

স্বাধীনতা বিরোধীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সকালে মহান বিজয় দিবসে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের একথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তারা আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখবে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করবে। ইনশাল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে সেই যুদ্ধে আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম। এজন্য এদিন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
মঙ্গলবার সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মাজারে যান তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এসময় বিএনপি নেতারা শপথ নেন-‘এ দেশের স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আমাদের যে সংগ্রাম, সেটি অব্যাহত থাকবে’, জানান মির্জা ফখরুল।
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের প্রতি। আমরা এদিনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি এ দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসবেন। তার দেশে আসা যেন গণতন্ত্রের লড়াইকে আরো বেগবান করে, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মাজার ভাঙা ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ভেতর থেকে গভীর চক্রান্ত চলছে। পাকিস্তান আমলেও মাজার ভাঙা ও লাশ পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ তৌহিদী জনতার নামে কারা এখন এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন


সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুধু নির্বাচন কমিশনের জন্য ৫ সদস্যের সিলেকশন কমিটি গঠনের সঙ্গে একমত বিএনপি। এজন্য একটা সার্চ কমিটি গঠন করার সুপারিশ করা হয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৮ তম দিন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা শুধুমাত্র সংবিধানে উল্লেখ থাকলেই যথেষ্ট নয়, তার কার্যকর স্বাধীনতা উপযুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা অতীতে বলে এসেছি যে, প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের জন্য সংবিধানে আলাদা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া না এনে, সংশ্লিষ্ট আইনের মাধ্যমে সেসব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আচরণবিধি নিশ্চিত করতে হবে। তবে, নির্বাচন কমিশনের বিষয়টি সংবিধানে আলাদা করে উল্লেখ করা যায়- এই ক্ষেত্রে আমরা একমত।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য জানায়, সংলাপে সব পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সিলেকশন কমিটি গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন- জাতীয় সংসদের স্পিকার (সভাপতি), বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি।
এই কমিটি নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রার্থী খুঁজে বের করতে একটি অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে, যেখানে সিভিল সোসাইটি, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণ নাম জমা দিতে পারবে। সংসদে একটি আইন প্রণয়ন করে এই অনুসন্ধান বা সার্চ কমিটির কাঠামো নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই সার্চ কমিটি জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবে এবং সেটি সিলেকশন কমিটির কাছে পাঠাবে। কমিটি চাইলে এই তালিকা থেকে অথবা নিজেরা আরও প্রার্থী বিবেচনায় নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে কমিশনারদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।’
মন্তব্য করুন


ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পতনের পর কিছুটা হলেও মুক্তি ও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল সংলগ্ন মাঠে বিএনপির বর্ধিত সভায় শোক প্রস্তাব উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সাহসিকতার সাথে শেখ হাসিনার নিষ্ঠুর শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। তাদের অনেকেরই কোনো খোঁজ মেলেনি। কতজন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কতজনকে আয়নাঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে, তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অসংখ্য নেতাকর্মী ও দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। আমরা তাদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে আজ দলের এই বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভার শুরুতেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে দলের প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর বিক্রমকে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, দেশ গঠনের অগ্রদূত এবং জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক ছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখনই দেশ ও গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, জিয়াউর রহমান তখনই আপসহীনভাবে দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম করেছেন।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, গণতন্ত্রের প্রতীক ও গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে। এছাড়া, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সময় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। আজকের বর্ধিত সভায় তাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এছাড়াও, দেশের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, সুরকার, গীতিকারসহ যাদের আমরা হারিয়েছি, তাদের সকলের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
মন্তব্য করুন


দখলদার-চাঁদাবাজদের স্থান বিএনপিতে হবে না বলে জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করে এই দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। গণতন্ত্রের মূলনীতিকে উর্ধ্বে তুলে ধরেই শত প্রতিকূলতা ও ঝড়-ঝাপটা অতিক্রম করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে। স্বজাতির সব ধর্ম ও বর্ণের সজ্জন মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা এই দলের সদস্য হতে পারেন। সমাজবিরোধী কোনো ব্যক্তি, দখলবাজ, চাঁদাবাজদের স্থান এই দল বরদাশত করে না। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু দল যখনই এ ধরণের ঘটনা অবহিত হয় তখনই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করেনি।
রাজধানীয় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই গণতান্ত্রিক সংবিধান ও সুশাসনের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ করার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং এর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করে এসেছে। এই দল মনে করে একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজে নেতৃস্থানীয় মানুষদের যোগ্যতা, দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা, সৎ ও মানবিক গুণাবলী থাকা ব্যক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই উল্লিখিত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী শক্তির সমবেত ধ্বণীই হচ্ছে সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সময়ে নানাবিধ সামাজিক অপরাধের বিভিন্ন মাত্রার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণেই ‘মব কালচার’ এর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধ কালো টাকা এবং গোপন অপতৎপরতার প্রভাবে ‘মব কালচার’ এর নামে সমাজে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চলছে। আবার অন্যদিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল বিএনপির নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই পরিকল্পিত অপপ্রচার, অপতৎপরতা, কৃত্রিমভাবে তৈরী সামাজিক অশান্তি গণতন্ত্রের পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং নির্বাচন পেছানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বলে জনগণ মনে করে। শেখ হাসিনার আমলে অদ্ভুত উন্নয়নের বয়ানের মতো এখন নির্বাচন পেছানো নিয়ে নানা ধরণের বয়ান দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের ভেতরে থেকে অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যে বেশ কিছু নেতাকর্মীকে বহিষ্কার, অব্যাহতি প্রদান, পদ স্থগিত, কারণ দর্শাণোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, দলের পক্ষ থেকে এহেন চলমান সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়ে গণমাধ্যমে খুব একটা উল্লেখ করা হয়নি। উপরন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঢিলেঢালা ভূমিকা রহস্যজনক। দলের পক্ষ থেকে বারবার অপরাধী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও প্রশাসন নির্বিকার থাকছে। দুস্কতিকারিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দল থেকে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন খুব একটা সক্রিয় হয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কলকাঠি নাড়ছেন বলে স্পষ্টত: প্রতীয়মান হয়। এ রকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে সমাজ-সংস্কৃতি, সভ্য আচরণ বিপন্ন হয়ে পড়বে। প্রশাসনিক এই নিষ্ক্রিয়তার কারণে জনগণের এখন জীবনমরণের প্রশ্ন। গণতন্ত্রের স্থায়ী পুনরুজ্জীবন ও ঐতিহাসিক সার্থকতা নির্ভর করছে রাষ্ট্র ও সমাজে শান্তি ও স্থিতির ওপর। আর এ ক্ষেত্রে দক্ষ প্রশাসন অতীব জরুরী। কিন্তু আওয়ামী আমলের কালো টাকা ও তাদের দোসরদের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ তৎপরতার কারণে দুস্কৃতকারীরা আশকারা পাচ্ছে এবং সমাজে নৈরাজ্য তৈরীর সম্ভাবনা সৃষ্টির আলামত দেখা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, প্রতিবিপ্লব শক্তি ক্রমাগত উঁকি-ঝুঁকি মারছে, কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি এবং সেটা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে দ্রোহের গ্রাফিতির প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভারত এটাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতীয় মিডিয়া শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে যেভাবে কথা বলছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের ভাষা হতে পারে না।
তিনি বলেন, বিপ্লব ও গণতন্ত্রের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কারণ প্রতিবিপ্লব শক্তি সবসময় উঁকিঝুঁকি মারছে এবং সেটাকে কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, এখন সরকারের সমালোচনা করলে গুম হতে হবে—এমন ভয় থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সমালোচনা করবো সফলতার জন্য, কিন্তু এই সরকারকে ব্যর্থ হতে দেব না।
মন্তব্য করুন


নির্বাচিত নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছে চীন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
বিএনপির প্রতিনিধিদলের চীন সফর নিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, সফরে এক চীন নীতির প্রতি বিএনপির দৃঢ় অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজন জানানোর পর চীন ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছে।
এ নিয়ে দেশটি প্রস্তাব দিলে ভবিষ্যতে ইতিবাচকভাবে দেখবে বিএনপি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো কথা হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে মায়ানমারকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে চীন বলে জানিয়েছে।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গত ২২ জুন ৯ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে চীন সফরে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৭ জুন দেশে ফেরে প্রতিনিধিদলটি।
সফরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গী হয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, জহির উদ্দিন স্বপন, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার।
মন্তব্য করুন


কিছু করতে হলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও চিন্তার দরকার মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৫২ বছরে আমরা ক্ষমতার পরিবর্তনের বিধানই আমরা পরিবর্তন করতে পারিনি। হঠাৎ করে এসে আজ সব পরিবর্তন করে ফেলবো, এমনটি মনে করি না। কিছু করতে হলে সুনির্দিষ্টি লক্ষ্য ও চিন্তা দরকার। বিচ্ছিন্নভাবে জোড়াতালি দিয়ে কিছু করা যায় না।
আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল আরো বলেন, আমাদের কাঠামোটা সংস্কার করা দরকার। কাঠামোটা বদলাতে হবে। গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আমরা লাগাব বেগুন গাছ, আসা করব কমলালেবু তা তো হবে না। আমাদের সিস্টেমটা পরিবর্তন করতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের সংকটের অন্যতম কারণ হলো দুর্নীতি। প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি।
ধীরে ধীরে এটা আরও খারাপের দিকে গেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়ন করার কথা। সেই জায়গায় তিনি কোথায় কি ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে তা নিয়ে পড়ে থাকেন।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এবার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সমাজে যে বৈষম্য, শোসন—এগুলো ঠিক করার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক দলের আন্তরিকতা প্রয়োজন। এই সুযোগটা ব্যবহার করে আমরা আমাদের যেন লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারি।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি বিদেশি দূতাবাসগুলোতে গিয়ে নালিশ করে, এই নালিশ করার প্রবণতা দেশকে ছোট করে। বিদেশিদের ইচ্ছায় বাংলাদেশের নির্বাচন হবে এরকম একটা অবান্তর ধারণা নিয়ে তারা (বিএনপি) এগোচ্ছে।
রোববার (১৪ মে) সকালে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমার একটা কথা বারবার বলেছি, পরিষ্কার বলছি, তাদের (বিএনপির) কর্মসূচির পাল্টাপাল্টিতে আমরা নেই। আমরা একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাই। সে কারণে আমরা শান্তির সমাবেশ করছি। তারা হুমকি দিচ্ছে নির্বাচন করতে দিবে না। নির্বাচনে তারা আসবে না এটা তাদের ইচ্ছা, নির্বাচন হতে দিবে না এমন ধরনের আজকে তারা যে সংকল্প ব্যক্ত করে, তারা রুখে দাঁড়াবে, আমরাও দেখব, কে কাকে রুখে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন বানচালের সব ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দেব।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আন্দোলনে যে পথরেখা তারা নিজেরাই সেই পথরেখা থেকে সরে গেছে। তাদের ঘরে এখন অনৈক্য। জোটে এখন অনৈক্য। জোটের উইকেট এখন পতন হচ্ছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো উইকেট পতন হচ্ছে। ৫৪ দলের জোট থেকে এখন ১৪-১৫ দলে আছে বলে মনে হয়। এই জোটে নেতা নেই, এই আন্দোলনের নেতা নেই, এই নির্বাচনের নেতা নেই। নির্বাচন পর্যন্ত সতর্ক পাহারা দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা অবস্থান করবে।
মন্তব্য করুন


অতীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাকে গুরুত্বহীন করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লোকজনকে ডিসি-এসপি বানানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রিজভী।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আমলে অথবা তার আগে মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া ছেলেরা, হয়তো ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছে অথবা বাবা, চাচা, মামা কেউ বিএনপির স্থানীয় কোনো নেতা হয়েছে—এই ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এক এগারোর মতো ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।
বাংলাদেশকে ঘিরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র থেমে নেই উল্লেখ করেন রিজভী। আসন্ন দুর্গাপূজায় নাশকতার চেষ্টা হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মৃত্যু ঢাকায় এবং দাফন ভারতের দিল্লিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর রমনার বটমূলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন জানান, ছাত্র-জনতাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ফ্যাসিস্টের পতন হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় ইতিহাস হয়ে থাকবে।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, বৈশাখী শোভাযাত্রা, মেলা, পান্তা–এসব আমাদের সংস্কৃতির অংশ, যা নষ্ট করার জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রচলন শুরু করে আওয়ামী লীগ৷
তিনি আরো জানান, এ দেশে সব জাতি ধর্মের মানুষ একসঙ্গে এসব সংস্কৃতি পালন করবে, এর মধ্যে ধর্ম চর্চাকে আনা যাবে না। যারা সংস্কৃতিকে নষ্ট করবে তাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে।
এ সময় বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ করে ভারতীয় সংস্কৃতি বর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন