

চিরবিদায় নিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ছেলে ব্যারিস্টার মাহবুব গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রোববার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশের আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় (সংসদ সদস্য না হয়েও) এ দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৩৭ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন এবং লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ শনিবার সকালে রংপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, যখন একটি দেশে রাষ্ট্র, সরকার ও দল এক হয়ে যায়, তখন সবকিছু একসঙ্গে ধসে পড়ে। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিষয়ে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা মোকাবিলায় কমিশন কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, গত নির্বাচনে যেসব প্রিজাইডিং অফিসার সমস্যার সৃষ্টি করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনে কারও পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করব না, ১৮ কোটি মানুষের হয়ে কাজ করব। ভোট দেয়া যেমন নাগরিক দায়িত্ব, তেমনই ঈমানী দায়িত্বও।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে একই দিন। ওই দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারেরাও পোস্টাল ব্যলটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডন যাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। এবার জানা গেছে, জানুয়ারির প্রথমার্ধে তিনি লন্ডন যাচ্ছেন। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে মেডিকেল বোর্ডের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ জানুয়ারি। তবে এটি এখনও নিশ্চিত নয়। সবকিছু খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রওনা হবেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন ১৬ সদস্যের একটি টিম। এ টিমে তার চিকিৎসা বোর্ডের বেশিরভাগ সদস্য, তিনজন দলীয় নেতা, দুজন একান্ত সচিব, একজন প্রটোকল অফিসার, পুত্রবধূ এবং দুজন গৃহকর্মী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
হিথ্রো বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাবেন তার পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ৮ বছর পর মায়ের সঙ্গে তারেক রহমানের এ সাক্ষাৎ হবে।
সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যেসব হাসপাতালে তার চিকিৎসা হবে সেখানকার অ্যাপয়েন্টমেন্টও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, খালেদা জিয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন


গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্তের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের রায়ের দিন দুই সপ্তাহ পিছিয়েছে। এ নিয়ে রায়ের দিন চতুর্থ দফা পেছাল।
জাহাঙ্গীরের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৪ মে) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের দিন দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেন।
এর আগে রায়ের দিন পেছানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করলেও এবার জাহাঙ্গীর আলমের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রায়ের দিন পেছানো হলো।
আদালতে জাহাঙ্গীরের পক্ষে সময় আবেদন করেন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম এম জি সারোয়ার পায়েল।
পরে ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ রিট খারিজের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। আমরা জবাব দাখিলের জন্য সময় আবেদন করেছি। দুই সপ্তাহ পর বিষয়টি আবার রায়ের জন্য আসবে।
এর আগে গত ২ মে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্তের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের রায়ের দিন তৃতীয় দফা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়। বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
গত ৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দফা পিছিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে রুলের রায় ঘোষণার জন্য ২ মে দিন ধার্য করা হয়।
গত ২৮ মার্চ এ রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর ৩০ মার্চ রায়ের জন্য রাখেন আদালত। কিন্তু ওইদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানি করতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সে আবেদন গ্রহণ করে রায় ঘোষণা পিছিয়ে ৪ এপ্রিল দিন রাখেন। এদিনও রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনে রায় ঘোষণা পিছিয়ে ২ মে দিন ধার্য করেন আদালত।
গত ১৫ মার্চ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্তের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি শুরু হয়।
গত বছরের ২৩ আগস্ট গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
গত বছরের ১৪ আগস্ট গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জাহাঙ্গীর আলম পদ ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটে তাকে সাময়িক বরখাস্তের আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। ব্যারিস্টার মশিউর রহমান সবুজ জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে এ রিট দায়ের করেন।
২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হওয়া জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওইদিন নিজ দপ্তরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এর মধ্যে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থপরিপন্থি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে জাহাঙ্গীর আলমকে ক্ষমা ঘোষণা করে দলটি। গত ২১ জানুয়ারি সে ক্ষমা ঘোষণার চিঠি পান জাহাঙ্গীর আলম।
গত ৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটির ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন। ভোটগ্রহণ ২৫ মে। তবে ঋণ খেলাপির অভিযোগে জাহাঙ্গীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২০২৭ সালের জুলাই মাস থেকেই ক্যাশলেস আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। এতে আর ক্যাশ আউটের প্রয়োজন থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, ‘লেনদেনে স্বচ্ছতা আনার জন্য ডিজিটাইজেশনের বিকল্প নেই।আর এ জন্য আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতে এ ব্যবস্থায় যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এতে লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে, রাজস্ব আদায় বাড়বে।’
আন্তঃলেনদেন প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অনুষ্ঠান থেকে গেটস ফাউন্ডেশনের মোজোলুপের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি চুক্তি সই হয়।
নিরাপত্তাজনিত কারণে চুক্তিটি ভার্চুয়ালি করা হয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘এই চুক্তির আওতায় মোজোলুপের এই প্ল্যাটফর্মের নাম হবে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইএসপি)।’
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ উপলক্ষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৭টায়) প্রথমবারের মতো বিতর্কে অংশ নিয়েছেন তারা। বিতর্কের আয়োজন করে সিএনএন ও এবিসি। সিএনএনের আটলান্টা স্টুডিওতে বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হয়।
সিএনএন এর জরিপ অনুযায়ী এই বিতর্কে হেরে গেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস শুক্রবার একটি সম্পাদকীয়তে প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনকে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর এবং নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য অন্য ডেমোক্র্যাটকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বাইডেনকে ‘একজন মহান সরকারি কর্মচারীর ছায়া’ হিসেবে বর্ণনা করে সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় পরিষদ বলেছে, “প্রেসিডেন্ট এবং ট্রাম্পের মধ্যে বৃহস্পতিবারের বিতর্ক প্রমাণ করেছে ৮১ বছর বয়সী বাইডেন- তার নিজের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি কী করবেন, তার ব্যাখা দিতে হিমশিম খেয়েছেন। হিমশিম খেয়েছেন ট্রাম্পের উসকানির জবাব দিতে। হিমশিম খেয়েছেন ট্রাম্পকে তার মিথ্যা কথা, ব্যর্থতা ও ভয়ানক সব পরিকল্পনার জন্য জবাবদিহি করাতে। একাধিকবার তিনি একটা বাক্য শেষ করতে গিয়ে সংগ্রাম করেছেন।”
বাইডেন এখন যা করতে পারেন, তা হলো, তিনি পুনরায় নির্বাচন করছেন না—এই ঘোষণা দেওয়া। দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট এক বেপরোয়া জুয়ায় লিপ্ত আছেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়া ঠেকাতে ডেমোক্র্যাট নেতাদের মধ্যে নিজেকে স্পষ্টবাদী, বাধ্যকারী ও উদ্যোমী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার মতো অধিকতর যোগ্য বিকল্প রয়েছেন।
ট্রাম্প ও বাইডেনের ঘাটতিগুলোর মধ্যে এর যেকোনোটি বেছে নিতে ভোটারদের বাধ্য করার মধ্য দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি গ্রহণ করার কোনও কারণ দলের নেই। আমেরিকানরা যা নিজেদের চোখে দেখেছেন, বাইডেনের সেই বয়স ও দুর্বলতা তারা এড়িয়ে যাবেন বা হিসেবে নেবেন না— সরলভাবে এটা আশা করা হবে এক বড় জুয়া’, বলেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের তিস্তা পাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে তারা রংপুরের কাউনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিবেশ উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত একটি নৌকায় করে তিস্তার উভয় তীর পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং পরিবেশগত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত নদীর তীরবর্তী এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। ভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা, জীবনযাত্রার সংকট এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন তারা। এ সময় তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন এবং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা এই অঞ্চলের মানুষের মনে আজকের এই উচ্চপর্যায়ের সফর নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কাউনিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা ত্রাণ নয়, বরং নদীর স্থায়ী বাঁধ এবং ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চান।
তিস্তা পাড়ের স্থানীয় আকবর আলী বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূত আজকে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষে জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি তারা একটি নিশ্চিত জীবন পাবেন।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা করছে চীন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। আজকের এই সফর সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ সময় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই অঞ্চলের মানুষ প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা বন্ধুপ্রতিম চীনের সঙ্গে মিলে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছি।
তিনি আরও বলেন, এখন এটা দুই ধরনের সমীক্ষা চলছে। একটা হচ্ছে এই প্রকল্পটার যে ফিজিবিলিটি হয়েছে, এটা শতভাগ ফুলপ্রুফ কি না, সঠিক কি না; এটা হচ্ছে প্রযুক্তিগত দিক। আরেকটা হচ্ছে আর্থিক দিক। এখানে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ তো, এই আর্থিক বিনিয়োগটা চীন সরকার করলে ওটা তাদের জন্য টেকসই হবে কি না।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সবসময় পাশে থাকতে চায়। তিস্তা নদী অঞ্চলের মানুষের সমস্যাগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এই পরিদর্শন আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে। আশা করছি খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত চলমান কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় তার সরকারের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রংপুরে পৌঁছান চীনা রাষ্ট্রদূত। সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। এসময় তিনি স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এবং দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছ রোপণ করেন।
এর আগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ড্রুকএয়ারের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করেন।
এসময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে অভ্যর্থনা জানান।
এরপর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে দুই নেতা সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তোবগে শুক্রবারের ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তোবগেকে তোপধ্বনি এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন।
আজ দুপরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৩টা নাগাদ তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসবেন।
সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তোবগের সম্মানে একটি নৈশভোজেরও আয়োজন করা হবে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় সেবাদানকারীদের জন্য সম্মানি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সংশ্লিষ্টদের হাতে সম্মানির অর্থ তুলে দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এই কর্মসূচির আওতায় একটি মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ হাজার টাকা করে। মন্দিরের ক্ষেত্রে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা। বৌদ্ধ বিহারে বিহার অধ্যক্ষের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষের জন্য ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গির্জার ক্ষেত্রে যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।
প্রথম পর্যায়ে ঈদের আগে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ নির্বাচন করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মোট ৯৯০টি মন্দির, ৭২টি উপজেলায় অবস্থিত বৌদ্ধ বিহার থেকে দুটি করে মোট ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার এবং ১৯৮টি উপজেলায় অবস্থিত গির্জা থেকে দুটি করে মোট ৩৯৬টি গির্জাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে দেশের অর্থনীতি কতটা চাঙ্গা হবে এবং স্থানীয়রা কতটা উপকৃত হবে তা বিবেচনায় নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রথমে ভাবতে হবে ফলাফল কি হবে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে একটি প্রকল্প নেওয়ার পরে জনগণ কতটা উপকৃত হবে। আমাদের দেশের উন্নয়ন এমনভাবে করতে হবে যাতে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে এবং অন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১ বিনির্মাণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের রূপরেখা সংক্রান্ত উপস্থাপনা অবলোকনকালে এ কথা বলেন।
রূপরেখা প্রত্যক্ষ করার পর, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়াতে এবং প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব কে এম সাখাওয়াত মুন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের কতটা উন্নয়ন হবে এবং মানুষ কতটা উপকৃত হবে তা আপনাদের বিবেচনা করতে হবে। দ্রুত কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে বলে দেশবাসী এর সুফল পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা একটি লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল জনগণের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির করে আমরা সফলভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। তার সরকার রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছিল এবং উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভের মধ্যদিয়ে সফলভাবে তা বাস্তবায়ন করেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশে রূপান্তর করা। আমরা সেই রূপকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।
এসময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন