

স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) নোয়াখালী জেলা অফিসে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সুধারাম মডেল থানায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের স্টোরকিপার মিরাজ হোসেন ওরফে শান্তকে আসামী করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার বাদী মাহবুবুর রহমান। তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল নিউজ বাংলার জেলা প্রতিনিধি এবং নোয়াখালী প্রেসক্লাবের কার্য্যনির্বাহী সদস্য । এ ঘটনায় দেশ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মাওলা জিয়াউল আহসান সুজন ও লাঞ্ছিত হন।
মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গত ১৭ অক্টোবর আমি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এরপর পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। অবশেষে তিন দিন পর পুলিশ মামলা রুজু করে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ অক্টোবর বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ে উপ পরিচালক বরাবরে তথ্য চেয়ে আবেদন ফরম জমা দিতে যায় সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান ও দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি মাওলা রকিবুল আহসান সুজন। সেখানে উপপরিচালক (বীজ বিপণন) নুরুল আলমের সঙ্গে তার কক্ষে কথা বলার সময় প্রতিষ্ঠানের স্টোরকিপার মিরাজ হোসেন ওরফে শান্ত কক্ষে প্রবেশ করে হঠাৎ ভিডিও করা শুরু করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকেরা চাঁদা নিতে এসেছেন, এমন দাবি করে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। তাকে চিৎকার-চেঁচামেচি ও ভিডিও করা বন্ধ করতে বলা হলে কর্মচারী মিরাজ হোসেন তাঁকে কিলঘুষি দিতে শুরু করেন। পরে মারধরের জন্য লাঠি নিতে মিরাজ কক্ষ থেকে বের হলে কক্ষে থাকা অপর সাংবাদিক রকিবুল আহসান দরজা বন্ধ করে দেন। গত বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর উপ পরিচালক নুরুল আলম এঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে স্টোর কিপার মিরাজ হোসনকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে 'এঘটনা কেন ঘটিয়েছেন' মর্মে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
মাত্র পাঁচ বছরের এক ছোট্ট শিশু, মুনতাহা আক্তার জেরিন। তার মিষ্টি হাসি ও চঞ্চলতা পরিবারের সবাইকে মুগ্ধ করত। প্রতিবেশীরাও তাকে আপন করে নিয়েছিলেন। তবে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হতে হয় এই শিশুটিকে, এবং এতে জড়িত ছিলেন তার সাবেক গৃহশিক্ষিকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুনতাহার গৃহশিক্ষক ছিলেন শামীমা বেগম মার্জিয়া (২৫)। কিছুদিন আগে তার খারাপ আচরণের কারণে মুনতাহার বাবা তাকে পড়াতে নিষেধ করেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মার্জিয়া। প্রতিশোধ নিতে গত ৩ নভেম্বর মার্জিয়া ও তার মা আলিফজান বিবি শিশুটিকে কৌশলে তাদের ঘরে নিয়ে যান।
ঘরের ভেতর ওড়না ও রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে মুনতাহাকে হত্যা করা হয়। এরপর তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে ঘরে রাখা হয়। গভীর রাতে মরদেহটি পলিথিনে মুড়িয়ে ঘরের পাশের নালায় পুঁতে রাখা হয়। পরদিন ভোরে মরদেহটি পুকুরে ফেলার সময় স্থানীয়রা তা উদ্ধার করেন। এসময় আলিফজান বিবিকে আটক করে স্থানীয় জনতা।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন শিশু মুনতাহার গৃহশিক্ষক শামীমা বেগম মার্জিয়া, তার মা আলিফজান বিবি, প্রতিবেশী ইসলাম উদ্দিন (৪০), এবং মামুনুর রশিদের স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫)।
মুনতাহা সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের বাসিন্দা শামীম আহমদের মেয়ে। রোববার বাদ আসর বীরদল পুরানফৌদ জামে মসজিদে জানাজা শেষে গ্রামের পঞ্চায়েত কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
গত ৩ নভেম্বর দুপুরে মুনতাহা পার্শ্ববর্তী বাড়ির শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায়। বিকেল পর্যন্ত না ফেরায় পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সন্ধান না পেয়ে মুনতাহার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী ও আত্মীয়স্বজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হলে অনেকেই মুনতাহাকে খুঁজে পেতে সাহায্যের জন্য আবেগঘন পোস্ট দেন এবং স্বেচ্ছাসেবায় যুক্ত হন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের বাবুটিপাড়া (ভৈষখোলা) গ্রামে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে অন্তত সাত থেকে আটটি পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী বাবুটিপাড়া (ভৈষখোলা) গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে আবুল হাশেম জানান, একই গ্রামের ইসমত আলীর ছেলে আলী আহাম্মদ আলামিন এবং শামসুল হকের ছেলে সুমন, সোহাগ ও সাইফুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই মধ্যে কিছুদিন আগে অভিযুক্তরা আবুল হাশেম ও তার পরিবারের লোকজনকে মারধর করে। এ ঘটনায় তিনি মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আবুল হাশেম গংদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ধমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে সম্প্রতি আলী আহাম্মদ আলামিন, সুমন, সোহাগ ও সাইফুল মিলে আবুল হাশেমদের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তায় কাটা দিয়ে বন্ধ করে দেন।
এতে করে আবুল হাশেম ও তার পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের সাত থেকে আটটি পরিবার তাদের ফসলি জমিতে যেতে পারছেন না। ফলে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত আলী আহাম্মদ আলামিন, সুমন, সোহাগ ও সাইফুলকে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে সুমন, সোহাগ ও সাইফুলের মা, শামসুল হকের স্ত্রী ছাফিয়া বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকেন না। আমরা শুধু মহিলারা থাকি। আবুল হাশেম যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং আমাদের অনুমতি না নিয়ে তারা আমাদের জায়গা থেকে মাটি কেটে ড্রেন নির্মাণ করেছেন।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং চলাচলের রাস্তা পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারের দায়ে ১৪ জেলেকে ৬ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১ জেলেকে ২ হাজার টাকা জরিমানা ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় ৭ কিশোর জেলেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান সরকার।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আমির হোসেন গাজী, হারুন ঢালী, মো. জাহাঙ্গীর, রিয়াদ রাঢ়ি, রমজান ব্যাপারী,হৃদয় মোল্লা, রিপন খান, মো. ফয়সাল, জনি ব্যাপারী, আল-আমীন মোল্লা, বাদশা হাওলাদার. কিরন খান, ওমর ফাটল রাঢ়ি ও নাজমুল হাসান। ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় মো. ইব্রাহিমকে। আর মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া অপ্রাপ্ত কিশোর জেলেরা হলেন মো. সোহেল, মো. হাবীব, শামীম, কাজল, পারভেজ, ওমর ও মো. হাসিব। আটক এসব জেলেদের বাড়ি শহরের টিলাবাড়ি, বহরিয়া ও গোবিন্দিয়া গ্রামে।
সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স সোমবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত অভয়াশ্রম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ২২ জেলেকে ইলিশ ধরা অবস্থায় হাতেনাতে আটক, ১০ হাজার মিটার কারেন্টজাল ও ৩ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। জব্দ কারেন্টজাল কোস্টগার্ড চাঁদপুর ষ্টেশনে আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয় এবং ইলিশ মাছ দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বিজয়পুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর পল্টারপাড় এলাকায় কৃষক রুহুল আমিন হত্যা মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে নিহতের পরিবারকে হত্যা মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। মামলা তুলতে অপারগতা প্রকাশ করায় নিহতের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। আসামিদের ভয়ে কোন সাক্ষী আদালতে যেতে চায় না।
এ ঘটনায় হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবিতে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্ত্রী জাহানারা বেগম ও কন্যা রোকেয়া।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, কৃষক রুহুল আমিন মসজিদে আজান দিতেন। এই আজানকে কেন্দ্র করে হত্যাকারীরা কিছু বখাটে ছেলে রুহুল আমিন এর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় স্থানীয় মৃত. আব্দুল লতিফের ছেলে মো: লোকমান হোসেন (৩৮), মো: কবির হোসেন (৩৫) ও মোঃ মীর হোসেন (৩০), শফিক মিয়ার ছেলে নাজমুল হোসেন (২২) ও কবির হোসেনের স্ত্রী শাহিনুর আক্তার ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটায় রুহুল আমিন কে সবার সামনে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা তাদেরকে আসামি করে পরদিন হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এসে আমাদেরকে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। আমরা মামলা তুলতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা আমাদের পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছি। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। আমরা প্রশাসনের কাছে দুই হাত জোড় করে অনুরোধ করছি এসব সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসি প্রদান করুন।
হত্যাকারীরা একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তারা এখন বিএনপি নেতা কর্মীদের সাথে ঘুরাঘুরি করে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কুমিল্লার ৯টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি দুটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।
সোমবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭ আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে দলীয় প্রার্থীদের নামের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
কুমিল্লা -১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) সংসদীয় আসনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা -৩ (মুরাদনগর) সংসদীয় আসনে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, কুমিল্লা -৪( দেবিদ্বার) সংসদীয় আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, কুমিল্লা-৫ ( বুড়িচং ও বি পাড়া) আসনে হাজী জসিম, কুমিল্লা -৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা -৮ (বরুড়া) সংসদীয় আসনে জাকারিয়া তাহের সুমন , কুমিল্লা -৯ ( লাকসাম-মনোহরগন্জ) আসনে আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালাম, কুমিল্লা -১০ ( লালমাই ও নাঙ্গলকোট) আসনে আব্দুল গফুর ভূইয়া, কুমিল্লা -১১ ( চৌদ্দগ্রাম) আসনে কামরুল হুদা।
কুমিল্লা -২ ( হোমনা-তিতাস) ও কুমিল্লা -৭ (চান্দিনা) আসনে পরে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সদরের জগনাথপুর ইউনিয়নের বারপাড়া কৃষ্ণপুর এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত ফারুক আহমেদের বাড়িতে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে। ৫ আগস্টের পর এ নিয়ে তিনবার এ বাড়িতে অগ্নি সংযোগের চেষ্টা, বাড়ির ফটক ও জানালা ভাঙচুর, ঘরের স্বর্ণালঙ্কার, মালপত্র এবং অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই ঘটনার সাথে জড়িত বলে প্রয়াত ফারুক আহমেদের পরিবার জানায়।
জানা যায়, ২০১৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ ইন্তেকাল করেন। উনার মেয়ে সুইডেনে অবস্থান করছেন এবং ছেলেও দেশের বাইরে দীর্ঘ দিন ধরে অবস্থান করছেন। ফলে বাড়িটিতে তাদের কেউ থাকেনা। দুই একটা দোকানে ভাড়াটিয়া রয়েছে। ফলে এই সুযোগে ৫ আগস্টের পর থেকে বাড়িটি দখল করার পায়তারা চলছে। ৫ আগস্ট প্রথমে বাড়িটিতে অগ্নিসংযোগ করার পায়তারা করা হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে লুটপাটকারীরা তা করতে পারেনি। ৬ আগস্ট পুনরায় তারা এসে ভাড়াটিয়ার কম্পিউটার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও মালামাল নিয়ে যায়। সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় তারা এসে ঘরে জানালার গ্লাসগুলো খুলে নিয়ে যায় এবং ড্রয়িং রুমের সকল মালামাল নিয়ে যায়। সর্বশেষ ১১ জুলাই ফারুক আহমেদের ফ্ল্যাট ও ভাড়াটিয়ার ফ্লাটের সকল মালপত্র তারা লুটপাট করে নিয়ে যায়। থানায় যাতে কোন অভিযোগ না দেয়, সেজন্য ভাড়াটিয়াদের হুমকি দিয়ে গেছেন লুটপাটকারীরা।
প্রয়াত ফারুক আহমেদের কন্যা জেনি সুইডেন থেকে জানান, আমাদের বাড়িটি দখল করার চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে তিন দফা লুটপাট হয়েছে। আমাদের ভাড়াটিয়ারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিদেশে থাকায় আইনি পদক্ষেপ নিতে সমস্যা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজারের পেকুয়ায় ডাম্পট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে পেকুয়ার ধনিয়াকাটা এলাকায় এবিসি আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- অটোরিকশাচালক মনিরুল মান্নান, যিনি পেকুয়ার ধনিয়াকাটার ছৈয়দ আলমের ছেলে; চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফিরোজ, তার স্ত্রী শারমিন এবং তাদের শিশু সন্তান। নিহত আরেকজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, সকাল ৭টার দিকে পেকুয়া এবিসি এলাকায় মিনি ট্রাক (ডাম্পট্রাক) ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং দুইজন আহত হন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) চান্দগাঁও ক্যাম্পের অফিস থেকে পলাশ সাহা নামে এক কর্মকর্তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের বহদ্দারহাটে অবস্থিত র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের তৃতীয় তলার একটি রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পলাশ সাহা (৩৭) র্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ৩৭তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন।
পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আরিফ হোসেন জানান, পলাশ সাহাকে তার অফিস কক্ষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে তার পরিবারের উদ্দেশে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। পুলিশ এখন বিষয়টি তদন্ত করছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সূত্রে জানা গেছে, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে পলাশ সাহার স্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছেছেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার হোমনায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোয়ার সরকারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১১টার দিকে তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লা-২, (হোমনা–তিতাস আসনে) বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ার সরকারের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে।
রাতের অন্ধকারে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি তার নির্বাচনি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত টিনশেড ঘরে ঢুকে আগুন লাগিয়ে দেয়।
অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে, পুড়ে যায় ঘরের ভেতরের টেবিল, চেয়ার, পোস্টার ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি।
স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিতাস থানার সাব ইন্সপেক্টর বিমল দাস বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি।আইসা কোন লোকজন দেখতে পাই নি। ঘরটি বিএনপি নেতা মনোয়ার সরকারের নির্বাচনি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তদন্ত চলছে কারা, কী কারণে আগুন দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মনোয়ার সরকার বলেন, কলাকান্দি ইউনিয়নের কর্মী সভা এবং গণ সমাবেশ শেষে গণসংযোগ করি।সেটা শেষ করে আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই ।পথিমধ্যে জানতে পারি আমার অফিসে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এটি নিঃসন্দেহে পরিকল্পিত হামলা।
তিনি দাবি করেন, তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় একটি মহল ঈর্ষা ও প্রতিহিংসা থেকে এ ঘটনার পরিকল্পনা করতে পারে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে গত ২৯ এপ্রিল ৯ বছরের শিশু তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণসহ নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা র্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা। এর আগে নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণসহ হত্যার ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়।
এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১১ এর বিশেষ অভিযানে গত ৩০ এপ্রিল রাতে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার ফেরুয়া বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষক ও হত্যাকারী মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘাতক মফু কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত. আব্দুল খালেকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটির পিতা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী এবং তার মা একজন গৃহিনী। নিহত সোনালী উপজেলার শিশু শিক্ষা বিদ্যা নিকেতন কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছিল। সকাল ৭টায় সে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়, বেলা ১১ টার দিকেও ভিকটিম বাড়ী না ফিরলে ভিকটিমের মা চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং কালক্ষেপন না করে তিনি তার মেয়ের স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। স্কুলে পৌছানোর পর স্কুল শিক্ষিকার শরনাপন্ন হয়ে মেয়ের বিষয়ে কোন হদিস না পেয়ে ভিকটিমের মা স্কুল থেকে ফেরার পথে ভিকটিমের বেশ কয়েকজন সহপাঠির কাছে জানতে পারেন যে, ভিকটিম স্কুল শেষে বাড়ি চলে গিয়েছে। অতঃপর ভিকটিমের মা বাড়ি ফিরে আসেন এবং স্থানীয় লোকজন ও আশেপাশের প্রতিবেশীদের সহায়তায় সম্ভাব্য সকল স্থানে তার মেয়ের সন্ধান করেন। ইতিমধ্যে ভিকটিমের মা তার প্রবাসী স্বামীর সাথে আলোচনা করে আশেপাশের কয়েকজন লোকজন নিয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী দায়ের করার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। বিকেল সোয়া ৩টায় ভিকটিমের লাশের বিষয়ে অবহিত করলে ভিকটিমের মা ও সাথে থাকা লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছান এবং ভিকটিমের মরদেহ দেখতে পান। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি ভিকটিমের মাসহ অন্যান্য লোকজনদেরকে জানায় যে, সে আসামী মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে ঘটনার দিন বেলা সোয়া ১১ টার সময় ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশে থাকা বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে দ্রুত রাস্তায় উঠে আসতে দেখেছেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, নিহত ভিকটিম গ্রেফতারকৃত আসামীর প্রতিবেশীর মেয়ে এবং পূর্ব পরিচিত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী মফিজুল তার অসৎ কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে গত ২৯ এপ্রিল সকাল আনুমানিক পৌণে ১১ টায় ঘটনাস্থলের পাশের রাস্তায় ভিকটিমের আসার অপেক্ষায় ওৎ পেতে থাকে। পথিমধ্যে ভিকটিম স্কুল থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌছালে গ্রেফতারকৃত আসামী ভিকটিমকে কৌশলে রাস্তার পাশের ধানী জমিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভিকটিম চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামী মফিজুল ভিকটিমের মুখ ও গলা চেপে ধরে। এতে ভিকটিম শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। অতঃপর আসামী মফিজুল ভিকটিমের কোন নড়াচড়া দেখতে না পেয়ে ভিকটিমের কানে থাকা দুল ছিড়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা ও অন্যান্য লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে ভিকটিমের মৃতদেহ দেখতে পায় এবং পুলিশকে খবর দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে নিজ এলাকা হতে পালিয়ে চাঁদপুরে চলে যায় এবং সেখানে আত্মগোপন করে।
নারায়নগঞ্জ র্যাব-১১ এর অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন