

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি প্রবাসী পরিবারের ওপর অমানবিক নির্যাতন, বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এবং পরবর্তীতে মিথ্যা ডাকাতির নাটক সাজিয়ে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার পাঁচগাছিয়া গ্রামে এই নৃশংস অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আজ কুমিল্লা প্রেসক্লাবে বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আনিছুর রহমান এ কথা বলেন।
ভুক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাঁচগাছিয়া গ্রামের মৃত ছালামত বেপারীর ছেলে ওমান প্রবাসী জুলহাসের বসতঘরে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি রাত ৩:৩০ মিনিটের দিকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ মিজান, দিদার ও রবিন গং। এতে ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় মামলা (নং-০৬) দায়ের হলে পুলিশ ৩নং আসামি রবিনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে বাকি আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, আসামিরা জেলহাজতে যাওয়ার পর তাদের স্বজন রোজিনা, রত্না ও রুমা আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিতে থাকে। গত ৬ই মার্চ তারা নিজেদের হাত-পা বেঁধে ঘরবাড়ি তছনছ করে এলাকায় ‘ডাকাতি হয়েছে’ বলে মাইকে ঘোষণা দেয় এবং ফেসবুক লাইভে এসে প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের নাম জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। তবে স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতির কোনো সত্যতা পাননি।
সর্বশেষ গত ১০ই মার্চ সন্ধ্যায় বিবাদীপক্ষ পুনরায় একটি ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার অবতারণা করে। তারা দাবি করে যে, চান্দিনা পৌরসভার কাঠেরপুল এলাকায় তাদের ওপর সুইচ গিয়ার দিয়ে হামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় একটি মামলা (নং-০৭) দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, "তারা আমাদের ঘর পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে, এখন আবার আমাদের জেলে ঢোকানোর জন্য একের পর এক মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।" তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় বিবাদীপক্ষের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাকিং করলে এবং সিডিআর (CDR) পরীক্ষা করলেই তাদের এই সাজানো নাটকের সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবিতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তারা একজন ন্যায়পরায়ণ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ঘটনার সরজমিন তদন্ত ও হয়রানি থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে উজিরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোঃ নাঈমুর রহমান মজুমদার মাছুমকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী।
১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নগরীর দক্ষিণ চর্থার ইপিজেড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া মাছুম চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘাসি গ্রামের মৃত. মোখলেসুর রহমান মজুমদাের ছেলে । তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চিহ্নিত আসামি এবং চৌদ্দগ্রামে সংঘটিত এইট মার্ডার হত্যাকাণ্ডের মামলার ৮৮ নং আসামি।
সূত্রে জানা যায়, নাঈমুর রহমানের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নাশকতা পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তার স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ঢাকা শহরের ৮/৯টি স্থানে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সকাল ৬ টা থেকে ৭টার মধ্যে ভয়াবহ নাশকতা চালানো হবে।
অভিযুক্ত নাঈমুর রহমান আরও জানায়, এবার শুধু মহাসড়ক অবরোধেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা এক্সকাভেটর ব্যবহার করে রাস্তাঘাট কেটে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করার কৌশলও হাতে নেওয়া হয়েছে।
সেনা অভিযানে গ্রেফতারের পর নাঈমুর রহমানকে ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে কুমিল্লা সিআইডিকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার যেকোনো পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে দুস্থ ও ছিন্নমুল লোকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ প্যাকেট করে ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে।
রমজানের তৃতীয় দিনেও এই ইফতার বিতরণের মত মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে সেনাবাহিনী।
কুমিল্লা সেনানিবাসের প্রধান ফটকের সামনে শনিবার বিকেলে এই ইফতার বিতরণ করা হয়।
উক্ত ইফতার পেয়ে তৃপ্তি সহকারে সাধারণ মানুষ ইফতার করতে পারছে।
কুমিল্লা সেনানিবাসের আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ প্রতিদিন সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ইফতার পাচ্ছেন। সেনাবাহিনীর এ মহতী উদ্যোগ প্রশংসা পাচ্ছে সর্ব মহলে।
মন্তব্য করুন


নাফ নদীর মোহনায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি আটক করে রাখা একটি পণ্যবাহী জাহাজ ১৬ দিন পর মুক্তি পেয়েছে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে জাহাজটি পণ্যসহ টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছায়। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ স্থলবন্দরের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি জানান, গত ১৬ জানুয়ারি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে পণ্যবাহী চারটি জাহাজ টেকনাফ স্থলবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু রাখাইন সীমান্তে নাফ নদীতে আরাকান আর্মি জাহাজগুলো আটকে দেয়। এর দুই দিন পর ধাপে ধাপে তিনটি জাহাজ ছেড়ে দেওয়া হয়। অবশেষে ১৬ দিন পর বাকি একটি জাহাজও ছেড়ে দেওয়া হলে শনিবার দুপুরে সেটি টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছায়।
জসিম উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, আরাকান আর্মি জাহাজগুলো তল্লাশির জন্য আটকে রেখেছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
এদিকে, স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে টেকনাফের ব্যবসায়ীদের পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়া তিনটি জাহাজ গত ১৬ জানুয়ারি দুপুরে নাফ নদীর মোহনার নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় পৌঁছালে আরাকান আর্মি তল্লাশির নামে সেগুলো আটকে দেয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সুমনকে কম মামলা দিয়ে আদালতের প্রেরণ করার জন্য জোর তদবিদ করছেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কুমিল্লায় ছাত্রলীগের মিছিলে অংশগ্রহণ করায় যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সুমনকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া সুমন নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের মোগলটুলি উত্তর গাংচর এলাকার মৃত আলাউদ্দিন আহাম্মদের বড় ছেলে।
তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা সহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, যুবলীগ নেতা সুমন সম্প্রতি নিজেকে মামলা ও গ্রেপ্তার থেকে বাঁচানোর জন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এক নেতার অনুসারীদের সাথে চলাফেরা করেন। গতকাল ছাত্রলীগ- যুবলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে বিএনপির ওই অংশের নেতাকর্মীরা তার জন্য জোর তদবির শুরু করেন, যাতে করে দু একটি মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়, এবং সহজেই জামিনে বের হয়ে আসতে পারে। শোনা যাচ্ছে একটি দুর্বল মামলা দিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হতে পারে।
এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলা রয়েছে। নতুন করে আরো হয়তো মামলা হতে পারে। তবে তিনি তদবিরের বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
মন্তব্য করুন


ফেনী জেলায় টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে ফেনী জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।
গত ০৮ জুলাই জেলা প্রশাসক, ফেনী এর তত্ত্বাবধানে বন্যা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে সেনাবাহিনীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। এ প্রেক্ষিতে গত বছরের (২০২৪) ভায়াবহ বন্যা পরিস্থিতি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার আলোকে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রস্তুতি কার্যক্রম গ্রহণ শুরু হয়েছে।
পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার সেনা ক্যাম্প সমূহে ইতোমধ্যে ট্রাইশার্ক বোট, ওবিএম ইঞ্জিন এবং লাইফ জ্যাকেট মোতায়েন করা হয়েছে, যা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।
এছাড়াও জরুরী পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সেনাবাহিনীর একটি চিকিৎসক দল জেলা সিভিল সার্জন এর সাথে সমন্বয় সভা করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক জানানো হয় যে, সেনাবাহিনী সবসময় জাতির দুর্যোগকালীন মুহূর্তে জনগণের পাশে রয়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফেনী বন্যা মনিটরিং সেল হেল্পলাইন নম্বর ০১৮৯৮৪৪৪৫০০ এবং ০১৩৩৬৫৮৬৬৯৩ এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
মন্তব্য করুন


গাছে গাছে ঝুলছে পরপক্ক বিভিন্ন জাতের আম। কয়েকদিনের মধ্যেই জমে উঠবে আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারগুলো। ইতোমধ্যে গাছ থেকে পাড়া শুরু হয়েছে গোলাপভোগ ও গুটি জাতের আম। এর মধ্যে কৃষকদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় মোখার তেমন কোনো প্রভাব না থাকায় স্বস্তি পেয়েছেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বা এর আশেপাশে সরাসরি আঘাত না হানলেও কক্সবাজার বা চট্রগ্রাম আঘাত হানলে এর প্রভাবে ঝড় ও টানা বৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এতে গাছ থেকে আম ঝরে ও টানা বৃষ্টিতে ছত্রাকের আক্রমণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মনে। তবে ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে ঝড় বা বাতাস কিছুই হয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এতে রক্ষা পেয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকার আম।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
কক্সবাজারে উত্তাল সমুদ্র সৈকতে নেমে প্রাণ গেল এক শিক্ষার্থীর। শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া মাহমুদুর রহমান (১৬) কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার দিদারুল আলমের ছেলে। স্থানীয় জুমছড়ি দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র সে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও লাইফ গার্ড সদস্যদের বরাতে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন বলেন, সকালে মাহমুদুর রহমান ছয় বন্ধুকে নিয়ে সৈকতে ঘুরতে যায়। তারা সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে পৌঁছার পর কিছু সময় ফুটবল খেলে। পরে সাগরে গিয়ে গোসলে নামে।
মাহমুদুরের বন্ধুরা জানিয়েছে, গোসলের এক পর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যায় সে। এতে ভেসে যেতে থাকলে বন্ধুদের চিৎকারে লাইফ গার্ড ও বিচ কর্মীরা এগিয়ে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় মাহমুদুরকে উদ্ধার করে।
পরে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সৈকতে বিপদাপন্ন পর্যটকদের উদ্ধারে কাজ করা সি সেইফ লাইফ গার্ডের কর্মী মো. ওসমান গণি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ চলে গেলেও সাগর এখনো উত্তাল। অন্য সময়ের চেয়ে ঢেউয়ের সাইজ বড় হয়ে আঁচড়ে পড়ছে। এসময় হাঁটুপানির নিচে গিয়ে গোসল করা অনিরাপদ। আমরা মাইকিং করে তা বলছি, তবে সৈকতে নামা পর্যটক বা দর্শনার্থীরা কর্ণপাত করছেন না।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী মাহমুদরাও সেভাবে বুকসমান পানিতে নেমে দুর্ঘটনায় পড়েছে। আমরা তৎক্ষণাৎ উদ্ধারে নামলেও অস্বাভাবিক ঢেউয়ের কারণে তাকে উদ্ধারে বেগ পেতে হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশিকুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহটি মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মন্তব্য করুন


মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের অফিসারদের মধ্যে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ আখাউড়া-আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ মিনিট স্থায়ী সৌজন্য সাক্ষাতটি বেলা সাড়ে এগারটায় শুরু হয় এবং ১১টা ৪৮ মিনিটে শেষ হয়।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ হতে জিওসি ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, কুমিল্লা এরিয়া মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি এবং ভারত সেনাবাহিনীর পক্ষ হতে চীফ অব স্টাফ, ১০১ এরিয়া মেজর জেনারেল সুমিত রানা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দলের সদস্য হিসেবে ৩ জন স্টাফ অফিসার এবং ১ জন অধিনায়ক পর্যায়ের বিজিবি অফিসার উপস্থিত ছিলেন।
অনুরূপভাবে ভারত সেনাবাহিনীর ৩ জন অফিসার এবং অধিনায়ক পর্যায়ের বিএসএফ অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন।
উভয় দেশের প্রতিনিধিগণ নিজেদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা উপহার বিনিময় করেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, ১৬ই ডিসেম্বর, পহেলা বৈশাখ এর মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহে উভয় দেশের মধ্যে এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাতের প্রচলন আছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই সংক্ষিপ্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি প্রবাসী পরিবারের ওপর অমানবিক নির্যাতন, বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এবং পরবর্তীতে মিথ্যা ডাকাতির নাটক সাজিয়ে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার পাঁচগাছিয়া গ্রামে এই নৃশংস অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আজ কুমিল্লা প্রেসক্লাবে বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আনিছুর রহমান এ কথা বলেন।
ভুক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাঁচগাছিয়া গ্রামের মৃত ছালামত বেপারীর ছেলে ওমান প্রবাসী জুলহাসের বসতঘরে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি রাত ৩:৩০ মিনিটের দিকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ মিজান, দিদার ও রবিন গং। এতে ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় মামলা (নং-০৬) দায়ের হলে পুলিশ ৩নং আসামি রবিনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে বাকি আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, আসামিরা জেলহাজতে যাওয়ার পর তাদের স্বজন রোজিনা, রত্না ও রুমা আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিতে থাকে। গত ৬ই মার্চ তারা নিজেদের হাত-পা বেঁধে ঘরবাড়ি তছনছ করে এলাকায় ‘ডাকাতি হয়েছে’ বলে মাইকে ঘোষণা দেয় এবং ফেসবুক লাইভে এসে প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের নাম জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। তবে স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতির কোনো সত্যতা পাননি।
সর্বশেষ গত ১০ই মার্চ সন্ধ্যায় বিবাদীপক্ষ পুনরায় একটি ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার অবতারণা করে। তারা দাবি করে যে, চান্দিনা পৌরসভার কাঠেরপুল এলাকায় তাদের ওপর সুইচ গিয়ার দিয়ে হামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় একটি মামলা (নং-০৭) দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, "তারা আমাদের ঘর পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে, এখন আবার আমাদের জেলে ঢোকানোর জন্য একের পর এক মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।" তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় বিবাদীপক্ষের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাকিং করলে এবং সিডিআর (CDR) পরীক্ষা করলেই তাদের এই সাজানো নাটকের সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবিতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তারা একজন ন্যায়পরায়ণ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ঘটনার সরজমিন তদন্ত ও হয়রানি থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


গত ২৬ জুন মুরাদনগরের পঞ্চকিট্রি ইউনিয়নের বাহারচর গ্রামে এক হিন্দু নারীর সাথে অশোভনীয় ঘটনা ঘটে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ সময়ে একই গ্রামের এবং পূর্বপরিচিত মোঃ ফজর আলী (৩২) এর সাথে উক্ত নারী ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একই সাথে ফজর আলীর ছোট ভাই শাহপরান এর সাথেও তার (ভুক্তভোগী) সখ্যতা গড়ে উঠে।
ঘটনার দিন রাতে বড় ভাই ফজর আলী উক্ত নারীর ঘরে অবস্থানকালে ছোট ভাই শাহপরান ও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাদেরকে মারধর করে এবং ভিডিও ধারণ করে।
উক্ত মারধরের ফলে ফজর আলী আহত হয়ে প্রথমত কুমিল্লা এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৭ জুন উক্ত নারী মুরাদনগর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য যে, এ বিষয়ে তিনি (ভুক্তভোগী) ডাক্তারী পরীক্ষা করাতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও যৌথ বাহিনী যথেষ্ট তৎপর রয়েছে এবং মোঃ ফজর আলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আটক করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। এছাড়া ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশোভন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে সর্বমোট ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত এবং পারস্পারিক সমঝোতার মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। এখানে বলপ্রয়োগ, দরজা ভাঙ্গা বা ধর্ষণের সরাসরি কোন সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
তথাপি প্রকৃত ঘটনাটি তদন্তের পূর্বেই অশোভন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিঃসন্দেহে অনাকাঙ্খিত। তবে আইন প্রযোগকারী সংস্থা কর্তৃক দুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন পূর্বক দোষীদের অচিরেই শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে আশা করা যায়।
মন্তব্য করুন