

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ড. এম আমিনুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার তিনি নিজেই এই পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। তবে আমি কেন পদত্যাগ করেছি, সে বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।"
এর আগে, তিনি কেবিনেট সেক্রেটারির কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার ব্যক্তিগয় সচিব (পিএস) এর মাধ্যমে এই পদত্যাগপত্র কেবিনেটে পাঠানো হয়।
গত নভেম্বরে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিনজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেন। তাদের মধ্যে অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
মন্তব্য করুন


স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও সরঞ্জাম আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বুধবার সকালে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশেষ করে, গত ৫ আগস্ট এই বাহিনীর কিছু যানবাহন ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যা অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্ষম করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসএসএফ একটি প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল বাহিনী, যারা আমার ও রাষ্ট্রপতির সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বিগত ১০ মাসে এসএসএফ দেশে বিদেশে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে। আমি এসএসএফ-এর সার্বিক পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতা নিয়ে সন্তুষ্ট। এজন্য আমি সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এসএসএফ-এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ করার জন্য ধন্যবাদ। প্রতি বছরের মতো এই বছরও এসএসএফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় একটি ক্ষুদ্র বাহিনী, তবে এর কাজের গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা অনেক বেশি। এই বাহিনী আমার নেতৃত্বে এবং তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এসএসএফ বঙ্গভবনসহ আমার বাসস্থান, কার্যালয় এবং সব ধরনের গমনাগমনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়াও ঢাকার অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসএসএফ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সফলভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, দেশের বাইরেও আমার রাষ্ট্রীয় সফরগুলোতে এসএসএফ বিভিন্ন দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের প্রটোকল ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একযোগে কাজ করে সফরগুলো সাফল্যমণ্ডিত করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশে আসা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্রপতি ও জাতিসংঘের মহাসচিবের রাষ্ট্রীয় সফরের সামগ্রিক নিরাপত্তা এই বাহিনী অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে।
বর্তমান বিশ্বে আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য আদান-প্রদান খুব সহজ হওয়ার কারণে নিরাপত্তা হুমকির ধরন ও প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ার কারণে শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং বিষয় জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এসএসএফ সুষ্ঠুভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এসএসএফ নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করবে এবং সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।
ড. ইউনূস বলেন, সম্প্রতি এসএসএফ যমুনার সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করেছে। এসএসএফ একইভাবে এই কার্যালয়েরও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করবে। এসএসএফ একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে উন্নত প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তি এবং উন্নত মনোবলের সন্নিবেশে দিন দিন আরো উন্নতি সাধন করবে।
মন্তব্য করুন


ভোটার তালিকা হালনাগাদে ২১ লাখ মৃত ভোটার শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, এদের অনেকেই অতীতে ভোট দিয়েছেন।
সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপে সিইসি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এটা শুধু কথার কথা নয়। একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’
প্রবাসী ভোটারদের ভোটের সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচনটি আয়নার মতো স্বচ্ছ হোক। এজন্য প্রবাসে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, সেই সরকারি চাকরিজীবীদেরও ভোটের আওতায় আনা হবে। প্রায় ১০ লাখ সরকারি কর্মচারী এবার ভোট দিতে পারবেন।’
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিইসি আরও বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদে ২১ লাখ মৃত ভোটার চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের অনেকেই আগে ভোট দিয়ে যেতেন।
সিইসি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা চাচ্ছি। একইসঙ্গে এআই-এর অপব্যবহার রোধে ইলেকট্রনিক মিডিয়ারও ভূমিকা রাখতে হবে।’
আগারগাঁওয়ের এই সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্য চার কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসির এই সংলাপে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় টেলিভিশন মিডিয়া ও দুপুর আড়াইটায় পত্রিকা ও অনলাইন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়। দুই পর্বে প্রায় ৫০ জন গণমাধ্যম প্রতিনিধির অংশগ্রহণের কথা জানায় নির্বাচন কমিশন।
আগামীকাল (৭ অক্টোবর) নারী নেত্রী ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসবে ইসি। এরপর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে ওইদিন আমন্ত্রিতদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নেননি।
মন্তব্য করুন


দুর্নীতির মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ বুধবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিফ হাসান। আপিলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, কায়সার কামাল ও জাকির হোসেন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল করিম।
আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেছেন, যে সম্পত্তিগুলো তারেক রহমানের নামে দেখানো হয়েছে, একটাও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত না। একটা টাকা বা একটা সম্পত্তিও বাংলাদেশের বাইরে না।
তিনি বলেন, সেনানিবাসে মইনুল রোডের বাড়িটি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে দেওয়া হয়েছিল। সেটাও এ মামলায় দুদক বলছে, এটা তারেক রহমানের অর্জিত সম্পদ এবং এটা অবৈধ সম্পদ। অথচ এটা সরকার নিয়মকানুন মেনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আরেকটা সম্পত্তি আছে গুলশানে। সেটাও রাষ্ট্রীয়ভাবে দেওয়া। অথচ মামলায় তারেক রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়েছিল। বিচারের নামে এ রকম প্রহসন আমি আমার ওকালতি জীবনে দেখিনি।
গত ১৪ মে ডা. জুবাইদা রহমানের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জরিমানা স্থগিত করে ওইদিন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন দেওয়া হয়।
গত ১৩ মে আপিল দায়েরে ৫৮৭ দিনের বিলম্ব মার্জনা করেন হাইকোর্ট। বিলম্ব মার্জনার পর ডা. জুবাইদা রহমান সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান, জুবাইদা রহমান ও তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক।
এ মামলার বিচার শেষে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তারেক রহমানকে দুই ধারায় মোট নয় বছর এবং তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।
রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় তারেক রহমানকে তিন বছর এবং ২৭ (১) ধারায় ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
জুবাইদা রহমানকে ২৭ (১) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।
মন্তব্য করুন


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যে শব্দ দূষণের বিধিমালা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে।
আজ শুক্রবার সকালে গুলশানে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গাড়ি চালকদের পুনঃ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তিনি এই তথ্য জানান।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালিয়ে আগামী মাসের মধ্যে নীরব ১০টি এলাকা ঘোষণা করা হবে। হর্ন বাজালে কারাবাসে পাঠানো সমাধান নয়। নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বায়ুর মান দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। গাড়ির গতি কমালে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে, তেমনি হর্নও বাজানোর দরকার হয় না। জনদুর্ভোগ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।’
তিনি জানান, ‘চালকদের প্রশিক্ষণের জন্য রাজধানীর প্রতিটি সোসাইটিকে সহযোগিতা করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। শব্দ দূষণের কারণে ট্রাফিক পুলিশদের কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন প্রধান উপদেষ্টা। ৫৩ বছরেও নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ করতে পারেনি, সেজন্যই অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছে।’
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘দেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক তালিকা থেকে দলটিকে বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।’
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সফররত ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী ব্যারনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রেস উইং।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না এবং নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সময় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকে দলটিকে বাদ দিয়েছে।’
আসন্ন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ১০ লাখ তরুণ ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। যারা গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময় অনুষ্ঠেয় তিনটি সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।’
বৈঠকে ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলা, বাণিজ্য বাড়ানো, রোহিঙ্গা সংকট, বিমান ও নৌ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এবং ভোটার উপস্থিতিও হবে ব্যাপক।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই সনদ বাংলাদেশের জন্য নতুন সূচনা চিহ্নিত করবে; যা গত বছরের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া লাখ লাখ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করবে।’
মন্ত্রী চ্যাপম্যান অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান এবং জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান সংলাপের প্রশংসা করেন।
চ্যাপম্যান বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের দ্বারা যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং শোষণ রোধে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় যুদ্ধ ইস্যুতে গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরই মধ্যে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা ঠেকাতে ব্যাপক দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন নেতানিয়াহু। আমেরিকাও বিষয়টি প্রতিরোধে নানা তৎপরতা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সংশ্লিষ্ট বিচারকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথাও ভাবছে দেশটি।
এ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকেও টেনে আনল ইসরাইল। দুই ইসরাইলি এবং মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছ, ইসরাইলি সরকার বাইডেন প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে, যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে, তাহলে তারা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া শুরু করবে, যা তাদেরকে পতনের দিকে নিয়ে যাবে।
সম্প্রতি ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, আইসিসি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সামরিক বাহিনীর প্রধান হার্জি হালেভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, যদি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় তবে এটি ‘ঐতিহাসিক পর্যায়ের একটি কেলেঙ্কারি’ হবে।
মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে, তারা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কর রাজস্ব স্থানান্তর বন্ধ করে দেবে। আর এমন পদক্ষেপ নেবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে দেউলিয়া করে দেবে।
প্রসঙ্গত, ইসরাইল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষে ট্যাক্স সংগ্রহ করে এবং ১৯৯৪ সালে অসলো চুক্তির অধীনে তাদেরকে মাসিক ভিত্তিতে তা স্থানান্তর করে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, কোনো দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকলে তাদের প্রতীকও স্থগিত থাকবে। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্র দাঁড়াতে পারবে কিনা সেটা সময় বলে দেবে।
অর্থাৎ আওয়ামী লীগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত এ দলটি দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে পারবে না। আওয়ামী লীগের নাম না নিলেও স্থগিত থাকার দলের বিষয়ে ইসির অবস্থান স্পষ্ট করলেন ইসি সানাউল্লাহ।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তালিকায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্র স্থাপন করবেন। এছাড়া আদালত কর্তৃক যারা ফেরারি হবেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। লাভজনক পদে যারা আছেন বলে গণ্য হবেন এবং যারা সরকারি ৫০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার আছে এমন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে তারা অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া হলফনামায় তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিলে ইসি পরে ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং সেই ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদ হারাবেন। পাশাপাশি প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একক প্রার্থী থাকলে সেই আসনে ‘না’ ভোট থাকবে ব্যালটে। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন। ইভিএম সংক্রান্ত সব বিধান বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মিডিয়ার ব্যক্তিরা ভোট গণনায় থাকতে পারবেন। পাশাপাশি নির্বাচনী পোস্টার বাতিল করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আচরণবিধি ভঙ্গ হয় তা করা যাবে না। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত থাকবে ও প্রতীক সংরক্ষিত থাকবে, ভোট শব্দ কিছু স্থানে ছিল, এগুলো নির্বাচন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দময় করে তুলতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন।
বুধবার দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কোর্স-২০২৫ গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ ২৪টি দেশের সামরিক বাহিনীর তরুণ অফিসারদের মধ্যে সনদ তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূস বলেন, দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে একটি শান্তিপূর্ণ উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে কামনা করছি।
এর আগে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, ‘সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এই কারণে আমি তাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করি।’
এবারের কোর্সে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের ৩১১ জন তরুণ সামরিক অফিসার অংশগ্রহণ করেন। কোর্স সম্পন্নকারী অফিসাররা তাদের অর্জিত জ্ঞান ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে কাজে লাগিয়ে দেশের যে কোনো সংকটময় মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কোর্সে অংশ নেওয়া এক বাংলাদেশি অফিসার বলেন, ‘ডিএসসিএসসি-তে এই কোর্সে আমরা যে নেতৃত্ব, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছি, তা আমাদের দেশের এবং এর বাইরে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে। বিশেষ করে যে কোনো জাতীয় সংকটে আমরা আমাদের অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে প্রস্তুত।’
চীনের এক অফিসার বলেন, ‘বাংলাদেশের এই সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। ২৩টি দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাওয়ায় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমরা আশা করি, এই জ্ঞান ভবিষ্যতে আমাদের নিজ নিজ দেশকে নিরাপত্তা দিতে কাজে লাগবে।’
বাংলাদেশি আরেক অফিসার বলেন, ‘আমাদের প্রধান উপদেষ্টা যে কথাগুলো বলেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা আশা করি, আমরা যারা এই কোর্স সম্পন্ন করলাম, তারা দেশ রক্ষায় এবং প্রয়োজনে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে, যেমন: একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায়, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকব।’
মন্তব্য করুন


ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারীর মধ্যে ৩৭ লাখ ভুয়া, এমন তথ্য জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা এস কে বশির উদ্দিন।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁও বিআইসিসিতে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি ২০২৪-এর সিম্পোজিয়াম, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সংস্কার ও জাতীয় বাজেট নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
বশির উদ্দিন বলেন, "সমাজে বৈষম্য তৈরি হওয়ায় আন্দোলন হয়েছে, যা দূর করা সম্ভব নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে।"
করের বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, "প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উভয় করই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, এর যথাযথ প্রয়োগ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও গত ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলো অনৈতিকভাবে লাভ করেছে, যা খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো এবং শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
এ অর্থনীতিবিদ বলেন, "আমরা অবাক হয়ে দেখেছি কীভাবে অবিবেচকভাবে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। কর সংগ্রহ করতে হলে ক্রমান্বয়ে প্রত্যক্ষ কর প্রদানকারীর কাছে যেতে হয়, কিন্তু আমরা প্রত্যক্ষ কর আহরণে কোনো পরিকল্পনা দেখছি না। যারা কর দেয় না, তাদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটা স্পষ্ট নয়। আমাদের এ বিষয়টি চিন্তিত করেছে। আগামী গরমে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে, এই আশঙ্কা করছি।"
এছাড়া, রেকর্ড পরিমাণ আমন উৎপাদন করলেও সংগ্রহ অভিযানে সাফল্য নেই জানিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, "সংগ্রহ অভিযানে আগে যেমন দুর্নীতি ছিল, তা এখনো বিদ্যমান। কৃষক তার ফসলের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে।"
এ সরকার কী ধরনের অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার রেখে যাবে, এ প্রশ্ন তুলেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, "সুষম, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে যে ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো বা সংস্কার প্রয়োজন, সে ধরনের কোনো রূপরেখা আমরা দেখলাম না।"
মন্তব্য করুন

