

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘দেশে নির্বাচিত সরকার না থাকায় ফের ফ্যাসিবাদ মাথাচড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে হলে এখন দেশে নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন।’
বৃহস্পতিবার সকালে মহান মে দিবস উপলক্ষে বরিশাল জেলা ও মহানগর শ্রমিক দলের আয়োজনে নগরীর সদর রোডে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হল সম্মুখে শ্রমিক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি জানান, ‘শেখ হাসিনা ওসামা বিন লাদেনের খালাতো বোন। ২২৭ মামলার আসামি হয়ে ভারতে পলাতক রয়েছেন। সেখানে থেকে ওসামা বিন লাদেনের মতো ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন। আর ওই বার্তায় মামলার বাদীদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে।
এখন সবচেয়ে বড় যে কাজ তা হচ্ছে শেখ হাসিনার বিচার অনতিবিলম্বে শেষ করা। অন্যথায় দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ মাথাচড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লড়াই করতে হবে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি নির্বাচিত সরকারের প্রধান নন, জনগণের সমর্থিত সরকারপ্রধান আপনি।
তাই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আপনার নেই। মানবতার করিডর খোলার চিন্তা না করে অনতিবিলম্বে নির্বাচন দিন। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিন।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোনো খোঁড়া অজুহাত না দেখিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের হাতে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর করা।’
মহানগর শ্রমিক দল আহবায়ক মো. ফয়েজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান, বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য হাসান মামুন, সহ-বন ও পরিবেশ সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, মহানগর শ্রমিক দল সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে টাউন হলের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ থেকে চকবাজার হয়ে গির্জা মহল্লা হয়ে টাউন হলের সামনে এসে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন


জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও তৎকালীন সরকারের যে নৃশংসতা ছাত্র-জনতার ওপর হয়েছিল, অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম দাবি ছিল এই বিচার প্রক্রিয়া যাতে যথাসময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হয় জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ে ন্যায়বিচার পাবো।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ বলেন, শেখ হাসিনার এই মামলায় হয়তো আমি শেষ সাক্ষী। আমার সাক্ষ্য নেয়ার পর এ মামলা রায়ের দিকে যাবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু এটি নয়, সারা দেশে আরও মামলা রয়েছে। ফলে এ বিচারপ্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ সময় চলবে। নির্বাচনের পরেও যেন এ বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটা যেন অব্যাহত থাকে, সেই প্রতিশ্রুতির জন্য একটা রোডম্যাপের দাবি জানিয়েছি। সকল রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে যেন সেটা থাকে এটাই প্রত্যাশা থাকবে।
এর আগে গত ১০ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সাবেক আইজিপি মামুন নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে যে আবেদন করেছেন, তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষ না হওয়ায় আজকে নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি নেয়া হচ্ছে না। আশা করি আগামীকাল (বুধবার) নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করবেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ, জনগণকে দেওয়া তার অঙ্গীকার ও তার দেখানো পথ ধরেই বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো এগিয়ে যাবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও বাবা মায়ের আদর্শ ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে মহিলা দলের শ্রদ্ধা শেষে এ কথা বলেন তিনি।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, কারাগারে ইচ্ছাকৃতভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ছিল অশুভ কারসাজি।
তার খাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুতে সন্দেহ রয়ে গেছে। যে নেত্রী পায়ে হেঁটে কারাগারে গেলেন, সেই নেত্রীকে হুইল চেয়ারে বসে ফিরতে হলো।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে দেশের মানুষের পাশে থাকতে হয়, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের নিজেদের মধ্যে এখনো ঐকমত্য পোষণ করতে পারিনি। নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সে অনুযায়ী কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা জাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ : সফল নির্বাচন আয়োজনে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে ‘নাগরিক কোয়ালিশন’ নামের একটি সংগঠন। এতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখনো সময় আছে আশা করি, এর ভেতরে সবাই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সেই ঐকমত্যে পৌঁছতে পারব। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং মুক্ত গণমাধ্যম অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের রক্ষাকবচ।
এগুলো নিশ্চিত হলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আগামীতে আর কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না। যে সংস্কারগুলো আশু বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো নির্বাহী আদেশ ও অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা যায় তা করা হচ্ছে। যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য নয়, সরকার যদি সেগুলো পূর্ণাঙ্গ না করতে পারে, তাহলে পরবর্তী সরকার সেটা করবে।’
সংবিধান সংশোধন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করার বৈধ ফোরাম হলো জাতীয় সংসদ।
এর বাইরে কোনো বৈধ প্রক্রিয়া আছে কি না, তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হচ্ছে। যদি থাকে তাহলে তারা একমত হবেন। কিন্তু এমন কোনো উদাহরণ সৃষ্টি চাই না যেটি পরবর্তী সময়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে। প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত হবে।’
একই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হতে পারে, ডাকসু নির্বাচন তার একটি বড় টেস্ট ছিল।
এই টেস্টে রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ ও শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে উত্তরণ করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি ঘটনাও ডাকসু নির্বাচনে ঘটেনি।’
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রায় প্রতিদিনই সরকারের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন। তবে ভালো নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সদিচ্ছা থাকতে হবে। আর জনগণ যদি ভোট দিতে যায়, তাহলে কারো সাধ্য নেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই সরকারকে কাজ শুরু করতে হবে। সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী পরিবেশ, পর্যবেক্ষণ সমন্বয় কমিটি গঠন করা উচিত। দেশের কোথাও কোনো দলের সঙ্গে অন্য দলের সংঘাত হলে, অগণতান্ত্রিক আচরণ হলে, সেই প্রশ্নগুলো এখন থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং হওয়া দরকার। আসন্ন নির্বাচনে যে দল সরকার গঠন করবে, সেই দলের সঙ্গে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হতে চাওয়ার মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কাজ করলে হবে না।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন ম্যানিপুলেট করার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটালিস্ট হিসেবে বিবেচনা করছি। যেটা নিয়ে নাগরিক পরিষদে এবং সিভিল সোসাইটিতে যারা নীতি নির্ধারন করছেন তাদের এ বিষয়টাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা পুলিশ সংস্কার কমিশন করার কথা বলেছিলাম, যাতে করে তাদের পোস্টিং-প্রমোশনের ক্ষেত্রে একটা স্বতন্ত্র বোর্ড কাজ করে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রি-ইলেকশন চ্যালেঞ্জের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রোল অব এজেন্সি এবং আর্মি। এটা কিন্তু এখন পর্যন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা এখনো দেখছি যে বিভিন্ন সরকারি এজেন্সি বিগত সময় যেভাবে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে, এখনো পর্যন্ত করছে। আমরা এটাকে কতটা ডিসঅ্যাসোসিয়েট করতে পারি, এটা আমাদের জন্য কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জ।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘ইলেকশনের জন্য স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ মনে করেন যে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন চায় না। কিন্তু অত্যন্ত মজার ব্যাপার হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী একমাত্র দল বলতে হবে, যারা ৩০০ আসনের নির্বাচনের প্রার্থী দিয়ে মাঠে কাজ শুরু করছে। নির্বাচন কমিশনের যে দায় দায়িত্বের প্রশ্ন আসে সেগুলো আমাদের সামনে রাখা দরকার। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আমরা এখন যেটা বুঝি, সেটা হলো আপনি যদি প্রভাব থাকে ক্ষমতা থাকে তাহলে থাকবেন। আর না হলে আপনি থাকবেন না। হলে আপনি ভোট দিতে যেতে পারবেন না হলে আপনার ঠ্যাং ভেঙে দেওয়া হবে। না হলে আপনি সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন না। আমরা মনে করি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রশ্নে আমাদের আরো অনেক ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। সেই জায়গাটায় আমাদের নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


বিএনপি বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সংবিধান মোতাবেক বিচার বিভাগের সকল কার্যক্রম যেন আইনসম্মত ও সাংবিধানিক হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপির চলমান সংলাপের তৃতীয় দিনের শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, আজকের বৈঠকে মূলত বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ে আলোচনা হবে।
কমিশনের সহসভাপতি আলী রিয়াজ জানায়, বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় অনেক বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। কিছু বিষয়ে ভিন্নতা থাকলেও সেসব সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আলোচনা করছে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, আজকের বৈঠকের মধ্য দিয়েই বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার সমাপ্তি ঘটতে পারে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে। মনোনয়নপত্র যখন বাছাই হয় তখন কিছু সমস্যা থাকে এটা স্বাভাবিক বিষয়।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নাম সবসময় স্মরণ করতে হয়। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সংবাদপত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং অর্থনীতিতে তলাবিহীন ঝুড়ি অভিহিত হওয়া দেশকে একটি সমৃদ্ধির অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন। এজন্য আমরা তাকে প্রতি বছর স্মরণ করি এবং তার দেখানো পথে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।
তিনি বলেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচনের ঘোষণা এসেছে এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে। এখন আবার নতুন করে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য, নতুন করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য আমরা এখানে শপথ নিয়েছি। এর মাধ্যমে বিএনপি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করবে।
বিএনপির অনেকের মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব বলেন, মনোনয়ন যখন বাছাই হয় তখন কিছু সমস্যা থাকে এটা নতুন কোনও ব্যাপার নয়। আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে দেখেছি মোটামুটিভাবে যোগ্যতার সঙ্গেই কাজ করছে। আমাদের যে সমস্যা আমরা মনে করেছি সেগুলো গতকাল তুলে ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি ইসি যোগ্যতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি সিঙ্গাপুরে অবতরণ করেছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে ল্যান্ড করে। সেখানে অবতরণের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিরাপদে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ওসমান হাদি।
গতকাল রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর, ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির মধ্যে এক জরুরি কল কনফারেন্সে হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
গত দুই দিন ধরে ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করে। গতকাল এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, বর্তমানে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত।
ওসমান হাদির চিকিৎসাসংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে।
তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার রেখে যাওয়া প্রেতাত্মা ও দোসররা এখনো যায়নি। তারা প্রশাসনের বিভিন্নক্ষেত্রে অবস্থান নিয়ে পাতানো পরিকল্পিত অস্থিরতা তৈরি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারে সেজন্য প্রস্তুত রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়ায় তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী কিশোর গবেষক আহনাফ বিন আশরাফ নাবিলকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন তিনি।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তার নিষ্ঠুরতা, যে রক্ত স্রোত বইয়েছে; সেক্ষেত্রে যে সব নেতা ও প্রশাসনের ব্যক্তিরা দায়ী তাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য এক ধরনের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে তাদের পাসপোর্ট দেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে যাদের অপরাধের অভিযোগ আছে কিংবা অপরাধী হতে পারে তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেতে পারে না। এর মানেই হলো প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা লোকরা শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা সেটা বাস্তবায়নে তারা নানা পরিকল্পনা করছে।
রিজভী বলেন, জনগণের ওপরে কোনো শক্তি নেই। নতুন করে যত ষড়যন্ত্র করা হোক এরা পরাজিত হবে এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ফিরবে। পাশাপাশি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে দেশ পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের অবস্থান থেকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। এটাকে কাদা ছোড়াছুড়ি বলা যায় না। এই গণতন্ত্রের জন্যই ১৬ বছর ধরে এত আন্দোলন সংগ্রাম। গণতন্ত্রের এই মূল চালিকাশক্তিকেই শেখ হাসিনা কেড়ে নিয়েছিল।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত পার্লামেন্ট ছাড়া আগে থেকে কোনো কিছুকে আইন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তাহলে যে আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা হয়েছে সেই আইনের শাসনের লড়াইয়ের চেতনাকে ব্যাহত করা হবে।
শিক্ষার্থী নাবিল সম্পর্কে তিনি বলেন, কিশোর বয়সে তার উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনা অবিশ্বাস্য। তার প্রতিভার সন্ধান পেয়ে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। পরে তাকে আমরা বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


গণতন্ত্র মানে অন্যের মতকে সম্মান দেওয়া বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কথা বলার সুযোগ অব্যাহত থাকলে আপনা আপনিই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
আমীর খসরু বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন বুঝতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি টিকতে পারবে না।
রবিবার (১০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক সংলাপে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।
এ সংলাপ আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘বক্তব্যের মাধ্যমে বিষোদগার বন্ধ করতে হবে। গণতন্ত্র মানে অন্যজনের কথা শুনে সহ্য করা, তার মতকে সম্মান দেওয়া।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে সংস্কার অসম্ভব। বিপ্লবোত্তর যে দেশ দ্রুত নির্বাচন করেছে, তারা ভালো করেছে; যারা দীর্ঘ সময় নিয়েছে, সেখানে অন্তঃকোন্দল বেড়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছে। এটা একটি অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব যেখান থেকে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, সেখান থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। জনগণকে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।
আমীর খসরু বলেন, ঐকমত্যের প্রচেষ্টা একটি ভালো উদ্যোগ। আলাদা দর্শন থাকবে, কিন্তু সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে—এটা বাকশালের আদর্শ। চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরিবর্তন টেকসই হবে না। অর্থনৈতিক উন্নতি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
এই সরকারের সময় বিনিয়োগ আসেনি মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এতে তাদের দোষ নেই। বিনিয়োগে বাংলাদেশ অনেক নিচে। সিরিয়াস ডিরেগুলেশন ও সিরিয়াল লিবারেলিজম ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া যাবে না।
সরকারের অনেক দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হবে। ট্রেড বডিগুলোর হাতে অনেক কার্যক্রম তুলে দিয়ে সরকারকে নির্ভার হতে হবে। ফিজিক্যাল কন্ট্রাক্ট না কমালে দুর্নীতি কমানো যাবে না। দেশে যত নিয়ন্ত্রণ (রেগুলেশন) থাকবে, তত দুর্নীতি বাড়বে। অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে হবে, সবার অংশগ্রহণ লাগবে, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদের বাজেট চালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট দেওয়া উচিত ছিল।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ সাতজনকে আসামি করে নিজের গুমের অভিযোগ জমা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ জমা দেন তিনি।
অভিযোগ জমা দিয়ে সালাহউদ্দিন জানান, মামলা করার জন্য আমার আরো আগে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের ব্যস্ততা এবং তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে দেরি হয়েছে। এ কারণে যে কাজটা আমি বেশ কয়েক মাস আগে করতে পারতাম, সেটা দেরি হয়ে গেল।
তিনি আরো বলেন, আমি প্রাথমিকবাবে সাতজনকে আসামি করেছি। এর মধ্যে শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ র্যাব পুলিশের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তবে আরো অনেক আসামি রয়েছে যারা বিভিন্ন তদন্তের মাধ্যমে বের হবে যেগুলো আমার পক্ষে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ সময় শেখ হাসিনাসহ গুম-খুনে জড়িত সকলের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানায় বিএনপির এই নেতা।
এর আগে, গত ১৫ অক্টোবর গুমসংক্রান্ত কমিশনেও নিজের গুমের অভিযোগ জমা দেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, গুমের ঘটনায় এখন পর্যন্ত যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের সাজা এবং যারা পালিয়ে গেছেন তাদের কমিশনকে খুঁজে বের করতে হবে। এই সরকারের দায়িত্ব সবাইকে আইনের আওতায় আনা।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে সালাহউদ্দিন নিখোঁজ হন। প্রায় দুই মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তার সন্ধান পায়।
এরপর সালাহউদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। সেই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিন খালাস পান।
ভারত সরকার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তাকে সেখানেই থাকতে হয়।
মন্তব্য করুন


জুলাই–আগস্টের গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা যেমন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন ও ত্যাগ দিয়েছেন, ঠিক একইভাবে চব্বিশে যারা লড়াই করেছেন, তারাও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই যুদ্ধ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা রক্ষার জন্য, আর সেই স্বাধীনতা রক্ষাতেই আবার চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে।’
জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করলে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘যারা হারিয়ে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে তাদের পরিবারের কষ্ট, সুযোগ-সুবিধা ও দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন বিভাগ গঠন করা হবে, যার মূল দায়িত্ব থাকবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা,’ বলেন তিনি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি অতীতে সরকারে থাকাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। একই ধারাবাহিকতায় আগামীতে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোকেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গণ-আন্দোলনে হতাহতদের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এক বা দুই চোখ হারিয়েছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা থেকেই নয়, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তার ভাষায়, ‘২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়। এটি অধিকারহারা মানুষের গণ-আন্দোলন।’
গণ-আন্দোলনে আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুইভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এক—রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই—আহতদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি পর্যায়ক্রমে সেই দায়িত্ব পালন করবে।’
নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে শোক সমাবেশ ও শোকগাঁথাই চলতে থাকবে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।
মন্তব্য করুন