

নির্বাচনে ব্যবহার অনিশ্চিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। এখন এসব মেশিন সংরক্ষণের স্থায়ী জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে রাখার পরও ইভিএমের জন্য স্থায়ী সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে ইসি এখন স্থায়ীভাবে মেশিন সংরক্ষণের নতুন পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি ইসির জানুয়ারি মাসের সমন্বয় সভায় ইভিএম সংরক্ষণের নতুন পরিকল্পনার বিষয়টি আলোচিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। সভায় ইভিএম সংরক্ষণের জন্য মাঠ কার্যালয়ে ওয়্যারহাউজ নির্মাণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। ইসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপপ্রধান জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতামত অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের ভবনগুলো ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা সম্ভব নয়। এছাড়া যেসব উপজেলা ও জেলায় নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন নেই, সেসব স্থানে নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অধিকাংশ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ সম্ভব বলে মত দেন।
এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব বিদ্যমান অফিস ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে একটি সভা আয়োজন করার নির্দেশনা দেন। এছাড়া পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখার অতিরিক্ত সচিব ডিপিপিতে ওয়্যারহাউজ নির্মাণ এবং আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়সমূহের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
এক-এগারো সরকারের সময় ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ইভিএমের ব্যবহার শুরু করে। সে সময় তারা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে একেকটি মেশিন তৈরি করে নেয়। পরবর্তীতে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশনও ইভিএম ব্যবহার করে। তবে ২০১৫ সালে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে একটি মেশিন অচল হয়ে পড়ায় তা আর ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। রকিব কমিশন বুয়েটের তৈরি স্বল্পমূল্যের মেশিনগুলো পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং উন্নত মানের ইভিএম তৈরির পরিকল্পনা করে।
২০১৭ সালে কেএম নূরুল হুদার কমিশন বুয়েটের তৈরি ইভিএমের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি দামে মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) থেকে উন্নতমানের ইভিএম তৈরি করে নেয় তারা। এতে প্রতি মেশিনের ব্যয় হয় দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকার মতো। এ জন্য তিন হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
সেই প্রকল্প থেকে দেড় লাখ ইভিএম কেনে রকিব কমিশন। তবে প্রকল্পে সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ব্যবস্থা না থাকায় উন্নতমানের ইভিএমের মেয়াদ ১০ বছর হলেও পাঁচ বছর যেতে না যেতেই অকেজো হওয়া শুরু করে।
মন্তব্য করুন


ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে ‘মার্চ ফর গাজা’ শীর্ষক এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। শনিবার (১২ এপ্রিল) বেলা ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই ফিলিস্তিনের পতাকা ও প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে হাজারো মানুষ উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই উপচে পড়ে ভিড়ে পরিণত হয় ঐতিহাসিক এই মাঠ।
সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় মিছিল এসে একত্রিত হতে থাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কেউ আসছেন শাহবাগ থেকে, কেউ দোয়েল চত্বর থেকে, আবার কেউ নীলক্ষেতের দিক থেকে। উদ্যানের প্রতিটি গেটে স্বেচ্ছাসেবকরা জনস্রোতকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার চেষ্টা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও এর আশেপাশের এলাকায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে দেশীয় পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা সাজিয়ে রাখা হয়। দল-মত, বয়স ও পেশার মানুষ এই সমাবেশে অংশ নিয়ে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি মানবতার জয়গান করেন।
একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, “ফিলিস্তিনে নিরীহ মুসলমানদের ওপর ইসরাইল যে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে এখানে এসেছি।”
আয়োজকদের দাবি, গাজায় ইসরাইলের নির্মম হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জনমত গঠন ও মানবিক সহমর্মিতা বাড়াতেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বেলা ৩টা থেকে মাগরিব পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন


পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলমের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ করেছেন।
পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ সংস্কার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশকে সহায়তাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত দেশের চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ পুলিশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আইজিপি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের নিবিড় ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি নির্বাচনী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ গৃহীত সার্বিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বিদেশি পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদানে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০০ পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ সময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকগণ বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারি ও নিরাপত্তা প্রটোকল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা লাভ করবেন।
বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায় বাতিল করা হয়েছে। এ কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য আসামিরাও সাজা থেকে খালাস পেয়েছেন।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি সর্বসম্মতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করে সর্বোচ্চ আদালত এ রায় দেন।
রায়ে আদালত বলেছেন, প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এ মামলা করা হয়েছিল।
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চে এ মামলার আপিল শুনানি শেষ হয়। রায় দেওয়ার জন্য আজকের দিন ঠিক করেন সর্বোচ্চ আদালত।
এ মামলায় ১০ বছরের সাজা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। একই সাজা হয় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও। রায়ে সব আসামির খালাসের প্রত্যাশা করেন দলটির আইনজীবীরা।
তারা জানান, জিয়া পরিবারকে হেনস্তা করতেই বিচারের নামে প্রহসন করেছে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
আর রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে বলেন, ধারণার ভিত্তিতে কাউকে সাজা দেওয়া ঠিক হয়নি। আর দুদকের অবস্থান ছিল, মামলার নথিপত্র, সাক্ষ্যপ্রমাণে কোথাও বেগম জিয়াসহ আসামিদের দুর্নীতি অনিয়ম কিংবা বিশ্বাসভঙ্গের প্রমাণ মেলেনি।
মঙ্গলবার খালাস চেয়ে শুনানি করেন এ মামলার আরেক আসামি কাজী সলিমুল হকের আইনজীবী। এরমধ্য দিয়ে শেষ হয় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আপিল শুনানি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা চলাকালীন, খালেদা জিয়া এবং তার পরিবার ও দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হয়, যার মধ্যে অন্যতম অভিযোগ ছিল, তার নেতৃত্বে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। আদালতে এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর মামলা নিয়ে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা শুরু হয়।
মন্তব্য করুন


প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের করা এক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ ১৭ জনের রায়ের জন্য আগামীকাল ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ-৪ এর বিচারক রবিউল আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ দিন ধার্য করেন।
এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন-জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এদের মধ্যে আসামি খুরশীদ আলম কারাগারে আটক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন দুদক-এর উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন।
তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে এই মামলায় ৩২ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মাগুরার নবগঙ্গা নদী সংলগ্ন পার্কে ‘জুলাই ৩৬’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এ কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনা পুরো বাংলাদেশকে বানিয়েছিল শেখ পরিবারের জমিদারি। জুলাইয়ে যারা আত্মত্যাগ করলেন, তারা আবার দেশকে নতুন একটি গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করেছেন। প্রতি বছর ৫ আগস্ট আমরা জুলাই শহিদদের স্মরণ করবো। সেখানে তাদের আত্মত্যাগের কথা বলবো।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। বাংলাদেশের জনসাধারণ সবাই ভোট দিতে আসবেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এতো মানুষকে খুন করেছে তবুও তাদের মধ্যে কোনো অনুতপ্ত নেই। গণভোট হবে তবে কখন হবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ন্যাশনাল কনসেসিয়াস কমিশন বসে এটা ঠিক করবে।
মন্তব্য করুন


গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত ফেরত না দিলে সেটি প্রত্যর্পণ চুক্তির লঙ্ঘন হবে, এমন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইনসহ অন্যান্য সমসাময়িক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে অগ্রগতি কতদূর জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমরা প্রত্যর্পণের জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। এরপর ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না নেয়, তবে সেটি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হবে। এই ব্যাপারে আমরা কী পদক্ষেপ নেবো, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আমরা যা কিছু করণীয়, তা করেছি এবং আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হলে আমরা তা প্রয়োজনে গ্রহণ করবো।"
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এদিকে, তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগী হয়ে রয়েছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে ভারতকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ওইদিনই কূটনৈতিক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার মহেশ সাচদেব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকার কর্তৃক প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিরুদ্ধে আদালতে যেতে পারেন।
তিনি আরো বলেন, "যেমন ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ ভারতের প্রত্যর্পণ অনুরোধ বিভিন্ন শর্তে প্রত্যাখ্যান করেছে, শেখ হাসিনাও একইভাবে বলতে পারেন যে, তিনি তার দেশের সরকারের ওপর আস্থা রাখেন না এবং তার বিরুদ্ধে অবিচারের আশঙ্কা রয়েছে।"
মন্তব্য করুন


ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, সরকার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
শনিবার সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ইসি আনোয়ারুল বলেন, বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। এই বিষয় নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবে নির্বাচন হবে।
তিনি আরও বলেন, এ দেশটি আমাদের, এই দেশে বড় হয়েছি। এই দেশের ভালো-মন্দ আমার আপনার ওপর নির্ভরশীল। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নেতৃত্বে যদি ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়া যায়, তাহলে প্রত্যেকটি জেলার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ার কোনো কারণ নেই।
কর্মশালায় বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপপ্রধান মুহাম্মদ মোস্তফা হাসান।
কর্মশালায় জেলার আট উপজেলার নির্বাচন কমিশন কমকর্তা ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ৬০জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর কোনো শক্তিই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সাম্প্রতিক বিষয়াবলি নিয়ে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রেসসচিব এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজকের উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠক থেকে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয় সে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
এ সময় প্রেসসচিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। শফিকুল আলম বলেন, ডাকসু নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


বিজিবি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের শক্ত অবস্থানের কারণে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে ভারত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (১২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্প্রতি সীমান্তের পাঁচটি স্থানে ভারত বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের কঠোর অবস্থানের কারণে ভারত বাধ্য হয়েছে কাজ বন্ধ করতে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে (২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত) ভারত কিছু অসম এবং অনৈতিক কাজ করেছে। তাদের সেই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল। তবে আগের সরকারের নীরব ভূমিকার কারণে ভারত এসব সুযোগ নিতে পেরেছে।”
তিনি বলেন, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরকারের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সেদিকে বিজিবি সর্বদা সজাগ রয়েছে।
মন্তব্য করুন


তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের কোনো বিধি নিষেধ-আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে প্রেস সচিব তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে শফিকুল আলম লিখেন, ‘জনাব তারেক রহমানের আজকের বক্তব্য যে এখনই দেশে ফেরার বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার জন্য অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, এটা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জনাব শফিকুল আলমের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে তার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোন ধরনের বিধি নিষেধ রয়েছে কিনা।’
এর উত্তর দিয়ে প্রেস সচিব লিখেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোন বিধি-নিষেধ অথবা কোন ধরনের আপত্তি নাই।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মন্তব্য করুন