

দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও স্বাভাবিক হবে।
বুধবার সেনাসদরে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, সদর দফতর আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (জিওসি আর্টডক) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
তিনি বলেন, দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সে রূপরেখার মধ্যে সময়সীমাও দেওয়া আছে। আমরা আশা করি নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও স্বাভাবিক হবে এবং সেনাবাহিনী তখন সেনানিবাসে ফিরে যেতে পারবে। আমরা সেদিকে তাকিয়ে আছি।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান আরও বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যেটুকু রূপরেখা প্রনয়ণ করেছে সেটার উপর ভিত্তি করে সেনাবাহিনী যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। আমাদের যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এখন সীমিত আকারে চলছে তারমধ্য নির্বাচনের সময় আমাদের কী করণীয় সেটাকে ফোকাসে রেখেই প্রশিক্ষণ করছি।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণের সঙ্গে একটি বিষয় সম্পর্কিত তা হলো শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। আমরা বলে থাকি 'উই ট্রেইন এজ উই ফাইট'।
গত ১৫ মাস সেনাবাহিনী বাইরে আছে উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন পর্যন্ত বা তার কিছুটা পরেও যদি বাইরে থাকতে হয় তাহলে আরও কিছুদিন বাইরে থাকতে হবে। এতে করে আমাদের প্রশিক্ষণ বিঘ্নিত হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান বলেন, এর পাশাপাশি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গত ১৫ মাস যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে সেনাবাহিনী; এটা সহজ পরিস্থিতি ছিল না। এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশ প্রতিদিন ফেস করেনি। এজন্য আমরাও চায় একটা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এবং আমরা সেনানিবাসে ফেরত আসতে পারি।
গত ১৫ মাস সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের সহয়তায় নিয়জিত আছে এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। এই ১৫ মাস সেনাবাহিনী অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে বলেও উল্লেখ করেন সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


প্রার্থিতা ফিরে পেতে এখন পর্যন্ত মোট ৩৮০টি আপিল শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে, নামঞ্জুর করা হয়েছে ৮১টি এবং পেন্ডিং আছে ২৩টি শুনানি। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি চলবে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ইসি সচিব জানান, আপিলের পঞ্চম দিনে মোট ১০০টি শুনানি হয়, এর মধ্যে ৭৩টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। নানা কারণে ১৭টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১০টি আপিল পেন্ডিং রাখা হয়েছে।
কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ক্রমিক নম্বর আজ ২৮১ থেকে ৩৮০ পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের সিরিয়াল নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, গেজেটের ধারাবাহিকতা হিসাব করে পোস্টাল ব্যালটের প্রতীক ছাপানো হয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনের একটি ডেলিভারি পয়েন্ট থেকে অন্যের পোস্টাল ব্যালটের খাম সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেশটির পোস্ট অফিস তদন্ত করবে।
উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন


সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সাউন্ড গ্রেনেড-টিয়ারশেল কেনা ও ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, "সীমান্তে সবসময় প্রাণঘাতী অস্ত্র দেওয়া ছিল। তবে বিজিবির কাছে সাউন্ড গ্রেনেড বা টিয়ারশেল ছিল না। অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে— বিজিবি কেন টিয়ারশেল বা সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেনি। মূলত এসব সরঞ্জাম তাদের কাছে ছিল না। এখন আমরা তাদের এগুলো কেনার অনুমতি দিয়েছি। শিগগিরই এগুলো কেনা হবে।"
সীমান্ত পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন সময় কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের সমস্যা নেই।"
ভারতের কাছে সাউন্ড গ্রেনেড থাকা এবং তাদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ভারতের কাছে সাউন্ড গ্রেনেড আছে। তারা এটি নিয়ে খারাপভাবে নেবে না।"
মন্তব্য করুন


অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো দিন দিনের ভোট রাতে হবে না। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি আপনাদের গোপন বুথ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার। সেখানে গিয়ে আপনার ভোট যাকে ইচ্ছা, তাকে দিতে পারবেন।
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সপ্তাহব্যাপী কয়েকটি সভা ও সেমিনারে অংশ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক এবং সৈয়দ মাহমুদ হোসেনদের মত কুলাঙ্গাররা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে ভোটের অধিকার হরণ নিশ্চিত করেছিলেন। বিচারাঙ্গনে কোন মাফিয়া থাকবে না, কোন চক্রের সিন্ডিকেট থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন আসাদুজ্জামান।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তিনি প্রতিনিয়ত মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। এ লড়াইয়ে সফলও হচ্ছেন। তিনি মাদক ও দুর্নীতির তথ্য দিয়ে সগযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা শৈলকুপাকে মাদকমুক্ত করে গড়ে তুলবো। কথা দিচ্ছি মাদকের তথ্যদাতাদের নাম পরিচয় গোপন রেখে কেবল মাদকের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন


অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক গাড়িচালক আব্দুল মালেককে পৃথক দুটি ধারায় ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৩ মার্চ) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক জাকারিয়া হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত।
২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি আব্দুল মালেক দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ৯৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৮ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া, তিনি তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে এক কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার ৮১০ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখল করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর আগে, ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও জাল টাকাসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন মালেক। তার বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ২০২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালত তাকে উভয় ধারায় ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন।
এদিকে, আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে দুদকের আরেকটি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক জাকারিয়া হোসেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ লক্ষ্যে গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই আনসার ও ভিডিপি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৫৬ হাজার উপজেলা-থানা কোম্পানি আনসার, ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারেরও অধিক আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের উদ্দেশে সাড়ে চার লক্ষাধিক সদস্যকে এসটিডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম বিসিএস (আনসার) কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিকা এবং আনসার ব্যাটালিয়ন ২৬ ও ২৭তম ব্যাচ এর মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে মোট ১১ হাজার ৯১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যা সামগ্রিক নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করবে।
যেকোনো ধরনের অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের বিরত থাকতে আমি সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা প্রদান করছি। দেশের ভবিষ্যত কল্যাণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার পবিত্র দায়িত্ব সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করতে হবে।
দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। কোনো আনসার সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙ্গে না সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয় এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। আপনাদের কেউ যেন কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হন। সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়; সাহস মানে অন্যায় আদেশকে না বলা, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, মজলুমের পক্ষে কাজ করা, দায়িত্ব পালনে ন্যায়ানুগ পন্থা অবলম্বন করা এবং নিজেকে সঠিক পথে অটল রাখা। সততা, নৈতিকতা ও বিবেকই হবে আপনাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
অনুষ্ঠানে সেরা নৈপুণ্য ও পেশাদারিত্বের জন্য চারজন নবীন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যকে ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। এসময় বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ আনসার ও ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
গত ১৫ বছরে পুলিশ বাহিনীতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার সদস্যকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ১৫ বছরে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের আগে নানাভাবে তাদের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। নিয়োগ পার্থী কোন দলের, তার বাবা কোন দলের, দাদা কোন দলের এবং আরও পূর্বপুরুষ কোন দলের তা খবর নেওয়া হয়েছে। দুই লাখ পুলিশের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ হাজার পুলিশ সদস্য এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, এই ৮০ থেকে ৯০ হাজার পুলিশ সদস্যকে তো বলতে পারি না ‘গো হোম’ (বাসায় ফিরে যাও)। তবে যারা দুষ্টু, যারা পেশাদারত্বের বাইরে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাজ্জাত আলী আরও বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন পুলিশ ইনঅ্যাক্টিভ হয়ে পড়ে, তখন ঢাকা শহরে ডাকাতি, লুটপাট শুরু হয়। তখন ৮০ বছরের বৃদ্ধও লাঠি নিয়ে পাহাড়া দিয়েছেন। তখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ট্রমার মধ্যে পড়ে যায়। এরপর সদ্যবিদায়ী ডিএমপি কমিশনারসহ অন্যরা পুলিশকে সক্রিয় করতে কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা ট্রাফিক। এই শহরে বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। অটোরিকশা যদি বন্ধ না হয় তাহলে ঢাকা শহরের ঘর থেকে বের হলে আর হাঁটার জায়গা থাকবে না। মানুষের মুভমেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। ট্রাফিক আইন কেউ মানতে চান না। হকাররা ফুটপাত দখল করে নিয়েছেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছি। ট্রাফিক আইনে দ্বিগুণ হারে মামলা করা হচ্ছে। ঢাকাবাসীর সহযোগিতা ছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত হবে না।
