

টেলিভিশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ভাষণের পর তার এক আত্মীয়কে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাকে দৃশ্যত রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হচ্ছে এবং এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আটজনকে।
হামলার শিকার ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর আত্মীয়। বুধবার (১৭ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিভিশনে ফরাসি প্রেসিডেন্টের ভাষণের পর ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর ভাতিজার সন্তানকে মারধরের অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার শিকার ওই ব্যক্তির নাম জ্যঁ-ব্যাপটিস্ট ট্রোগনিক্স। গত সোমবার ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় শহর অ্যামিয়েন্সে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা তাকে মারধর করে।
বিবিসি বলছে, হামলার শিকার জ্যঁ-ব্যাপটিস্ট ট্রোগনিক্স মাথায়, বাহু ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন। পরে তার স্ক্যান করা হয় এবং সেই রিপোর্ট তিনি এখনও হাতে পাননি। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে ‘গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনও স্থান নেই’ বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অ্যামিয়েন্স শহরে জ্যঁ-ব্যাপটিস্ট ট্রোগনেক্সের পারিবারিক চকলেটের দোকানের বাইরে আক্রমণের এই ঘটনা ঘটে। মূলত এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বারবারই বিক্ষোভকারীদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ বলছে, হামলার পর তারা আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অবশ্য হামলার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার কথা বলার সময় ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ বলেন, তিনি তার পরিবারের সাথে সম্পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং ‘কাপুরুষতা, বোকামি এবং সহিংসতামূলক’ হামলার নিন্দা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বারবার এই সহিংসতার নিন্দা করেছি, যা শুধুমাত্র দেশকে সবচেয়ে খারাপ দিকে নিয়ে যেতে পারে।’
জ্যঁ-ব্যাপটিস ট্রোগনেক্সের বাবা জ্যঁ-আলেক্সান্দ্রে ট্রোগনিক্স ফরাসি মিডিয়াকে বলেছেন, হামলাকারীরা ‘সীমা অতিক্রম করেছে’ এবং ‘প্রেসিডেন্ট, তার স্ত্রী এবং আমাদের পরিবারকে’ অপমান করেছে। এছাড়া হামলায় হতবাক হওয়ার কথাও জানান তিনি।
ফ্রান্সের রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট এরিক সিওটি হামলার নিন্দা করেছেন এবং হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এক টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘গণতান্ত্রিক বিতর্ককে হ্যাঁ বলুন, সহিংসতা ও সন্ত্রাসকে না বলুন।’
ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর পরিবার ছয় প্রজন্ম ধরে অ্যামিয়েন্স শহরে জ্যঁ ট্রোগনিক্স চকলেটের দোকান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরাইলের বর্বর হামলায় বিধ্বস্ত গাজায় শুরু থেকেই ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছে ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)। তবে এবার গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত করল সংস্থাটি।
মূলত গাজায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত বর্বর হামলায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ। বুধবার এপির খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
ইউএনআরডব্লিউএ বলছে, ত্রাণের অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, গাজায় ইউএনআরডব্লিএর ২৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে মাত্র সাতটি চালু আছে। অন্যদিকে গাজার রাফা এবং কেরেম শালোম ক্রসিংয়ে ইসরাইলি প্রতিবন্ধকতার কারণে গত ১০ দিনে কোনো চিকিৎসা সরবরাহ পৌঁছায়নি।
এদিকে, ইসরাইলি হামলা শুরুর পর থেকে বহু ফিলিস্তিনি রাফা শহর ছেড়ে পালিয়েছেন। এর ফলে খান ইউনিসে ইউএনআরডব্লিউএর আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষের সংখ্যা ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। রাফাজুড়ে আক্রমণ তীব্র হওয়ার পর অসংখ্য রোগী ও চিকিৎসাকর্মীকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। অনেক অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র ছুটতে হচ্ছে। মঙ্গলবার গাজার উত্তরাঞ্চলের খান আদওয়ান হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ইসরাইলি হামলায় ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। বুধবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় উপত্যকাটিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৫ জন। আহত হয়েছেন দুশতাধিক।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলকে আরও বোমা সরবরাহ করতে বাইডেন প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি এই যুদ্ধের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে আণবিক বোমা ব্যবহারের তুলনা করেন।
লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, পার্ল হারবারের আক্রমণের পর আমরা নাগাসাকি ও হিরোশিমায় যেভাবে জবাব দিয়েছিলাম, ইসরায়েলেরও তেমন টা করা উচিত। তাদেরকে সেই বোমা সরবারহ করা উচিত।
সম্প্রতি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার রাফাহ সীমান্তে বারবার নিষেধের পরও ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করায় তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই মার্কিন প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে একাধিক ধরনের বোমার সরবরাহ বন্ধ রাখছে বাইডেন প্রশাসন, যেগুলি দিয়ে ইসরায়েল গাজার শহরাঞ্চলে আক্রমণ চালাতে পারে।
বোমা সরবরাহ সীমিত করা ও রাফাহ সীমান্তে অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছে। তবে ইসরায়েলের কট্টর সমর্থন লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে ইসরায়েলের জয় নিশ্চিতে পর্যাপ্ত বোমা সরবরাহ করা উচিত। কোনোভাবেই তাদের হারতে দেওয়া যাবে না।
গত বছরের ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েল অভিমুখে হাজার হাজার রকেট ছুড়ে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এতে ইসরায়েলে নিহত হন এক হাজার ৪০০ জন। এরপরেই বছরের পর বছর ধরে গাজায় চলা সামরিক পদক্ষেপ জোরাল করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, আহত ৭৪ হাজারেরও বেশি। হতাহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক। এমন অবস্থায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য ইসরায়েলকে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আর তা না হলে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সরকারের কিছু সামরিক সহায়তায় কাটছাঁট করা হবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি সরকারকে ইতোমধ্যেই একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে চিঠিটি পাঠানো হয় গত রোববার। এই চিঠিটি মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে তার মিত্র দেশটির কাছে এখন পর্যন্ত জ্ঞাত সবচেয়ে কঠোর লিখিত সতর্কতা।
এছাড়া উত্তর গাজায় ইসরায়েলের নতুন আক্রমণের মধ্যে মার্কিন চিঠি হাতে পেল ইসরায়েল। এই আক্রমণে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গাজায় অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল গত মাসে গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে মানবিক সহয়িতার পরিবহনের প্রায় ৯০ শতাংশকেই বাধা দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই চিঠিটি ইসরায়েল পর্যালোচনা করছে বলে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল “এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে” এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে “দেশটির উত্থাপিত উদ্বেগের সমাধান” করতে চায়।
ইসরায়েল এর আগে বলেছে, তারা গাজার উত্তরে হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাচ্ছে এবং মানবিক সাহায্যের প্রবেশ বন্ধ করছে না।
এছাড়া গাজায় ক্রসিং পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট গত সোমবার বলেছে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাহায্য বহনকারী ৩০টি লরি ইরেজ ক্রসিং দিয়ে উত্তর গাজায় প্রবেশ করেছে।
এর আগে জাতিসংঘ বলেছিল, উত্তরে কোনও ধরনের খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়নি এবং সেখানে ৪ লাখ ফিলিস্তিনির বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও অন্যান্য সরঞ্জাম শেষ হয়ে গেছে।
টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত এক বছরে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রাখতে মার্কিন সরবরাহকৃত বিমান, গাইডেড বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং শেলগুলোর ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছে।
এদিকে ইসরায়েল সরকারের কাছে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের এই চিঠির বিষয়বস্তু মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টও নিশ্চিত করেছে। এই চিঠিতে সই করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন।
এতে বলা হয়েছে, “আমরা এখন গাজার অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতির বিষয়ে মার্কিন সরকারের গভীর উদ্বেগকে জানানোর জন্য লিখছি এবং এই পরিস্থিতি বদলের জন্য এই মাসেই আপনার সরকারের কাছ থেকে জরুরি এবং টেকসই পদক্ষেপ চাই।”
এতে আরও বলা হয়েছে, এলাকা খালি করার ইসরায়েলি আদেশ ১৭ লাখ লোককে সংকীর্ণ উপকূলীয় আল-মাওয়াসি এলাকায় বাধ্য করেছে, সেখানে তারা চরম ভিড়ের কারণে “মারাত্মক সংক্রামনের উচ্চ ঝুঁকিতে” রয়েছেন এবং মানবিক সংস্থাগুলো রিপোর্ট করেছে, তাদের বেঁচে থাকার মতো প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে না।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারী মৌসুমি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে নেপালে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এই ভূমিধসে একই পরিবারের পাঁচ জন মারা গেছেন।
নেপালের দুর্যোগ উদ্ধার ও প্রশমন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটির রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় আড়াইশ' কিলোমিটার পশ্চিমে গুলমি, পার্শ্ববর্তী সায়াংজা ও বাগলুং জেলায় এই দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র দিজান ভট্টরাই জানান, গুলমির মালিকা গ্রামে রাতে ভূমিধসের কবলে পড়ে একটি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়, তখন ওই পরিবারের পাঁচ সদস্য ঘুমিয়েছিলেন।
মধ্য জুন থেকে এ পর্যন্ত নেপালে ভূমিধস, বন্যা ও বজ্রাঘাতে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
নেপালে বৃষ্টির কারণে ভূমিধসে ৯ জনের মৃত্যু
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণের জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা উন্মুক্ত করা হবে, এমন তথ্য জানিয়েছেন আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ হামুদি।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুবাইয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে সিনিয়র সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানকালে তিনি এ তথ্য দেন।
রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ হামুদি জানান, জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ভিসা জটিলতা দূর হয়ে যাবে এবং বাংলাদেশিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিসা, বিশেষ করে ভ্রমণ ভিসা উন্মুক্ত করা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের জন্য আমিরাতের ভিসা বন্ধ রয়েছে। তবে, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে, কারণ সেখানে বাংলাদেশির সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, 'আমিরাতে বাংলাদেশিদের শ্রমের অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশিরা এই দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, বিশেষ করে নির্মাণকাজ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে।' তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য দক্ষ শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশায় সুযোগ বাড়ানো উচিত এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আহ্বান জানান।
মুশফিকুল ফজল আনসারী আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'আমিরাতের রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশের প্রতি তার সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় সম্পর্ক আশা করা হচ্ছে।'
এছাড়া, অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন, ড. রেজা খান, এবং দুবাইয়ের ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল আশফাক হোসেন।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার একটি ভবনে নিজেদের ট্যাংক থেকে ছোড়া গোলার আঘাতে পাঁচ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার (১৫ মে) গাজার জাবালিয়া শহরে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, নিহত সেনারা হলেন ক্যাপ্টেন রয় বেইট ইয়াকভ (২২), স্টাফ সার্জেন্ট গিলাদ আরিয়ে বোইম (২২), সার্জেন্ট ড্যানিয়েল চেমু (২০), সার্জেন্ট ইলান কোহেন (২০), স্টাফ সার্জেন্ট বেতজালেল ডেভিড শাশুয়া (২১)। তারা সবাই প্যারাট্রুপার্স ব্রিগেডের ২০২ ম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত ও অতি রক্ষণশীল কোম্পানির অংশ ছিলেন।
আইডিএফ বলছে, এই দুর্ঘটনার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা বাহিনীর শাখাগুলোর মধ্যে যোগাযোগের অভাব, সৈন্যদের ক্লান্তি কিংবা নিয়ম বা যুদ্ধ কৌশলের প্রতি পর্যাপ্ত মনোযোগ না দেওয়া।
আইডিএফের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বুধবার প্যারাট্রুপারদের সঙ্গে জাবালিয়ায় হামলা চালাতে গিয়েছিল তাদের ট্যাংক বাহিনী। সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি ভবন লক্ষ্য করে ট্যাংক থেকে দুটি গোলা ছোড়া হয়। ট্যাংক সেনারা ভেবেছিলেন, ভবনের ভেতরে হামাসের প্রতিরোধ যোদ্ধারা আছেন। কিন্তু আসলে সেখানে ছিলেন ইসরায়েলি সেনারাই।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বুধবার সকালে ট্যাঙ্ক বাহিনী জাবালিয়ায় পৌঁছায়। তাদের কয়েক ঘন্টা পরে প্যারাট্রুপাররা সেখানে পৌঁছান ও একটি ভবনে অবস্থান নেন। ওইদিন সন্ধ্যায় প্যারাট্রুপারদের আরেকটি দল ওই এলাকায় পৌঁছায়। প্যারাট্রুপারদের দ্বিতীয় দলটি ওই ভবনে প্রবেশের বিষয়টি বাইরে অবস্থান নেওয়া দুটি ট্যাংকের ভেতরে থাকা সৈন্যদের জানান। এরপরও ভবটিতে ট্যাংক থেকে হামলা চালানো হয়।
এদিকে, ট্যাংক বাহিনীর দাবি, তারা একটি জানালা দিয়ে ভবনটির ভেতরে অস্ত্রের ব্যারেল দেখতে পেয়েছিলেন। এতে তাদের সন্দেহ হয় যে ভবনটির ভেতরে শত্রু বাহিনী অর্থাৎ হামাসের প্রতিরোধ যোদ্ধারা রয়েছেন। ফলে তারা দুটি শেল নিক্ষেপ করেন।
এই পাঁচ সেনার তাদের মৃত্যুতে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত ইসরায়েলি সৈন্যের সংখ্যা ২৭৮ এ পৌঁছালো।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর গোলাবর্ষণে নর্দার্ন ইসরাইলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলের মেতুলা শহরে নয়টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ খবর দিয়েছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী। তবে ওই হামলায় কারও হতাহতের খবর জানাননি তারা।
এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ শুক্রবার জানিয়েছে, তারা ইসরাইলি সামরিক স্থাপনায় বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গাজায় ইসরাইলের অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে আন্তঃসীমান্ত হামলা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। হিজবুল্লাহ বলছে, ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থনে ইসরাইলের ওপর তারা হামলা করছে। কেবল গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা থামবে।
ইসরাইলের নির্মম হামলায় রোববার গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৭১ জন নিহত ও ২৮৯ জন আহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৮ হাজার ৩৪৫ জন নিহত ও ৮৮ হাজার ২৯৫ জন আহত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
আদানি গ্রুপের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কমে যাওয়া। কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের বকেয়া নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিলো বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সোমবার (২ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ বকেয়া পরিশোধে দেরি করায় আদানি পাওয়ার ৩১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেক করে দিয়েছে। সেসময় বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির মুখোমুখি ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার আদানিকে আপাতত অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বলেছে। তবে পুরোনো বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, আদানি আমাদের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় আমরা একই সঙ্গে হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়েছি। শীতের সময় বিদ্যুৎ চাহিদা কম থাকায় আমরা তাদের বলেছি, প্ল্যান্টের দুটি ইউনিট চালানোর প্রয়োজন নেই।
২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে সই হওয়া ২৫ বছরের একটি চুক্তির অধীনে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের ২০০ কোটি ডলারের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট রয়েছে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট।
জানা যায়, নভেম্বরে প্ল্যান্টটি মাত্র ৪১ দশমিক ৮২ শতাংশ সক্ষমতায় চালু ছিল, যা এ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ১ নভেম্বর থেকে প্ল্যান্টের একটি ইউনিট বন্ধ।
বিপিডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, গত শীতে বাংলাদেশ আদানি থেকে প্রতিমাসে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনেছিল। তারা আরও জানায়, আদানি পিডিবিকে জিজ্ঞেস করেছিল তারা আবার কবে থেকে স্বাভাবিক ক্রয় শুরু করবে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া হয়নি।
আদানি পাওয়ারের একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে বকেয়া পরিশোধ নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ। এটি প্ল্যান্টের কার্যক্রমকে টেকসই রাখতে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিপিডিবি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, শিগগির সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে। মুখপাত্রের মতে, আদানি আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে, যেমনভাবে আদানি তাদের চুক্তির দায়বদ্ধতা বজায় রেখেছে।
বিপিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত আদানির প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ডলার এবং অক্টোবরে ৯৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আদানি পাওয়ারের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, বকেয়ার পরিমাণ এখন প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আদালত আদানির সঙ্গে হওয়া চুক্তি বাতিল না করলে বাংলাদেশ সরকার চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ কেনার দাম অনেকটা কমাতে চায় বলে রোববার রয়টার্সকে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বাংলাদেশের আদালত আদানি চুক্তিটি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আদানি পাওয়ারের মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশ চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে তাদের কাছে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে আদানির বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট খরচ ছিল ১৪ টাকা ৮৭ পয়সা। তুলনায় অন্যান্য ভারতীয় সরবরাহকারীর গড় ইউনিট খরচ ছিল ৯ টাকা ৫৭ পয়সা। বাংলাদেশে খুচরা বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। ফলে সরকারকে বার্ষিক ৩২০ বিলিয়ন টাকা (২.৭ বিলিয়ন ডলার) বিদ্যুৎ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, দাম বেশি হওয়ায় সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। আমরা চাই শুধু আদানির ক্ষেত্রে নয়, বিদ্যুতের দাম সামগ্রিকভাবেই গড় খুচরা মূল্যের নিচে নেমে আসুক। তবে আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট স্থানীয় সক্ষমতা রয়েছে। যদিও গ্যাস সংকট বা অন্যান্য সমস্যায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে রয়েছে অথবা সক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তবে আদানি সরবরাহ কমিয়ে অর্ধেক করে দেওয়ার পরও কোনো সমস্যা হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে শিগগিরই সরাসরি ফ্লাইট চালু হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার এস এম মাহবুবুল আলম এই তথ্য জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে উভয় দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হবে।
ডেপুটি হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের ব্যবসায়ী সংগঠন হায়দরাবাদ চেম্বার অব স্মল ট্রেডার্স অ্যান্ড স্মল ইন্ডাস্ট্রির (এইচসিএসটিএসআই) সহযোগিতায় একটি প্রদর্শনীর আয়েজন করা হবে। সেখানে দুই দেশের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা অংশ নেবে।
এছাড়া মাহবুবুল আলম ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় হতে যাওয়া বার্ষিক বাণিজ্য প্রদর্শনী অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য পাকিস্তানের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, সম্প্রতি হায়দরাবাদ চেম্বার পরিদর্শনকালে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহী।
এসময় তিনি পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বাজার হিসেবে বর্ণনা করেন ও এইচসিএসটিএসআইকে ঢাকায় তাদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে বলেন। তিনি ব্যবসায়ীদের ভিসা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও ত্বরান্বিত করারও প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে এইচসিএসটিএসআই-এর সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম মেমন উভয় বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তাছাড়া ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত ১১ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে সরাসরি কার্গো জাহাজ পৌঁছানোর বিষয়টিকে তিনি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
সেলিম মেনন বলেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই উদ্যোগ উভয় দেশের বৃহত্তর বাণিজ্য সহযোগিতার পথ আরও প্রশস্ত করবে।
মেমন এসময় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাকিস্তানের প্রদর্শনীতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান, বিপরীতে বাংলাদেশের বাণিজ্য মেলায় যোগদানের জন্য পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের যথাযথ সুবিধা নিশ্চিতেরও আহ্বান জানান। এছাড়া মেনন ঢাকায় শুল্ক ছাড়পত্র পেতে পাকিস্তানি পণ্য রপ্তানিকারকরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে থাকেন, সেগুলো দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থাকা বিশ্ববিখ্যাত জাহাজ টাইটানিকের নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে একটি সংস্থা। তারা জানিয়েছে, এবারের ভিডিওতে টাইটানিকের যে চিত্র ওঠে এসেছে তা আগে কখনো দেখা যায়নি।
১৯১২ সালে সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে বিশাল বরফ খন্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় টাইটানিক। জাহাজডুবির ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারান। আটলান্টিক মহাসাগরের ১২ হাজার ৫০০ ফুট গভীরে এখন জাহাজটি পড়ে আছে।
দুর্ঘটনার ৭৩ বছর পর ১৯৮৫ সালে সমুদ্রের অতল গভীরে টাইটানিকের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর থেকেই এ জাহাজটির প্রতি মানুষের কৌতুহল আরও বেড়ে যায়।
এই কৌতুহল মেটাতেই গভীর সমুদ্রে ম্যাপিং ও স্ক্যান করে টাইটানিক জাহাজটির থ্রিডি ভিডিও ধারণা করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখলে মনে হয় যেন, জাহাজটির আশপাশে কোনো পানি নেই। শুধুমাত্র একটি খালি জায়গায় এটি পড়ে আছে।
ভিডিও ধারণ করার কাজটি করেছে গভীর সমুদ্রের তলদেশ মাপা প্রতিষ্ঠান ম্যাগেলান লিমিটেড এবং আটলান্টিক প্রোডাকশনস। ২০২২ সালে কাজটি করা হয়।
আগে টাইটানিকের যেসব ভিডিও বা ছবি প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলো ঘোলা বা অস্পষ্ট ছিল। এছাড়া পুরো জাহাজটির চিত্রও তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।
তবে নতুন ভিডিওতে জাহাজটির পুরো ধ্বংসাবশেষের চিত্র ওঠে এসেছে। এতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে টাইটানিকটি দুই খন্ড হয়ে পড়ে আছে। জাহাজটির বো, স্টার্ন এমনকি প্রপেলারটির নাম্বারও ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
অবশ্য এ ভিডিও ধারণে সমুদ্রের নিচে যাননি বিশেষজ্ঞরা। তারা সমুদ্রের উপর থেকেই সাবমার্সিবল ব্যবহার করে ও ২০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করে জাহাজটি মাপামাপি এবং ছবি তুলেছেন।
জাহাজটির প্রত্যেকটি অ্যাঙ্গেল থেকে ৭০ হাজারের বেশি ছবি তোলা হয়েছে। এরপর সেগুলো সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে থ্রিডি ভিডিও।
নতুন এ ভিডিওতে জাহাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোও ওঠে এসেছে। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে মদের বোতল, মানুষের জুতাসহ বেশ কিছু জিনিস দেখা গেছে। ভিডিও দেখুন এ লিংকে
মন্তব্য করুন