

ডেস্ক রিপোর্টঃ
ফ্যাসিবাদী সরকারের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার হয়ে দেশের বাইরে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ আসনের সাবেক সাংসদ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। সব মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির এই নেতা।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দেশে ফেরেন তিনি। এ সময় দলমত নির্বিশেষে তাকে স্বাগত জানাতে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-জনতা, আলেম-ওলামা, মাওলানা, শিক্ষক, পেশাজীবী, সচেতন নাগরিকসহ সব ধর্ম শ্রেণি-পেশার লক্ষাধিক মানুষের ঢল নামে।
জানা গেছে, আজ শনিবার সৌদি আরব থেকে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা। এ সময় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বিমানবন্দরে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন মুরাদনগরে এই নেতাকে। এ সময় বিমানবন্দর এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
কায়কোবাদ বিমানবন্দরে অবতরণের পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাকে স্বাগত জানাতে মুরাদনগর উপজেলা থেকে চারশ বাস ও দুই সহস্রাধিক মাইক্রোবাসযোগে কর্মী-সমর্থকেরা ঢাকায় আসেন।
মন্তব্য করুন


খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন এবং ইংরেজি ক্যালেন্ডারের শেষ দিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “আগামী ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন উদযাপিত হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করা হবে। এই দুটি বড় উৎসবকে ঘিরে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নগরবাসীর সহায়তায় আমরা উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সভার শুরুতে একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
বড়দিনের জন্য পরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে:
থার্টি ফার্স্ট নাইটের জন্য পরিকল্পনা:
উৎসব দুটি সফলভাবে উদযাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সভায় ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, ডিপিডিসি, ঢাকা ওয়াসা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ইসরাইল হাওলাদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) রেজাউল করিম মল্লিক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খোন্দকার নজমুল হাসান, এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাঁদের মূল্যবান মতামত প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া রিকশাচালক আল আমিনকে হত্যার পর তার মরদেহ গুমের মামলায় প্রধান আসামি সাবেক রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পঞ্চগড় জেলা কারাগার থেকে সুজনকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পঞ্চগড় থানার উপ-পরিদর্শক মানিক মিয়া সুজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের জন্য শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক নাহিদা আকতার জুলিয়েট সুজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরে গত বছরের ২ ডিসেম্বর রিকশাচালক আল আমিনকে হত্যার পর মরদেহ গুমের মামলায় পঞ্চগড় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আশরাফুজ্জামান তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে আল আমিন গুম হন। এ ঘটনায় আল আমিনের বাবা মনু মিয়া গত ১০ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক রেলমন্ত্রী সুজনসহ ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা ও গুমের মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আদম সুফি বলেন, পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলাটি রহস্যজনক, এখনো ভিকটিমের খোঁজ পাওয়া যায়নি। রহস্য উদঘাটনের জন্যই আসামির রিমান্ড প্রয়োজন ছিল।
মন্তব্য করুন


রাশিয়ার স্বাধীন সংবাদমাধ্যম কোমারসেন্ট জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের ব্রায়ান্সকে রুশ সেনাদের একটি সুখোই এসইউ-৩৪, একটি এসইউ-৩৫ এবং দু’টি এমআই-৮ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে ইউক্রেন।
যদি এ প্রতিবেদনটি সঠিক হয় তাহলে এটি কিয়েভের জন্য বিশাল সামরিক সাফল্য হবে বলে রোববার (১৪ মে) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
শনিবার (১৩ মে) কোমারসেন্ট ওই প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, হামলার প্রস্তুতি নেওয়া রুশ এ যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারগুলো একইসঙ্গে ভূপাতিত করা হয়। যেখানে এ আকাশযানগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে সেটি ইউক্রেনের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী… যুদ্ধবিমানগুলো ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ও বোমা হামলা চালানোর জন্য যাচ্ছিল। অপরদিকে হেলিকপ্টারগুলোর এ হামলার সহায়ক হিসেবে পাশে পাশে যাচ্ছিল।’
কোমারসেন্ট এ প্রতিবেদনের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি। তবে এ সংবাদমাধ্যমটিতে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সামরিক ব্লগাররাও সেই একই কথা বলেছেন।
সামরিক আকাশযান বিধ্বস্ত হওয়ার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া ইউক্রেনও মুখ চেপে বসে আছে। দেশটি সাধারণত রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের ভেতর চালানো কোনো হামলা নিয়ে কিছু বলে না।
তবে ইউক্রেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা এবং আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন একসঙ্গে চারটি এয়ারক্রাফট বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইল পোদোলায়েক অবশ্য এ নিয়ে একটি টুইট করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়ার বিমানগুলো ইউক্রেনের চেরনিহিভে ক্ষেপণাস্ত্র-বোমা হামলা চালাতে চেয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এগুলো ধ্বংস হয়েছে। এটি তাৎক্ষণিক বিচার।’
রাশিয়ার সরকারি বার্তাসংস্থা টাস নিউজ শনিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্রায়ান্সকে একটি এসইউ-৩৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু এর বেশি আর কিছু জানায়নি টাস।
মন্তব্য করুন


চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান ও ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা চারটি মামলা বাতিলের হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন জমা দেওয়া হয়। আগামীকাল রোববার (৫ জানুয়ারি) এ লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক। তিনি জানান, হাইকোর্টের দেওয়া রায় সঠিক হয়নি বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চে এসব আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, গত ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চারটি মামলা বাতিলের রায় দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে গুলশান থানায় তিনটি এবং ধানমন্ডি থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলাগুলোর কার্যক্রম বাতিল চেয়ে তারেক রহমান হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই চারটি মামলা বাতিলের রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করেছে।
মন্তব্য করুন


আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ওয়ালফেয়ার ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, আগামী নির্বাচনে সব থেকে বেশি আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জনের মধ্যে ৪ জনের কাছে অস্ত্র থাকবে। এছাড়া একজন নিয়োজিত থাকবে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য।
তিনি বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী আনসার। এই বাহিনীর যাতায়াত, চিকিৎসাসহ দেশের সর্ববৃহৎ এই বাহিনীর যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘবে এই ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এ সময় কাভার্ড ভ্যান, বাসসহ ৩১ টি পরিবহন প্রদানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের ফেলে পরিবারের লোকদের নিয়ে পালিয়ে যান ভারতে। ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন তাদেরকে দলের দু:সময়ে পাশে পাননি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
চরম দুঃসময়ে যেসব নেতা দলীয় কর্মীদের পাশে ছিলেন না তাদের মধ্যে অন্যতম আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গণঅভ্যুত্থানের দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করেননি। ছিলেন আড়ালে। অথচ আগে প্রায় প্রতিদিনিই বিরোধী দলকে নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতেন তিনি।
সম্প্রতি ওবায়দুল কাদের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেওয়া ওবায়দুল কাদেরের এক সাক্ষাৎকার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তিনি জানিয়েছেন, জনতার ক্ষোভ থেকে বাঁচতে তিনি স্ত্রীসহ এক বাথরুমে ৫ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর কতদিন দেশে ছিলেন এবং পরে কীভাবে পালিয়েছেন সেটিও বেরিয়ে এসেছে ওই সাক্ষাৎকারে।
ওই ভিডিওতে ওবায়দুল কাদের ৫ আগস্টের উত্তাল দিনের কথা জানিয়ে বলেন, ‘সংসদ এলাকার আমার নিজের বাসাকে এড়িয়ে পার্শ্ববর্তী আরেকটা বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। তখন চারদিক থেকে মিছিল আসছিল। এটা আসলে ছিল প্রধানমন্ত্রীর (সাবেক) গণভবন কেন্দ্রিক। আমি যে বাসাটায় ছিলাম, তারা সে বাসাতেও হামলা করে। তারা জানত না, যে সেখানে আমি আছি।
ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্য, ‘আমি আমার স্ত্রীসহ বাথরুমে লুকিয়ে ছিলাম। অনেকক্ষণ ছিলাম, প্রায় ৫ ঘণ্টা। তারপর একটা পর্যায়ে তারা বাথরুমে ভেতরেও কমোড-বেসিন এগুলো ‘লুটপাট’ করেছে। আমার স্ত্রী তখন বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বারবার বলছিলেন যে আমি অসুস্থ, যাতে করে তাদের প্রবেশ ঠেকানো যায়। কিন্তু তারা জোরপূর্বক ভেতরে ঢোকার হুমকি দিতে থাকে, বাথরুমে কী আছে তা লুট করতে চায়। এই অবস্থায় আমার স্ত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করে, কী করব? আমি বললাম, দরজা খুলে দাও।’
ওবায়দুল কাদেরের ভাষায়, ‘এরপর ৭-৮ জন যুবক ভেতরে ঢোকে, এবং তারা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আচরণ করতে থাকে। হঠাৎ তারা আমার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘নেত্রী তো চলে গেলেন, আপনি যাননি কেন?’ আমি তখন কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু এর মাঝেই তারা আচরণ পাল্টে ফেলে। কেউ একজন বলে, ‘আপনার ছবি তুলব’, তারপর শুরু হয় ছবি তোলা, কেউ কেউ সেলফিও নেয়। ধারণা করি, এদের মধ্যে অনেকেই আমাকে চিনতো।’
তিনি জানান, ঠিক কী কারণে প্রথমে তাদের মধ্যে এত আক্রমণাত্মক মনোভাব ছিল, আর কেন হঠাৎ করে সেই আচরণ শীতল হয়ে গেল- তা তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। আচমকাই তারা ঠান্ডা মাথায় কথা বলা শুরু করে। তাদের মধ্যেই একটা গ্রুপ তখন চাইছিল তাকে রাস্তায় নামিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে, আবার কেউ কেউ চেয়েছিল জনতার হাতে তুলে দিতে। এই পরিস্থিতি তার মনে গভীর চাপ ও মানসিক ভাঙন সৃষ্টি করে। এরপর তারা তাকে একটি শার্ট, লাল পতাকাসংবলিত ব্যাজ এবং মুখে কালো মাস্ক পরিয়ে সংসদ এলাকা থেকে গণভবন অভিমুখী বড় রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যায়। হঠাৎ কোথা থেকে একটি খালি ট্যাক্সি বা ইজি বাইক এসে হাজির হয়- সেই মুহূর্তে রাস্তায় কোনো গাড়ি ছিল না। তিনি মনে করেন, এটি হয়তো তার ভাগ্যের বিষয় ছিল।’
এক প্রশ্নের জবাবে স্বৈরাচার হাসিনার অন্যতম এই সহযোগী বলেন, তাদের মধ্যে দু’জন তাকে ও তার স্ত্রীকে সেই গাড়িতে তোলে এবং পথে যেতে যেতে চারপাশের চেকপোস্ট ও লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘চাচা-চাচি অসুস্থ, হাসপাতালে নিচ্ছি, বিরক্ত করবেন না।’ এইভাবেই তারা তাকে অনেক দূরের একটি জায়গায় নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ভাবতেও পারিনি যে যারা কয়েক মিনিট আগে বাথরুমে জোর করে ঢুকেছিল, তারাই আমাদের এভাবে রক্ষা করবে। সেদিন বেঁচে যাওয়া ছিল একেবারে অপ্রত্যাশিত। এটা ছিল পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও পরবর্তী তিনমাস দেশেই ছিলেন ওবায়দুল কাদের। ফন্দি আঁটছিলেন দেশের শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার।
মন্তব্য করুন


জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই পদক বিতরণ করা হয়।
এবছর সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এরমধ্যে ছয়জনকে মরণোত্তর এই পুরস্কার দেওয়া হয়, তাদের পক্ষে পরিবারের সদস্যরা পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এবার যারা স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন তারা হলেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সাহিত্যে মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), সমাজসেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর), শিক্ষা ও গবেষণায় বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর এবং প্রতিবাদী তারুণ্যে আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।
পুরস্কারের জন্য মনোনীত একমাত্র জীবিত বিশিষ্ট ব্যক্তি বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর পুরস্কার নেবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন। শতাধিক গ্রন্থের এই লেখক আজীবন কোনো পুরস্কার গ্রহণ করেননি। তার ব্যক্তিগত এই ভাবনাকে সরকার সম্মান জানায়, তবে তার পুরস্কারের একটি রেপ্লিকা জাতীয় জাদুঘরে রাখা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


সরকার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্বাচলে এক অনুষ্ঠানে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেই। বাজারে যারা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, সেটা তাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হতে পারে—সরকার এর সঙ্গে জড়িত নয়।
এর আগে সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৬ টাকা, পাম ওয়েলের দাম ১৩ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
গত আগস্টেও ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সে সময় ব্যবসায়ীরা লিটারপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমতি দিয়েছিল মাত্র এক টাকা বাড়াতে।
নতুন করে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক হলেও উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—সরকার এখনো বাজারে তেলের দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেয়নি।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মাগুরার নবগঙ্গা নদী সংলগ্ন পার্কে ‘জুলাই ৩৬’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এ কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনা পুরো বাংলাদেশকে বানিয়েছিল শেখ পরিবারের জমিদারি। জুলাইয়ে যারা আত্মত্যাগ করলেন, তারা আবার দেশকে নতুন একটি গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করেছেন। প্রতি বছর ৫ আগস্ট আমরা জুলাই শহিদদের স্মরণ করবো। সেখানে তাদের আত্মত্যাগের কথা বলবো।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। বাংলাদেশের জনসাধারণ সবাই ভোট দিতে আসবেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এতো মানুষকে খুন করেছে তবুও তাদের মধ্যে কোনো অনুতপ্ত নেই। গণভোট হবে তবে কখন হবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ন্যাশনাল কনসেসিয়াস কমিশন বসে এটা ঠিক করবে।
মন্তব্য করুন


রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো এবং ন্যায়সঙ্গত উত্তরণের পথ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সোশ্যাল বিজনেস, ইয়ুথ অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে এ কথা বলেন তিনি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশ্ব আজ এক সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বৈষম্য গভীর হচ্ছে, এবং ন্যায় ও শান্তির সংগ্রাম মানবতাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের এমন একটি অর্থনীতির দিকে এগোতে হবে যা মানুষের কল্যাণ, সামাজিক ন্যায়-বিচার এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবে। এই তীব্র চ্যালেঞ্জের মধ্যেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া।’
এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বাজেট কমানো বা আন্তর্জাতিক সহায়তা কমানো দেশের জন্য প্রতিকূল প্রভাব ফেলবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বরং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো এবং ন্যায়সঙ্গত উত্তরণের পথ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এর আগে, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তার সফর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন- অন্তবর্তী সরকারের ৬ উপদেষ্টাসহ বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা।
মন্তব্য করুন