

অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো মহল যেন রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের এজেন্ডাকে সরকারের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজনৈতিক দল গঠন প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত হওয়ায় জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংস্কার আগে নাকি নির্বাচন আগে—এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের কোনো স্থান নেই।
তিনি বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া একই সঙ্গে চলতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি সংস্কার সনদ তৈরি করা সম্ভব, যা নির্বাচিত সরকার পরবর্তীতে বাস্তবায়ন করবে। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব হলো একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারই জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে। কারণ নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকারাবদ্ধ। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল গঠন প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকায় জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক যন্ত্রকে ব্যবহার করার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে, যা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের স্প্রেডশিটে যে অপশন বা পছন্দগুলো দেওয়া হয়েছে, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, যেসব বিষয় প্রস্তাব আকারে আসার কথা ছিল, সেগুলো প্রস্তাব না রেখে শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দিতে বলা হয়েছে। যেমন, প্রস্তাবগুলো গণপরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন চাই কি না—এ প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বলা হয়েছে। কিন্তু প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার যে, গণপরিষদের প্রস্তাবে আমরা একমত কি না। একইভাবে ‘গণভোট’, ‘গণপরিষদ’ এবং আইন সভা হিসেবে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন চাই কি না—এ প্রশ্নের উত্তরও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বলা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ‘প্রস্তাবনা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংস্কার কমিশনের সুপারিশে থাকলেও স্প্রেডশিটে তা উল্লেখ করা হয়নি। স্প্রেডশিটে প্রায় ৭০টি প্রস্তাব উল্লেখ করা হলেও মূল প্রতিবেদনে সুপারিশের সংখ্যা প্রায় ১২৩টি।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের মূল প্রতিবেদনে প্রায় ১৫০টি সুপারিশ তুলে ধরা হলেও স্প্রেডশিটে মাত্র ২৭টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যার অধিকাংশই সংবিধান সংস্কারের সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি মনে করেন, স্প্রেডশিটের পাশাপাশি মূল সুপারিশমালার উপর মতামত সংযুক্ত করলে বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের স্প্রেডশিটের অবস্থা এবং কমিশন সদস্যদের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য ও কিছু রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের মধ্যে মিল পাওয়া যায়। এতে জনমনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এসব বিষয় যেন একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মপরিকল্পনার অংশ, যা গণতন্ত্রের স্বার্থের পক্ষে কিনা তা বলা কঠিন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও সালেহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নির্বাচন ইভিএমে নয়, ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এছাড়া, গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমেদ বলেন, “২০২৫ সালের শেষে বা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত।”
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, সংস্কার এবং ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে প্রণয়ন সাপেক্ষে ২০২৫ সালের শেষদিকে অথবা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পর নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জনগণ এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য আশা করে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এই কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত শেষ করে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।
বুধবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন নিয়ে ড. ইউনূসের বক্তব্য অস্পষ্ট ছিল এবং তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর বা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন, যা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ২০২৬ সালের জুনের কথা বলেছেন, যা পরস্পরবিরোধী এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন বলেছেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজনে কমিশন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এবার দিনের ভোট রাতে হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
সোমবার (০৫ মে) সকালে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তনে ময়মনসিংহ অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এএমএম নাসির উদ্দীন জানান, কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াবে না নির্বাচন কমিশন। যে কোনো সিদ্ধান্ত কমিশনের সকল সদস্য মিলে নেয়া হয়। একক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না।
সিইসি জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ইশরাক হোসেনকে শপথ করানোর দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই।
মন্তব্য করুন


সরকারি উদ্যোগে সবজিসহ কৃষিপণ্য খোলা বাজারে বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, "এই কার্যক্রমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোনো প্রভাব পড়ছে না। তাই এটি আর চালু রাখা হবে না।"
গত অক্টোবরে রাজধানীতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সবজিসহ কৃষিপণ্য বিক্রি শুরু হয়। প্রতিদিন ঢাকার ২০টি এলাকায় এসব পণ্য সরবরাহ করা হতো। সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল।
এই প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ টাকার প্যাকেজে ১০টি পণ্য সরবরাহ করা হতো। পণ্যগুলোর মধ্যে ছিল ডিম এক ডজন, আলু এক কেজি, পেঁয়াজ এক কেজি, পেঁপে এক কেজি, কুমড়ার এক টুকরো, করলা এক কেজি, পটল এক কেজি, লাউ একটি, কচুরমুখি এক কেজি এবং কাঁচা মরিচ এক কেজি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কক্সবাজারের সীমান্ত পরিদর্শনকালে টেকনাফে হ্নীলা জাদিমুড়া পশ্চিম পাহাড় থেকে ১৭ শ্রমিকসহ ১৯ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগের জায়গায় কাজ করতে গেলে তাদেরকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
আজ সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন।
অপহৃতরা হলেন বন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম (২২), সৈয়দ (৫০), রফিক, শ্রমিক আইয়ুব খান (১৮), আইয়ুব আলী (৫০), আনসার উল্ল্যাহ (১৮), আয়াত উল্ল্যাহ (২২), সামছু (৪৫), ইসলাম (২১),সামছু (৪০), ইসমাইল (৩৫), মোহাম্মদ হাসিম (৪০), নূর মোহাম্মদ (২১), সৈয়দ আমিন (৩০),সফি উল্ল্যাহ (৩০), আইয়ুব (৫০), মাহাতা আমিন (১৮)। এছাড়া আরও দুজনের নাম পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে অনেকে রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, হ্নীলা জাদিমুড়া এলাকা থেকে ফরেস্টসহ ১৯ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘প্রতিদিনের ন্যায় বাগানে কাজ করতে গেলে ১৯ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), উপজেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে অপহরণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ ট্রান্সফোর্স গঠন করে পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় টেকনাফে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন


সারা বাংলাদেশে গণহত্যাকে যেভাবে ফ্যসিলিটেট করেছিল, গোটা দুনিয়ার কাছ থেকে এই গণহত্যার তথ্য লুকানোর চেষ্টা যে করেছিল সেটা কিন্তু মাস্টারমাইন্ড জয়- এমনটাই মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
বুধবার ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞে সহায়তা এবং মরদেহ ও আলামত গুমের মামলায় শুনানি শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশে কখনও আসে নাই বিষয়টা তা না, তিনি রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত ছিলেন, উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আইসিটির এডভাইজার ছিলেন এবং আইসিটি মন্ত্রাণালয় বাংলাদেশের গণহত্যাকে আড়াল করার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে সারা বাংলাদেশে গণহত্যাকে যেভাবে ফ্যসিলিটেট করেছিল, গোটা দুনিয়ার কাছ থেকে এই গণহত্যার তথ্য লুকানোর চেষ্টা যে করেছিল সেটার মাস্টারমাইন্ড কিন্তু জয়। সেটা বাংলাদেশে থেকে বাস্তবায়ন করেছিল জুনাইদ আহমেদ পলক।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জয়ের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনেই হবে। তার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ আছে।
এদিকে, আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান।
যুক্তরাজ্য থেকে দুজন আইনজীবী আনতে বুধবার ট্রাইব্যুনালে পৃথক দুটি আবেদন করেন তারা।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তবে সেটি আইনি শর্তসাপেক্ষে।’
এদিকে আরেক মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
তাজুল ইসলাম জানান, বুধবার জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় হাজির করা হয় আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে। তাদের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য থেকে দুজন আইনজীবী আনার আবেদন করা হয়। এ মামলার অভিযোগ গঠনে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১৭ ডিসেম্বর।
এদিন ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞে সহায়তা এবং মরদেহ ও আলামত গুমের মামলায় হাজির করা হয় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। আর উপস্থিত না থাকায় হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে হাজির করতে পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছে আরও দুজন। এ নিয়ে মামলায় সাক্ষী দিলেন ২৪ জন।
মন্তব্য করুন


আমরা আস্থার জায়গায় কেউ নেই, এটি জাতীয় সংকট বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, সবচেয়ে মুশকিল হয়ে গেলো কী- আমি, আপনি, আপনারা সবাই মিলে কেউ কিন্তু আস্থার জায়গায় নেই। আমি আস্থার জায়গায় আছি, এই দাবি করি না। এই যে আস্থার সংকট, এটা আমাদের জাতীয় সংকট। আমি বিচ্ছিন্নভাবে বলতে পারবো না যে অমুকে খারাপ, আমি ভালো। আর আপনিও বলতে পারবেন না যে আমি খারাপ, আপনি ভালো।
তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ্য থেকে বলা হচ্ছে আস্থা পুনরুদ্ধার। সেই আস্থা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রফেশন, প্রতিটি পেশার সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সবাই সবার প্রফেশনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এই যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা-বিশ্বাস, এটা যেন থাকে। ভালো নির্বাচন করতে পরস্পরকে সহায়তা করতে হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের স্বার্থে ২৪ ঘণ্টা জড়িত থাকেন সাংবাদিকরা। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আপনাদের যেই নীতিমালার খসড়া দিয়েছেন, এটি যদি আমরা আগে পেতাম তাহলে হয়তো ভালো হতো। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকটা বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা দরকার রয়েছে, আপনাদের দিক থেকেও আমাদের সহযোগিতা করুন। বাস্তবতার নিরিখে যার যার অবস্থান থেকে যেন আমরা একটা ভালো নির্বাচন করতে পারি সেজন্য পরস্পরকে সহযোগিতা করবো।
‘আমার মনে হয় যে এটি নিয়ে আরও আলোচনা পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ আপনাদের অভিজ্ঞতা, আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় দরকার। মূল উদ্দেশ্য যেহেতু আমাদের সবার একটাই, আমার মনে হয় যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এগুলো পরে সমাধান করা যায়।’
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, বেগম তাহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, আরএফইডি’র সভাপতি কাজী জেবেল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, যারা বই ছাপানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন, তাদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অধীন শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যবই আর বিদেশে ছাপানো হবে না।
বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “বই ছাপানোর বাণিজ্য বা একচেটিয়া ব্যবসা আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নতমানের ছাপা, ভালো মানের কাগজ এবং মজবুত মলাট নিশ্চিত করা হবে। এখন থেকে বই দেশেই ছাপা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ে শুদ্ধি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যারা মুদ্রণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেককে বদলি করা হয়েছে। অতীতে যারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানানো হবে।”
বই বিতরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধার মুখে পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগের বাজারমূল্যে বই ছাপানো হয়েছে। যারা এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী বছর যারা সরকারে থাকবেন, তাদের কাছে সেই তালিকা হস্তান্তর করা হবে।”
তিনি আরও জানান, দলীয় রাজনীতি নিরপেক্ষভাবে বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পাঠ্যবইগুলো শুদ্ধ ও পরিমার্জন করা হয়েছে। আগের নিয়মে নবম ও দশম শ্রেণিতে শুধু সাধারণ গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞান পড়ানো হতো, তবে এখন উচ্চতর গণিত ও উচ্চতর বিজ্ঞানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বলেছেন, হরতালসহ যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগসহ কোনো গোষ্ঠী যদি হরতাল বা অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) একুশে বইমেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, বইমেলার নিরাপত্তায় ডিএমপির পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও নিয়োজিত থাকবে। এবার বইমেলা চলাকালীন টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়ক সারাদিন বন্ধ থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বইমেলা চলাকালীন এক মাস ঢাবি এলাকায় কোনো ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।
ডিএমপি কমিশনার আরও উল্লেখ করেন, বইমেলায় উস্কানিমূলক কোনো বই যেন না থাকে, সে বিষয়ে বাংলা একাডেমিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বইমেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বইমেলায় খাবারের দোকানগুলোতে যাতে অতিরিক্ত মূল্য ধার্য করা না হয়, সে বিষয়ে পুলিশকে নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে চলমান বিভিন্ন আন্দোলন প্রসঙ্গে সাজ্জাত আলী বলেন, ছোট ছোট আন্দোলনের নামে রাস্তা বন্ধ করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, পুলিশের উদ্দেশ্য কাউকে আঘাত করা নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
মন্তব্য করুন


রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবৈধভাবে পাসপোর্ট নেওয়া ঠেকাতে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া এখনই তুলে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া তুলে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এই প্রক্রিয়া তুলে দিলে ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে অনেকে পাসপোর্ট সংগ্রহের সুযোগ পাবে। এজন্য এখনই এই পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাসপোর্ট জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এমআরটি (মেশিন রিডেবল টেম্পোরারি) পাসপোর্ট নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার সমাধান ইতোমধ্যে করা হয়েছে। আর এমআরটি পাসপোর্ট এখন আর থাকবে না।”
পাসপোর্ট পেতে সাধারণ মানুষ এখনো ভোগান্তির শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই ভোগান্তি কমিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের বিদেশিদের আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে, গত ১৭ ডিসেম্বর সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় পাসপোর্ট প্রক্রিয়া থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী।
মন্তব্য করুন