

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত দল নিয়ন্ত্রণ করেছে, দেশও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘পৃথিবীর একমাত্র অসাম্প্রদায়িক ধর্ম ইসলাম। আমরা ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সবার সহযোগিতা চাই।’
জামায়াত নেতাদের কোনো বেগম পাড়া বা পিসি পাড়া নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের প্রতিও অবিচার করেনি জামায়াত। জামায়াত যেমনি দল নিয়ন্ত্রণ করেছে, যেমনি দেশও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।’
গত সাড়ে ১৫ বছরে দেশ বিচারের নামে প্রহসন দেখেছে বলেও অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের রাজনীতি হবে মানুষ ও মানবতার কল্যাণে। ইসলাম ও দেশপ্রেমিক সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে চাই আমরা।’
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক অন্তবর্তীকালীন সরকাকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখবেননা। বরং আপনাদের যে দায়িত্ব রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার গুলোর জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। আগামী নির্বাচনের জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করুন।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলস্টেশনে নোয়াখালী খেলাফত মজলিসের গণ সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আগস্টের বিপ্লব প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে আগস্টের বিপ্লব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। আগে দেশ বাঁচান, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখুন। আগস্টের বিপ্লব ব্যর্থ হলে কোনো বাংলাদেশী বাংলাদেশে থাকতে পারবেনা। তাই সকলে মিলে স্বৈরাচারী মাফিয়া হাসিনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জবাবদিহিতা করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দল গুলোকে এক সাথ হয়ে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।
মামুনুল হক বলেন, সব জায়গায় ষড়যন্ত্রের জাল উঠছে। তাই এখনো গোটা বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখনো আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ ও প্রতিযোগিতার সময় তৈরী হয়নি।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউছুফ আশরাফ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির খুরশিদ আলম কাশেম,যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী প্রমূখ।
মন্তব্য করুন


ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্ব ভারতের রাজধানী দিল্লিকে তাদের প্রধান রণকৌশল প্রণয়নের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। সেখান থেকেই তারা দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার মাধ্যমে সরকার পতনের নীলনকশা তৈরি করেছে। এরই অংশ হিসেবে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও এমপিদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেছেন হাসিনা।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার গোপন আস্তানা থেকেই চলছে নাশকতার গোপন প্রস্তুতি। তবে আন্দোলন পরিচালনার কৌশল নিয়ে মা শেখ হাসিনা এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মধ্যে গত ৪ নভেম্বর কথাকাটাকাটি হয়। পুতুল মাকে এই মুহূর্তে চুপ থাকার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষেপে যান বলে হাসিনার ওপর নজরদারিতে নিয়োজিত ঢাকার নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলো জোনে ভারত সরকারের দেওয়া সুরক্ষিত একটি বাড়িতে শেখ হাসিনা বর্তমানে অবস্থান করছেন। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ এশিয়া চ্যাপ্টারের প্রধানের পদ হারানোর পর থেকে সার্বক্ষণিক তার সঙ্গেই থাকছেন। বাসভবনটিকে কার্যত একটি ‘ওয়ার রুম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এখানে নিয়মিত শারীরিক চেকআপের জন্য চিকিৎসক ও নার্স এবং বড় কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ওই বাসায় থাকছেন ভারতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক একজন হাইকমিশনার। পাশাপাশি ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের পছন্দ করা একজন আইনজীবী আইনি ও গণমাধ্যমের বিষয়গুলো দেখভাল করছেন। দিল্লি প্রেস ক্লাবের একজন সাংবাদিকও সহযোগিতা করছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রশ্নের উত্তরগুলো তারা দেখভাল করেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নিয়ে পরিকল্পনা কীভাবে সাজানো যায় এবং দ্রুত সফলতা পাওয়া যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ নিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মাকে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ রাখার কথা বললে হাসিনা রেগে যান।
গত ১১ অক্টোবর শেখ হাসিনার দিল্লির বাসায় সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী পলাতক শেখ হাসিনার দিল্লির গোপন বাসভবনে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়া সাভার এলাকার সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চু, কক্সবাজারের সাবেক এমপি ও হুইপ সাইমুম সরোয়ার কমল, ফরিদপুরের সাজেদা চৌধুরীর ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী বাবলু এবং টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি ছোট মনির বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে প্রধানত তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়—প্রথমত, সম্প্রতি ‘গুম প্রসিকিউশন চার্জে’ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ।
দ্বিতীয়ত, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন জোরদার করা।
তৃতীয়ত, দলকে সংগঠিত করা এবং তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করাসহ ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভাগীয় শহর এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠকে যারা ছিলেন, তাদের নিয়েই পুতুল মায়ের কাছে প্রশ্ন তোলেন। পুতুলের বিশ্লেষণ হচ্ছে, ওই লোকগুলোর কারণেই হাসিনার এই পরিণতি হয়েছে। আর হাসিনার বক্তব্য হচ্ছে, এদের দিয়েই পরিস্থিতি পাল্টাতে হবে।
মন্তব্য করুন


গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা আবারো দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। গোপালগঞ্জে এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচির ওপর বর্বরোচিত হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, ইউএনওসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার বর্বর ঘটনা সেই অপতৎপরতারই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে আওয়ামী দোসররা মরণকামড় দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলে ফায়দা লুটতে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এসব দুষ্কৃতকারীকে কঠোর হাতে দমন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশে যাতে আবারও ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে না পারে, সে জন্য দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল-মতনির্বিশেষে সবা শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে দেশ আবারও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
বিএনপি মহাসচিব বিবৃতিতে গোপালগঞ্জে এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে হামলাকারী দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর আহ্বান জানান।
তিনি আহত পুলিশ সদস্যদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।
মন্তব্য করুন


কিছু রাজনৈতিক দল নানা টালবাহানা করে নির্বাচনকে পেছানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু জনগণ আর সেই পুরনো রাজনীতির ফাঁদে পা দেবে না- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মহানায়ক শহীদ জিয়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজ আমরা এমন একসময় অতিক্রম করছি, যখন গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশে অর্থনীতি ও রাজনীতি কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এখন আমাদের সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে সব কিছু পুনরায় গুছিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে।
দেশকে এগিয়ে নিতে হলে একটি নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে বিএনপির জন্ম হয়েছে। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। দেশের ভালো সব কিছু বিএনপির হাতেই হয়েছে। কিন্তু এমনভাবে কথা বলা হয় যেন বিএনপি ভিলেন।
জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বগুণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, মানুষকে আকর্ষণ করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল শহীদ জিয়ার। জাতি গঠনে তিনি কাজ করেছেন। কিন্তু তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগ। ক্ষণজন্মা মানুষদের এত সহজে মুছে ফেলা যায় না।
জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস ধারণ করেছে। তারেক রহমানও জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই হাঁটছেন।
‘মহানায়ক শহীদ জিয়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, উপদেষ্টা ও কবি আব্দুল হাই শিকদার (গ্রন্থের সম্পাদক), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. আনোয়ার উল্ল্যাহ চৌধুরী, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পতনের পর কিছুটা হলেও মুক্তি ও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল সংলগ্ন মাঠে বিএনপির বর্ধিত সভায় শোক প্রস্তাব উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সাহসিকতার সাথে শেখ হাসিনার নিষ্ঠুর শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। তাদের অনেকেরই কোনো খোঁজ মেলেনি। কতজন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কতজনকে আয়নাঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে, তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অসংখ্য নেতাকর্মী ও দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। আমরা তাদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে আজ দলের এই বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভার শুরুতেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে দলের প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর বিক্রমকে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, দেশ গঠনের অগ্রদূত এবং জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক ছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখনই দেশ ও গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, জিয়াউর রহমান তখনই আপসহীনভাবে দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম করেছেন।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, গণতন্ত্রের প্রতীক ও গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে। এছাড়া, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সময় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। আজকের বর্ধিত সভায় তাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এছাড়াও, দেশের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, সুরকার, গীতিকারসহ যাদের আমরা হারিয়েছি, তাদের সকলের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার জন্য ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে।
শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক, উদার নৈতিক রাজনৈতিক দল। প্রত্যেকটি আসনে আমাদের একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। অনেক আসনে ১০ থেকে ১২ জনের মতো প্রার্থী আছে। খুব শিগগির আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার জন্য ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেব। তবে সেটি অফিশিয়াল হবে তফসিল ঘোষণার পরে।
তিনি জানান, জরুরি কিছু ব্যতীত এমন কোনো বিষয় সামনে আনা উচিত হবে না, যা জাতীয় জীবনে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্তব্য করুন


