের অনেকেই আবার এখন নির্বাচন চাচ্ছে না কিংবা নির্বাচন পেছানোর নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত হচ্ছে। এটা কেন হচ্ছে তাও খুব স্পষ্ট। আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনে ইনক্লুসিভ ইলেকশন করার পরিকল্পনা তাদের মাথায় ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সেখানে ফ্যাসিবাদীদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে না বলে তাদের এখন মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। এ ধরনের নানা ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনা আছে।’
তিনি বলেন, ‘তবে এই সরকারের তিনটা গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা– সংস্কার, বিচার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর– সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছি। জুলাই সনদের কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। আমরা মনে করি সবার ঐকমত্যের মাধ্যমে এটার বাস্তবায়নের দিকে আমরা যাব এবং পরবর্তীতে সরকার নির্ধারিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে। তবে আমরা মনে করি যারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী, রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সিভিল সোসাইটি– সবার সহযোগিতায় এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবার একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর আয়োজন আমরা করতে পারব।’
মন্তব্য করুন


পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার সক্ষমতা কোনো অপশক্তির নেই। মানুষ নির্বাচনমুখী, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
শনিবার বিকেলে খুলনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন তিনি। নগরীর বয়রাস্থ কেএমপি পুলিশ লাইনে এ মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে তিনি খুলনার পাঁচটি লোকেশনে চলমান নির্বাচনী প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করেন। সেই সঙ্গে তিনি খুলনা বিভাগে কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় মিলিত হন।
আইজিপির সঙ্গে এ সময় খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি জানান, পুলিশের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অতীতের সমালোচনা এড়াতে এবার প্রথমবারের মতো সব ইউনিটকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪—এই তিন নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতা ও সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশ একা নয়, সমাজের সাধারণ মানুষ আমাদের শক্তি। গুজব, মিথ্যা তথ্য ও নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা সব কিছু আমরা নজরদারিতে রেখেছি।’
পুলিশের অতীত বিতর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মে জড়িত ছিলেন এবং সংশোধনযোগ্য নন তাদের নির্বাচন ডিউটিতে রাখা হবে না।
এসপি ও ডিআইজিরা সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করছেন। নির্বাচনের আগে তাদের তালিকা করে নির্বাচনী ডিউটি থেকে বাদ রাখা হবে।’
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মাঠে কাজের পরিবেশ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘সাংবাদিকদের কোনো রকম বাধা দেওয়া হবে না। বরং আমরা উৎসাহিত করব আপনারা যেন স্বাধীনভাবে ভোটের নিউজ কাভার করতে পারেন।’
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন পহেলা বৈশাখ উৎযাপনকে ঘিরে কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে বৈশাখ উৎযাপনের নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠক শেষে একথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এ বছর ব্যাপক আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য যা যা করা প্রয়োজন সেসব করা হচ্ছে। রোজার মত চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে।
সম্প্রতি বাটাসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির দোকানে ভাঙচুর হয়েছে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, এসব দোকানের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানায়, সারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। যারা এসব ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় ৪৯ জনকে আটকও করা হয়েছে।
এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে কি না এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে। সেখান থেকেই ১০ তারিখে সিদ্ধান্ত হবে। তবে নাম পরিবর্তন নিয়ে আজকে আলোচনা হয়নি। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এটা আয়োজন করে সেহেতু তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এবারের উৎসবে প্রচুর জনসমাগম হবে। বিভিন্ন জায়গায় মেলাও হচ্ছে, বাঙালি ছাড়াও ২৬টি জাতিগোষ্ঠী এতে অংশগ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা সম্পন্ন হয়।
জানাজায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার প্রবেশ পথ খুলে দেওয়া হয়। সকাল সোয়া ১০টার পর গেটটি খুলে দেওয়ার কয়েক মিনিটেই তা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিশন সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘খুব শিগগিরই নির্বাচনের মুখোমুখি হব। সামনের নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে সবার সহযোগিতা দরকার। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে চায় কমিশন।’
রবিবার সকালে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বিতীয় দিনের সংলাপের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় সিইসি দলীয়ভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনের আহ্বান জানান।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে গণফোরামসহ ৬ দলের সঙ্গে সংলাপে বসেছে ইসি। সংলাপটি বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
অন্য দলগুলো হলো—গণফ্রন্ট, ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি।
এ ছাড়া দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), তৃণমূল বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে বিএনপি, জামায়াতসহ ৫৩টি দল নিবন্ধিত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) বেগম ফরিদা ইয়াসমিন লিখিত প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়াসহ সাজাপ্রাপ্ত ১৫ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। বিদেশে পলাতক আসামি মাওলানা তাজউদ্দীন, মো. হারিছ চৌধুরী (প্রয়াত) ও রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবুদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা আছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড হামলা করা হয়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ১৯০৮-এর ৩/৪ ধারায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হয়, যার নম্বর-৯৭ তারিখ-২২/৮/২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ।
তিনি বলেন, মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘ তদন্ত শেষে মোট ৫২ আসামির বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। রায় ঘোষণার পূর্বে অভিযোগপত্রভুক্ত ৫২ জন আসামির মধ্যে তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল নম্বর-০১, ঢাকার বিজ্ঞ বিচারক ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর তারিখে রায় ঘোষণা করেন। বিচারে ৪৯ জন আসামির সাজা হয়, যার মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। সাজাপ্রাপ্ত ৪৯ আসামির মধ্যে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন