হাওরের পানি দূষণ করলে ৫ বছরের জেল

হাওরের পানি দূষণ করলে ৫ বছরের জেল

হাওর ও জলাভূমি সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন’ শীর্ষক একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। হাওর বা জলাধারের পানি দূষণ করলে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে খসড়ায়। অপরাধীর সহায়তাকারীও পাবেন একই শাস্তি।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য হাওর ও জলাভূমিসহ সব প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নম্বর ১৬৮৩/২০১৪-তে দেওয়া আদেশে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী এ আইনের খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর। খসড়াটি তারা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

খসড়ার বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের মতামত চেয়েছিল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। এজন্য ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেশ কিছু মতামত এসেছে। যা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে। তারপর এটি মন্ত্রিসভায় উঠবে।

আরও পড়ুন >> পানিশূন্য তিস্তাপাড়ে কর্মহীন হাজারো জেলে-মাঝির দুর্দিন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা, আইসিটি) গাজী মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে কমিটি করা হয়েছিল। এরপর সবার সমন্বয়ে আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খসড়াটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় তার স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে পরবর্তী যা যা প্রক্রিয়া আছে সেগুলো শেষ করবে।

তিনি বলেন, মূলত হাইকোর্টে একটি মামলার রায়ের আলোকে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল আইন করার জন্য। সে আলোকে মন্ত্রণালয় আমাদের চিঠি দিয়েছিল। এরপর খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে।‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে হাওরাঞ্চল যেভাবে আছে সেটাকে রক্ষা করতে হবে, সুরক্ষিত করতে হবে। হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সেই আলোকেই আইনটি হচ্ছে’— বলেন গাজী মিজানুর রহমান।

‘বিশ্ব জলাভূমি দিবসের স্লোগান হচ্ছে, যেসব জলাভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে। এছাড়া বর্তমানে যেগুলো আছে সেগুলো বজায় রাখতেই হবে। সে আলোকে আইনের খসড়ায় আমরা সব বিষয় নিয়ে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি গেজেটের মাধ্যমে। আইন না থাকায় অনেক বিষয়ে সমাধানে আসা যাচ্ছিল না। বর্তমানে মৎস্য সম্পদ থেকে শুরু করে কৃষি সম্পদসহ অনেক কিছু মিলিয়ে হাওরাঞ্চল বিশাল সম্ভাবনাময়। কিন্তু আইন না থাকায় কিছু কাজ জোরালোভাবে করা যাচ্ছিল না। আইনটি পাস হলে হাওরাঞ্চল আরও সুরক্ষিত হবে বলে আমরা আশা করছি।’

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মেহরুবা ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর খসড়াটি তৈরি করেছে। খসড়ার বিষয়ে আমরা স্টেকহোল্ডারদের মতামত চেয়েছিলাম। এজন্য ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত আমরা সময় দিয়েছিলাম। কিছু মতামত এসেছে। আমরা সেগুলো কম্পাইল করছি।’

আরও পড়ুন >> আশীর্বাদের তিস্তা এখন অভিশাপ

যেসব মতামত এসেছে সেগুলো নিয়ে বৈঠক হবে। বৈঠকে স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত থাকবেন। সেখানে এসব মতামত নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে— যোগ করেন তিনি।

কী আছে আইনের খসড়ায়

হাওর ও জলাভূমি সুরক্ষা বলতে বোঝাবে-

(ক) হাওর ও জলাভূমির জরিপ, তালিকা প্রস্তুত, সীমানা চিহ্নিতকরণ ও জলাভূমি এলাকার মানচিত্র প্রস্তুত করা।  

(খ) হাওর ও জলাভূমি এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল, জলজ বাস্তুতন্ত্র এবং পরিবেশ, প্রতিবেশ রক্ষার জন্য অভয়াশ্রম বা স্থায়ী অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা; সংরক্ষিত জলাভূমি এলাকা ঘোষণা এবং হাওর ও জলাভূমি সংস্কার, খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার।(গ) হাওর ও জলাভূমির পানির অন্তঃপ্রবাহ বা আন্তঃপ্রবাহ বা বহিঃপ্রবাহ অব্যাহত রাখার জন্য খনন বা পুনঃখনন।

(ঘ) পানির স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখা এবং হাওর ও জলাভূমির টেকসই ব্যবহার।

(ঙ) হাওর ও জলাভূমির উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল এবং জলজ বাস্তুতন্ত্র উন্নত করার জন্য হাওর ও জলাভূমির যে কোন ধরনের পরিবর্তন।

(চ) হাওর ও জলাভূমির উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল এবং জলজ পরিবেশ, প্রতিবেশ রক্ষা করে পরিবেশ বান্ধব পর্যটন।

হাওর ও জলাভূমি সুরক্ষা বলতে নিম্নবর্ণিত কাজ থেকে বিরত থাকা বোঝাবে-

(ক) হাওর ও জলাভূমি থেকে এমনভাবে পানি প্রত্যাহার যার ফলে হাওর ও জলাভূমি শুকিয়ে যায় বা হাওর ও জলাভূমি এলাকার পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র বা জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(খ) পানিধারক স্তরের নিরাপদ সীমা ব্যাহত হয় এমনভাবে পানি উত্তোলন/আহরণ।

(গ) পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো কাজ।

(ঘ) হাওর ও জলাভূমির যে কোনো ধরনের পরিবর্তন যার ফলে হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল এবং জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(ঙ) হাওর ও জলাভূমিতে এমন কোন অবকাঠামো নির্মাণ যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এবং যার ফলে হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল এবং জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(চ) হাওর ও জলাভূমিতে এমন কোনো দ্রব্য, পয়ঃ বা গৃহস্থালি বর্জ্য নিক্ষেপ বা মিশ্রণ বা নিঃসরণ যার ফলে পানি দূষিত হয় বা হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল এবং জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(ছ) শিল্প কারখানার অপরিশোধিত তরল বা কঠিন বর্জ্য হাওর ও জলাভূমিতে নিক্ষেপ বা মিশ্রণ বা নিঃসরণ যার ফলে পানি দূষিত হয় বা হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল এবং জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(জ) অভয়াশ্রম হিসাবে ঘোষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকায় পানি বা শব্দ দূষণ সৃষ্টিকারী যান্ত্রিক জলযান চালানো।

আরও পড়ুন >> টাঙ্গুয়ার হাওর : স্বর্গীয় জলজ সৌন্দর্যের আধার

(ঝ) অনুমোদিত বালুমহাল বা পাথরমহাল ব্যতীত হাওর ও জলাভূমি থেকে বালু বা পাথর উত্তোলন।

(ঞ) হাওর ও জলাভূমির অবৈধ দখল, ভরাট বা অননুমোদিত খনন।

(ট) হাওর ও জলাভূমি থেকে অবৈধভাবে সম্পদ আহরণ।

(ঠ) হাওর ও জলাভূমির অননুমোদিত পরিবর্তন বা রূপান্তর

(ড) প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ঘোষিত জলমহাল ইজারা প্রদান।

global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০

প্রতারণার জাল ফেলে আত্মগোপনে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা

প্রতারণার জাল ফেলে আত্মগোপনে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা

প্রাথমিক স্কুল, ঔষধ কোম্পানিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। ৩৩তম বিসিএসের এ কর্মকর্তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান থাকায় গত ৮ জানুয়ারি থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত।

কয়েক দফায় চিঠি এবং কারণ দর্শানো নোটিশ দিলেও উত্তর মেলেনি। এখন ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়া শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের গবেষণা শাখায় কর্মরত। এর আগেও একাধিক প্রতারণার অভিযোগে তাকে মাউশি অধিদপ্তর থেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলার রায় চলতি মাসে হওয়ার কথা রয়েছে। অন্য একটি মামলার তদন্ত করছে পুলিশের তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগ। প্রতারণার আরেকটি মামলা হয়েছে সিএমএম কোর্টে।

এদিকে, বেশ কয়েক মাস ধরে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও কল রিসিভ করেন না। না পেয়ে মাউশিতে এসে অনেকে তার খোঁজ করছেন, কিন্তু সহকর্মীরা তার কোনো সন্ধান দিতে পারছেন না।টানা পাঁচ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর গত ১০ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন মাউশি মহাপরিচালক। ৮ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ দেওয়া হলেও সেই জবাব পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে তার ব্যক্তিগত ই-মেইল ও ঠিকানায় চিঠি দেওয়া হলেও কোনো জবাব মেলেনি। এখন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিনি টানা চার মাস ধরে অফিসে অনুপস্থিত। শোকজ করার পরও তিনি জবাব দেননি। তাই পুরো বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লোকজনের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়েছেন— এমনটা শুনেছি। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।’