বর্তমানে দেশে তিনটি শক্তি প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রভাব বিস্তার করা শক্তিগুলোর মধ্যে দুটি আঞ্চলিক এবং একটি বিশ্বমোড়ল শক্তি। তাদের স্বার্থ আলাদা হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের স্বার্থ। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
মঙ্গলবার এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই বিদেশি শক্তিগুলো এই অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় একটি মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণি তৈরি করেছে। আজও সেই ধারা চলছে, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে।’
শহিদ আবরার ফাহাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আবরার এদেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছে। আমাদের সকলকে সবার বক্তব্যে, সোশ্যাল মিডিয়ার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যেমন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সিঁড়িগুলো নির্মাণ করেছি শহিদ আবরারের মতো শহিদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ হঠাৎ করে আসেনি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনীতি ও ত্যাগের ফসলই মুক্তিযুদ্ধ। আজ আমরা ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও সেই রক্তের উত্তরাধিকার বহন করছি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি আধিপত্যবাদ রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সেই বিদেশি শক্তির কুশীলব হিসেবে কাজ করছে। আবরার ফাহাদ ছিলেন সেই আধিপত্যবাদের শিকার, কেবল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
মন্তব্য করুন


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনে তিনি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
রোববার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ৩০০ আসন ধরে এগোচ্ছি। প্রার্থীর তালিকা এই মাসেই দিতে পারি।
এনসিপি দ্রুত নির্বাচন চায় জানিয়ে তিনি বলেন, যদিও আমরা নতুন রাজনৈতিক দল। এই এক বছরে আমাদের অনেক কিছু কাঁধে নিতে হয়েছে। আমরা দল গঠনে সেই সময় পাইনি। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি কম থাকুক, বেশি থাকুক সেই জন্য আমরা কখনো নির্বাচন পেছানোর কথা ভাবি না।
নাহিদ বলেন, দ্রুত নির্বাচন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন প্রয়োজন, দেশের স্থিতিশীলতার জন্য। ফলে ফেব্রুয়ারিকে ধরে আমরা আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেবো।
এনসিপি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা নয়। আমরা নতুন গঠিত হয়েছি। আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছি। এই নির্বাচন আমাদের সামনে একটা প্রথম চ্যালেঞ্জ, প্রথম টেস্ট হবে আমরা এটাতে অংশগ্রহণ করবো। ভালো করি, মন্দ করি এটা জনগণ বিবেচনা করবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পিআর নিয়ে যারা আন্দোলন করছে, তারাই নির্বাচন বিলম্ব ও বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচন বানচাল হলে ফ্যাসিবাদের আবার উত্থান হবে। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে কোনো আন্দোলন করা সঠিক হবে না।
শনিবার এনডিপি’র ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্ন্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পিআর’সহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াত ও বিভিন্ন দলের কার্যক্রম গণতান্ত্রিক চর্চা। তবে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কাদের ইশতেহার গ্রহণ করবে।
জামায়াত যাদের নিয়ে আন্দোলন করছে ও বক্তব্য দিচ্ছে, ‘২৪ এর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কী ছিল— এ প্রশ্ন তুলে, সেটি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময়, গাজা অভিমুখী নৌবহরে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি জাতিসংঘকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে আহ্বান জানান বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনকে বিলম্বিত করতেই পিআর পদ্ধতির নামে আন্দোলন চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘চাপিয়ে দেওয়া কোনো কিছু এই দেশের মানুষ গ্রহণ করে না।’
রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পিআর পদ্ধতি সংস্কার কমিশন থেকে নয়, বরং কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবি থেকে এসেছে। এই পিআর পদ্ধতি জনগণ চায় না, জনগণ চায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে।’
নির্বাচন ঘিরে সামনে কঠিন পরীক্ষা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কোনো কিছু বিশ্বাস করার আগে সত্য-মিথ্যা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি। সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সব সময় সংস্কারের পক্ষে ছিল।
এখনো কেউ কেউ প্রচার করছে যে আমরা সংস্কার চাই না—এটা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। বিএনপি নিজেই সংস্কার আন্দোলনের ফসল।’
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, কিছু দল বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমরা চাই ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন হোক।
জনগণ এখনই নির্বাচন চায়। আমরা চেষ্টা করছি নতুন করে বাংলাদেশকে জাগিয়ে তোলার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই সুযোগটি যেন হারিয়ে না যায়।’
মন্তব্য করুন