ইদানিং ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ হচ্ছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিভিন্নভাবে আমাকে জানানো হয়েছে ছিনতাই বেড়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশকে সক্রিয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি হচ্ছে, কিন্তু সমাজ থেকে প্রতিরোধ করা না গেলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা কঠিন। আপনারা কেউ চাঁদা দেবেন না। আমরা পুলিশ জনগণের পাশে থাকবো।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় আমি ঢাকাসহ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
তিনি বলেন, ডিএমপির ওই সময়ের অপেশাদার আচরণের কারণে বদলি ও দোষী সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন পহেলা বৈশাখ উৎযাপনকে ঘিরে কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে বৈশাখ উৎযাপনের নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠক শেষে একথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এ বছর ব্যাপক আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য যা যা করা প্রয়োজন সেসব করা হচ্ছে। রোজার মত চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে।
সম্প্রতি বাটাসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির দোকানে ভাঙচুর হয়েছে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, এসব দোকানের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানায়, সারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। যারা এসব ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় ৪৯ জনকে আটকও করা হয়েছে।
এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে কি না এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে। সেখান থেকেই ১০ তারিখে সিদ্ধান্ত হবে। তবে নাম পরিবর্তন নিয়ে আজকে আলোচনা হয়নি। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এটা আয়োজন করে সেহেতু তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এবারের উৎসবে প্রচুর জনসমাগম হবে। বিভিন্ন জায়গায় মেলাও হচ্ছে, বাঙালি ছাড়াও ২৬টি জাতিগোষ্ঠী এতে অংশগ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্ব ইজতেমা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘ইজতেমা নিয়ে সহিংসতার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সাদ ও জুবায়ের দুটি পক্ষই আমাদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে ছিল। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোর হাতে তাদের দমন করা হবে।’
তিনি আরও জানান, নির্বাচনসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৮৫ জনের মতো পুলিশ সদস্য কাজে যোগ দেয়নি, এ সংখ্যা নগণ্য। বাকি পুলিশ সদস্যরা কার্যকরী অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী যেমন র্যাব, বিজিবি উপস্থিত রয়েছে। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কোনো অসুবিধা হবে না।’
সভায় মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত, পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকারসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন হবে। এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের পুনঃসূচনা হবে। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের সাক্ষী হতে রেকর্ড সংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এক কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এসব কথা বলেন।
এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস আয়োজিত এই কর্মশালায় তিনি বলেন, অংশীদার সংস্থাগুলোর অনুরোধে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের বয়স কমানো হয়েছে। তবে তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণে আরও প্রশিক্ষণ দরকার।
কর্মশালায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তাদের বক্তব্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব অংশীজনের আস্থা অর্জন ও অংশগ্রহণের ওপর জোর দেয়া হয়।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, পুলিশ ও গণমাধ্যমসহ সব অংশীজনের আস্থা অর্জন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে। এ ছাড়াও, প্রার্থী ও দলগুলোর অনলাইনে প্রচারণা চালানোর জন্য রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন তারা।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতে প্রশাসনে রদবদল চলবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি।
ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতে প্রশাসনে রদবদল চলবে। পরিপত্র রেডি করা আছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য যা প্রাসঙ্গিক হবে, তার সব নিশ্চিত করব। যেখানে যার যতটুকু প্রয়োজন, ইসির অনুমতি-সম্মতি বা পরামর্শ সাপেক্ষে সেটি করা হবে।
সংসদীয় আসন নিয়ে হাইকোর্টের রায় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতের আদেশে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এ সময় সীমানা নিয়ে উচ্চ আদালতের রায়গুলো নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, প্রবাসে ভোটার আনুমানিক ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৫ লাখের কাছাকাছি। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে ৩ লাখ ১০ হাজার ৪১৪ জন নিবন্ধন করেছেন। এখন গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভোটের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা তফসিল ঘোষণার পর ১৬ বা ১৭ ডিসেম্বর থেকে নিবন্ধন করতে পারবেন। আর কয়েদিরা ২১ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত করতে পারবেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েনের পর নিবন্ধন করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন