

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আমাদের এই দেশটি বহু যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। এমন একটি দেশ পৃথিবীতে খুব কমই রয়েছে। তবে, যারা গত ১৫ বছর ধরে এই দেশ শাসন করেছেন, তারা এই দেশকে নিজেদের ইচ্ছেমতো সাজাতে পারেননি।"
তিনি আরো বলেন, "তারা দেশের জন্য কিছু করেনি, বরং নিজেদের সাজানোর কাজ করেছে। দেশের মানুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার পরিবর্তে, তারা জনগণের রিজিক ছিনিয়ে নিয়েছে। লাখ লাখ বেকারের মিছিলে জনগণ পিষ্ট হয়ে গেছে। এই সর্বনাশের জন্য বিগত সরকার দায়ী।"
তিনি বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল মোড়ে জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের হাতে কলমের পরিবর্তে গুন্ডাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষের খাটুনির টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন অনেকে প্রশ্ন করছে, আওয়ামী লীগ কি নির্বাচনে আসবে? আমি বলি, যারা গণহত্যা করেছে, যারা দেশের মানুষের কেনা অস্ত্র দিয়ে তাদের বুকে গুলি করেছে, তারা কি এই দেশের রাজনীতি করার অধিকার রাখে? স্বৈরাচারী শাসক পালিয়ে গেলেও শান্তি দিতে চায় না। তারা সমাজ এবং দেশকে অস্থির করতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা এই দেশকে ভালোবাসি এবং এটি গড়ে তুলতে চাই। আমরা এমন একটি সমাজ এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে দুর্নীতিবাজ ও দখলদারদের স্থান থাকবে না। এমন সমাজ চাই যেখানে আমাদের মা-বোনেরা সম্মানের সাথে ঘর ও বাইরে চলতে পারবে।"
জামায়াতের আমির বলেন, "আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে যুবকরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। আমরা এই সমাজ গড়তে হাত মিলিয়ে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য মানুষকে আদালতের দরজায় কাঁদতে হবে না। বরং আদালত তাদের দায়িত্ব নিয়ে ন্যায়বিচার প্রদান করবে।"
তিনি আরও বলেন, "এ জন্য আপনাদের বৃহত্তর কোরবানির জন্য, জিহাদের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মানুষের মুক্তি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত, সাম্যের ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি দেশ এবং জাতি গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।" তিনি ন্যায়সঙ্গত কাজে সকলকে পাশে থাকার এবং সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন সাক্ষাৎ বড় ধরনের রাজনৈতিক বাঁক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফখরুল জানান, 'বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটা নিঃসন্দেহে একটি বড় ইভেন্ট, যেটি সবকিছু ঠিকঠাকভাবে এগোলে রাজনৈতিকভাবে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে উঠতে পারে।'
তিনি জানায়, বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং তিনিই তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সাক্ষাৎটি হবে ওই হোটেলেই, যেখানে ইউনূস উঠেছেন।
প্রসঙ্গত, ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আগামী শুক্রবার সকালে লন্ডনের একটি অভিজাত হোটেলে তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
এ সফরের অংশ হিসেবে ড. ইউনূস যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি এ সময় রাজার হাত থেকে ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে এই বৈঠক নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
মন্তব্য করুন


ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য যদি কোনো কারণে নষ্ট হয় তাহলে সেটা ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনকেই কেবল টেনে নিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি এসময় সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যেন সেদিকে না যাই।’
রোববার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির এই নেতা এসব কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘আমরা চাই সবাই যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে, বিজয়ী হয়েছিলাম। যে কারণে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, সেই রকম ঐক্য যেন আমরা বজায় রাখি। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যই হবে আমাদের সামনের দিনে এগিয়ে চলার জন্য একমাত্র শক্তি।
সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এই প্রশ্নে এক থাকব। দ্বিতীয়ত, ফ্যাসিবাদকে কোনোভাবে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন হতে দেব না। সব দরজা বন্ধ করে দিতে হবে এই ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের। সেই জায়গায় যেন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি।
জুলাই সনদকে জাতীয় জীবনে রাজনৈতিক সমঝোতার একটা ঐতিহাসিক পূর্ণাঙ্গ দলিল হিসেবে উপস্থাপন করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এটি বাস্তবায়নের জন্য আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, অঙ্গীকারাবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, সবার সম্মতিক্রমে এই জাতির একটা ঐক্যের মধ্য দিয়ে যেন আমাদের জুলাই সনদটা বাস্তবায়িত হয় এবং আমরা শহীদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। এই জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি। সেই আহ্বান সবাইকে জানাব। যারা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন এনসিপি। তাদের অনেক রকমের বক্তব্য আছে, যেগুলো আমরা নিজেরাও ধারণ করি। আমাদের অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার হিসেবে কিন্তু সেগুলোকে একটা বাস্তব রূপ দিতে হবে এবং বাস্তবের নিরিখে কথা বলতে হবে। আমরা যেন এমন কোনো প্রস্তাব না দেই যাতে করে ভবিষ্যতে সেই প্রস্তাবগুলো, সেই আদেশগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
সালাহউদ্দিন বলেন, কেউ যেন আমাদের এই টোটাল প্রক্রিয়াটাকে একসময় অবৈধ বলে আওয়াজ না দিতে পারে। সে কথা আমি আজ বা আগামী ৫ বছরের জন্য বলছি না। আগামী ১০ বছর পরে বা ১৫ বছর পরে যাতে এই প্রশ্নটা নিয়ে কেউ আদালতে না যেতে পারে সেরকম একটা ভিত্তি আমাদের এখনই রচনা করতে হবে। সুতরাং অতি সাবধানে আমাদের অর্জিত সাফল্যকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে চলেছেন যাতে খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে ওঠেন। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা মিলে যৌথভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন।
দেশের আপামর জনতা খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করছে উল্লেখ করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ব্রিফিং করে আপডেট জানাবেন।
এদিন, বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে অবাধ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করতে সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি ক্ষমতার যাওয়ার জন্য অস্থির নয় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের মালিকানা তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হলে অনেক সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২টি মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে। বাকীগুলো ঐকমত্যের দিকে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, তা বাদ দিয়ে শুধু মৌলিক বিষয়গুলোই সংস্কার করা উচিত।
গণতন্ত্রে সীমা থাকা উচিত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হলেও সেখানে সীমা থাকা উচিত। এমনটা না হলে ভবিষ্যতে তিক্ততা তৈরি হবে।
এ সময় জুলাই-আগস্টে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা মনে রেখে সবাইকে দেশ গঠনে ঐকবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


ভোটের মাঠে যাদের তিনটা ভোটও নেই, তারাই বড় গলায় নির্বাচন হতে না দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, আমি হিসেব করছিলাম নির্বাচনের আর ২৩ দিন বাকি। এখন অনেকেই বলছে- নির্বাচন হবে কিনা, বাধা দেব, করতে দেব না। খবর নিয়ে দেখেন তাদের তিনটা ভোটও নেই।
ওরা আবার বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না। হোক নির্বাচন, দেখা যাক কে কতটা ভোট পায়, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।
আজ মঙ্গলবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আমরা নির্বাচন চাই। আমরা যাব জনগণের কাছে। জনগণ যদি আমাদেরকে গ্রহণ করে আমরা আছি। জনগণ যদি বাদ দিয়ে দেয় দেবো, আমরা বিরোধী দলে থাকবো তাই না? তবে আগে থেকে এত গলাবাজি কেন?
এ সময় একটি দল নির্বাচন ঘিরে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সংস্কারের কথা বলে প্রচারণায় নেমেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিএনপি সংস্কার ও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। কিন্তু অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি দল।
পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা হচ্ছে দাবি করে মহাসচিব বলেন, বিএনপি তো এখন ওদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। অতীতে বাংলাদেশকে যারা স্বীকার করে নাই, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে।
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যে এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে নাকি আপনার সব উগ্রবাদী রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে। আমাদেরকে অবশ্যই সেই উদারপন্থী রাস্তা বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে।’
‘সে কারণেই আমাদের ৩১ দফা আমাদের চেয়ারম্যান যে আট দফা দিয়েছেন। আবার নতুন করে ফ্যামিলি কার্ড। ফার্মারস কার্ড। এই বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে,’ বলেন বিএনপি মহাসচিব।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও অনেকেই।
মন্তব্য করুন


ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি বা তার পরিবারের কেউ আর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নাও থাকতে পারেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারতেই অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সেখান থেকে রয়টার্সকে বুধবারে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটা জানান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার।
বর্তমানে তার দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম দেশে নিষিদ্ধ।
শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, 'এটা আমি বা আমার পরিবারের ব্যাপার নয়। বাংলাদেশ যে ভবিষ্যৎ চায়, তা অর্জন করতে হলে সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই হবে। কোনো একক ব্যক্তি বা পরিবার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।'
তবে তার এই বক্তব্য তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের আগের মন্তব্যের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন। ওয়াশিংটনে বসবাসরত সজীব ওয়াজেদ গত বছর রয়টার্সকে বলেছিলেন, অনুরোধ আসলে তিনি আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
শেখ হাসিনা রয়টার্সকে আরও জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত কোনো সরকারের অধীনে তিনি দেশে ফিরবেন না এবং আপাতত ভারতে থাকার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
ই-মেইলে রয়টার্সকে দেওয়া জবাবে তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা কেবল অন্যায়ই নয়, এটি আত্মঘাতীও বটে।'
দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, 'আমি দেশে ফিরতে চাই, তবে শর্ত একটাই—সেখানে বৈধ সরকার থাকতে হবে, সংবিধান অটুট থাকতে হবে এবং প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।'
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে সহিংস দমন-পীড়ন ও আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুমসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান।
এর আগে ট্রাইব্যুনাল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো 'বিদ্বেষমূলক বক্তব্য' প্রকাশ বা প্রচার নিষিদ্ধ করে।
মন্তব্য করুন


মতভেদ থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে এক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় কোনো ইস্যুতে বা গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয় তিনি সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
আজ বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির বিজয় র্যালির আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলের সদস্যদের বলতে চাই- বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ থাকবে। এসব মতভেদ দূর করতে আমাদের আলোচনা চলবে। জাতীয় কোনো ইস্যুতে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। কারণ, আমি বিশ্বাস করি ধর্ম, দর্শন, মত যার যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার।
এসময় দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন চান তিনি।
গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নাগরিকদের কাছে আহ্বান রাখছি, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, দেশবাসীর কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, ফ্যাসিবাদের সময় আমরা নিরাপদ ছিলাম না। আমাদের সন্তানরা নিরাপদ ছিল না। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পুরো বাংলাদেশকে বর্বর বন্দিশালা বানানো হয়েছিল। গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন না থাকায় এমন হয়েছিল।
গণতন্ত্র ও দেশের জনগণের সামনে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অপার সম্ভাবনা এবং সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের কারণে আসা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করা গেলে; জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারলে, ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবে না। দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে না। আর কোনো রক্তাক্ত চব্বিশ আমাদের দেখতে হবে না।
বিজয় মিছিল আয়োজন নিয়ে তারেক রহমান বলেন, পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্টের আমলে অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। আজকের বিজয় মিছিল অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর পথে যাত্রা।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা যদি বলি যে আগামীকাল রাস্তায় নামবো, তাহলে মনে হয় ড. ইউনূস ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না। কিন্তু আমরা চাই ড. মুহাম্মদ ইউনূস সফল হোন। ওনার সাফল্য মানেই হলো, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সফলতা। আজকে যারা জুলাই আন্দোলনের মুকুট চায়, তাদের তো মুকুট অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে। আমরাও দিয়েছি।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও’ আন্দোলনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর বলেছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি এবং মন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত সচিবালয়ে প্রবেশ করিনি। কিন্তু ওনারা (বৈষম্যবিরোধী নেতারা) এত ঘন ঘন সচিবালয়ে যায় কেন, ডিসি অফিসে যায় কেন। আজকে যে জাতি তাদের মাথায় তুলেছে, সেই মাথা থেকে যদি পায়ের তলায় পড়ে যায় সেটার জন্য কি জাতি দায়ী?
দেশে দুর্নীতি কমেনি বরং বেড়েছে- এমন মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা। দুর্নীতি বাড়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসিনার আমলের ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এখনো রয়ে গেছে। এই সরকার তো দুর্নীতি রোধে হাত দেয়নি! কয়জনকে ধরা হয়েছে? ধরার উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি বিচারও করেনি।
দেশের বন্দর নিয়ে গয়েশ্বর বলেছেন, বন্দর চালানোর জন্য যদি দেশে লোক না থাকে তাহলে বিদেশ থেকে আমরা এক্সপার্ট আনতে পারি। যেমনটি গার্মেন্টস শিল্প উন্নয়নে বিদেশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ এলিডিপির মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটুর সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলনের মূল সমন্বয়ক শাহাদাত হোসেন সেলিম।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পিআর নিয়ে যারা আন্দোলন করছে, তারাই নির্বাচন বিলম্ব ও বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচন বানচাল হলে ফ্যাসিবাদের আবার উত্থান হবে। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে কোনো আন্দোলন করা সঠিক হবে না।
শনিবার এনডিপি’র ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্ন্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পিআর’সহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াত ও বিভিন্ন দলের কার্যক্রম গণতান্ত্রিক চর্চা। তবে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কাদের ইশতেহার গ্রহণ করবে।
জামায়াত যাদের নিয়ে আন্দোলন করছে ও বক্তব্য দিচ্ছে, ‘২৪ এর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কী ছিল— এ প্রশ্ন তুলে, সেটি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময়, গাজা অভিমুখী নৌবহরে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি জাতিসংঘকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে আহ্বান জানান বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
মন্তব্য করুন


জনগণকে শক্তিশালী হতে হবে। প্রত্যেকটি নাগরিককে শক্তিশালী হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু।
তিনি বলেন, আমরা চাই আগামীর বাংলাদেশে পরিবর্তন আনতে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কমিয়ে জনগণের ক্ষমতা বাড়াতে চাই। রাষ্ট্র বেশি শক্তিশালী হওয়া ভালো না, জনগণকে শক্তিশালী হতে হবে। প্রত্যেকটি নাগরিককে শক্তিশালী হতে হবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের সিমেন্ট হোস্টেলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি নাগরিক হিসেবে নারীদের আরো বেশি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বিএনপি সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চায় বলে জানিয়েছেন আমীর খসরু।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সকলের জন্য একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড—সেটা চাকরি-বাকরি হোক, লেখাপড়া হোক, ব্যবসা হোক, বাণিজ্য হোক, রাজনীতি হোক।
এসময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বেশি করে রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
পার্বত্য অঞ্চলের ভাষা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, এটা কিন্তু নষ্ট হতে দেবেন না। এটা বিশ্বের সব দেশে আছে। আপনার সংস্কৃতি আপনাকে রক্ষা করতে হবে। আপনার সংস্কৃতি বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি অংশ।
মন্তব্য করুন