

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চায় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনটি যেন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার সকালে ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব সময় বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পাশে থেকেছে। এবারও তারা পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। তারা চায়, আসন্ন নির্বাচনটি যেন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হয়।’
আমীর খসরু বলেন, ‘ইইউ চায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়তা করতে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি সংসদকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা করবে।’
নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক চলছে, সে বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যেহেতু নির্বাচন সামনে, নির্বাচনকে ঘিরে যেসব বিষয় জড়িত—এখনই সেগুলো নির্বাচন কমিশনের জানা ও তাতে কমিশনের ভূমিকা থাকা উচিত।’
রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বৈঠক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘কে কার সঙ্গে দেখা করছে, সেটা তাদের বিষয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণ। আমরা চাই, জনগণের ম্যান্ডেটই হোক একমাত্র সিদ্ধান্ত।’
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আজ যে জায়গায় এসেছে, তার পেছনে ইইউর ডিউটি-ফ্রি বাজার সুবিধা বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।’
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ সাতজনকে আসামি করে নিজের গুমের অভিযোগ জমা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ জমা দেন তিনি।
অভিযোগ জমা দিয়ে সালাহউদ্দিন জানান, মামলা করার জন্য আমার আরো আগে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের ব্যস্ততা এবং তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে দেরি হয়েছে। এ কারণে যে কাজটা আমি বেশ কয়েক মাস আগে করতে পারতাম, সেটা দেরি হয়ে গেল।
তিনি আরো বলেন, আমি প্রাথমিকবাবে সাতজনকে আসামি করেছি। এর মধ্যে শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ র্যাব পুলিশের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তবে আরো অনেক আসামি রয়েছে যারা বিভিন্ন তদন্তের মাধ্যমে বের হবে যেগুলো আমার পক্ষে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ সময় শেখ হাসিনাসহ গুম-খুনে জড়িত সকলের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানায় বিএনপির এই নেতা।
এর আগে, গত ১৫ অক্টোবর গুমসংক্রান্ত কমিশনেও নিজের গুমের অভিযোগ জমা দেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, গুমের ঘটনায় এখন পর্যন্ত যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের সাজা এবং যারা পালিয়ে গেছেন তাদের কমিশনকে খুঁজে বের করতে হবে। এই সরকারের দায়িত্ব সবাইকে আইনের আওতায় আনা।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে সালাহউদ্দিন নিখোঁজ হন। প্রায় দুই মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তার সন্ধান পায়।
এরপর সালাহউদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। সেই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিন খালাস পান।
ভারত সরকার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তাকে সেখানেই থাকতে হয়।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধের খবর শুনে হাসপাতালে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। হাদিকে দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসনাত।
শুক্রবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শরীফ ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
এরআগে বিকাল ৪টার দিকে হাদিকে দেখতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে হাদির প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাস।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘আল্লাহ আমার ভাইকে বাঁচাইয়া রাখো’।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। কোনো সময়ই না। আমাদের মতাদর্শ যাই হোক না কেন, যে কেউ ভয়ভীতি বা শক্তির আশ্রয় নিলে তাকে একসঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আজ বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ২টা ২২ মিনিটের দিকে হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ডিআর টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তিনটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা আসে। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, হাদিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইস্রাফিল ফরায়েজী জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রচারণাকালে তাকে গুলি করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোডে নির্বাচনি প্রচার চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা গুলি করে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক দলের বিভেদের কারণে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন ঘটলে জাতি ক্ষমা করবে না।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘অতীতের ওপর ভিত্তি করে সামনে আগাবো আমরা। আমাদের সন্তানদের জন্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র রেখে যেতে হবে।’
সামনের দিনে রাজনৈতিক দলে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রশ্নে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এক থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ঠেকাবেন বলেও প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভেদের কারণ ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন ঘটলে এই জাতি আমাদের ক্ষমা করবে না।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাই একত্রিত হয়ে আদর্শগত ও মতপার্থক্য থাকা স্বত্বেও স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে এক হতে হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের সব দরজা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবো আমরা।’
মন্তব্য করুন


গুম ও খুনের জন্য শেখ হাসিনার বিচার এ মাটিতেই হতে হবে, এমন দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মায়ের ডাক আয়োজিত গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে মানববন্ধন ও প্রদশর্নীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ দাবি জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, গুমের শিকার হওয়া লোকদের সন্তানররা বড় হয়েছে, কিন্তু তাদের ফিরে পাইনি। আশা ছিলো অভূত্থানের পর গুম হওয়াদের খোঁজ পাবো, কিন্তু এখনও কিছুই হয়নি।
তিনি বলেন, একটা বড় বিজয় অর্জন হয়েছে, যে বিষয়গুলো আমাদের পদে পদে কষ্ট দিচ্ছে তার এখনও সমাধান করতে পারিনি।
বাংলাদেশের প্রতিটি নির্যাতিত মানুষের পক্ষে রয়েছে বিএনপি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত সময়ের গুম-খুনের বিচার তরান্বিত করার জন্য নির্বাচন চায় বিএনপি।
তিনি বলেন, গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের কান্না বন্ধ করতে এবং গুম কমিশনকে পাবলিকলি আনতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
গুম হওয়াদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি তাদের পাশে থাকবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফখরুল বলেন, ‘একটি প্রচেষ্টা চলছে, একটি চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার জন্যে। সেই কারণে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের পথপ্রদর্শক। আমরা সেই পথেই যাবো, যেখানে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমৃদ্ধ দেশ গঠিত হবে। জনগণের ভোটের অধিকার এবং বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের কাজ চলবে।’
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরের গণভোট নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আমাদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই সেই বক্তব্যই আমাদের অবস্থান।’
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আধিপত্যবাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি থেকে উদ্ধার করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন। ‘তিনি একদলীয় বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং মাত্র চার বছরের মধ্যে রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার চালু করেন। মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করে উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে দেশের অগ্রগতির পথপ্রদর্শক হয়।’
৭ নভেম্বর সকালে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনগুলি ঢাকাসহ সারা দেশে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন করবে। রাজধানীতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে র্যালিটি কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, বাংলামটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেল মোড়ে শেষ হবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা বিদেশে বন্ধু চাই, প্রভু নয়। এই বন্ধুত্ব হবে সমতার ভিত্তিতে। কেউ আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকাবে, তা আমরা হতে দেব না। বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে সসম্মানে থাকবে। দেশের বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না।’
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ হবে সাম্যের বাংলাদেশ। তবে এ জন্য লড়াই করতে হবে। তাহলেই আমরা সত্যিকারের স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক হতে পারব। এই লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী মানুষের দোয়া, ভালোবাসা, পরামর্শ এবং ইতিবাচক সমালোচনা প্রত্যাশা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। নারীদের যথাযথ মর্যাদায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।’
শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা এমনভাবে শিক্ষিত হবে, যেন তাদের চাকরির জন্য কারও কাছে ধরনা দিতে না হয়। বরং শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই তারা কাজ পেয়ে যাবে। এই দায়িত্ব জামায়াতে ইসলামী পালন করবে। আমরা এমন শিক্ষা চাই, যা সন্তানদের মধ্যে দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধ এবং মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটাবে।’
জেলার বঞ্চনার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘নাটোরের কোনও অপরাধ না থাকলেও এখানে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট নেই। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, অন্তত একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এ জেলার বঞ্চনার অবসান করা হোক। ভবিষ্যতে জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে নাটোরের জন্য কোনও দাবি পাঠাতে হবে না। আমি নিজেই এসব দাবি পূরণ করব।’
জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
নাটোরের এই কর্মী সম্মেলনে জামায়াতের সাম্যের স্বপ্ন ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের আহ্বান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মন্তব্য করুন


মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেয়া হবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। ইতোমধ্যে তার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে লন্ডনে যাবেন ৬ চিকিৎসকসহ মোট ১৪ জন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকসহ ওই ১৪ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
তালিকায় অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থাকবেন তার পুত্রবধূ সায়দা শামীলা রহমান। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সহকারী মো. আব্দুল হাই মল্লিক ও চেয়ারপারসনের সহকারী ব্যক্তিগত সচিব মো. মাসুদুর রহমানও লন্ডন সফরে থাকবেন।
এছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে লন্ডনে যাবেন ৬ চিকিৎসক। তারা হলেন- ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ডা. মোহাম্মদ আনামুল হক চৌধুরী, ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ডা. নূরউদ্দিন আহমদ, ডা. জাফর ইকবাল ও ডা. মোহাম্মদ আল মামুন।
এদিকে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের হাসান শাহরিয়ার ইকবাল ও সৈয়দ সামিন মাহফুজ বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে লন্ডনে যাবেন। এছাড়াও গৃহপরিচারিকা হিসেবে ফাতেমা বেগম ও রূপা শিকদারকেও সফরসঙ্গী হিসেবে তালিকায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অথবা শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে নেয়া হবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্যতম এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


‘দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করলে সংগঠন দায় নেবে না’ বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি।
দলীয় সহকর্মীদের উদ্দেশে ওই স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি, সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করলে সংগঠন তার কোনো দায় নেবে না এবং এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কাউকে কোনো ছাড়ও দেয়া হবে না- ব্যক্তি তিনি যেই হোন না কেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতএব, সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলা, সিদ্ধান্ত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্য বজায় রেখে কাজ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এর কোনো ভিন্নতা যেখানেই ঘটুক, সংগঠন অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেবে।’
মন্তব্য করুন


বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছি। আবার ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। এখন সময় এসেছে দেশকে গঠন করার, দেশকে নতুন করে তৈরি করার।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামীতেও সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে। প্রত্যেকে নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যাবে। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে বিচার করা হবে না।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রকে মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষের সামনে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় যেমন ধর্মের বিভাজন ছিল না, তেমনি ২০২৪ সালে রাজপথের আন্দোলনেও আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান।
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের এই জনসভা হোক শপথের জনসভা। আমরা সবাই শপথ নেব, আগামী দিনে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে কাজ করবে, একসঙ্গে দেশ গড়বে।
জনসভায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি, পঞ্চগড়ের দুটি এবং দিনাজপুরের একটি আসনের প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন তারেক রহমান।
এসময় তিনি বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা এই প্রার্থীদের লক্ষ্য করবেন। তারা নির্বাচিত হলে ২৪ ঘণ্টা আপনাদের, এলাকার ও এলাকার মানুষের খোঁজখবর রাখা তাদের দায়িত্ব হবে।
বক্তব্যে তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও ও এই অঞ্চলের উন্নয়নে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, চিনিকলসহ বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের চেষ্টা করবে বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের পণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার তৈরি করা হবে। বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আইটি সেক্টরে হাব গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি বাস্তবায়নে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এই অঞ্চলে বিমানবন্দর চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করেছে, নিঃসন্দেহে তারা ইতোমধ্যে অনেক ভালো কাজ করেছে। আমাদেরকে পথ দেখাচ্ছেন।
শনিবার (২১ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের আগে ও পরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আশ্বস্ত হচ্ছি যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে। তার মাধ্যমে আমাদের আশাগুলো কিছুটা হলেও পূরণ করার সুযোগ হবে। আশা করব, আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো, ফ্যাসিবাদবিরোধী আমরা সবাই একজোট হয়ে একসঙ্গে তাদেরকে সহযোগিতা করব। আমাদের যে লক্ষ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পৌঁছাতে পারব।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে বেশ কয়েকটি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হচ্ছে, একটা গুরুত্বপূর্ণ দল (এনসিপি) সম্ভবত কাল (রবিবার) নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে যাবে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছি। তাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা প্রত্যাশা করি, এই তরুণেরা, এই নবীনেরা যারা বিগত আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।’
সংস্কার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানিয়ে দলের মির্জা ফখরুল বলেন, কতগুলো বিষয়ে একমত হয়েছি, কতগুলো বিষয়ে একমত হচ্ছি না। যতগুলো বিষয়ে একমত হওয়া যাবে, সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করব। যেগুলোতে একমত হবে না, নির্বাচনের পরে সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করব, ওই বিষয়গুলো আমরা একমত হব।
মন্তব্য করুন