

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত, এবং এর মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচন বিলম্বিত করার অপচেষ্টা থাকতে পারে।
আজ সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তাঁর ভাষায়, ‘মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক কি না, তা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে। এই ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না এবং এর মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচন প্রভাবিত বা বিলম্বিত করার কোনো অপচেষ্টা চলছে কি না—সে সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটিকে এখন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা তীব্রভাবে এর নিন্দা জানাই। বিএনপির যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। ব্যক্তির অপকর্মের দায় দল বহন করে না। মামলায় যাদের নাম এসেছে, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি।’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘মিটফোর্ডের এই ঘটনা কোনো চাদাবাজি বা ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং এটি পরিকল্পিত এবং ষড়যন্ত্রমূলক। এই ঘটনার পেছনে একটি চিহ্নিত মহলের হাত রয়েছে, যারা বিএনপিকে হেয়প্রতিপন্ন ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে সুনির্দিষ্ট সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে। এসব ইঙ্গিত দেয়, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে চাইছে এবং বিএনপিকে টার্গেট করছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পথে দেশকে ফেরত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যারা জাতীয় নির্বাচন প্রতিহত করতে চায়, তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। সরকারের উদাসীনতা ও একপেশে অবস্থান আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। সুপরিকল্পিতভাবে দেশের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জনগণকে সংঘাত-উসকানিতে না পা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সোহাগ হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের জন্য একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন


ক্ষমতায় গেলে বিএনপি মানুষের ভোটের অধিকার ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার যুবদলের এক সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। বিএনপি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে কাজ করছে। আগামীর নীতি জনগণের উন্নয়নের রাজনীতি। ভোটের অধিকার ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে বিএনপি। জনগণই বিএনপির একমাত্র শক্তি।’
বিএনপি কর্মমুখী শিক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সকল কাজ করবে বিএনপি। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে কাজ করবে সরকার। বিএনপি সরকারে এলে কর্মক্ষম জনগণকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করে কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এমনকি বিভিন্ন ভাষায় প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের বিদেশে কাজ করার সক্ষমতা তৈরিতে কাজ করবে বিএনপি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সারা দেশে হেলথ কেয়ার চালু করা হবে। এখানে বেশির ভাগ কর্মী হবে নারী। সরকার গঠন করলে শহীদ জিয়াউর রহমানের খালখনন কর্মসূচি আবারও শুরু করবে বিএনপি।’
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে শুধু অতীতের সাফল্যই নয়—ভবিষ্যতের পথও নির্ধারণ করবে জনগণের আস্থা। আমি যুবদলের প্রতি আহ্বান জানাই, জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন, তাদের আস্থার প্রতিদান দিন। কারণ যে নেতৃত্ব জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে, সেই-ই প্রকৃত নেতা। আর জনগণের সহায়তা ছাড়া নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।’
মন্তব্য করুন


জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে কক্সবাজার ভ্রমণ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) দলের যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত একটি চিঠি এনসিপির ৫ নেতাকে পাঠানো হয়।
শোকজ হওয়া এই পাঁচজন হলেন, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ।
চিঠিতে বলা হয়, গতকাল ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার যান। এই সফর সংক্রান্ত কোনো তথ্য কিংবা ব্যাখ্যা ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ এর নিকট পূর্বে অবগত করা হয়নি।
এমতাবস্থায়, আপনার এই সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নিকট সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য আপনাকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছরপূর্তির দিনে পূর্বঘোষণা ছাড়াই রহস্যজনকভাবে কক্সবাজারে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় পাঁচ নেতা। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নং-বিজি-৪৩৩ যোগে তারা কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। নির্ধারিত কোনো গাড়ির পরিবর্তে বিমানবন্দর পার্কিং এলাকা থেকে একটি নোয়াহ মাইক্রো ভাড়া করে এনসিপির এই নেতারা মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ইনানীর হোটেল সি পার্ল অ্যান্ড স্পাতে ওঠেন বলে জানান ভাড়ায় যাওয়া সেই গাড়িচালক। তবে ঢাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছর পূর্তির দিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে কেন তারা কক্সবাজারে তার কোনো সঠিক বিবরণ মিলছে না।
মন্তব্য করুন


সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন সাক্ষাৎ বড় ধরনের রাজনৈতিক বাঁক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফখরুল জানান, 'বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটা নিঃসন্দেহে একটি বড় ইভেন্ট, যেটি সবকিছু ঠিকঠাকভাবে এগোলে রাজনৈতিকভাবে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে উঠতে পারে।'
তিনি জানায়, বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং তিনিই তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সাক্ষাৎটি হবে ওই হোটেলেই, যেখানে ইউনূস উঠেছেন।
প্রসঙ্গত, ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আগামী শুক্রবার সকালে লন্ডনের একটি অভিজাত হোটেলে তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
এ সফরের অংশ হিসেবে ড. ইউনূস যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি এ সময় রাজার হাত থেকে ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে এই বৈঠক নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
মন্তব্য করুন


এখন পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন আসনের জন্য বিএনপির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি, দেয়া হয়নি কাওকে কোন সবুজ সংকেত। মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম আগামী নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বা সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে এমন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, দলের নির্ধারিত প্রক্রিয়াতেই যোগ্য ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হবে।
এ সময় মিথ্যাচার করে বিএনপিকে নানা তকমা লাগানোর অপচেষ্টাসহ কিছু গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করার অভিযোগ করেন রুহুল কবীর রিজভী।
মন্তব্য করুন


রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া পাথর লুট ঠেকানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকার জলাধার পুনরুদ্ধার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে এক নগর সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, জনগণের সমর্থন থাকলে দখল উচ্ছেদ করা সম্ভব। পাথরের বিষয়টি তার মন্ত্রণালয়ের নয়, তবে পরিবেশের দায়িত্বে আছেন বলেই এর দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।
চলনবিল প্রসঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, এই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ শেষ হয়নি। এ ছাড়া দু’টি এলাকা বাদে নদীর তালিকা করা হয়েছে।
তুরাগ নদীতে ১৭ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হবে বলেও জানান পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
মন্তব্য করুন


ভরাডুবির ভয়ে কিছু খুচরা পার্টি নির্বাচন চাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জনতার অধিকার পার্টির উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কিছু খুচরা পার্টি আছে, আমরা জানি- তারা নির্বাচনে আসলে তাদের কোন সম্ভাবনা নাই। নির্বাচনে যাদের ভরাডুবি হবে বলেই তারা নির্বাচন চায় না।
তারা অবৈধভাবে কিছু মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, সেগুলোকে নিজের সম্পত্তি মনে করে। আর আমরা বলেছি, এই সরকারকে সমর্থন করছি। অন্যান্য দল করছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগস্ট মাসে আমাদেরকে শপথ নিতে হবে, নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
এই আন্দোলন সমাপ্তি হবে না। কারণ জবাবদিহিমূলক সরকার মানুষের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। মানুষের কথা শুনতে বাধ্য এবং দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায় ও আইন মতো চলে। আগামীতে গণমুখী রাজনৈতিক ব্যবস্থা যদি প্রতিষ্ঠা করতে হয় তাহলে নির্বাচিত সরকার অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল খায়ের, কারী আবু তাহের, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান সংবিধানের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে, তারা এই সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছেন। এই সংবিধানে গণভোট নিয়ে কিছু নেই। আগামীতে নির্বাচনে পাস করে সংসদে গিয়ে সংবিধানে গণভোট যুক্ত করে এরপর গণভোটে আসতে পারে।’ এসময় গণভোটের দাবি নিয়ে কথায় কথায় রাস্তায় না নামার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক এক ডায়লগে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। আমীর খসরু বলেন, কথায় কথায় আপনি দাবি নিয়ে রাস্তায় যাবেন, সেটা হবে না। আপনাদের দাবি নিয়ে মাঠে যাবেন, এর বিপরীতে যদি দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দল কর্মসূচি দেয় তাহলে সংঘর্ষ বাঁধবে না?
তিনি বলেন,আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কেমন জানি একটা স্বৈরাচারী মনোভাব চলে আসছে। কনসাসের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের ৩১ দফার অনেক কিছুই কনসাসের মধ্যে আসেনি, তাই বলে কি আমি মাঠে নামবো? আমি জনগণের কাছে যাব।
আমীর খসরু বলেন, ঐক্যমতের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। চ্যাপ্টার ক্লোজড। আপনার চিন্তাভাবনা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনি ক্ষমতায় আসেন, এরপরে আপনি পরিবর্তন করুন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে একটা হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি দলের ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীদের অন্তর্কোন্দলের মাধ্যমে ঘটেছে। যারা নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে তারা ঘটিয়েছে কি-না এই ঘটনা সেটা আমাদের সন্দেহ।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বিএনপির সময়ে কখনো শেয়ারবাজারে ধ্বস নামেনি। অর্থনীতি চাঙ্গা ছিলো। আমরা প্রাইভেট সেক্টরকে গুরুত্ব দেব। বাড়িতে বসেই যেন লাইসেন্স পায়, আমরা সেটা করবো। যত বেশি জনগণকে ক্ষমতায়ন করতে পারবেন তত বেশি দেশের উন্নয়ন হবে। দলের ক্ষমতায়ন করলে জনগণ সুবিধা পাবে না। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আমরা প্রত্যেকটি জনগণকে দেব।
মন্তব্য করুন


পিআর বা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ভোট ব্যবস্থা শেখ হাসিনার মতো আরেকটি ফ্যাসিস্ট বা দুর্বল সরকার তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আশঙ্কা করছেন, এমন হলে দেশ স্থায়ীভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বিএনপি নেতা।
যারা কম জনপ্রিয় তাদের জন্য পিআর লাভজনক জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পিআর চাওয়ার একটি উদ্দেশ্য হলো—বেশি সিট পাওয়া। আরেকটি হচ্ছে, দেশে অনৈক্য ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা। যাতে মেজোরিটি পার্টি ক্ষমতায় না আসতে পারে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, কোন পদ্ধতি ভোট হবে- তা সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধানে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের কথা বলা রয়েছে। তা জানতে জামায়াতকে সংবিধান খুলে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অসাংবিধানিক, অরাজনৈতিক, অবৈধ কোনো আবদার মেনে জাতিকে বিপদে ফেলা যাবে না। এই সরকার সাংবিধানিক সরকার। তাই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আইনানুগভাবে সরকারকে চলতে হবে।
মন্তব্য করুন


আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণের সঙ্গে থাকতে চান বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে নিজের দেশে ফেরা নিয়েও তথ্য দিয়েছেন তিনি। যদিও দেশে ফেরার বিষয়ে নির্দিষ্ট দিন তারিখের কথা তিনি জানাননি।
তারেক রহমান কেবল বলেছেন, ‘কিছু সঙ্গত কারণে এখনো হয়তো দেশে ফেরা হয়ে ওঠেনি। তবে সময় তো চলেই এসেছে মনে হয়। ইনশাআল্লাহ, দ্রুতই ফিরে আসব।’
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আজ সোমবার সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হয়।
প্রায় ৫০ মিনিটিরে সাক্ষাৎকারে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, গণঅভ্যুত্থানের ১ বছর পেরিয়ে গেছে, অনেকের ধারণা ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আপনি দেশে এসে স্বশরীরে দলের নেতৃত্ব দেবেন, গত এক বছর বারবার প্রশ্নটি আসছে এখনো আসছে- আপনি এখানো দেশে ফিরেননি কেন? কবে দেশে ফিরবেন সেটা আমরা কি জানতে পারি?
এর জবাবে তারেক রহসান বলেন, ‘‘ফিজিক্যালি (শারীরিকভাবে) আমি এই দেশে (ব্রিটেনে) রয়ে গেলেও মন–মানসিকতার দিক থেকে আমি বিগত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশেই আছি। তবে সময় তো চলে এসেছে মনে হয়, ইনশাআল্লাহ দ্রুতই ফিরে আসব।’
নির্বাচনের আগেই দেশে আসবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বলেন, ‘রাজনীতি যখন করি, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বলি-নির্বাচনের সঙ্গে, রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতি কর্মীর ওতপ্রোত সম্পর্ক। কাজেই যেখানে জনগণের প্রত্যাশিত একটি নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন থেকে কীভাবে দূরে থাকব? আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, ইচ্ছা থাকবে, আগ্রহ থাকবে সেই প্রত্যাশিত নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হবে, তখন জনগণের সঙ্গে, জনগণের মাঝেই থাকব।’
আপনি না আসার পেছনে আপনার দলের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ নিরাপত্তার শঙ্কার কথা বলেছেন, আপনি কি কোনাে ধরনের শঙ্কা বোধ করেছেন, এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের শঙ্কার কথা আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে শুনেছি। সরকারেরও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনেক সময় অনেক শঙ্কার কথা বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের কাছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লন্ডনের দ্য লন্ডন ক্লিনিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান আব্বাস দম্পতি। সাক্ষাতের পর গণমাধ্যমে সেই বিষয়ে তারা বিস্তারিত জানান।
মির্জা আব্বাস বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে খালেদা জিয়া সঠিক চিকিৎসা পাননি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার সম্পর্কে নানা বাজে মন্তব্য করতেন। তবে এখন তিনি ভালো আছেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আমরা আশা করি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের সেরা চিকিৎসকদের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে। মানসিকভাবে তিনি সব সময় শক্ত ছিলেন এবং এখনো ভালো আছেন। আমরা তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা করিনি। শুধুমাত্র তার স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেছি। তবে তিনি আমাদের দেশের মানুষ ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।”
তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনা পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি প্রতি সপ্তাহেই তার সঙ্গে অফিসিয়ালি কথা বলার সুযোগ পাই। নির্দেশনা আমরা সেখান থেকেই পেয়ে থাকি। তবে এই সফরে কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনা পাইনি।”
আফরোজা আব্বাস বলেন, “খালেদা জিয়া আমাকে নাতি-নাতনিদের খোঁজখবর নিয়েছেন। দেশের পরিস্থিতি ও মহিলা দলের সদস্যরা কেমন আছেন, সেটাও জানতে চেয়েছেন। তিনি দেশের মানুষ সম্পর্কে খুবই চিন্তিত। আমরা আশা করছি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন।”
এ সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাস দম্পতি গত শুক্রবার লন্ডনে পৌঁছান।
মন্তব্য করুন