

গণতন্ত্র মানে অন্যের মতকে সম্মান দেওয়া বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কথা বলার সুযোগ অব্যাহত থাকলে আপনা আপনিই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
আমীর খসরু বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন বুঝতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি টিকতে পারবে না।
রবিবার (১০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক সংলাপে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।
এ সংলাপ আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘বক্তব্যের মাধ্যমে বিষোদগার বন্ধ করতে হবে। গণতন্ত্র মানে অন্যজনের কথা শুনে সহ্য করা, তার মতকে সম্মান দেওয়া।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে সংস্কার অসম্ভব। বিপ্লবোত্তর যে দেশ দ্রুত নির্বাচন করেছে, তারা ভালো করেছে; যারা দীর্ঘ সময় নিয়েছে, সেখানে অন্তঃকোন্দল বেড়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছে। এটা একটি অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব যেখান থেকে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, সেখান থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। জনগণকে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।
আমীর খসরু বলেন, ঐকমত্যের প্রচেষ্টা একটি ভালো উদ্যোগ। আলাদা দর্শন থাকবে, কিন্তু সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে—এটা বাকশালের আদর্শ। চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরিবর্তন টেকসই হবে না। অর্থনৈতিক উন্নতি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
এই সরকারের সময় বিনিয়োগ আসেনি মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এতে তাদের দোষ নেই। বিনিয়োগে বাংলাদেশ অনেক নিচে। সিরিয়াস ডিরেগুলেশন ও সিরিয়াল লিবারেলিজম ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া যাবে না।
সরকারের অনেক দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হবে। ট্রেড বডিগুলোর হাতে অনেক কার্যক্রম তুলে দিয়ে সরকারকে নির্ভার হতে হবে। ফিজিক্যাল কন্ট্রাক্ট না কমালে দুর্নীতি কমানো যাবে না। দেশে যত নিয়ন্ত্রণ (রেগুলেশন) থাকবে, তত দুর্নীতি বাড়বে। অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে হবে, সবার অংশগ্রহণ লাগবে, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদের বাজেট চালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট দেওয়া উচিত ছিল।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচার পতনের কয়েক দিন পর আমি জেলা ও থানার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসেছিলাম। আপনাদের অনেকে সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তখন আমি বলেছিলাম—স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে, পালিয়ে গেছে কিন্তু অদৃশ্য এক শক্তি ধীরে ধীরে মাথা তুলছে। এক বছর আগে আপনাদের সামনে আমি এ কথাটি বহুবার বলেছিলাম। আজ সেই কথাই সত্য হয়ে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।’
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আজকের এ কাউন্সিলে প্রার্থীরা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের জনগণ আমাদের মূল শক্তি। বিএনপির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণ। জনগণের পাশে থাকতে হবে, জনগণকে আমাদের পাশে রাখতে হবে। যে কোনো মূল্যে এটিই নিশ্চিত করতে হবে। দলের সিদ্ধান্তে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। কাউকে ব্যক্তি স্বার্থে দল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বিশাল পরিবার। নীতি-নির্ধারকেরা এ পরিবারের অভিভাবক। তারা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন সবাইকে সেটি মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল না করতে পারে বা জনগণের কাছে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
দীর্ঘ ৯ বছর পর আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামে সমবেত হন। হাজারো কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় সম্মেলন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলম। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে অনেক সংকট থাকার পরও ড. ইউনুস সরকারকে আমরা সবাই সমর্থন জানিয়েছি। কেননা এই সরকার শেখ হাসিনার সরকারের মতো বিদেশে অর্থ পাচার করবে না। জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে, জনগণের রায় বুঝে আগামী রমজানের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জুলাই-আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কুড়িগ্রামের ১০ শহীদ পরিবারকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’- এর পক্ষে থেকে সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচারে নামবেন না, তাহলে আপনাদের নিজেদেরই উপর অনেক কিছু নেমে আসেবে। মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শুধু বহিষ্কার নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের অনুকম্পায় দু-একটি ইসলামী দল রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন। এখন আপনারা টার্গেট করেছেন তারেক রহমান ও বিএনপিকে। বুক পিঠ বলে আপনাদের কিছু নেই। জিয়াউর রহমান মারা গেলে, এরশাদ বন্দুকের নল দিয়ে গণতন্ত্র হত্যা করলো। সেই এরশাদের সঙ্গে কেউ যাবে না বললেও আপনারা চলে গেলেন। শেখ হাসিনার সঙ্গেও চলে গেলেন। সবসময় সুবিধা খুঁজে বেড়ান, সবসময় ধান্দা খুঁজে বেরান। আপনারা চলে গেলেও বিএনপি যায় নাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যায় নাই। জনগণের কাছে দেয়া ওয়াদা থেকে খালেদা জিয়া সরে যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা ১৬ বছর লড়াই করেছি। আইনের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক, একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। ১৬ বছর ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে এত গড়িমসি কেন? জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে আগামী রমজানের আগে নির্বাচন দেওয়ার কথা জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টার:
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বজনদের প্রার্থী দাঁড় করানোর বিষয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের ফের নিরুৎসাহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন। তারা আগে নির্বাচন করেছেন। কেউ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান। তাদের তো রাজনৈতিক জীবনী আছে। তাদেরকে মানা করি কী করে? “তবে এটা ঠিক, এক জায়গায় বউকে দিল, আরেক জায়গায় ছেলেকে দিল, এগুলো ঠিক না। কর্মীদের মূল্যায়ন করা উচিত। সেটাই নেতাকর্মীদেরকে বলতে চেয়েছি।”
দেশের মোট ৪৯৫ উপজেলার মধ্যে নির্বাচন উপযোগী ৪৮৫ উপজেলায় এবার চার ধাপে ভোট হচ্ছে এবার। পরে মেয়াদোত্তীর্ণ হলে বাকিগুলোয় ভোটের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। প্রথমধাপের ১৫০ উপজেলায় ভোট হবে ৮ মে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের আত্মীয়-স্বজনদের প্রার্থী হতে নিষেধ করেছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। দলীয় কোন্দল নিরসন এবং নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতেই এ সিদ্ধান্ত বলে আওয়ামী লীগের ভাষ্য।
বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসে আবারো সেই বিষয়টি মনে করিয়ে দিলেন আওয়ামী লগী সভানেত্রী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পারিবারিক ফর্মুলা কী? নিজের ছেলে মেয়ে স্ত্রী, এই তো। তারপর হিসাব করে দেখেন কয়জন ছেলেমেয়ে, কয়জন স্ত্রী দাঁড়িয়েছে। এর বাহিরে তো পরিবার ধরা হয় না। আমাদের কথা হচ্ছে নির্বাচন যেন প্রভাবমুক্ত হয়। মানুষ যেন স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে, আমাদের লক্ষ্য।
“সবকিছু নিজেরা নিয়ে নেব, আমার নেতাকর্মীদের জন্য কিছু রাখব না, এটা হয় না। সেই কথাটা আমি বলতে চেয়েছি। সবাই দাঁড়িয়েছে, নির্বাচন করছে, সেটার লক্ষ্য হল নির্বাচনকে অর্থবহ করা।”
জাতীয় নির্বাচনের মত এবারের উপজেলা নির্বাচনও বর্জন করেছে বিএনপি ও সমমনারা। ক্ষমতাসীন দল স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি করতে দলীয় প্রার্থী না দেওয়া এমনকি কাউকে সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্য দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকগুলো রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করেছে। বর্জন করে কেন? নির্বাচন করার মত সক্ষমতাই নাই। পার্লামেন্ট নির্বাচন করতে হলে জাতিকে দেখাতে হবে যে পরবর্তী নেতৃত্ব কে আসবে, প্রধানমন্ত্রী কে হবে, নেতা কে হবে? একটা নেতা দেখাতে হবে।
“আপনার কাছে উপযুক্ত নেতা না থাকলে তখন তো আপনাকে ছুতা খুঁজতে হয়। নির্বাচন করলাম না, বিরাট ব্যাপার দেখালাম। বাস্তবতা সেটাই। আমাদের দেশে সেটাই হচ্ছে। কারণ সাধারণত আসামিকে দেখালে পাবলিক তো সেটা নিবে না।”
মন্তব্য করুন


বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ঐক্যবদ্ধভাবে যেমন তাড়ানো সম্ভব হয়েছে, তেমনি বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলে ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধ ও এর বিচার নিশ্চিত করা যাবে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, "সারা বিশ্বের মুসলমানরা আজ একজোট। ইসরায়েলের এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষও সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ।"
তিনি জাতিসংঘ, বিশ্ব বিবেক, মুসলিম উম্মাহ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, প্রতিবাদের শক্তি আরও বাড়াতে সমন্বিতভাবে কাজ করার। এছাড়া, তিনি জাতিসংঘে জরুরি প্রস্তাব এনে এই গণহত্যা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
পাশাপাশি, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্রতিবাদকে আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেন তিনি।
মন্তব্য করুন


তারেক রহমানই দেশের ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শনিবার ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জাতীয় কাউন্সিলে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, তারেক রহমান যে ৩১ দফা প্রস্তাব করেছেন, তা দেশের স্বাস্থ্য খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার শক্তি রাখে।
মির্জা ফখরুল বলেন, পারস্পরিক হিংসার যে কালচার তৈরি করা হয়েছে, তা আমাদের ধ্বংস করেছে, আমাদের এ কালচার থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
সরকারের ওষুধশিল্প নীতিসহ বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু ভোটের অধিকার নয়, মানুষের সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৫-১৬ বছর আগে গুম হওয়া সুমনের বাসায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। অথচ হত্যা মামলার আসামি সাবেক রাষ্ট্রপতি এয়ারপোর্ট দিয়ে পালাচ্ছে সেদিকে তাদের দৃষ্টি নেই। সরকার প্রকারান্তরে কোনো না কোনোভাবে প্রকৃত ফ্যাসিস্টদেরকে প্রকৃত স্বৈরাচারদেরকে পুনর্বাসন করছেন কিনা এটা কিন্তু জনগণের মধ্যে সংশয় দেখা যেতেই পারে, প্রশ্ন দেখা যেতেই পারে। এই ধরনের সংশয় কিন্তু তৈরি হয়েছে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, একটা দায়িত্বশীল নির্বাচিত সরকার থাকলেই তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকে শেখ হাসিনার সেটি ছিল না। তার উদ্দেশ্য ছিল তোরা যে যাই বলিস আমি আমার ক্ষমতা ছাড়ছি না যার ফলে শেখ হাসিনা একটার পর একটা ন্যারেটিভ তৈরি করতো। কারণ তিনি আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। তিনি গণতন্ত্র মানেননি। তিনি গণতন্ত্রের চর্চা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এগুলো কোনো কিছুই তার কাছে কোনো ধর্তব্যের বিষয় ছিল না। অপপ্রচার করে নাশকতার কথা বলে জঙ্গির কথা বলে এই কাজগুলো করেছে শেখ হাসিনা। এখনো কিন্তু নানাভাবে ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। তাহলে তো একইভাবে শেখ হাসিনারই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে ।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, আজকে যদি নির্বাচিত সরকার থাকতো তাহলে শাক সবজির দাম মুরগির দাম যে বৃদ্ধি পেয়েছে যার জন্য জনগণ তাদের কাছে জবাবদিহিতা চাইতো কিন্তু এই সরকারের তো কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা শুধু বলছে আগে সংস্কার হোক তারপরে নির্বাচন।
তিনি বলেন, গতকাল রাজধানীর আদাবর এলাকায় সারারাত বিদ্যুৎ ছিল না এর জন্য আমরা কাকে বলবো? নির্বাচিত সরকার থাকলে স্থানীয় সংসদ সদস্য, মেয়র যারা থাকেন তাদের মধ্যে একটা দায়বদ্ধতা থাকে ভবিষ্যতে ভোটের আশায় তারা ভালো কাজ করার চেষ্টা করে। এই সরকারের তো কোন দায়বদ্ধতা নেই।
রিজভী বলেন, খুনের আসামি সাবেক রাষ্ট্রপতি উনি চলে গেলেন। নানা কথা আমরা নানা দিক থেকে শুনতে পাচ্ছি। বিএনপি কোনো কথা বললেই নানা ধরনের অভিযোগ করা হয়। বিএনপি তো গণতন্ত্রের প্রশ্নে বরাবরই আপোষহীন। যার কারণে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীরা রাস্তায় মার খেয়েছে, গুম হয়েছে বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫-১৬ বছর রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে তাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে লড়াই করেছে সংগ্রাম করেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে গড়িমসি করছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, সরকার যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে গড়িমসি করছে এটাই হচ্ছে জনগণের সংশয়ের সবচেয়ে বড় কারণ। এটা নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। যার কারণে আমরা এই পরিস্থিতি এবং পরিণতিগুলো দেখছি যে সাবেক রাষ্ট্রপতি হত্যা মামলার আসামি চলে যাচ্ছেন এয়ারপোর্ট দিয়ে; সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিছু জানে না। অথচ হাসিনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে গুম হয়েছে যারা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি নাম হচ্ছে সুমন। তার বোন সানজিদা তুলি ২০১৪ সাল থেকে মায়ের ডাক নামে একটি সংগঠন করে যারা গুম হয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। এটা কি সরকার জানে না? অথচ গত বৃহস্পতিবারে তার বাসায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়েছে। কি অদ্ভুত বিষয় না?
মন্তব্য করুন


মাজার ভাঙা ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ভেতর থেকে গভীর চক্রান্ত চলছে। পাকিস্তান আমলেও মাজার ভাঙা ও লাশ পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ তৌহিদী জনতার নামে কারা এখন এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন চাই না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। শনিবার বিকেলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা গত ছয় মাসের বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানান আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, "সারা বাংলাদেশসহ আমরা নেতা-কর্মীরা এ সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছি। আন্তর্জাতিক সমাজ দাঁড়িয়েছে, জাতিসংঘ দাঁড়িয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকার এই সরকারকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র করেছিল, বিভিন্ন মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছিল, জাতিসংঘের রিপোর্ট আসার পর তা অনেকটাই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। আমাদের এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছে, তাদের আত্মত্যাগকে আমাদের কর্মকাণ্ডে কোনোভাবেই যেন অপমানিত না করা হয়।"
তিনি আরও বলেন, "আগামী ৬ মাস কীভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করব, যে কমিশনগুলো কাজ করেছে, তারা কীভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, আমাদের কী কী প্রস্তাব আছে সেগুলো নিয়ে কীভাবে বিস্তারিত আলোচনা করব, এই ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা কথা বলেছেন।"
কোনো কোনো নির্বাচন তড়াতাড়ি চায় বলে জানান তিনি। জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান বলেন, "স্থানীয় নির্বাচন দিলে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে মারামারির সম্ভাবনা আছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনেক বেশি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রাউন্ড রিয়েলিটি আলাদা। আওয়ামী লীগকে গ্রাউন্ড রিয়েলিটি মেনে নিতে হবে। এই সন্ত্রাস কোনোভাবে যাতে না হয়, পরিবেশ যেন স্থিতিশীল থাকে। কোনো সংস্কার যাতে জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত না করে। আবার অনেক রাজনৈতিক দল বলেছে যে, স্থানীয় নির্বাচন আগে হলে ভালো হবে। আমরা পাশে ছিলাম এবং সামনেও পাশে থাকব। এতগুলো আত্মত্যাগ যেন কোনোভাবে নষ্ট না হয়। এই অর্জনটা কোনো সাধারণ অর্জন নয়। আমাদের নিজেদের স্বার্থে এটাকে যেন কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ না করা হয়। আগামীতে সিরিজ মিটিং হবে, সেটিও আমাদের জানানো হবে।"
বর্তমান সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডে তিনি সন্তুষ্ট কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, "আমরা সন্তুষ্ট, আমরা সরকারের পাশে আছি। সরকারের কী ভুল হচ্ছে, আবার কী হচ্ছে না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা জনগণের সরকার।"
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধের খবর শুনে হাসপাতালে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। হাদিকে দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসনাত।
শুক্রবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শরীফ ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
এরআগে বিকাল ৪টার দিকে হাদিকে দেখতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে হাদির প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাস।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘আল্লাহ আমার ভাইকে বাঁচাইয়া রাখো’।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। কোনো সময়ই না। আমাদের মতাদর্শ যাই হোক না কেন, যে কেউ ভয়ভীতি বা শক্তির আশ্রয় নিলে তাকে একসঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আজ বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ২টা ২২ মিনিটের দিকে হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ডিআর টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তিনটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা আসে। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, হাদিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইস্রাফিল ফরায়েজী জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রচারণাকালে তাকে গুলি করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোডে নির্বাচনি প্রচার চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা গুলি করে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে।
মন্তব্য করুন


দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে তিনি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। এ সময় রাস্তার দুইপাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে স্বাগত জানান তারেক রহমানকে। পরে তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানিয়ে বরণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের কর্মকর্তারা।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে দলীয় কার্যালয়। দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় জড়ো হয়েছেন। তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে।
দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে। সিএসএফ ঘিরে রেখেছে পুরো কার্যালয়। এছাড়াও পুরো নয়াপল্টন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে কঠোর নজরদারি। এর আগে র্যাবের ‘ডগ স্কোয়াড’ দিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন