

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের তাড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি জেপি নাড্ডা। গতকাল শনিবার ঝাড়খণ্ডের পালামৌতে এক জনসভায় তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে বের করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের নাগরিক ঝাড়খণ্ডের স্থানীয় নারীদের বিয়ে করেছেন, তাদের সন্তানদের আদিবাসী অধিকার দেওয়া হবে না। এই তথ্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া থেকে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, “প্রত্যেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ঝাড়খণ্ড থেকে ‘ঝেঁটিয়ে’ বিদায় করা হবে। তারা আমাদের স্থানীয় আদিবাসী বোনদের বিয়ে করে আদিবাসী জমির অধিকার পেতে চায়, কিন্তু তাদের সে ইচ্ছা পূর্ণ হবে না। তাদের কখনোই আদিবাসী অধিকার দেওয়া হবে না, এমনকি তাদের সন্তাদেরও আদিবাসী অধিকার দেওয়া হবে না।"
তিনি অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশের পেছনে ক্ষমতাসীন জনমুক্তি মোর্চা ও কংগ্রেসের জোট সরকারের হাত রয়েছে। তাদেরই ইন্ধনে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বেড়েছে। জেপি নাড্ডা আরও বলেন, বিজেপি ঝাড়খণ্ডে ক্ষমতায় এলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে ঝাড়খণ্ডে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেছিলেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার গড়লে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের "উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হবে"।
মন্তব্য করুন


ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে দেশ থেকে ‘আটক’ এবং 'তুলে আনা হয়েছে’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেইসঙ্গে একটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের কথাও জানান তিনি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর বলছে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার শুরু ৩ জানুয়ারি, প্রথম প্রহরে। ঘড়ির কাটায় সময়টা রাত ২টা, পুরো কারাকাস তখন গভীর ঘুমে। গুমট অন্ধকার আর নিস্তব্ধতা ভেঙে আকস্মিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা। পরের ১ ঘণ্টার মধ্যে শহরজুড়ে অন্তত সাত থেকে নয়টি বিস্ফোরণ ঘটে, যেগুলোর লক্ষ্য ছিল দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, এ হামলায় কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি, লা কার্লোটা এয়ারবেস, এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সমাধি থাকা কুয়ের্তেল দে লা মনতানিয়াও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারের রোটরের শব্দ, বিস্ফোরণ, ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর দক্ষিণ ও পশ্চিম কারাকাসের একাংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীজুড়ে।
বিভিন্ন গণমাধ্যম দাবি করেছে, হামলায় অন্তত নয়টি সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি, এএইচ–১জেড ভাইপার ঘরানার হেলিকপ্টারও থাকতে পারে, যেগুলো মূলত বিভিন্ন লক্ষ্যে রকেট হামলার পাশাপাশি ভারী গোলাবর্ষণ করেছে।
সিবিএস নিউজ–কে উদ্ধৃত করে কিছু গণমাধ্যম বলছে, কয়েক দিন আগেই এ অভিযানের জন্য সবুজ সংকেত বা সম্মতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বড়দিন বা ২৫ ডিসেম্বর থেকেই এ হামলার জন্য সামরিক প্রস্তুতি ছিল; তবে তখন অগ্রাধিকার পেয়েছিল নাইজেরিয়ায় বিমান হামলা।
ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে এ সামরিক পদক্ষেপ কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক অভিযানের শেষ ধাপ ছিল এটি। দেশটিতে গোপনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে সিআইএ, ব্রিটিশ এমআই–৬ এবং ইসরায়েলের মোসাদ যৌথভাবে স্থানীয় নেটওয়ার্ক, ‘কাট–আউট’ ও বিভিন্ন প্রকার চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ‘গ্রাউন্ড সফটেনিং’–এর কাজ করেছে। সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রথম যে বিদেশী রাষ্ট্রনেতাকে ব্রিফ করা হয়, তিনি ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটন সফরের সময় তাকে আসন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, বৃহৎ আকারের এ বিমান ও হেলিকপ্টার অভিযানের মধ্য দিয়েই মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে দ্রুত আটক করে ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যেখানে প্রচলিত স্থল অভিযান বা দীর্ঘ দখল নয়, বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক আঘাতের মাধ্যমে এক ধরনের ‘ডেকাপিটেশন স্ট্রাইক’ পরিচালনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়া।
শুধু লাতিন আমেরিকা নয়, এ অভিযানের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের নামে পরিকল্পিত এমন ‘ড্রামাটিক’ সামরিক পদক্ষেপে একদিকে ট্রাম্প যেমন নিজেকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে হাজির করতে চাইবেন, অন্যদিকে প্রশাসনের ভেতরে আইনি প্রশ্ন, নির্দেশের চেইন অব কমান্ড, কংগ্রেসের অনুমোদন ও আন্তর্জাতিক আইনভঙ্গের বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ইসরায়েলে মসজিদ থেকে লাউড স্পিকারে আজান দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির চ্যানেল-১২'কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (১ ডিসেম্বর) টাইমস অব ইসরায়েলের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেন গভির এই নিষেধাজ্ঞা সম্পন্ন করতে দেশটির পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ এখন থেকে যেকোনো মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে এবং লাউড স্পিকারের কোনো সরঞ্জাম পেলে তা জব্দ করবে।
ইতামার জানিয়েছেন, লাউড স্পিকারে আজানে শব্দদূষণ হচ্ছে- বাসিন্দাদের এমন অভিযোগ পাওয়ার পরেই এই পদক্ষেপ।
বেন গভির বলেছেন, সহকর্মী মন্ত্রী সিলম্যানের সঙ্গে মসজিদ থেকে অনর্থক শব্দ বন্ধ করার একটি নীতির নেতৃত্ব দিতে পেরে গর্বিত। এই অযৌক্তিক শব্দ ইসরায়েলের বাসিন্দাদের জন্য বিপদ হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেন গভির আরও লিখেছেন, প্রার্থনা একটি মৌলিক অধিকার, তবে এটি বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান কমানোর বিনিময়ে আসতে পারে না।
দেশটির বিরোধীদলীয় কিছু নেতা বেন গভিরের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লেবার পার্টির গিলাদ কারিভ এক্সে লিখেছেন, বেন গভির ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছেন।
মন্তব্য করুন


দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে আসা জেজু এয়ারের একটি বিমান অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটিতে মোট ১৮১ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ১৭৫ জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু সদস্য। এখন পর্যন্ত দু'জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ জিয়ুল্লা প্রদেশের ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ চলছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, থাইল্যান্ড থেকে আসা বিমানটি মুয়ান বিমানবন্দরে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। জেজু এয়ারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট চোই সাং-মু উদ্ধার অভিযানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জোয়ারেও মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি কর্মীর চাহিদা কমবে না। বরং সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখের বেশি কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে। চলতি বছর প্রকাশিত এক বৈশ্বিক শ্রমশক্তি সমীক্ষায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর জিও নিউজের।
গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ধরনে পরিবর্তন এলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মানবশ্রমের সামগ্রিক চাহিদা কমছে না। বরং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবাখাতের পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুই দেশে টেকসই শ্রমচাহিদা তৈরি করছে।
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির কারণে শ্রমশক্তির চাহিদা বাড়ছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্মাণ, অবকাঠামো, পর্যটন, উৎপাদন, লজিস্টিকস এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, এআই থেকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না হলে সৌদি আরবের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার অতিরিক্ত কর্মীর প্রয়োজন হতো। অটোমেশনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার পরও আগামী বছরগুলোতে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য শ্রমঘাটতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমশক্তির চাহিদা আরও দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে আমিরাতের মোট শ্রমশক্তি ১২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শ্রমবাজার হতে যাচ্ছে দেশটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গবেষণাভুক্ত শ্রমবাজারগুলোর মধ্যে আমিরাতেই শ্রমশক্তি সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া সৌদি আরবে শ্রমশক্তি বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে এই হার মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ২ দশমিক ৮ শতাংশ।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার কোম্পানি সার্ভিসনাও এই গবেষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকার ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো ও অটোমেশন প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে।
গবেষণা অনুযায়ী, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেবাখাতের ডিজিটাল রূপান্তরে আমিরাতের জোরালো মনোযোগ চাকরি কমানোর বদলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। দেশটিতে সরকারি ডিপার্টমেন্ট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আধুনিকায়ন করার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন, শিক্ষা, খুচরা বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা এবং প্রযুক্তি-সম্পর্কিত খাতে কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।
সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে নির্মাণ, পরিবহন, লজিস্টিকস, স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা, খুচরা বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, আর্থিক সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি সামনের বছরগুলোতে ব্যাপকহারে বিনিয়োগ হবে। প্রযুক্তির প্রভাবে কাজের ধরন বদলালেও যারা প্রশিক্ষণ ও পুনঃদক্ষতায় বিনিয়োগ করবে, সেসব দেশ ও কর্মীরাই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে পারবে।
মন্তব্য করুন


থাইল্যান্ডের সাবেক রানি ও বর্তমান রাজা ভজিরালংকর্নের মা সিরিকিত মারা গেছেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ৯৩ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
থাই রাজপরিবারের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রানি সিরিকিত দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি মাসে তার রক্তে সংক্রমণ দেখা দেয়।
সিরিকিত ছিলেন থাইল্যান্ডের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় রাজত্ব করা রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের স্ত্রী। ভূমিবল ২০১৬ সালে মারা যান।
রাজা ভজিরালংকর্ন তার মায়ের রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। রানি সিরিকিতের দেহ ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসের দুসিত থ্রোন হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষিত থাকবে। রাজপরিবারের সদস্যরা এক বছর শোক পালন করবেন।
বিবিসির তথ্যমতে, ফ্রান্সে সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনার সময় রাজা ভূমিবলের সঙ্গে সিরিকিতের পরিচয় হয়। সেই সময় তার বাবা ছিলেন ফ্রান্সে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। ব্যাংককে রাজা ভূমিবলের অভিষেকের এক সপ্তাহ আগে তারা বিয়ে করেন।
১৯৬০-এর দশকে রাজা-রানিরা বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন তারা। রানি সিরিকিত থাইল্যান্ডে মা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৭৬ সাল থেকে তার জন্মদিন ১২ আগস্ট থাইল্যান্ডে মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
২০১২ সালে স্ট্রোকের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে খুব কমই দেখা আসতেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়েকে রেখে গেছেন।
মন্তব্য করুন


বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক জলপথ দক্ষিণ চীন সাগরে ভাসমান ব্যারিয়ার বসিয়েছে চীন। অভিযোগ উঠেছে, সাগরের এমন জায়গায় ব্যারিয়ার বসানো হয়েছে— যেটি আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে দেশটির সার্বভৌম এলাকার মধ্যে পড়ে না।
চীনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে এই সাগরপাড়ের অন্যতম দেশ ফিলিপাইন। দেশটির কোস্টগার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জায়ে তারিয়েলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সেই ব্যারিয়ারের ছবি পোস্ট করে জানিয়েছেন, সাগরের স্কারবোরোফ শোয়াল নামের এলাকার একটি অংশে বসানো হয়ে এই ব্যারিয়ার এবং এটির কারণে ফিলিপাইনের মৎসজীবীরা মাছ ধরার জন্য সেখানে যেতে পারছেন না।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুসারে স্কারবোয়াফ শোয়াল কোনোভাবেই চীনের সার্বভৌম এলাকার মধ্যে পড়ে না দাবি করে এক্স পোস্টে জায়ে তারিয়েলা বলেন, ‘আমাদের সমুদ্র অধিকার ও মেরিটাইম ডোমেইন রক্ষার স্বার্থে এই ইস্যুতে ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ চীন সাগরের উপকূলবর্তী অন্যান্য দেশের সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জনপ্রিয় গায়িকা বিয়ন্সে নোলস। শুক্রবার স্থানীয় সময়ে হিউস্টনের একটি জনসমাবেশে এ সমর্থন জানান তিনি।
বিয়ন্সে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমি এখানে একজন সেলিব্রিটি হিসেবে আসিনি, এবং একজন রাজনীতিবিদ হিসেবেও আসিনি। আমি এখানে এসেছি একজন মা হিসেবে।" তিনি বলেন, "একজন মা হিসেবে আমি চাই আমাদের সন্তানরা এমন একটি বিশ্বে বেড়ে উঠুক, যেখানে তাদের নিজেদের স্বত্বার ওপর নিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা থাকবে, যেখানে আমরা বিভক্ত নই—আমাদের অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতের জন্য।"
হিউস্টনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে, বিয়ন্সে উপস্থিত সবাইকে আহ্বান জানান কমলা হ্যারিসকে নির্বাচিত করার জন্য এবং বলেন, “এবার আমেরিকার জন্য একটি নতুন গান গাওয়ার সময়।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেন।
এসমাবেশে বিয়ন্সের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সঙ্গী এবং অভিনেত্রী কেলি রাউল্যান্ডও। বিয়ন্সে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “এটি এমনই একটি গান, যা ২৪৮ বছর আগে শুরু হয়েছিল।”
ডেমোক্রেট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সমর্থনে বিয়ন্সের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সংযুক্তি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আশাবাদী মনোভাব সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, এটি কমলা হ্যারিসের প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও টেক্সাসে তার দলের জন্য প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন, যা এই অঙ্গরাজ্যকে তার দলের জন্য একটি শক্তিশালী অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রসঙ্গত, বিয়ন্সের মতো সেলিব্রিটিদের রাজনৈতিক সমর্থন নির্বাচনী প্রচারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে। এর ফলে আগামী নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের জন্য পরিস্থিতি আরও সুবিধাজনক হতে পারে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পতন হয় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। ওই দিন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে খবর প্রকাশ করছে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশ থেকে দলে দলে পালিয়ে ভারতে যাচ্ছেন।
তবে ভারতের প্রসিদ্ধ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ এ ধরনের খবরকে ভুয়া বলে আখ্যা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটছে না। হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ থেকে দলে দলে মানুষের ভারতে পালিয়ে যাওয়া বা ভারতে ঢোকার কোনও চেষ্টা হয়নি।
রবিবার প্রকাশিত দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এমনটাই বলা হয়েছে।
দ্য হিন্দু বলছে, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সীমান্তে এক হাজার ৩৯৩ বাংলাদেশি আটক হয়েছেন। এর আগে জানুয়ারি থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত (আওয়ামী লীগ সরকারের সময়) ১ হাজার ১৪৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। যার অর্থ আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর হাজার হাজার মানুষের সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার কোনও চেষ্টার ঘটনা ঘটেনি।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সব মিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্তে মোট ৩ হাজার ৯০৭ অনথিভুক্ত ব্যক্তি আটক হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশি, ভারতীয়, এবং অন্যান্য জাতীয়তার মানুষ। ২০২৩ সালে এ সময় পর্যন্ত আটক হওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩ হাজার ১৩৭, যা ২০২২ সালের ৩ হাজার ৭৪ জনের কাছাকাছি।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ জানিয়েছে, গত আগস্ট মাস থেকে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে সীমান্ত। এমএইচএ’র নির্দেশে বৈধ নথি ছাড়া কাউকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত কোনও কাগজপত্র ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশকারী ৮৭৩ ভারতীয়কে আটক করা হয়েছে।
বিএসএফের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পর সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের নিরাপত্তার ভয়ে ভারতে প্রবেশ করতে চাইতে পারে। কিন্তু রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এমন কোনও দৃশ্য দেখা যায়নি। উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর থেকে কয়েকটি খবর পাওয়া গেলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারতে আশ্রয়ের জন্য কোনও বড় ধরনের গণ-অভিবাসনের খবর পাওয়া যায়নি।
বিএসএফ আরও বলেছে, ৫ আগস্ট থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন এমন ভারতীয়র সংখ্যা ৩৮৮ জন। এ বছর মিয়ানমারসহ অন্যান্য জাতিসত্তার ১০৯ জনকেও সীমান্তে আটক করা হয়েছে।
২০১৮, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ এবং ২০২২ সালে সীমান্তে আটক বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৯৯৫ জন, ২ হাজার ৪৮০ জন, তিন হাজার ২৯৫ জন, দুই হাজার ৪৫১ জন এবং তিন হাজার ৭৪ জন।
অর্থাৎ ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সীমান্তে আটক হওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা ২,৪৮০ থেকে ৩,২৯৫-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই ধারাবাহিকতা থেকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনে বৈধ নথিপত্র ছাড়া কাউকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
৫ আগস্টের পর বিএসএফ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনেক বার বৈঠক করেছে। সূত্র: দ্য হিন্দু
মন্তব্য করুন


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কানাডা থেকে আমদানি করা সকল পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এ ঘোষণাটি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও শুক্রবার কানাডাকে জানানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।
ট্রুডো বলেছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক এবং দ্রুত জবাব দেওয়া হবে। শুক্রবার তিনি বলেন, কানাডা এই সিদ্ধান্তের জবাব দিতে প্রস্তুত এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য দৃঢ় ও উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, "আমরা এটি চাই না, কিন্তু যদি ট্রাম্প এগিয়ে আসেন, তাহলে আমরাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। সব বিকল্পই টেবিলে আছে।"
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অটোয়ার কর্মকর্তারা কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। তবে তারা এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাইছেন না।
ট্রুডো তার বক্তব্যে কানাডার নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছেন, সামনে কঠিন সময় আসতে পারে। তিনি কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক এক উপদেষ্টা পরিষদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে দেশটি বর্তমানে একটি সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি।
ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে কানাডার পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত অতিক্রম করলেই ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। তবে এই শুল্কের আওতায় কানাডা থেকে আমদানি করা তেল অন্তর্ভুক্ত হবে না। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কানাডার তেলে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে ২০২৫ সালে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) নতুন বছরের আগমনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ২০২৪ সালের শেষে চীনের জিডিপি অন্তত ১৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। খবরটি রয়টার্সের।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে শি জিনপিং বলেন, গত বছরে চীন দেশের ভিতরে এবং বাইরের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়নের উচ্চমান ধরে রাখতে সর্বাত্মক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ ব্যবসায় মন্দা, স্থানীয় সরকারের ঋণের ঊর্ধ্বগতি এবং ভোক্তাদের আস্থার অভাবে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। গত বছর এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে দেশটিকে। এর মধ্যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার ফলে উচ্চ রফতানি শুল্ক আরোপের আশঙ্কাও বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, চলমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশের সীমানার বাইরে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি পুরোনো থেকে নতুন চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের চাপও বাড়ছে।
তবে, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। শি জিনপিং আরও বলেন, ‘‘প্রতিবারের মতো আমরা ঝড়বৃষ্টির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠব, কঠিন সময়ের মধ্যে আমরা শক্তিশালী হয়ে উঠব। নিজেদের সক্ষমতার ওপর আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে।’’
চীনের কর্তৃপক্ষ গত সেপ্টেম্বরে ঋণের সুদের হার হ্রাস এবং বাড়ি ক্রয়ে বিধিনিষেধ কমানোর মতো পদক্ষেপ নিয়ে নির্মাণ ব্যবসা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা চাঙা করার চেষ্টা করেছে।
বিদায়ী বছরের শেষ মাসে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা ২০২৫ সালে তুলনামূলক সহজ মুদ্রানীতি প্রণয়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর বাস্তবায়ন হলে, বিগত ১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বিধিনিষেধমূলক নীতিমালা আসবে। পাশাপাশি, ২০২৫ সালে ভোক্তা ব্যয় এবং বন্ড ইস্যু বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ট্রেজারি বন্ড ইস্যু করতে সম্মত হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন