

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও যোদ্ধাদের সঠিক মর্যাদা দিতে চাই। এই জুলাই আগস্টেই তাদেরকে সম্মান দিতে হবে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা সভা ও বিশেষ অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি পালন উপলক্ষে ১ জুলাই সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ : জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবারের সম্মানে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রিজভী বলেন, আমরা ১ জুলাইকে কেন্দ্র করে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমরা যথাযথভাবে কর্মসূচি পালন করতে চাই। যাদের সন্তানেরা গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য দুনিয়া থেকে চলে গেছেন তাদেরকে বিশেষ সম্মান জানাতে হবে। সেই প্রত্যয় নিয়ে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে সারাদেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের লক্ষ্যে প্রথম কর্মসূচি পালনের জন্য ভেন্যু পরিদর্শন করেছি। এই কমিটির উদ্যোগে ভেন্যু পরিদর্শন করলাম। যাতে অনুষ্ঠান ভাবগাম্ভীর্য সহকারে পালন করতে পারি। অতিথিরা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা যাতে সুন্দরভাবে বসতে পারে। অনুষ্ঠান যাতে সার্থক হয়।
রিজভী বলেন, জাতির অনেক অর্জনের মধ্যে জুলাই বিপ্লব একটি অর্জন। আমরা প্রথম বর্ষপূর্তি পালন করতে যাচ্ছি। আমরা এমন একটা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। যে স্বপ্ন সাধারণ মানুষ দেখে। সকলে নিরাপদ জীবন আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি ও সামাজিক সংকট রয়েছে। মব কালচার আছে। এসব থেকে মুক্ত হতে হবে। গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে। গত বছরেও আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.২। এবার সেটি হয়েছে ৩.৯। আমরা সরকারকে সেটি দেখার জন্য বলব। আমরা তো সমালোচনা করবোই। অবশ্যই যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি নির্বাচন কমিশন দ্রুত একটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত অগণতান্ত্রিক সরকার দেশের অর্থ লোপাট করেছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। যার অন্যতম নির্বাচন কমিশন ও মিডিয়া। তারা কখনো প্রকৃত গণতন্ত্র চায়নি। জনগণ মনে করে ড. ইউনূস দেশবাসীর মনের প্রত্যাশা মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জুলাই বিপ্লবকে স্মরণীয় করে রাখতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমাদের দাবি ও প্রত্যাশা খুব শিগগিরই শেখ হাসিনার বিচার কাজ দৃশ্যমান হবে। জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি এই নির্বাচনে জনগণের দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জয়লাভ করবে এবং জনগণের সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবে।
তিনি বলেন , আমরা শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি এবং করছি। আমরা মনে করি একটি কমিশন বা সংস্থার মাধ্যমে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াবো। আমাদের এ ধরনের কাজ অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান (এফ-৭ বিজিআই) বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনায় পড়ে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৯ জন দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন জানায়, এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক দগ্ধ রোগী ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, 'বহু দগ্ধ রোগীর অবস্থা গুরুতর। তাদের চিকিৎসায় প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হবে। এ কারণে আশেপাশের স্বেচ্ছাসেবী ও রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।'
বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও আহতদের সহযোগিতায় প্রস্তুতির কথা জানিয়ে পোস্ট করছেন। কেউ দোয়া করছেন, কেউ দিচ্ছেন রক্তদানের আহ্বান।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই আন্দোলনের মর্মবাণী ছিল ফ্যাসিবাদ বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ গঠন।
আজ মঙ্গলবার অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সামনের পথ আরও কঠিন হবে তবে সম্ভাবনাও আছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণ যখন জেগে ওঠে তখন কোনো শক্তি তাকে রুখে দিতে পারে না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত বছর এই দিনে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে উদ্দেশ্য আন্দোলনে নেমছিল, সেই উদ্দেশ্য তারা অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচার পতনে যাতে ১৬ বছর অপেক্ষা করতে না হয়; সেই কাজ আমারা করছি। আশা করি, আগামী দিনে কেউ স্বৈরাচার হতে চাইলে জনগণ সঙ্গে সঙ্গে তাদের পতন ঘটাবে।’
মন্তব্য করুন


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ কমপ্রোমাইজ করে আমরা কোনো পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করব না। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রক্ষা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের সাথে পূর্বের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে এসেছে। ভবিষ্যতের সম্পর্কগুলোও জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হবে।
বুধবার দুপুরে কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এর লালমাই অডিটোরিয়ামে "ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন" বিষয়ক আন্তর্জাতিক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই মন্তব্য করেন। কর্মশালার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করে জনপ্রতিনিধিদের কার্যক্রম পরিচালনা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। এজন্য স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নতুন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার শেষ হলে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বার্ড-এর মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব সাইফ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন আর্ডো'র গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. খুশনুদ আলী।
এই কর্মশালায় ১২টি দেশের ২০ জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল শ্রীলঙ্কা, মিশর, ভারত, ঘানা, জাম্বিয়া, নামিবিয়া, গাম্বিয়া, পাকিস্তান, ওমান, মালয়েশিয়া, কেনিয়া এবং বাংলাদেশ।
আফ্রিকান-এশিয়ান রুরাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (আর্ডো) এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহের নীতি-নির্ধারক ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিই ছিল এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে, পল্লী এলাকায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কৌশল শিখতেই এই দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্য পদের সমর্থনে একটি প্রস্তাব পাস করার ঠিক আগে জাতিসংঘের সনদটি ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেললেন ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান।
সাধারণ সভায় ভোটাভুটিতে ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোট দেয় ১৪৩টি দেশ। যার মধ্যে ছিল ইসরাইলের ‘বন্ধু’ ভারতও। অন্যদিকে ২৫টি দেশ এই ভোটদান থেকে বিরত থাকে। আমেরিকা ও ইসরাইলসহ ৯টি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়। কিন্তু অধিকাংশ ভোট নিয়ে প্রস্তাবটি পাস হয়ে যায়।
যার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান বলেন, আজকের এই দিনটা অন্যতম কালো দিন হিসাবে লেখা থাকবে। ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত এরদান এই প্রস্তাবটিকে জাতিসংঘ সনদের একটি ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, এটি গত মাসে নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন ভেটোকে নস্যাৎ করেছে। এখানেই থেমে থাকেননি ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত। আমি একটা আয়না দেখাতে চাই আপনাদের।
জাতিসংঘে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়। আজ এমন একটা দেশকে সদস্যপদের জন্য সমর্থন জানানো হল যারা সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়। জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যে সনদ তা আপনারাই আজকে ছিড়ে ফেললেন। আমি তারই প্রতিচ্ছবি।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাটজও রেজ্যুলেশন পাসের নিন্দা করেছেন। একে একটি ‘অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন, যা ‘জাতিসংঘের পক্ষপাতের দিকটি তুলে ধরেছে। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হামাস সন্ত্রাসীদের জন্য একটি পুরষ্কার। কারণ তারা হলোকাস্টের পর থেকে ইহুদিদের ওপর সবচেয়ে বড় গণহত্যা চালিয়েছে।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখন নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার জন্য অনুরোধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে, তারা সম্ভবত নিরাপত্তা পরিষদে এই ধরনের একটি অনুরোধে ভেটো দেবে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবকে বাধা দিতে তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, একটি খসড়া রেজ্যুলুশন পাস করার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পক্ষে কমপক্ষে নয়জন সদস্য থাকতে হবে এবং ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে এর স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে কেউ নেই। তারা হল চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং আমেরিকা।
মন্তব্য করুন


প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস। ঢাকা পোস্ট এবারের মা দিবসে মায়ের স্মৃতিচারণে কিছু লেখার আহবান জানিয়েছে। সেই লেখা যদি কর্তৃপক্ষের ভালো লেগে যায় তাহলে লেখাটি হয়তো এই নির্ধারিত সংবাদমাধ্যমের ফিচার বিভাগে ছাপানোর কথা। এমন ভাবনা থেকে যে কেউ জন্মদাত্রী মাকে নিয়ে দুই লাইন লিখতে চাইবে কিন্তু কারো কারো পক্ষে এটা বেশ কঠিন। বিশেষ করে যে সন্তানের মা খুব সহসাই নিরবে কাউকে না বলে চলে গেছে দূর নক্ষত্রে ভিড়ে।
এক শোকাভিভূত অভিজ্ঞতা থেকে মাকে স্মরণ করছি। স্মরণ করছি বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে কারণ মা একজন সন্তানের জন্য কত বড় আর্শীবাদ সেটা সদ্য মা হারানো সন্তানের থেকে আর কে ভালো জানবে?
জন্মের পর থেকে শুরু করে শৈশব কৈশোর এবং যৌবনের প্রতিটি পর্যায়ে মা জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মায়ের হাতে ভর দিয়ে পদচারণা শুরু, মায়ের চোখে পৃথিবী দেখা, গল্প শোনা, এলোমেলোভাবে কলম ধরে প্রথম কিছু একটা লিখতে চেষ্টা করা, আবার কখনো একটু ভয় পেয়ে মুরগির ছানার মতো বুকের মধ্যে লুকিয়ে পড়া, খানিক বাদে বের হয়ে আবার আকাশ দেখা, এমন অসংখ্য স্মৃতিতে জর্জরিত হয়ে তবেই তো একজন সন্তান বিকশিত হয়। আর এভাবেই মায়ের ছায়াতলে আমরা দিন দিন বড় হয় আর আমাদের মায়েরা ছোট হতে থাকে। মা নিজের সমস্ত কিছু বিসর্জন দিয়ে তার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য, কল্যাণের জন্য ত্যাগের এক মহিমান্বিত উদাহরণ রচনা করে যায় প্রতিনিয়ত।
সন্তান মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। আর এজন্যই বোধহয় মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কই একমাত্র স্বার্থহীন সম্পর্ক। তাই তো পৃথিবীর সব ধর্মেই মায়ের মর্যাদাকে অনেক উঁচুতে রাখা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ জাতি, গোষ্ঠী, সর্বত্রই মায়ের মর্যাদা সবার উপরে। এমনকী স্রষ্টার পক্ষ থেকেও কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে মায়ের মর্যাদার বিষয়ে।
পৃথিবীতে মা বেঁচে থাকাটা সন্তানের জন্য যে কতোটা সাহসের, কতোটা অনুপ্রেরণার সেটা বোধহয় মাকে হারানোর পরেই বেশি অনুভব হয়। মা হচ্ছেন একটা সন্তানের কাছে এমন একটি ব্যাংক, যেখান থেকে যত খুশি ঋন নেয়া যায় কিন্তু সেই ঋন পরিশোধ না করলেও কোনো জেল-জরিমানা হয় না।
এতো তাড়াতাড়ি মাকে হারিয়ে ফেলবো সেটা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। মাসে দুই-একবার করে মায়ের সঙ্গে দেখা হতো। মায়ের চোখে আমি ছিলাম ভীষণ অবাধ্য, রোগা, না খেয়ে খেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছি ইত্যাদি। ডায়াবেটিসের কারণে মা চোখে কম দেখতো অথচ সন্তানের চোখের নিচে কালো দাগ, বড় বড় চুল, কিংবা গলার নিচের হাড় এসব আর কেউ না দেখলেও কেবল মা-ই দেখতে পেতেন। ভালো-মন্দ কিছু খাবার নিয়ে পেছনে পেছনে এ ঘর থেকে ওই ঘরে যাওয়া, মায়ের এমন অসংখ্য ঘটনা প্রতিনিয়ত দাগ কেটে যাচ্ছে বুকের গভীরে। আল্লাহর কাছে আকুল আবেদন তিনি যেন মাকে তার জান্নাতের ছায়ায় আশ্রয় দেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো অবস্থান নেই। এখানে কোনো ধরনের জঙ্গিবাদ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের জঙ্গি ট্যাগ দেওয়া ইস্যুতে উপদেষ্টা বলেন, দেশে যে ৩ জনকে পাঠানো হয়েছে তাদের কেউ জঙ্গি নয়। এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রেস রিলিজও দিয়েছিল। মূলত তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার পুলিশের চিফ যে পাঁচজনকে নিয়ে কথা বলেছেন সেই পাঁচজন দেশে আসেনি। তাদের সঙ্গে আমাদের সরকারি লেভেলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তদন্ত করে দেখব। তবে বাংলাদেশে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মালয়েশিয়ার আইজিপি বাংলাদেশের পাঁচজনকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন, এটা কীভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, সে দেশের (মালয়েশিয়ার) আইজিপি কী বলেছে আমি জানি না। আমরা অফিসিয়ালি সরকারি লেভেলে কোনো মেসেজ পাইনি। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে যে মেসেজ পেয়েছি সেটা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রেস রিলিজ আপনাদের দেওয়া হয়েছে।
জঙ্গিবাদ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের (মিডিয়ার) সহযোগিতায় জঙ্গিবাদ নির্মূল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনাদের ক্রেডিট অনেক বেশি। গত ১০ বছরে আপনারা জঙ্গিবাদের কোনো তথ্য দিতে পেরেছেন? যখন ছিল তখন দিয়েছেন। এখন নেই তাই দিতে পারেন না।
মন্তব্য করুন


রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবৈধভাবে পাসপোর্ট নেওয়া ঠেকাতে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া এখনই তুলে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া তুলে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এই প্রক্রিয়া তুলে দিলে ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে অনেকে পাসপোর্ট সংগ্রহের সুযোগ পাবে। এজন্য এখনই এই পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাসপোর্ট জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এমআরটি (মেশিন রিডেবল টেম্পোরারি) পাসপোর্ট নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার সমাধান ইতোমধ্যে করা হয়েছে। আর এমআরটি পাসপোর্ট এখন আর থাকবে না।”
পাসপোর্ট পেতে সাধারণ মানুষ এখনো ভোগান্তির শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই ভোগান্তি কমিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের বিদেশিদের আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে, গত ১৭ ডিসেম্বর সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় পাসপোর্ট প্রক্রিয়া থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
শিক্ষকরা রাজনীতিতে জড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)-এ দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষায় গুণগত মান বৃদ্ধিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাচ্চাদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র বইয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরামর্শ দেন। এজন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার মাধ্যমে পড়াশোনার খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।
ড. বিধান রঞ্জন রায় জানান, পরিমার্জন এবং টেন্ডার বাতিলের কারণে কিছু ক্লাসে বই বিতরণে বিলম্ব হয়েছে। তবে জানুয়ারির মধ্যেই প্রাথমিকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির সব বই বিতরণ সম্পন্ন হবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেপের পরিচালক ফরিদ আহমেদ, উপপরিচালক সাদিয়া উম্মুল বানিন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। পরে তিনি দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। সেইসঙ্গে সমর্থকদের আগামী সপ্তাহে একটি সমাবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামাবাদে নিজ দলের প্রাণঘাতী বিক্ষোভ মিছিলের কয়েকদিন পর এমন হুঁশিয়ারি দিলেন ইমরান।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) এক্স পোস্টে ইমরান খান সমর্থকদের ১৩ ডিসেম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অঞ্চলটি তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শাসিত।
এক্স বার্তায় ইমরান খান ২৫ নভেম্বরের বিক্ষোভ মিছিলে দমনপীড়ন এবং গত বছরের ৯ মে সহিংসতায় অন্তত ১২ জন সমর্থক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। গ্রেপ্তার হওয়া সমস্ত রাজনৈতিক কর্মীদেরও মুক্তি দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন।
ইমরান বলেন, যদি এই দুটি দাবি মানা না হয়, তবে ১৪ ডিসেম্বর থেকে একটি অসহযোগ আন্দোলন শুরু হবে। যে কোনো পরিণতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে।
এদিকে পাকিস্তান সরকার ২৫ নভেম্বরের বিক্ষোভ মিছিলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা অস্বীকার করেছে, উল্টো বলেছে, ইমরান খানের সমর্থকরা গত বছরের ৯ মে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
৯ মে'র ওই হামলার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার ইমরান খানকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। গত বছরের শেষ দিক থেকে কারাগারে থাকা ৭২ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেট তারকার বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলার মধ্যে এটি সর্বশেষ।
ইমরান ও তার দল বলছে, ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে সেনাবাহিনীর জেনারেলদের সঙ্গে মতবিরোধের পর রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই তাকে এসব মামলা সাজানো হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মন্তব্য করুন


পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার সক্ষমতা কোনো অপশক্তির নেই। মানুষ নির্বাচনমুখী, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
শনিবার বিকেলে খুলনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন তিনি। নগরীর বয়রাস্থ কেএমপি পুলিশ লাইনে এ মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে তিনি খুলনার পাঁচটি লোকেশনে চলমান নির্বাচনী প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করেন। সেই সঙ্গে তিনি খুলনা বিভাগে কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় মিলিত হন।
আইজিপির সঙ্গে এ সময় খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি জানান, পুলিশের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অতীতের সমালোচনা এড়াতে এবার প্রথমবারের মতো সব ইউনিটকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪—এই তিন নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতা ও সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশ একা নয়, সমাজের সাধারণ মানুষ আমাদের শক্তি। গুজব, মিথ্যা তথ্য ও নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা সব কিছু আমরা নজরদারিতে রেখেছি।’
পুলিশের অতীত বিতর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মে জড়িত ছিলেন এবং সংশোধনযোগ্য নন তাদের নির্বাচন ডিউটিতে রাখা হবে না।
এসপি ও ডিআইজিরা সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করছেন। নির্বাচনের আগে তাদের তালিকা করে নির্বাচনী ডিউটি থেকে বাদ রাখা হবে।’
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মাঠে কাজের পরিবেশ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘সাংবাদিকদের কোনো রকম বাধা দেওয়া হবে না। বরং আমরা উৎসাহিত করব আপনারা যেন স্বাধীনভাবে ভোটের নিউজ কাভার করতে পারেন।’
মন্তব্য করুন