

সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সাউন্ড গ্রেনেড-টিয়ারশেল কেনা ও ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, "সীমান্তে সবসময় প্রাণঘাতী অস্ত্র দেওয়া ছিল। তবে বিজিবির কাছে সাউন্ড গ্রেনেড বা টিয়ারশেল ছিল না। অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে— বিজিবি কেন টিয়ারশেল বা সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেনি। মূলত এসব সরঞ্জাম তাদের কাছে ছিল না। এখন আমরা তাদের এগুলো কেনার অনুমতি দিয়েছি। শিগগিরই এগুলো কেনা হবে।"
সীমান্ত পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন সময় কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের সমস্যা নেই।"
ভারতের কাছে সাউন্ড গ্রেনেড থাকা এবং তাদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ভারতের কাছে সাউন্ড গ্রেনেড আছে। তারা এটি নিয়ে খারাপভাবে নেবে না।"
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলো কিছু সমস্যার সমাধান করলে এবং জনগণ সচেতন থাকলে নির্বাচন সুন্দর হবে।
রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভালো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদায়ন এবং বদলির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না দাবি করে তিনি যে কোনো অনিয়মের খবর প্রকাশ করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানায়, একক ব্যক্তির নামে সিম কার্ডের সংখ্যা ১০টি থেকে ২টিতে কমিয়ে আনতে চায় সরকার। নির্বাচনের আগে সেটি ৫-৭টিতে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
তারেক রহমানের জন্য বুলেট প্রুফ গাড়ির অনুমতি দেয়ায় তার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শংকা আছে কিনা এমন প্রশ্নের সরাসরি কোন উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, অন্য কেউ চাইলেও অনুমতি দেওয়া হবে। সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম সফল করতে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনই হলো প্রকৃত সরকার।" তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আরও মনোযোগী হতে হবে।
সভায় তিনি আরও জানান, পুলিশের যেসব সদস্য বিভিন্ন অপরাধে জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ নিশ্চিত করার নির্দেশও প্রদান করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, অতীতের অনেক নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ বেশ চমৎকার। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো শঙ্কা প্রকাশ করা হয়নি। প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ কমিশনের কাছে আসছে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ১৪৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এ সময় ৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ৯৪টি মামলা করা হয়েছে।
এনসিপি ও জামায়াতের অভিযোগ প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, এসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা ধরনের আশঙ্কা থাকতে পারে, তবে নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় বিশ্বাস—আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে অন্যতম একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটারদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ভোট ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এ সময় কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো তথ্য নেই বলেও স্পষ্ট করেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলকে আরও বোমা সরবরাহ করতে বাইডেন প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি এই যুদ্ধের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে আণবিক বোমা ব্যবহারের তুলনা করেন।
লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, পার্ল হারবারের আক্রমণের পর আমরা নাগাসাকি ও হিরোশিমায় যেভাবে জবাব দিয়েছিলাম, ইসরায়েলেরও তেমন টা করা উচিত। তাদেরকে সেই বোমা সরবারহ করা উচিত।
সম্প্রতি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার রাফাহ সীমান্তে বারবার নিষেধের পরও ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করায় তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই মার্কিন প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে একাধিক ধরনের বোমার সরবরাহ বন্ধ রাখছে বাইডেন প্রশাসন, যেগুলি দিয়ে ইসরায়েল গাজার শহরাঞ্চলে আক্রমণ চালাতে পারে।
বোমা সরবরাহ সীমিত করা ও রাফাহ সীমান্তে অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছে। তবে ইসরায়েলের কট্টর সমর্থন লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে ইসরায়েলের জয় নিশ্চিতে পর্যাপ্ত বোমা সরবরাহ করা উচিত। কোনোভাবেই তাদের হারতে দেওয়া যাবে না।
গত বছরের ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েল অভিমুখে হাজার হাজার রকেট ছুড়ে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এতে ইসরায়েলে নিহত হন এক হাজার ৪০০ জন। এরপরেই বছরের পর বছর ধরে গাজায় চলা সামরিক পদক্ষেপ জোরাল করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, আহত ৭৪ হাজারেরও বেশি। হতাহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক। এমন অবস্থায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে ছিনতাই রোধ করতে ট্রাফিক সার্জেন্টদের ‘স্মল আর্মস’ (হালকা বা ছোট অস্ত্র) প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজার (বিডিআর মার্কেট) এলাকায় ঢাকা মহানগরীতে কাউন্টার ও ই-টিকিটিং পদ্ধতিতে বাস চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়ন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাউন্টার সিস্টেম চালু করা হয়েছে। চালক-মালিকসহ যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হলো।’
এছাড়া, শর্তসাপেক্ষে চালকদের নিয়োগপত্র প্রদানের জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সাজ্জাত আলী আরও বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা আমার নজরে এসেছে। আমাদের লোকবল সীমিত। অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন না। এ কারণে তাদের ‘স্মল আর্মস’ বা হালকা অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যাপক ধরপাকড়ের মাধ্যমে অসংখ্য ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। ফলে গত ১৫ দিন ধরে ছিনতাইয়ের ঘটনা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। আমাদের এই কার্যক্রম কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।’
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি। গভীর রাত পর্যন্ত আমি নিজে সেখানে থেকে প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছি।’
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর স্থগিত থাকা স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের এক মাসিক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টো সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী সভায় উল্লেখ করেন যে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলমান থাকায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, অফিসের কারিগরি সরঞ্জামগুলো বর্তমানে হালনাগাদ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে, আগামী ১১ এপ্রিল হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ হলে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, চলমান হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ১২ এপ্রিল থেকে মুদ্রিত স্মার্ট কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৯ জন ভোটার ইতিমধ্যে স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন। তবে, এখনও ৫ কোটি ২৭ লাখ ৮১১ জন ভোটার স্মার্ট কার্ড সেবার বাইরে রয়েছেন।
চলমান বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ হলে জুন মাসে আরও একটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এতে দেশে আরও ৫০ লাখের বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও ৮ বছরের বেশি সময় পার হওয়ার পরও দেশের সকল নাগরিকের হাতে স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। নির্বাচন কমিশনের নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত স্মার্ট কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বৈরশাসকরা একবার ক্ষমতা থেকে চলে গেলে আর ফিরে আসে না। আওয়ামী লীগের যুগের শেষ সময় এসে গেছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ইতিহাসে দেখা গেছে, একবার পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসকরা আর ফিরে আসতে পারেনি। এরা মূলত ডামি সরকার। সামান্য ধাক্কাতেই ভেঙে পড়ে।’
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড়মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধানের সভাপতিত্বে এই কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছিল, আর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কথিত ‘মিডনাইট নির্বাচন’। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনও ছিল একটি প্রহসন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ বারবার হুংকার দিচ্ছে যে তারা আবার ফিরে আসবে এবং আগের মতো ক্ষমতা দখল করবে। কিন্তু জনগণ তাদের এসব ষড়যন্ত্র বুঝে ফেলেছে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, বিগত সময়ের শাসকরা জনগণের আমানতের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন না। তারা জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন, চুরি-ডাকাতি ও লুটপাট করেছেন এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ভারত যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অশান্তির কারণ না হয়। ১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে বাংলাদেশে সংগঠিত অপরাধগুলোর তদন্তের ভিত্তিতে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘুদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে ইসলামপন্থীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এটি বৈষম্যের প্রমাণ। আগামী পরিকল্পনা কমিশনে ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, শিবিরের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
মন্তব্য করুন


প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস। ঢাকা পোস্ট এবারের মা দিবসে মায়ের স্মৃতিচারণে কিছু লেখার আহবান জানিয়েছে। সেই লেখা যদি কর্তৃপক্ষের ভালো লেগে যায় তাহলে লেখাটি হয়তো এই নির্ধারিত সংবাদমাধ্যমের ফিচার বিভাগে ছাপানোর কথা। এমন ভাবনা থেকে যে কেউ জন্মদাত্রী মাকে নিয়ে দুই লাইন লিখতে চাইবে কিন্তু কারো কারো পক্ষে এটা বেশ কঠিন। বিশেষ করে যে সন্তানের মা খুব সহসাই নিরবে কাউকে না বলে চলে গেছে দূর নক্ষত্রে ভিড়ে।
এক শোকাভিভূত অভিজ্ঞতা থেকে মাকে স্মরণ করছি। স্মরণ করছি বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে কারণ মা একজন সন্তানের জন্য কত বড় আর্শীবাদ সেটা সদ্য মা হারানো সন্তানের থেকে আর কে ভালো জানবে?
জন্মের পর থেকে শুরু করে শৈশব কৈশোর এবং যৌবনের প্রতিটি পর্যায়ে মা জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মায়ের হাতে ভর দিয়ে পদচারণা শুরু, মায়ের চোখে পৃথিবী দেখা, গল্প শোনা, এলোমেলোভাবে কলম ধরে প্রথম কিছু একটা লিখতে চেষ্টা করা, আবার কখনো একটু ভয় পেয়ে মুরগির ছানার মতো বুকের মধ্যে লুকিয়ে পড়া, খানিক বাদে বের হয়ে আবার আকাশ দেখা, এমন অসংখ্য স্মৃতিতে জর্জরিত হয়ে তবেই তো একজন সন্তান বিকশিত হয়। আর এভাবেই মায়ের ছায়াতলে আমরা দিন দিন বড় হয় আর আমাদের মায়েরা ছোট হতে থাকে। মা নিজের সমস্ত কিছু বিসর্জন দিয়ে তার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য, কল্যাণের জন্য ত্যাগের এক মহিমান্বিত উদাহরণ রচনা করে যায় প্রতিনিয়ত।
সন্তান মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। আর এজন্যই বোধহয় মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কই একমাত্র স্বার্থহীন সম্পর্ক। তাই তো পৃথিবীর সব ধর্মেই মায়ের মর্যাদাকে অনেক উঁচুতে রাখা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ জাতি, গোষ্ঠী, সর্বত্রই মায়ের মর্যাদা সবার উপরে। এমনকী স্রষ্টার পক্ষ থেকেও কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে মায়ের মর্যাদার বিষয়ে।
পৃথিবীতে মা বেঁচে থাকাটা সন্তানের জন্য যে কতোটা সাহসের, কতোটা অনুপ্রেরণার সেটা বোধহয় মাকে হারানোর পরেই বেশি অনুভব হয়। মা হচ্ছেন একটা সন্তানের কাছে এমন একটি ব্যাংক, যেখান থেকে যত খুশি ঋন নেয়া যায় কিন্তু সেই ঋন পরিশোধ না করলেও কোনো জেল-জরিমানা হয় না।
এতো তাড়াতাড়ি মাকে হারিয়ে ফেলবো সেটা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। মাসে দুই-একবার করে মায়ের সঙ্গে দেখা হতো। মায়ের চোখে আমি ছিলাম ভীষণ অবাধ্য, রোগা, না খেয়ে খেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছি ইত্যাদি। ডায়াবেটিসের কারণে মা চোখে কম দেখতো অথচ সন্তানের চোখের নিচে কালো দাগ, বড় বড় চুল, কিংবা গলার নিচের হাড় এসব আর কেউ না দেখলেও কেবল মা-ই দেখতে পেতেন। ভালো-মন্দ কিছু খাবার নিয়ে পেছনে পেছনে এ ঘর থেকে ওই ঘরে যাওয়া, মায়ের এমন অসংখ্য ঘটনা প্রতিনিয়ত দাগ কেটে যাচ্ছে বুকের গভীরে। আল্লাহর কাছে আকুল আবেদন তিনি যেন মাকে তার জান্নাতের ছায়ায় আশ্রয় দেন।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী কর্তৃত্ববাদী সরকার নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্নে এখন বেসামাল হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অবৈধ শাসকগোষ্ঠী বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নানা কায়দায় জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে দেশের মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত রাখতে নিষ্ঠুর পথ অবলম্বন করছে।
বৃহস্পতিবার ( ১৮ মে) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, জেলা সমাবেশকে বানচাল করার লক্ষ্যে আওয়ামী সরকারের মদদে জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণা জেলাধীন বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কোনও মামলা ছাড়াই বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার এবং বাড়িতে বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, গতকাল ১৭ মে রাতে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ৯নং ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বুলবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, ৮নং ফুলকোচা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, ২নং কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল, সাবেক ছাত্রনেতা ও শেরপুর জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. কামাল হোসেনকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে বাড়িতে বাড়িতে ব্যাপক পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়। তার আগে শেরপুর জেলায় জেলা সমাবেশের প্রস্তুতি সভার আগের রাতে ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
জেলাগুলোতে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশকে বানচাল করার লক্ষ্যে জনবিচ্ছিন্ন সরকার এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত করছে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
ভবিষ্যতে কেউ আর অর্থপাচার করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতি স্বাভাবিক হতে ২-৪ মাস সময় প্রয়োজন।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাইভেট সেক্টর আউটলুক: প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক বাণিজ্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ক্ষয়-ক্ষতি শুরু হলেও এখন কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে এবং বিদেশি সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
বেসরকারি খাতে ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, পলিসি রেট আপাতত বাড়ানো হচ্ছে না এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ যাতে কমে না যায়, সেদিকে সরকারের নজর রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজস্ব আদায়কারী ও আইনপ্রণেতাকে আলাদা করা হবে। এলডিসি গ্রাজুয়েশন হলে গার্মেন্টস শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
বাণিজ্য সম্মেলনে ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এখনো পুরোপুরি হয়নি। এছাড়া জ্বালানি সমস্যা এখনও বিদ্যমান, যার কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার কাজ করছে। ব্যবসায়ীরা হতাশ হবেন না। গত ১৫ বছরে যা হয়েছে, তা অকল্পনীয় ছিল এবং এর ক্ষতি প্যারাসিটামল দিয়ে সারানো সম্ভব নয়। কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সম্মেলনে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি জাভেদ আখতার বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশনে বাংলাদেশকে যেতে হবে কি না এবং চ্যালেঞ্জগুলো নেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা এখনই পর্যালোচনা করা উচিত।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিবি) চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমানে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মনিটারি পলিসিতে পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি খাত দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং ব্যাংক খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোও জরুরি।
মন্তব্য করুন