

ভারত থেকে আমদানি করা সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন চাল বাংলাদেশে পৌঁছেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) এমভি ডিডিএস মারিনা নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এই চাল নিয়ে পৌঁছায়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় (প্যাকেজ-২) ভারত থেকে আমদানি করা সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এমভি ডিডিএস মারিনা জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজে থাকা চালের নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, চাল খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট ৯টি প্যাকেজে ৪ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন চাল বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষা অনেকটাই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়; তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা।
মন্তব্য করুন


দেশের মানুষ পণ্য কেনার সময় বা সেবা গ্রহণে মূল্য সংযোজন কর-মূসক বা ভ্যাট দিলেও ‘অনেক সময় তা সরকারের কোষাগারে পৌঁছায় না’ বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে ‘ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ ২০২৫’ সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, একটা জিনিস ভ্যাটের যেটা হয়, সিস্টেমটা যেন...সবাই বলবেন, খুব সহজ যেন সিস্টেম হয় এবং ভ্যাটে যেন কোনো কারচুপি না হয়। এবং ভ্যাট যেন, আপনি বা আমি যদি ভ্যাট দেই, সেটা যেন সরকারের কোষাগারে পৌঁছায়। আমাদের দেশে একটা দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, ভ্যাটটা অনেক সময় পৌঁছায় না।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কেনাকাটা করতে গেলে ভ্যাট থেকে নিস্তার নাই মন্তব্য করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি অনেককে দেখেছি আমার আত্মীয়-স্বজনও, এই দোকানে ভ্যাট আছে? আছে। ঠিক আছে থাক, আরেক দোকানে যাই। ব্যবসায়ী ভ্যাট নেবে না, ঠিক আছে না নিলে চলবে। অতএব আমাদের মধ্যে কিন্তু মানসিকতাটা একটু চেঞ্জ করতে হবে।
কর দিলে সেই তার বিপরীতে সেবাটাও যেন মেলে, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা বলেন, কোনো কোনো দেশে আমি একটা দেশ আছে বলবো না, বলছে ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ২৬ শতাংশ। ২৬ শতাংশ ট্যাক্স দেয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? বলি, ২৬ শতাংশ ট্যাক্স দেয় কারণ হয় কি, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ সবাই কনভিন্সড। ওই যে ভ্যাট বা ট্যাক্স দিয়ে তোরা তো আবার সেবাটা পায় আবার।
তিনি বলেন, ওই যে ২৬ শতাংশ ট্যাক্স নিয়ে এদিক-সেদিক টাকা পাঠিয়ে দিল দেশের বাহিরে, ওইটা হয় না। ওরা জানে যে এই টাকাটা ঠিক কাজে ব্যবহার হবে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদেরও কিন্তু সরকারের দিক থেকে এটা এনশিওর করতে হবে যে ট্যাক্সটা আপনাদের কাছে নিচ্ছে, মানুষের কাছে, তার বদলে যেন সব ধরনের সেবা যেন এনশিওর করে। তবেই কিন্তু লোকজন কনভিন্সড হবে যে আমি ট্যাক্স দেব, কারণ এটা তো আমার জন্য।
ভ্যাট পদ্ধতির আধুনিকায়ন দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা বোধহয় দেড় মাস বা দেড় মাস বা দুই মাসের মধ্যে যদি সিস্টেমটাকে আরেকটু তাড়াতাড়ি ডেভেলপ করি, পরবর্তী সরকার যেন এটাকে খুব রাইট আর্নেস্ট নিতে পারে এবং বাংলাদেশের চেহারা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কিন্তু আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারি। এটি হবে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আয়কর না বাড়ালে ঋণ করে সামনে আগানো যাবে না। তবে একটা পোরশন যদি আমরা বাড়াতে পারি, দেখেন ইনকাম ট্যাক্স, আমাদের এমনি উচিত হল ইনকাম ট্যাক্স থেকে সবচেয়ে টাকা বেশি আদায় করা।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, মানে ইনকাম ট্যাক্স ডিপেন্ডেন্ট হওয়া উচিত, নট অন ভ্যাট। আর সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি-টুটি এগুলো কিন্তু আস্তে আস্তে যত কমানো যায়। মোটকথা আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরেকটু মডার্নাইজ করা, আরো আইটি অরিয়েন্টেড করা, পিপলস ফ্রেন্ডলি করা। ব্যবসায়ীদের ফ্রেন্ডলি করা। না হলে কিন্তু আমরা সামনে এগুতে পারবো না। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকবে। ধার করে বা গ্র্যান্ট নিয়ে আমরা কিন্তু বেশি দূর এগুতে পারবো না।
মন্তব্য করুন


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের ভাবমূর্তি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, আসন্ন নির্বাচন জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে দেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও এই নির্বাচনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক অনুশীলন নিশ্চিত করা গেলে অতীতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই সেই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।
এ সময় তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ, প্রভাব কিংবা একতরফা নির্দেশনা দেওয়া হবে না।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম সরকার। এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার ডিবিতে থাকা নথি আংশিক আগুনে পুড়ে গেছে বলে যে তথ্য জানানো হয়েছে তা সঠিক নয়।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরসাদুর রউফ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
এর আগে এ হত্যা মামলার ডিবিতে থাকা নথি আংশিক আগুনে পুড়ে গেছে বলে হাইকোর্টকে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। এর কিছুক্ষণ পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরসাদুর রউফ। তিনি জানান, কোনো নথি পুড়ে গেছে এ ধরনের নিউজ সঠিক নয়।
এদিকে, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত সাগর-রুনি হত্যা মামলার নথিপত্র ডিবি হেফাজতে পুড়ে যাওয়ার তথ্যটি সঠিক নয় বলে এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স-এর উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
মামলা তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করতে টাস্কফোর্স আর ৬ মাসের সময় চেয়েছেন হাইকোর্টে। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। এদিন হাইকোর্টে এ মামলার তদন্তের জন্য আরও ৯ মাস সময় চান রাষ্ট্রপক্ষ, আদালত ছয় মাস সময় দিয়েছেন।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে মামলায় বাদীপক্ষের শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির। আর রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার এক কর্মকর্তা। একই সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর।
দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাবকে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।
এদিকে, এ মামলার বাদী পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর আইনজীবী শিশির মনিরকে নিযুক্ত করা হয়।
২০১২ সালে হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতার নিয়ে জনস্বার্থে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সেই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সাগর-রুনি মামলার তদন্ত সঠিকভাবে করা এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য ২০১২ সালে আমরা একটা রিট দায়ের করেছিলাম। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছিলেন। রুলে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন। এরপর আমাদের পৃথক একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত র্যাবের কাছে চলে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এ মামলার চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
মন্তব্য করুন


গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং এর বিচার কাজ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রেখে ‘গুম প্রতিরোধ প্রতিকার অধ্যাদেশ’ এর অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর অবশেষে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অধ্যাদেশে গুমকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, গোপন আটক কেন্দ্র বা আয়নাঘর নামে পরিচিত যেসব স্থাপনা ব্যবহৃত হতো, সেগুলোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এমন কেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবহার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) গুম সম্পর্কিত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে গঠিত ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ আমলে নেয়ার পর ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বাধ্যবাধকতাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এছাড়া ভুক্তভোগী ও স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ, আইনি সহায়তা এবং পরিচয় সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, এই আইনের মাধ্যমে দেশে আর কোনো সরকার গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না। মানবাধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই অধ্যাদেশটি পাস করা হয়েছে।
এদিন বৈঠকে দেশে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন খাত আধুনিকায়ন করতে জাতীয় লজিস্টিক নীতির চূড়ান্ত অনুমোদনও দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। এছাড়া গুম প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং তথ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে তহবিল ও তথ্যভাণ্ডার গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চালানো প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “ডেভিল যতদিন শেষ না হবে, ততদিন পর্যন্ত অপারেশন চলবে।”
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের নতুন মৃত্তিকা ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “গাজীপুরে যারা ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের অনেককেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের টার্গেট করে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলবে।”
গত শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসে। এরপরই ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযান শুরু করা হয়। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই যৌথ বাহিনী সাড়াশি অভিযান শুরু করে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে টহল জোরদার করা হয়।
ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৪০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার চৌধুরী যাবের সাদেক।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অপরাধ দেশবাসীর জানা রয়েছে।”
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে রাজনীতিতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, পর্যবেক্ষক সংস্থার রিপোর্ট হতে হবে স্বচ্ছ, অন্যথায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে নির্বাচন ভবনে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে সিইসি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই—জাতিকে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া। অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না, বরং সামনে এগোতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে আমরা সহযোগী হিসেবে পেতে চাই। তারা ভোটের অনিয়ম তুলে ধরবেন, কিন্তু রাজনীতিতে জড়াবেন না। পর্যবেক্ষকদের চোখ দুষ্টু হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’
সিইসি আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটারদের উপস্থিতি অনেক বেশি হবে।
পর্যবেক্ষক সংস্থার জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সানাউল্লাহ বলেন, ‘অতীতকে সামনে আনা নয়, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগুতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এর ব্যত্যয় ঘটলে ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশগ্রহণে সমস্যা হতে পারে।’
মন্তব্য করুন


নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, পরিবেশ ভালো আছে। আমরা বিশ্বাস করি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারব।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন চত্বরে আপিল জমা দেওয়ার বুথ পরির্দশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সিইসি। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধদের আপিল জমা দেওয়ার জন্য সেখানে ১০টি বুথ করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল রবিবার ছিল মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ দিন। এবার বাছাইয়ে ৩০০ আসনের মধ্যে ৭২৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল কার্যক্রম চলছে।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলে ৭টি নির্দেশনা মানতে হবে
১. আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরমেটে) দায়ের করতে হবে;
২. আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সংবলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে;
৩. আপিল আবেদনের ১টি মূল কপিসহ সর্বমোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে;
৪. আপিল আবেদন ইসির আপিল আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে;
৫. আপিল আবেদন ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে দায়ের করতে হবে;
৬. আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন দাখিল করতে হবে।
ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে এবং
৭. আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারী পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
আপিল দায়ের করতে নির্বাচন ভবন চত্বরে দশটি অঞ্চলের জেলার জন্য ১০টি বুথ রয়েছে
১নং বুথে খুলনা অঞ্চলের জেলা সমূহ: মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা।
২নং বুথে রাজশাহী অঞ্চলের জেলা সমূহ: জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা।
৩নং বুথে রংপুর অঞ্চলের জেলা সমূহ: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা।
৪নং বুথে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলা সমূহ: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান।
৫নং বুথে কুমিল্লা অঞ্চলের জেলা সমূহ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর।
৬নং বুথে সিলেট অঞ্চলের জেলা সমূহ: সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ।
৭নং বুথে ঢাকা অঞ্চলের জেলা সমূহ: টাংগাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ।
৮নং বুথে ময়মনসিংহ অঞ্চলের জেলা সমূহ: জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা।
৯নং বুথে বরিশাল অঞ্চলের জেলা সমূহ: বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর।
১০নং বুথে ফরিদপুর অঞ্চলের জেলা সমূহ: রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর জেলার মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণ আদেশের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল দায়ের করা যাবে।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। বিশেষত, বরিশাল ও ঢাকায় এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এসময়ে কোনো ডেঙ্গুরোগী মারা যায়নি।
আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৩ জন, খুলনা বিভাগ ১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮৯ ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬৯৮ জন।
গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজার ৬৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। এসময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩০ জন।
২০২৩ সালে সারাদেশে ডেঙ্গুতে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু ও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৫৭৫ জনের এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও যোদ্ধাদের সঠিক মর্যাদা দিতে চাই। এই জুলাই আগস্টেই তাদেরকে সম্মান দিতে হবে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা সভা ও বিশেষ অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি পালন উপলক্ষে ১ জুলাই সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ : জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবারের সম্মানে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রিজভী বলেন, আমরা ১ জুলাইকে কেন্দ্র করে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমরা যথাযথভাবে কর্মসূচি পালন করতে চাই। যাদের সন্তানেরা গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য দুনিয়া থেকে চলে গেছেন তাদেরকে বিশেষ সম্মান জানাতে হবে। সেই প্রত্যয় নিয়ে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে সারাদেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের লক্ষ্যে প্রথম কর্মসূচি পালনের জন্য ভেন্যু পরিদর্শন করেছি। এই কমিটির উদ্যোগে ভেন্যু পরিদর্শন করলাম। যাতে অনুষ্ঠান ভাবগাম্ভীর্য সহকারে পালন করতে পারি। অতিথিরা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা যাতে সুন্দরভাবে বসতে পারে। অনুষ্ঠান যাতে সার্থক হয়।
রিজভী বলেন, জাতির অনেক অর্জনের মধ্যে জুলাই বিপ্লব একটি অর্জন। আমরা প্রথম বর্ষপূর্তি পালন করতে যাচ্ছি। আমরা এমন একটা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। যে স্বপ্ন সাধারণ মানুষ দেখে। সকলে নিরাপদ জীবন আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি ও সামাজিক সংকট রয়েছে। মব কালচার আছে। এসব থেকে মুক্ত হতে হবে। গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে। গত বছরেও আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.২। এবার সেটি হয়েছে ৩.৯। আমরা সরকারকে সেটি দেখার জন্য বলব। আমরা তো সমালোচনা করবোই। অবশ্যই যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি নির্বাচন কমিশন দ্রুত একটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত অগণতান্ত্রিক সরকার দেশের অর্থ লোপাট করেছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। যার অন্যতম নির্বাচন কমিশন ও মিডিয়া। তারা কখনো প্রকৃত গণতন্ত্র চায়নি। জনগণ মনে করে ড. ইউনূস দেশবাসীর মনের প্রত্যাশা মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জুলাই বিপ্লবকে স্মরণীয় করে রাখতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমাদের দাবি ও প্রত্যাশা খুব শিগগিরই শেখ হাসিনার বিচার কাজ দৃশ্যমান হবে। জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি এই নির্বাচনে জনগণের দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জয়লাভ করবে এবং জনগণের সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবে।
তিনি বলেন , আমরা শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি এবং করছি। আমরা মনে করি একটি কমিশন বা সংস্থার মাধ্যমে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াবো। আমাদের এ ধরনের কাজ অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন