

তিন দশক আগে ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৯ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ সময় হাইকোর্ট বলেন, মামলাটি বিদ্বেষ্পূর্ণ, রায়ে পক্ষপাতিত্ব করেছে বিচারিক আদালত।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদালতকে বলেন, শেখ হাসিনাকে খুশি করতেই ২০১৯ সালের ৩ জুলাই ৯ জনকে ফাঁসি ও ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ড দেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
তিনি আরও বলেন, এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। এরা সবাই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। মামলা চলাকালীন পাঁচ আসামি মারা গেছেন। ১৯৯৪ সালে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ওই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্রেন মার্চ করেন তিনি। ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে সভা করার কথা থাকলেও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ তার নেতৃত্বে মামলার অন্যান্য আসামিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী স্টেশন এলাকায় ট্রেনে গুলি ও বোমা বর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই একটি মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেলে তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সেই সঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদ কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি খালাস চেয়ে আপিল করেন আসামিরা।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মন্তব্য করেছেন, দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে কিছু নেই।
বুধবার (২৬ মার্চ) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ৭১ এর বীর সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন মির্জা আব্বাস জানান, ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে কিছু নেই, যারা দ্বিতীয় স্বাধীনতার কথা বলে তারা আজকের দিনকে খাটো করে দেখাতে চায়। তাদের মুক্তিযুদ্ধে কোনো ভূমিকা ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতির মাঠে সবাই সব দলের প্রতিপক্ষ। দলগতভাবে মতভেদের পার্থক্য থাকলেও দেশের প্রয়োজনে সবার ঐক্য একই থাকবে।’
এদিকে, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ৭১ দেশকে জন্ম দিয়েছে, তবে বিগত সময়ে স্বাধীনতার ধারণা নষ্ট করা হয়েছে। একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করতেই চব্বিশের অভ্যুত্থান হয়েছে।
মন্তব্য করুন


উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ওয়েবসাইট ছাড়াও এসএমএসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফল জানতে পারছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) শিক্ষা বোর্ডগুলোর এক বিজ্ঞপ্তিতে ফল প্রকাশের তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৫-এর পুনঃনিরীক্ষণের ফল রোববার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে ও আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইল ফোন নাম্বারে এসএমএস-এ ফল পাঠানো হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল সংগ্রহ করার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে। একইভাবে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ ফল দেখা যাবে।
এ ছাড়া http://www.educationboardresults.gov.bd/ এই ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল জানা যাবে। শিক্ষা বোর্ডগুলো আলাদাভাবেও পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করেছে।
এবার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষাবোর্ডে মোট ২ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে সর্বাধিক আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এবং সবচেয়ে কম বরিশাল বোর্ডে।
উল্লেখ্য, এ বছর সারা দেশের ৯ হাজার ১৯৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন, পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ফেল করেছেন ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন (৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ)। ছাত্রীদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।
মন্তব্য করুন


টাইফয়েড টিকা নিয়ে যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।
বৃহস্পতিবার (সিরডাপ মিলনায়তনে ‘টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি-২০২৫ এর সাফল্য এবং শক্তিশালীকরণ’ বিষয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
ডা. মো. আবু জাফর বলেন, ‘টাইফয়েডের টিকা নিয়ে যে গুজব ছড়িয়েছে এর মূলে রয়েছে সম্মক ধারণা না থাকা। উদ্দেশ্যমূলক গুজব ছড়ানোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।’
সরকারের উদ্যোগে দেশজুড়ে শিশুদের টাইফয়েডের টিকা দেয়ার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুজব। এসব গুজব প্রতিহত করে টিকা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের সরকার আহ্বান জানিয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বছরে প্রায় ৯০ লাখ লোক টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ ঝুঁকি নিরসনে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫০ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫ জনকে টাইফয়েডের টিকা দেয়া হয়েছে। টিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে একটা মহলের আপত্তি নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশে ঘনবসতি এবং দূষণের কারণে টাইফয়েডের টিকা দেয়া প্রয়োজন।’
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক পরিপত্র জারি করা হয়েছে। সেই পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানায় ইসি।
এ সময় সম্ভাব্যতা অনুযায়ী কেন্দ্রসমূহে সিসিটিভি কাভারেজ নিশ্চিত করা হবে বলে জানায় ইসি।
একইসঙ্গে মাঠে ব্যবহৃত ইন্টারনেট কানেক্টেড বডি ক্যামেরা ও একটি লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশন সমন্বয় সেলে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানায় ইসি।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটার, প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ভোটকেন্দ্রসহ নির্বাচনী সামগ্রীর নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব দল ও প্রার্থী যাতে নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারে এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, এর জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে। ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রদান করা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাঠামো অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লীড মন্ত্রণালয় হিসেবে নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাহিনী ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মাঠ পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করা হবে।
পরিপত্রে আরো বলা হয়, নির্বাচনের সময় বাহিনী মোতায়েনের ধরন অনুযায়ী কেন্দ্রভিত্তিক স্থায়ী মোতায়েন, স্থায়ী/অস্থায়ী চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও আভিযানিক দল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যকর থাকবে।
নির্বাচনের আগে ৪ দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর ২ দিন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা ও অপতথ্য মনিটরিং সেল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এতে আরো জানানো হয়, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, গুজব ও অপতথ্য রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে কাভারেজ এবং বডি ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। ভোটারদের স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তার জন্য এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সভায় পুলিশের বিশেষ ব্রাঞ্চ জানায়, ৪২৭৬১ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬৬৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
এর মধ্যে ৮ হাজার ২২৬ কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২০৪৩৭ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বলা হয়েছে।
ইসির ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি আরও নিষ্পত্তি ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি, রিটার্নিং কর্মকর্তা দ্বারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি, নির্বাচনী প্রচার চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সমর্থন জানিয়ে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তার উদ্দেশ্যে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।
বুধবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে জাপানি রাষ্ট্রদূত এই কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত কিমিনোরি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জাপান সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক— এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে। তিনি বলেন, “আমরা এই তিনটি স্তম্ভের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।”
তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাচনি ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রমে জাপানের ‘দৃঢ় সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ইউনূস উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই সম্পর্ক সবসময়ই শক্তিশালী ছিল।”
সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি আমাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়।”
জাপানি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে কোনো জাপানি কোম্পানি চলে যায়নি। তারা এখানে থাকতে আগ্রহী।”
তিনি নিক্কেইয়ের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের শীর্ষ কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন এবং তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাতে পারবেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার পদক্ষেপের প্রশংসা করে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, টোকিও এই বৈঠককে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।
অধ্যাপক ইউনূস মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের গ্যারান্টিযুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা তৈরির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে সংঘাত শেষ হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত জনগণের পুনর্বাসন হতে পারে এবং তারা তাদের বাড়িতে ফিরতে পারবে।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সবমিলিয়ে ১ বিলিয়ন ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)।
সোমবার এক ব্রিফিংয়ে ইএবি এ কথা জানায়। ইএবি জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সব মিলিয়ে ১ বিলিয়ন ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় দেশের শুধু আর্থিক ক্ষতি হয়নি, দেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা উদ্বেগের।
গত শনিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর ওই আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। এরই মধ্যে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেছে সরকার।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো শোকজ করা হবে না—প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেই তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে।’
সোমবার নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সায়রা গার্ডেনে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যেনতেনভাবে কোনো নির্বাচনের আয়োজন হবে না। যেখানে জরিমানার প্রয়োজন, সেখানে জরিমানা; আর যেখানে কারাদণ্ডের প্রয়োজন, ম্যাজিস্ট্রেটরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। তারা সব সময় তৎপর থাকবেন।’
পোস্টার নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জানান, ‘এবার নির্বাচনের সময় কোনো পোস্টার থাকবে না। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা কঠোর অবস্থান নেব। সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন, তা করা হবে।’
নির্বাচনকেন্দ্রে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কমিশনের একটি মনিটরিং সেল থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে যেকোনো মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। আমরা আশা করি, এবারের নির্বাচন হবে সর্বোত্তম নির্বাচন।’
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. হাসানুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, উপসচিব মো. মোস্তফা হাসান এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুচ আলী।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচন হবে ‘লাইনচ্যুত ট্রেনকে’ লাইনে ফিরিয়ে আনার নির্বাচন।
বুধবার আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরো কার্যালয়ে ৮১টি সংস্থার মোর্চা এলায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি– এএফইডির একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন ।
দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচনকে আমি যদি একটু রূপকভাবে বলি–এটা অনেকটা লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার মত।
ন্যূনতম রিপেয়ার করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে অন্তত গতি দেওয়ার চেষ্টা। যদি আমরা এটা করতে পারি, তাহলে এটাকেই আমরা প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে ধরতে পারি।’
এরপর ‘পরবর্তী দিকনির্দেশনায়’ আরও উন্নতির দিকে এগোনোর ওপর জোর দেন এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যবেক্ষকরা ইসির তৃতীয় নয়ন। চাই, তাদের পর্যবেক্ষণ মানসম্মত হোক। মৌলিক বিষয়াদির যেন ব্যত্যয় না হয়। নীতিমালার মধ্যে থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।’
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান, খান ফাউন্ডেশন এর কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকারসহ বিভিন্ন সরকারি ও ও বেসরকারি সংস্থা ও দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বলেছেন, হরতালসহ যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগসহ কোনো গোষ্ঠী যদি হরতাল বা অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) একুশে বইমেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, বইমেলার নিরাপত্তায় ডিএমপির পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও নিয়োজিত থাকবে। এবার বইমেলা চলাকালীন টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়ক সারাদিন বন্ধ থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বইমেলা চলাকালীন এক মাস ঢাবি এলাকায় কোনো ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।
ডিএমপি কমিশনার আরও উল্লেখ করেন, বইমেলায় উস্কানিমূলক কোনো বই যেন না থাকে, সে বিষয়ে বাংলা একাডেমিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বইমেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বইমেলায় খাবারের দোকানগুলোতে যাতে অতিরিক্ত মূল্য ধার্য করা না হয়, সে বিষয়ে পুলিশকে নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে চলমান বিভিন্ন আন্দোলন প্রসঙ্গে সাজ্জাত আলী বলেন, ছোট ছোট আন্দোলনের নামে রাস্তা বন্ধ করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, পুলিশের উদ্দেশ্য কাউকে আঘাত করা নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
মন্তব্য করুন


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টার জন্য দর্শনার্থী প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
এতে বলা হয়েছে, যাত্রীসেবা, বিশেষ নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আগামীকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া সব সহযাত্রী/দর্শনার্থী প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
এদিকে ২৫ ডিসেম্বর দেশে আশার কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে একজন অভিজ্ঞ সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়।
মন্তব্য করুন