রফিকুল ইসলাম সম্পর্কে যা জানা যায়

ঢাকা পোস্টের অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন রফিকুল ইসলাম একটি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। ওই সময় থেকে তিনি নানা প্রতারণার জাল বিস্তার করেন। ৩৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। এরপর সরকারের ঊর্ধ্বতন বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে— এমন ছবি দেখিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু করেন। এমন তিন ব্যক্তির সন্ধান পেয়েছেন এ প্রতিবেদক। তাদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন রফিকুল ইসলাম। বাকিরা তার খোঁজে মাউশি, মোহাম্মদপুর ও নিজ জেলা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার কুশিল গ্রামে ধরনা দিচ্ছেন।মাউশি সূত্রে জানা যায়, এর আগে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়া শুরু করেন রফিকুল ইসলাম। কিন্তু কাউকে চাকরি দিতে না পারায় মাউশিতে আসতে শুরু করেন ভুক্তভোগীরা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফা এসব বিষয়ে আপস-মীমাংসাও করে দেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ফের প্রতারণা শুরু করেন।

ঢাকা পোস্ট তার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করলে ভুক্তভোগীদের তিনি নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করেন। ‘ওই সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বললে টাকা তো দেবই না, উল্টো তোমাকে গুম করে ফেলব— এমনও হুমকি দেন।’ ভয়ে প্রথম দিকে অনেকে তার বিরুদ্ধে কথা বললেও পরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা।

তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রতন চন্দ্র একটি বেসরকারি ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সরকারি প্রাথমিক স্কুলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২০১৯ ও ২০২০ সালে তিন ধাপে তার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেন রফিকুল। পরে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চান তিনি। কয়েক দফা ঘুরানোর পর টাকা ফেরত না দেওয়ায় ওই ব্যক্তি ২০২২ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় তার বাবা ও স্ত্রীকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে তেজগাঁও গোয়েন্দা অফিস।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলা করার আগে রতন চন্দ্র রফিকুলের মোহাম্মদপুরের বাড়ির মালিক হারুনের মধ্যস্থতায় পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এরপর তিন বছর নানা ছলচাতুরী করে আজ পর্যন্ত কোনো টাকা ফেরত দেননি। টাকা চাইলে তারিখ দিতেন। কিন্তু ওই তারিখ অনুযায়ী বাসায় গেলে উনাকে পাওয়া যেত না। মোবাইল ফোনও রিসিভ করতেন না।

রতন চন্দ্র মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, প্রতারণামূলক বিভিন্ন ধরনের কূট-কৌশল অবলম্বন করে হয়রানি করতেন রফিকুল ইসলাম। গত তিন বছর ধরে কোনো টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। বরং টাকা পরিশোধের অনুরোধ করলে অভিযোগকারীকে নানা রকম হুমকি-ধামকি দেন। সর্বশেষ মাউশিতে কর্মরত পটুয়াখালীর আরেক শিক্ষা কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর হালদারের (বর্তমানে বহিষ্কার) মাধ্যমে টাকা আদায়ের শেষ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। রফিকুল একজন প্রতারক বলে চন্দ্র শেখর আমাদের জানায়।

ঢাকা পোস্ট তার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করলে ভুক্তভোগীদের নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন রফিকুল ইসলাম। ‘ওই সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বললে টাকা তো দেবই না, উল্টো তোমাদের গুম করে ফেলব’— হুমকি দেন রফিকুল। ভয়ে প্রথম প্রথম অনেকে তার বিরুদ্ধে কথা বললেও পরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা।
global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০

সাবেক প্রেমিকার মন গলাতে হাঁটু গেড়ে প্রেমিকের ২১ ঘণ্টা পার

সাবেক প্রেমিকার মন গলাতে হাঁটু গেড়ে প্রেমিকের ২১ ঘণ্টা পার

প্রেমিকার মন গলাতে হাঁটু গেড়ে প্রেমিকের ২১ ঘণ্টা পার। ঘটনাটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের তাঝৌ এলাকার।

কয়েকদিন আগে প্রেমিকার সঙ্গে ওই ব্যক্তির বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর প্রেমিকার মন গলাতে তার অফিসের সামনে হাঁটু গেড়ে পার করেছেন ২১ ঘণ্টা।

ওই ব্যক্তি তার প্রেমিকার অফিসের সামনে ২৮ মার্চ দুপুর ১টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত টানা হাঁটু গেড়ে বসেছিলেন। তার সঙ্গে ছিল ফুলের একটি তোড়া। এর মধ্যে বৃষ্টি হয়েছে, আবহাওয়াও ছিল ঠান্ডা—এসব কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি ওই ব্যক্তির চেষ্টার কাছে।

হাঁটু গেড়ে বসে থাকায়  ওই ব্যক্তির চারপাশে ধীরে ধীরে জমতে থাকে স্থানীয় লোকজন। তারা অনেক চেষ্টা করেও ওই ব্যক্তিকে বুঝিয়ে সেখান থেকে সরাতে পারে নাই। কিন্তু লোকজন জমলেও কোথাও দেখা যায়নি ওই ব্যক্তির প্রেমিকাকে। একপর্যায়ে পুলিশ আসে ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর জন্য। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।  কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘ঠান্ডা সহ্য করতে না পেরে’ ২৯ মার্চ সকাল ১০টায় ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল ছাড়েন।

সূত্র: এনডিটিভি

global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

সোমবার (২২ এপ্রিল) রাত দেড়টায় এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়‌।গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানায়, তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় ৪৬ হাজার ১৯৯ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ করা

হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে (তিন পার্বত্য জেলা বাদে ২১টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৬ হাজার ১৯৯ জন।

গত ২৯ মার্চ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন।

মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।

গত বছরের ১৪ জুন এ নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়।

 

global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

 অত্যধিক গরমে তাই নাজেহাল কমবেশি সকলেই। তীব্র গরমে অস্বস্তি যেমন রয়েছে, তেমনই অনেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ডায়েরিয়া, বমি, হজমের গোলমাল তো লেগেই আছে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে আরও বেশ কিছু অসুখের। মাত্রাতিরিক্ত গরম থেকেই হানা দিচ্ছে নানা ধরনের অসুস্থতা। চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামীর কথায়, ‘‘যা গরম পড়েছে, তাতে সুস্থ থাকা সত্যিই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সুস্থ তো থাকতেই হবে। তার জন্য প্রথমেই রোদ এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ, এই প্রখর রোদের তাপ থেকেই বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।’’ গ্রীষ্মের মরসুম শুরুর সময় থেকেই ‘হিট ওয়েভ’ সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই তাপপ্রবাহ থেকে কোন রোগগুলির ঝুঁকি বা়ড়ছে? জানাচ্ছেন চিকিৎসক।

হিট পিডিমা

গরমে অনেকের হাত-পা ফুলে যায়। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে ‘হিট পিডিমা’ বলে। অনেকেরই হয় এমন। বিশেষত পা বেশি ফুলে যায়। কখনও আবার হাত এবং পা একসঙ্গে ফুলে যায়। এই রোগেরও বিশেষ কোনও ওষুধ নেই। বিশ্রাম নিলে, বেশি করে জল খেলে আর উঁচু বালিশের উপর পা তুলে রাখলে দ্রুত সেরে ওঠা যায়।

হিট স্ট্রোক

গরমের সময়ে সবচেয়ে ঝুঁকি থাকে হিট স্ট্রোক হওয়ার। এই স্ট্রোক হলে শরীর অত্যধিক শুকিয়ে যায়। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। শরীরের ভিতরটা গরম হয়ে যায়। কিন্তু হাত-পা ঠান্ডা থাকে। হৃৎস্পন্দনের গতি কমে যায়। শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সমস্যা হয়। কারও ক্ষেত্রে খিঁচুনি উঠতে পারে। ভুল বকা কিংবা সাময়িক ভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়াও হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। এমন হলে রোগীকে ভাল করে স্নান করিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

 

হিট ক্র্যাম্প

গরমে কায়িক পরিশ্রম বেশি হলে কিংবা দীর্ঘ ক্ষণ শরীরচর্চা করলে ‘হিট ক্র্যাম্প’ হতে পারে। এমন হলে কাঁধ, ঘাড় এবং ঊরুর পেশিতে টান ধরে। বেশি করে জল খেলে অবশ্য স্বস্তি মেলে। তবে শুধু জল না খেয়ে ওআরএস কিংবা নুন-চিনির জল খেলে বেশি উপকার হয়। সেই সঙ্গে বিশ্রাম নিলে আর রোদ এড়িয়ে চললেই টান ধরা কমে যাবে।

 

হিট টিটানি

অত্যধিক তাপপ্রবাহে অনেক সময় হাত-পা বেঁকে যায়। হাত-পায়ের সাড় চলে যায়। হাত আর পা ভাঁজ করতেও বেগ পেতে হয়। এই ধরনের সমস্যাকে ‘হিট টিটানি’ বলে। এমন হলে প্রাথমিক ভাবে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে হাত-পা মালিশ করতে পারলে ভাল। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে আর পরিমাণমতো জল খেলেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠা যায়।

 হিট সিঙ্কোপ

মাথা ঘুরে যাওয়া, চোখমুখে অন্ধকার দেখা— প্রচণ্ড রোদে বেরোলে অনেক সময়ে এমন কিছু শারীরিক সমস্যা হয়। এগুলিকেই ‘হিট সিঙ্কোপ’ বলে। দীর্ঘ ক্ষণ আগুনের ধারে থাকলেও এমন হতে পারে। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জলে স্নান করে নেওয়া জরুরি। কিংবা বরফজল দিয়ে গা-হাত-পা মুছে নিতে পারলে ভাল। অবশ্যই বেশি করে জল খেতে হবে। না হলে যে কোনও সময় এমন হতে পারে।

  ঘামাচি

ঘামাচি গরমের সবচেয়ে বড় সমস্যা। কিন্তু অনেকে বিষয়টিকে ততটাও গুরুত্ব দেন না। ঘামাচি কমাতে অধিকাংশেই ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করেন। তাতে হিতে বিপরীত হয়। পাউডারের কারণে ঘর্মগ্রন্থিগুলিতে সংক্রমণ হয়। তখন চিকিৎসকের কাছে ছুটতে হয়। তবে আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হলে বাড়াবাড়ি হওয়ার সুযোগ থাকে না।

 


global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০

মাথা ছাড়া ১৮ মাস বেঁচে ছিল মুরগি

মাথা ছাড়া ১৮ মাস বেঁচে ছিল মুরগি

১৯৪৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। আমেরিকায় বসবাসকারী লয়েড ওলসেন এবং ক্লারা ওলসেন, এই দম্পতির, মাইক নামের একটি মুরগি পালন করতেন।

খাওয়ার জন্য তাদের পালিত মুরগিটি জ’বাই করেছিলেন। মুরগির মাথা কেটে ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্ত মুরগির মাথা কেটে ফেলার পর সেটি মারা না গিয়ে দৌড়োতে শুরু করে।

মুরগিটিকে ধরে তিনি একটি বাক্সে রেখে দেন। তিনি মনে করেছিলেন হয়ত মুরগিটি জবাই হয়ে গেছে । 

কিন্তু তিনি যখন পরে মুরগিটিকে দেখতে আসেন, তখন দেখলেন মাইক তার কাটা মাথাটি পাখার নিচে নিয়ে দিব্যি ঘুমিয়ে আছে। তিনি অবাক হলেন, এরকম অদ্ভুত কান্ড দেখে লয়েড সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি মুরগিটিকে বাচাবেন।

লয়েডের মাথায় প্রথমেই বুদ্ধি এলো মাইকের খাওয়ার ব্যবস্থা করা। মুরগিটিকে খাবার খাওয়াতে তিনি একটি চোখের ড্রপারকেই বেছে নিলেন।

ঘটনাটি ঘটার পর চারিদিকে খুব হইছই পড়ে যায় এবং আমেরিকার বিভিন্ন শহরে তিনি এই মুরগিটিকে নিয়ে প্রদর্শনী করতেও শুরু করেন। 

আসলে লয়েড যখন মাইকের মাথায় কোপ মারেন, তখন তার একটা কান বেঁচে যায় ও চোখ, ঠোঁটসহ গোটা মাথাটাই কেটে ফেলেন । কিন্তু  মুরগিদের মাথার পিছনেই থাকে মস্তিষ্কের মূল অংশটা। মাইকের ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে যায় তার মস্তিষ্কের ৮০ শতাংশ।

global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০

গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মোঃ ইরফান আনোয়ার (তুষার) গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নাম অন্তর্ভূক্ত করেছেন। গত ২১ মার্চ ২০২৩ তারিখে অংশগ্রহণ করে এক মিনিটে এবং ত্রিশ সেকেন্ডে সর্বোচ্চবার ড্রাম স্টিক হাতের মধ্যে ঘুড়িয়ে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নাম অন্তর্ভূক্তি করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ভাবমুর্তি উজ্জ্বল করেছে।

মোঃ ইরফান আনোয়ার (তুষার) এর সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর . এফ এম আবদুল মঈন তাকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু সার্বিক মঙ্গল কামনা করেছেন।

উপাচার্য বলেন, বর্তমানে শিক্ষা, গবেষনা সহ সর্বক্ষেত্রে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীগণ সফলতার স্বাক্ষর রাখার মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ বৃদ্ধি করার যে প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছেন তা আমাদের গর্বিত করে এবং এভাবেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা চর্চা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার আহবান জানান।

global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০

দুর্নীতির জালে বাফুফে, দুদকের জালে নেই কেন?

দুর্নীতির জালে বাফুফে, দুদকের জালে নেই কেন?

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দিন দিন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হচ্ছে নাকি শুধুই বিতর্ক? বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত, এমনকি ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ বিবেচনায় নিলে দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণের কথাই জানান দেয়। কিন্তু দুর্নীতির নানা অভিযোগ উত্থাপিত হলেও বাফুফের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিরা যখন স্বপদে বহাল থাকেন তখন স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্টদের মাঝে প্রশ্ন জাগে শীর্ষ কর্তারা প্রকৃত অর্থে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নাকি কেবলই অভিযোগ।

হিসাবের অংক আরও জটিলতর হয় যখন বাফুফের বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে মহি, নারী কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ এবং প্রধান হিসাব কর্মকর্তা আবু হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কোনো প্রমাণ পায় না। তখন অনেক প্রশ্নের জবাব উহ্য থেকে যায়। যদিও ভিন্ন এক দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি।

সর্বশেষ গত ১৪ এপ্রিল দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকে দুই বছরের জন্য ফিফা সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ ও প্রায় ১২ লাখ টাকা জরিমানা করে। তখনই বাফুফের কর্তা ব্যক্তিদের দুর্নীতির বিষয়টি আবারও সামনে চলে আসে। বিভিন্ন মহল থেকে আবারও দাবি ওঠে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ ফুটবল ফেডারেশনের সকল বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের।আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমনের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৫ মে হাইকোর্টের আদেশে আগামী চার মাসের মধ্যে দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের ফুটবল ফেডারেশনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন : সালাউদ্দিন অসুস্থ, তার মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন : সুমন

একইসঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিসহ সকল বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সুমন ওই দিন বলেছিলেন, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন হচ্ছে না। ফুটবলকে বাঁচাতে হলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এ কারণে রিট দায়ের করেছি।

এর আগে গত ৩ মে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকসহ ঊর্ধ্বতনদের দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়ে দুদকে আবেদন করেছিলেন ব্যরিস্টার সুমন। তার দাবি ছিল, আবু নাঈম সোহাগ একা বাফুফেতে অনিয়ম-দুর্নীতি করেননি। তার সঙ্গে সভাপতি, সহ সভাপতিসহ ঊর্ধ্বতনরা জড়িত ছিলেন।

আরও পড়ুন : গোলাপ পচে গেছে, আ.লীগে থাকার অধিকার নেই : ব্যারিস্টার সুমন

অন্যদিকে বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দুর্নীতির অভিযোগ থেকে কাজী সালাউদ্দিনের দায়মুক্তি

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকলেও তার সত্যতা পায়নি দুদক। দীর্ঘ দুই বছরের অনুসন্ধান শেষে ২০২১ সালের মার্চ মাসে সালাউদ্দিনসহ নারী কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ এবং প্রধান হিসাব কর্মকর্তা আবু হোসেনকেও অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন : সালাউদ্দিন পাবেন ৩৫ হাজার, সোহাগ ৫ লাখ!

দুদকের তৎকালীন সচিব ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সই করা চিঠিতে ওই অভিযোগের কার্যক্রম সমাপ্তির বিষয়টি উল্লেখ করে ২০২১ সালের ১ মার্চ বাফুফেকে অবগত করে।আসামি হয়েও চার্জশিটে দায়মুক্ত বাফুফে সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন

গ্রাহকের গচ্ছিত ১১ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে মহিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। মামলার পর ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর চার্জশিটও দাখিল করা হয়।

তবে অজ্ঞাত কারণে এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি মহিউদ্দিনকে বাদ দিয়েই চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে মহির বিষয়ে বলা হয়, নথিতে দায়িত্বরত অবস্থায় নির্দেশনা প্রদান করায় গ্রাহকের বন্ধকীকৃত স্বর্ণ প্রদান সংক্রান্তে আবেদনপত্রে তিনি কোনো স্বাক্ষর বা অনুমোদন করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন : সোহাগ : কম্পিটিশন ম্যানেজার থেকে ফেডারেশনের সর্বেসর্বা!

কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে তার দায় এড়াতে পারেন কিনা সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী রেজা ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদকের চার্জশিট দাখিলের পর এ বিষয়ে বিচারকার্য চলমান। এখন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। আদালত এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। 

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক আব্দুল আলিম, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) হেদায়েত কবীর, সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক (স্বর্ণ বন্ধকী ঋণ বিভাগ) মো. আশফাকুজ্জামান, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার ও সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংকের এসএস রোড শাখার ম্যানেজার মো. মাহাবুবুল হক, প্রিন্সিপাল অফিসার মো. ওমর ফারুক, সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ) নুর মোহাম্মদ, সহকারী অফিসার (গ্রেড-১) আব্দুর রহিম ও নাহিদা আক্তার।

আরও পড়ুন : বাফুফে থেকে মুছে গেল সোহাগের নাম!

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জালিয়াতির মাধ্যমে ২ হাজার ৩১৬ জন গ্রাহকের মোট ৭ হাজার ৩৯৮ ভরি ১১ আনা জামানত রাখা স্বর্ণ আইন বহির্ভূতভাবে আত্মসাতের চেষ্টা করেন আসামিরা। টাকার অংকের যার পরিমাণ ৪০ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮৮ টাকা। এছাড়া ১১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮৬ টাকার স্বর্ণ গ্রাহককে না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০

বক্স অফিসে জয়ার ‘অর্ধাঙ্গিনী’নিয়ে জয়জয়কার

বক্স অফিসে জয়ার ‘অর্ধাঙ্গিনী’নিয়ে জয়জয়কার

পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলির পরিচালনায় সাবেক ও বর্তমান সম্পর্কের টানাপড়েনের গল্প নিয়ে তৈরি সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের যেমন প্রশংসা কুড়াচ্ছেন, তেমনি বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছে । 

দেশের সীমা পেরিয়ে ভারতে অভিনয় ও রূপের দ্যুতি ছড়াচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী জয়া আহসান । উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমাও। গত ২ জুন মুক্তি পেয়েছে জয়া অভিনীত সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’। 

২০১৯ সালে শুরু হয় ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার শুটিং। নির্মাণ কাজ শেষের দীর্ঘ চার বছর পর চলতি মাসে মুক্তি পায় এটি। ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার প্রচারে বর্তমানে কলকাতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জয়া আহসান। সিনেমাটিতে জয়ার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন কৌশিক সেন, চূর্ণী গাঙ্গুলির মতো গুণী তারকা শিল্পীরা।

টলি বাংলা বক্স অফিস এক টুইটে জানিয়েছে, কম সংখ্যক হল পেয়েও এ পর্যন্ত ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমাটি  প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার বেশি।

global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০

কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ি

কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ি

এক সময় গরুর গাড়ি ছাড়া বিকল্প বাহনের কথা ভাবাই যেত না। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই গরুর গাড়িও নেই। নেই গাড়িয়ালের কণ্ঠে ভাওয়াইয়া গানও। যান্ত্রিকতার কাছে হারিয়ে গেছে পরিবেশবান্ধব এসব গরুর গাড়ি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে যানবাহন।

ওকি গাড়িয়াল ভাই, কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়া রে...এসব ভাওয়াইয়া গানের সৃষ্টি হয়েছে গরুর গাড়িকে ঘিরে। গরুর গাড়ি আর গাড়িয়ালকে নিয়ে প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আব্বাস উদ্দিনের ভাওয়াইয়া দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্থান করে নিয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘিওর এলাকার ৮৭ বছরের এক ব্যক্তি বলেন, আমি এক সময় মানিকগঞ্জে গরুর গাড়ি চালাতাম। খাদ্য গুদামে মাল আনা-নেওয়া করেছি। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মালামাল আনা-নেওয়া করতাম। প্রচুর চাহিদা ছিল গরুর গাড়ির। গরুর গাড়ি করে আমি নতুন বউ আনা-নেওয়া করেছি। গরুর গাড়ির জন্য লোকজন অপেক্ষায় থাকতো।

তিনি আরও বলেন, দিনে দিনে গরুর গাড়ির চাহিদাও কমলো। তার পর অনেকদিন ঘোড়া চালিয়েছি। গোড়ার গাড়ি ছিল আমার। তবে ঘোড়ার পিঠে ধান, কালাই হাট-বাজারে আনা-নেওয়া করতাম। তখন এক শ্রেণি শুধু ঘোড়ায় মালামাল টানতো, আরেক শ্রেণি ঘোড়ার গাড়ি চালাতো। গাড়িতে মানুষ চলাচল করতো।

তিনি দুঃখ করে বলেন, গরুর গাড়ি চালাতাম বলে লোকজন আমাদের ছোট চোখে দেখতো। এখন আমি ছেলে সন্তান নিয়ে সাভার নিজের বাড়িতে থাকি। মাঝে মধ্যে এলাকায় আসি। বর্তমানে জেলার কোথাও গরুর গাড়ি আছে কিনা, আমার জানা নেই। তবে ফসল উঠলে চরে কিছু ঘোড়া দেখা যায়।

global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০

পাথরের খনিতে বিলাসবহুল হোটেল

পাথরের খনিতে বিলাসবহুল হোটেল

ব্রিটেনের নর্থ ওয়েলসে এক খনিতে  বিলাসবহুল রাত্রিযাপন ব্যবস্থা করা হয়েছে । ন্যাশনাল পার্কের স্নোডোনিয়া পর্বতের নীচে রয়েছে সেই খনি। হোটেলের নাম ‘ডিপ স্লিপ’।

এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে একটি পর্যটন সংস্থা। হাজার হাজার টাকা খরচ করে সেই খনিতে রাত কাটাচ্ছেন বহু মানুষ।

সপ্তাহে কেবল এক দিনই খনিতে গিয়ে এই হোটেলে রাত্রিবাস করা যাবে। শনিবার গিয়ে রাতে থেকে রোববার সকালে আবার ফিরে আসতে হয়। এমনটাই নিয়ম।

খনিতে দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। সারা দুনিয়ায় খনিতে কাজ করতে নেমে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। পেটের টানেই এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশাকে সাধারণত মানুষ বেছে নেন। তারপর সেখানে ধস নেমে বা পানি ঢুকে অনেক সময়ই প্রাণ যায় শ্রমিকদের। এখন সেই খনিতে নেমেই রাত্রিযাপন!

ভিক্টোরিয়া আমলের এই খনিতে ৪১৯ মিটার (১ হাজার ৩৭৫ ফুট) গভীরে রয়েছে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা। এই হোটেলে চারটি দু’জন থাকার রুম রয়েছে। আর একটি গুহা রয়েছে। সেখানেও দু’জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

এপ্রিল মাস থেকে এই খনি-সফর শুরু হয়েছে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানে গিয়ে পর্যটকেরা দারুণ খুশি। তারা জানিয়েছেন, খনিতে রাতে যেভাবে স্বস্তিতে ঘুমিয়েছেন, নিজের বাড়িতে কখনও এত ভালো ঘুমাননি।

খনিতে চলাচলের উপযুক্ত বুট, হেলমেট, টর্চলাইটও দেওয়া হবে পর্যটকদের। দীর্ঘ খনিপথের শেষে রয়েছে স্টিলের দরজা। সেই দরজা খুলেই ঢোকা যাবে হোটেলে।

হোটেলের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, গন্তব্যে পৌঁছনোর পর পর্যটকদের পানীয় দেওয়া হবে। তারপর খনির বিষয়ে কিছু তথ্য দেওয়া হবে।

বাকি সন্ধ্যা নিজের রুমে বসে আরাম করতে পারবেন পর্যটকেরা। কোনো অভিযানে যে রকম খাবার দেওয়া হয়, সে রকমই পরিবেশন করা হবে পর্যটকদের। 

খাবার জন্য হোটেল কক্ষের বাইরে রাখা রয়েছে বিশাল এক টেবিল। সেই টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়ার পর যে যার ঘরে গিয়ে বিশ্রাম করতে পারবেন পর্যটকেরা।

দু’জনের অভিযান এবং এক রাতে থাকা, খাওয়ার খরচ ৩৫০ পাউন্ড যা প্রায় ৪৮ হাজার টাকার কাছাকাছি। কেউ গুহায় রাত্রিবাস করতে চাইলে তার খরচ একটু বেশি। অভিযান-সহ গুহায় রাত্রিবাসের খরচ ৫৫০ পাউন্ড যা প্রায় ৭৫ হাজার টাকা।

global fast coder

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ক্রমেই যাচ্ছে অবনতির দিকে

বন্যাদুর্গত তিন জেলায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনাবাহিনী

ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ

নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ গঠন করছেন শিক্ষার্থীরা

দুধ খাওয়ার সময় চার তলা থেকে পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে গেল সন্তান

১০

ফুটবলে তারকা মেসি ‘হালাল’পানীয়টি বাজারে আনছেন, বিখ্যাত পানীয় প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্থনি ব্রান্ডস

১১

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে হজ ফ্লাইট শুরু

১২

রাত ১১টার পর চা-পানের দোকান বন্ধের নির্দেশ- ডিএমপি কমিশনার

১৩

তাপপ্রবাহের মাঝে সুস্থ থাকতে কী করবেন - চিকিৎসক

১৪

ভূমিকম্প একদিনে ২০০টির বেশি- ক্ষতিগ্রস্ত তাইওয়ান

১৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৪৬১৯৯

১৬

আকাশে ‘হিরের আংটি’ বিজ্ঞানীদের নজরে কি ঘটলো !

১৭

সৌদির চেয়েও তাপমাত্রা বেশি ঢাকায়

১৮

মৃত্যুর আগে শেষ বার্তা দিলেন মহাকাশের নক্ষত্র, রহস্যময় সঙ্কেত!

১৯

কবরস্থান পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী! কবর খুঁড়ে আনা হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল

২০