

অন্তর্বর্তী সরকার ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন’ কিছু মানুষের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘বাস্তবে সরকার মাত্র ১৫ মাসেই তাদের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জন করেছে।’
আজ মঙ্গলবার শফিকুল আলম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বলছি—এটি গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সরকারগুলোর একটি। তারা তাদের প্রায় সব লক্ষ্যই অর্জন করেছে।’
কেউ কেউ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের অদক্ষতার অভিযোগ করলেও তা নাকচ করে শফিকুল আলম বলেন, ‘দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরেছে।
বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ হয়েছে’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র এই সরকারের দুর্বলতার কারণে ‘পাল্টা শুল্ক সুবিধা দেবে না’—এমন সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করা হয়েছে কোনো লবিং ফার্ম ভাড়া না করেই।’
সরকারের আইন প্রণয়ন বিষয়ক কাজের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাত্র ১৫ মাসে রেকর্ডসংখ্যক আইন পাস হয়েছে, যার মধ্যে বিস্তৃত শ্রম সংস্কার আইনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
জুলাই ঘোষণা ও সনদের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ‘জুলাই ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে এবং জুলাই চার্টার এমন এক রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তুলেছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিকে পুনর্গঠন করতে পারে।’
সরকারের অন্যান্য অর্জনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন, ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামিন বা মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বন্দর অপারেটর লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করেছে। এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় বিনিয়োগ।’
এ ছাড়া নতুন পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো বাংলাদেশের অবস্থানকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রে নিয়ে গেছে বলেও তিনি জানান।
অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে পুনরায় প্রবৃদ্ধির পথে ফিরেছে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের লুটপাট রোধ করা হয়েছে, টাকা স্থিতিশীল এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে নেমে ৭ শতাংশ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আদালতের কার্যক্রম অনুযায়ী, অতীতের নিপীড়নের জন্য জবাবদিহি শুরু হয়েছে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বোধের আবির্ভাব ঘটেছে। শেখ হাসিনাকে তার অবস্থান দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গুম বন্ধ হয়েছে।
একসময়ের জাতীয় জীবনে আধিপত্যকারী বিএএল চরমপন্থী রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং একটি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এসেছে। পূর্ববর্তী নির্যাতনের ওপর নির্মিত জনপ্রিয় প্রামাণ্যচিত্রগুলো এর প্রমাণ। এটি এক ফারুকি-ইফেক্ট।’
র্যাব এখন আইনের অধীনে পরিচালিত হয়, আর কোনো অনানুষ্ঠানিক মতবাদে নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ভিন্নমতাবলম্বীদের হয়রানি থেকে সরে এসেছে বলে শফিকুল আলম জানান।
গত ১৬ মাসে একটিও সাজানো ‘ক্রসফায়ার’ ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
সরকারের আরো অনেক সাফল্য রয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘ইতিহাসের এক আগ্রহী পাঠক হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে কোনো সরকার এত কিছু অর্জন করতে পারেনি, যতটা অন্তর্বর্তী সরকার এই ১৫ মাসে করেছে।’
মন্তব্য করুন


শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হলেও ভারত থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া মেলেনি- এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শুক্রবার সকালে রংপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তৌহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাওয়ার বিষয়টিও জানেন না তারা। এছাড়া তারেক রহমান দেশে আসার বিষয়েও জানেন না তারা।
তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, নীলফামারিতে চীনের সহায়তায় যে হাসপাতাল হবে তা পুরো রংপুর অঞ্চলের জন্য। তাদের সময় বেশি দিন নেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যতদিন আছেন রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করবেন তারা। কর্মসংস্থানসহ যেসব সমস্যা আছে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
প্রসঙ্গত, চার দিনের সফরে রংপুর ও নীলফামারীর গুরুত্বপূর্ণস্থান পরিদর্শনের কথা রয়েছ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার।
মন্তব্য করুন


সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ৪৭তম বিসিএসের আবেদন শুরু হবে। প্রার্থীরা আগামী ৩০ জানুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৪৭তম বিসিএস থেকে আবেদন ফি ও মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর কমানো হয়েছে। এ বিসিএসে ভাইভা নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়েছে।
আবেদন ফি ৭০০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ৫০ টাকা ধরা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ ডিসেম্বর থেকে ৪৭তম বিসিএসের আবেদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আবেদন ফি কমানোর প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে পিএসসি।
পিএসসি গত ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তবে বিশেষ কারণে আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।
এবার প্রথমবারের মতো বিসিএসে আবেদনকারীদের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
৪৭তম বিসিএসে ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার এবং ২০১টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ রয়েছে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। সহকারী সার্জন পদে ১,৩৩১টি এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০টি শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা বজায় রেখে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অগ্রাধিকার হচ্ছে পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা। সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইন-কানুনের বাইরে কারো যাওয়ার সুযোগ নেই। শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আগামী নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, এবারের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের হবে। নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আরো অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে। যেকোনো ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ আসলে সেটা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে কার্যক্রমে ৮০ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচন আয়োজনে সাড়ে দশ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের এই প্রশিক্ষণের ওপর আমাদের সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ভর করছে। আশা করি, সফল ট্রেনিং হবে। কমিউনিকেশন ব্রেকডাউন যেন না হয়। প্রফেশনালিজ অ্যান্ড নিউট্রালিটি বজায় রাখতে হবে।
মন্তব্য করুন


একজন সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন, এমন প্রস্তাবে সব দল একমত হয়েছে বলে জানান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ।
রবিবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চলমান দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনে এ কথা বলেন তিনি।
আলী রীয়াজ জানান, ‘আমরা একটা বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, কিন্তু সেটা বলা হয়নি। সেটা হলো, প্রধানমন্ত্রী ১০ বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর উল্লেখ করব।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কি একমত হয়েছি? এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ সাহেব একটি শর্ত দিয়েছিলেন, সেটা কি এখনো আছে?’
জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা একবার বলেছি তো বলেছি, ১০ বছরের বেশি কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন না। আমি বলেছিলাম সংবিধান ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের কমিটি থাকলে বিষয়টি মানব না। আমরা এ হাউসের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত বিধান সংবিধানে যুক্ত করব। এর বাইরের বিষয়ে আলোচনা হলে আমাদের শর্ত বহাল থাকবে। আশা করি, সেটা বিবেচনা করবেন। এখন ১০ বছরের বিষয়ে আপনারা ঘোষণা দিতে পারেন। বরং এটা আমাদের প্রস্তাব।’
‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠনের প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলো একমত জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘পুলিশ কমিশনের বিষয়ে আমরা একমত। গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে আমরা আলোচনা করব। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো আলাপ-আলোচনায় একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে একমত হয়েছে। যা পুলিশের জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে, জনবান্ধবতা নিশ্চিত করবে।’
মন্তব্য করুন


আমরা নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পর সিইসি’র কাছে একজন সংবাদিক জানতে চান-‘আমরা কি স্যার তাহলে নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেছি? এর প্রত্যুত্তরে সিইসি বলেন, হ্যা, ট্রেনে উঠে গেছে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি জানান, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছি। উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা এক সঙ্গে কাজ করেছি। সেজন্য উনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এসেছি।’
তিনি জানান, ‘উনারা ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটি (নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি) ডেপ্লয় করবেন। আমাদের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে উনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’
প্রধান বিচারপতি আশ্বাস দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মামলা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’
এর আগে, দুপুর দেড়টার দিকে সিইসিকে সুপ্রিম কোর্টে স্বাগত জানান রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা উপলক্ষে সিইসি’র ভাষণ চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) অথবা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ব্যাপারটি এখনো স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আইসিসি। তাতেও কাটেনি জট। ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আইসিসি। ঘোলাটে এই পরিস্থিতিতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়ে দিলেন, অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না।
বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ না খেললে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া সর্বোচ্চ র্যাঙ্কধারী দলকে সুযোগ দেবে। সেক্ষেত্রে কপাল খুলতে পারে স্কটল্যান্ডের। যদিও বিবিসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো আইসিসির পক্ষ থেকে স্কটল্যান্ডকে কিছু জানানো হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের বাদ দিয়ে (আইসিসি) স্কটল্যান্ডকে নেবে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কিছু শুনিনি। আমাদের মূল কথা, যদি আইসিসি ভারতীয় বোর্ডের সাথে কথা বলে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে; অযৌক্তিক কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয় তবে আমরা সে অযৌক্তিক শর্ত মানবো না।’
পূর্বের উদাহরণ দিয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘এর আগে এমন উদাহরণ আছে; পাকিস্তানে ভারত খেলতে যাবে না বলেছে, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে। আমরা অত্যন্ত যৌক্তিক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের কথা বলেছি। অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে আমাদের ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না।’
মন্তব্য করুন


রাজধানীর গুলিস্তানের শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউতে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঠেকাতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ১০-১৫ জনের একটি দল।
এই অবস্থান চলাকালেই হঠাৎ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দেখা যায়। আগুনের তীব্রতা কমলে বিক্ষুব্ধরা আবারও আগুন লাগিয়ে দেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। পরে ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকে।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এসময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে রাজপথে অবস্থান নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীরা।
মন্তব্য করুন


অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ব্যবসার ক্ষেত্রটি বেশ জটিল, এবং ব্যবসায়ীরা যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আজ চাল, ডাল, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, সার ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মোটামুটি যা আসছে, আমরা তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিচ্ছি। কিছু ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তবে এককভাবে টাকার অঙ্ক খুব বেশি নয়। আগে অনেক বড় বড় কিছু অনুমোদন দেওয়া হত, তবে এখন যে অনুমোদনগুলো আসবে, আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেবো।
তিনি আরও বলেন, সয়াবিন তেলের দাম হয়তো কিছুটা সহনীয় হতে পারে, এবং মসুর ডালের কেনা হচ্ছে, কারণ এর প্রয়োজন রয়েছে। অতএব, রোজা পর্যন্ত যত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রয়েছে—চাল, ডাল, খেজুর, ছোলা, সয়াবিন তেল, চিনি—এগুলো নিশ্চিত করা হচ্ছে। বাজারকে আরও সহনীয় করার চেষ্টা চলছে, তবে সময় লাগবে। কারণ এসব পণ্য বেশিরভাগই আমদানি করতে হয়।
গত ৯ ডিসেম্বর সয়াবিন তেলের দাম ৮ টাকা বাড়ানোর পরও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের কিছুটা গ্যাপ আছে। দাম বাড়ানোর পর পরেই অনেক সাপ্লাই ছিল, কিন্তু ব্যবসায়ীরা এই ৮ টাকা বাড়ানোর পর আরও দাম বাড়বে বলে আশা করেন। তিনি বলেন, আমরা আজ সয়াবিন আমদানির নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের চেষ্টা হচ্ছে যতটা সম্ভব সাপ্লাই আসুক, যাতে ব্যবসায়ীদের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছায়।
তিনি আরো বলেন, ভোক্তা অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর কত জায়গায় যেতে পারেন? কিছুদিন আগে আমি পাবনা গিয়েছিলাম, সেখানেও একই অবস্থা। ডিসি বলছেন, আমরা কমিটি করেছি এবং তারা বাজারে যায়। তবে, যখন তারা চলে আসেন, পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যায়। তিনি বলেন, মানুষ যদি সচেতন না হয় এবং মনিটরিং না করে, তবে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়। আমাদের এখানে সহনশক্তি বেশি, তবে বাইরে ক্রেতারা সচেতন থাকেন এবং অভিযোগ করেন। ভারতে দাম বেড়ে গেলে তারা প্রতিবাদ করে, কিন্তু আমি এখানে প্রতিবাদ করতে বলছি না, তবে সবাই যেন মনিটরিং করে।
এছাড়া, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের শক্তি সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, "ডেফিনেটলি।" সিন্ডিকেট না বললেও, ব্যবসায়ীরা যথেষ্ট শক্তিশালী। বড় ব্যবসায়ী, মাঝারি ব্যবসায়ী, যারা সরাসরি আমদানি করেন এবং সাপ্লাই দেন, তারা সবই এই সিস্টেমের অংশ।
মন্তব্য করুন


তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের কোনো বিধি নিষেধ-আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে প্রেস সচিব তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে শফিকুল আলম লিখেন, ‘জনাব তারেক রহমানের আজকের বক্তব্য যে এখনই দেশে ফেরার বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার জন্য অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, এটা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জনাব শফিকুল আলমের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে তার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোন ধরনের বিধি নিষেধ রয়েছে কিনা।’
এর উত্তর দিয়ে প্রেস সচিব লিখেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোন বিধি-নিষেধ অথবা কোন ধরনের আপত্তি নাই।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মন্তব্য করুন


পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেছেন, বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিরা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবেন। পুরো ময়দান সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তিন পর্বের ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ৬ হাজার পুলিশসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
বুধবার দুপুরে ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসের পাশে স্থাপিত জিএমপির কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, এবারের ইজতেমা ভিন্ন রকমের, কারণ গত আন্দোলনে পুলিশের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র হারিয়ে গেছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলখানা থেকে অস্ত্র লুট হয়েছে। সেসব এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এবার পুরো ইজতেমা ময়দান ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পাশাপাশি ইজতেমা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ময়দানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
তিনি জানান, ইজতেমা ময়দানে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ময়দানের চারপাশে পোশাকধারী, সাদা পোশাকে, ড্রোন ভিউ, সিআইডি, ডিবি, সিসিটিভি মনিটরিং, নাইটভিশন ক্যামেরা, রুফটপ পর্যবেক্ষণ, ওয়াচ টাওয়ারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল করিম রনি, উপ-পুলিশ কমিশনার এনএম নাসিরুদ্দিন, সিটি এসবির উপ-পুলিশ কমিশনার আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজুল ইসলাম, সহকারি উপ-পুলিশ কমিশনার (টঙ্গী জোন) মেহেদি হাসান দিপু, ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি মাহফুজ হান্নান, মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন, সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাহ উদ্দিন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন