

অভিনেত্রী
ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। লিভারসংক্রান্ত
জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। শেষ
পর্যন্ত তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।
মেয়েকে
বাঁচাতে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার বাবা
ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ।
গত
এক সপ্তাহ ধরে লিভারসংক্রান্ত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি কারিনা কায়সার। শুরুতে ফ্যাটি
লিভার ও শরীরে ইনফেকশন ধরা পড়লেও দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর মধ্যে তিনি হেপাটাইটিস
এ-তেও আক্রান্ত হন। শুক্রবার (৮ মে) রাতে লিভার ফেইলিউর হলে চিকিৎসকরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে
লাইফ সাপোর্টে নিতে বাধ্য হন।
উন্নত
চিকিৎসার জন্য কারিনাকে এখন ভারত বা সিঙ্গাপুরে নিতে চায় তার পরিবার। কিন্তু এ বিশাল
অঙ্কের ব্যয়ভার বহন করা বাবা কায়সার হামিদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কায়সার
হামিদ বলেন, আমার ভাই ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, দুই বছর তার চিকিৎসায়
পরিবারের অনেক টাকা সেখানে খরচ হয়েছে। এখন এ মুহূর্তে এত টাকা জোগাড় করা আমাদের জন্য
প্রায় অসম্ভব।’
সরকারের
সহায়তা কামনা করে কায়সার তিনি আরও বলেন, জমি বিক্রি করে টাকা ব্যবস্থার চেষ্টা করছি।
কিন্তু এতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। জানি না, সরকারিভাবে কোনো সাহায্য পাব কি না। সরকারসহ
সাধারণ সবার কাছে আমি সহায়তা চাই। এই মুহূর্তে আমার মেয়েকে সুস্থ করে তোলাটাই আমাদের
কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তাই সবার সহায়তা এখন খুব দরকার।
কেবল
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেই নয়, কারিনা কায়সার একজন মেধাবী চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী
হিসেবেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। জনপ্রিয় সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’
এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’-এর মতো কাজে তার অবদান দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন


বৈশাখের প্রথম দিনে অন্যদিনের চেয়ে তাপমাত্রা একটু বেশি থাকবে আর সাথে সঙ্গী
হবে অস্বস্তি- এসব আগেই জানিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।
কিন্তু এমন পূর্বাভাসের মধ্যে সকালে কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশ থাকলেও বেলা বাড়ার
সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজ বাড়তে থাকে আর এরইমধ্যে তাপপ্রবাহের বিস্তার ঘটতে পারে বলে পূর্বাভাস
মিলেছে।
রোববার (১৪ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের
বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
সারাদিনর আবহাওয়ার অবস্হা নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানায়, আজকের দিনে এ অবস্থায়
অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আর নীলফামারি ও
নেত্রকোনা জেলাসহ রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে
মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে।
এ সময় দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
সোমবার (১৫ এপ্রিল) একই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি থাকলেও মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল)
রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা
বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টিরও
শঙ্কা রয়েছে। তবে তাপপ্রবাহ অন্যান্য এলাকায় অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহীদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরো বলেছেন, আজ আমরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম মাস উদযাপন করছি। ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় বিপ্লবের জন্য শত শত ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমাদের বাংলাদেশকে এর পূর্ণ গৌরবে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমাদের।
তিনি বলেন, আমি সেই সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের স্মরণ করছি যারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল। স্মরণ করছি আন্দোলন চলাকালে নিহত সাংবাদিকদের। আজ আমি এই বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমি অভিবাদন জানাই হাজার হাজার মানুষকেও যারা আহত হয়েছেন, প্রাণঘাতী আঘাতের শিকার হয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন, কিংবা চক্ষু হারিয়েছেন।
গত মাসে আমাকে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং সমস্ত জানা এবং অজানা শহীদদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার সকল সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমার প্রিয় তরুণেরা, তোমরা তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ নিয়েছিলে। শহর ও গ্রামীণ জনপদের দেয়ালে আঁকা তোমাদের স্বপ্নগুলো এখনো নানা রঙের সাজ নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।’
তিনি আরো বলেন, বিপ্লবের সময়, তোমরা পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ঘুমহীন রাত কাটিয়েছো এবং দিনে নিষ্ঠুর শাসনকে প্রতিহত করার জন্য পরস্পরের থেকে চির বিদায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছো। বিপ্লব শেষ হওয়ার পর তোমরা দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছো এবং সারাদেশে ট্রাফিক পরিচালনা করার দায়িত্ব নিয়েছো। আমি জানি তোমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এখন সময় পড়াশোনায় ফেরার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। আমি তোমাদেরকে ক্লাস ও ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কেননা বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মের দরকার।
তিনি বলেন, মাত্র একমাস হলো অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা বিপ্লবের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রথম কাজ জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা এদেশে এসেছেন এবং তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রধান দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি হল বিপ্লবের সময় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাজার হাজার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাসিনার দুর্বৃত্তরা তাদের চোখ লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ায় অসংখ্য তরুণ শিক্ষার্থী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো তাদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে। আমরা শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি। মূল তালিকা হয়ে গেছে। এখন শুধু দূর-দূরান্তে যাদের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যগুলিতে পূর্ণাঙ্গতা দেওয়া হচ্ছে। আহত শত শত মানুষ যাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য একটি ফাউন্ডেশন এখন তৈরির শেষ পর্যায়ে আছে। যাদের শাহাদাতের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে আমরা তাদের কখনোই ভুলবো না।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস সবশেষে বলেন, আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম শহিদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের আত্মত্যাগকে জাতি হিসাবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না। আজ তাদের স্মৃতিময় দিনে আবারও প্রতিজ্ঞা করলাম তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়বোই। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।
মন্তব্য করুন


চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার।
শনিবার (১ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে
পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারি মাসের নির্ধারিত
দামেই এই মাসে জ্বালানি তেল বিক্রি হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্চ মাসে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে
জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে বিদ্যমান দাম অনুযায়ী প্রতিলিটার ডিজেল ও কেরোসিন ১০৫
টাকা, পেট্রোলের দাম ১২২ টাকা ও অকটেনের দাম ১২৬ টাকা রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে
জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করেছে সরকার। সেই থেকে প্রতি
মাসে নতুন দাম ঘোষণা করে আসছিল সরকার। তবে চলতি মাসে এর ব্যতিক্রম ঘটলো।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম
লিটারপ্রতি এক টাকা বাড়িয়ে এই দাম নির্ধারণ করেছিল সরকার।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন বার্মা কলোনী’র শিশু রুজিনা (৫)কে অপহরণ এবং হত্যা মামলার
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ দুলালকে ঢাকার আশুলিয়া হতে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭,
চট্টগ্রাম।
গত
৮ ডিসেম্বর ২০০০ তারিখে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন উত্তর বার্মা
কলোনী এলাকার শিশু রুজিনা (৫)কে প্রতিবেশী জসিম উদ্দিন ইকবাল তার ঘরে আটকে রাখে। পরবর্তীতে
শিশু রোজিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বস্তায় ঢুকিয়ে আলমিরাতে লুকিয়ে রাখে। এদিকে
শিশু রুজিনার পরিবার পাগলের মত হয়ে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে এবং সবার সাথে জসিম
নিজেও রুজিনাকে খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে জসিম নিজে বাদী থেকে টাকা নিয়ে মাইকে নিখোঁজ
সংবাদ প্রচার করে। রাত আনুমানিক ৯:০০ ঘটিকায় আসামী জসিম উদ্দিন ইকবাল এবং তার স্ত্রী
পারভিন আক্তার ও মোঃ দুলাল একটি চিরকুটি নিয়ে ভিকটিমের মার ঘরে হাজির হয়। চিরকুট কমন
টয়লেটের সামনে পাওয়া গেছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। চিরকুটে ১২ হাজার টাকা নিয়ে কাফকোর
পাশে পাহাড়ে গেলে সেখানে নিখোঁজ রুজিনাকে ফেরত দেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু
৩ জনের কথাবর্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় উপস্থিত লোকজন ৩ জনকেই আটক করে রাখে। গভীর রাতে
প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার কথা বলে কৌশলে জসিম উদ্দিন ইকবাল পালিয়ে যায়। পরদিন জসিম
উদ্দিন ইকবালের গৃহে তল্লাশি চালিয়ে তার ঘরের আলমিরা হতে শিশু রুজিনার বস্তাবন্দি লাশ
উদ্ধার করা হয়।
উক্ত
ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে বায়েজীদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং
০৮(১২)২০০০, ধারা-৩০২/৩৪। মামলা রুজুর পর পুলিশ পারভীন ও দুলালকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে
আসামী ২ জন জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায়
আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় আসামীদের অনুপস্থিতে বিজ্ঞ আদালত পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন
এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামী সন্ত্রাসী জসিম উদ্দিন ইকবাল ও তার স্ত্রী
পারভীনকে মৃত্যুদন্ড এবং দুলালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে
আরো ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
র্যাব-৭,
চট্টগ্রাম গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, পলাতক আসামি দুলাল ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানা এলাকায়
অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-১, ঢাকা এর একটি
যৌথ আভিযানিক দল গত ১৯ আগস্ট ২০২৩ ইং বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামী দুলালকে
গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী হলো: দুলাল (৪২), পিতা-মোঃ ছলিমুদ্দিন, সাং-নয়া চৈতাপাড়া, থানা কলমাকান্দা,
জেলা-নেত্রকোনা বর্তমানে-উত্তর বার্মা কলোনী, থানা-বায়েজীদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম।
গ্রেফতারকৃত
আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর
করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


পবিত্র রমজান উপলক্ষে অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম
উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ।
আজ শনিবার পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা
জানান।
বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সিয়াম সাধনা ও সংযমের মাস রমজান আজ
আমাদের মাঝে সমাগত। পবিত্র এ মাসে আত্মসংযমের মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে;
সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, নৈকট্য লাভ ও ক্ষমা লাভের অপূর্ব সুযোগ হয়।
ধনী-গরিব সবার মাঝে
পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠার আহবান জানিয়ে প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাবতীয় ভোগবিলাস,
হিংসা-বিদ্বেষ, উচ্ছৃঙ্খলতা ও সংঘাত পরিহার এবং জীবনের সর্বস্তরে পরিমিতিবোধ,
ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি। সিয়াম পালনের
পাশাপাশি বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করি এবং ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকি।
তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের জাতীয় জীবনে পবিত্র মাহে
রমজানের শিক্ষা কার্যকর করার তাওফিক দান করুন। মাহে রমজান আমাদের জীবনে বয়ে আনুক
অনাবিল শান্তি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ক্ষমা ও হেফাজত করুন, আমিন।
মন্তব্য করুন


সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশে দুই জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরিবর্তন করেছে । এর মধ্যে ময়মনসিংহের ডিসি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রত্যাহার করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বদলি করা হয়েছে। আর সুনামগঞ্জের ডিসি দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীকে বদলি করে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ডিসি করা হয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীকে।
গতকাল শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত জারি করা প্রজ্ঞাপনে আভাস মিলেছে, ডিসি-এসপিদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলেই তাদের বদলি করা হতে পারে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ওসিদের বদলির সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) মো. আমিন উল আহসান বলেন, যদি কোনো ডিসির বিরুদ্ধে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন, তাহলে তা নিয়ে আমরা ইসির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ময়মনসিংহের ডিসিকে কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। এটি ইসি ও জনপ্রশাসনের সিদ্ধান্ত।
ইসি, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, মাঠ প্রশাসনের সব স্তরেই বিশেষ করে ডিসি-এসপি পদে ব্যাপক রদবদল হতে পারে। কারণ যেসব ডিসি-এসপি এক বছরের কম-বেশি সময় ধরে বর্তমান কর্মস্থলে আছেন, তাদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিকদের একটি সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে এ সুসম্পর্ক অনেকেই কাজে লাগিয়ে ভোটের ফলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাতে পারেন। তাই ইসি মনে করছে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে মাঠ প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের বদলি করা জরুরি।
এমন সিদ্ধান্ত থেকেই প্রথম পর্যায়ে যেসব ইউএনও তার কর্মস্থলে এক বছর ধরে আছেন, তাদের বদলি করা হবে। আর যেসব ওসি ছয় মাস ধরে একই থানায়, তাদেরও বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক বছর বা তার কাছাকাছি সময় একই জেলায় আছেন—এমন ডিসিদেরও বদলির চিন্তা আছে ইসির। তবে কোনো ডিসি-এসপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে বদলি করা হবে।
এছাড়া ছয় মাস বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে এক জেলায় আছেন—এমন এসপিদের বদলি করা হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, বদলির বিষয়টি অস্বাভাবিক কিছু নয়। ডিসি-এসপিদের বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কিছু আমার জানা নেই। যদি ইসি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে হতেও পারে। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে জনপ্রশাসন সচিব ও জননিরাপত্তা সচিবকে লেখা চিঠিতে ইসি লিখেছে, পর্যায়ক্রমে সব ইউএনও এবং ওসিদের বদলি করা হবে। প্রথম পর্যায়ে যেসব ইউএনওর বর্তমান কর্মস্থলে এক বছরের অধিক চাকরিকাল হয়েছে, তাদের অন্য জেলায় বদলির প্রস্তাব ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইসিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ছয় মাসের বেশি সময় ধরে এক থানার দায়িত্বে রয়েছেন—এমন ওসিদের বদলির প্রস্তাবও পাঠাতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ২২ নভেম্বর ইসি মো. আলমগীর জানিয়েছিলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রশাসনে রদবদল হবে না। এর এক সপ্তাহ পরই গত বৃহস্পতিবার ইউএনও-ওসিদের বদলির সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসি। এ বিষয়ে কর্মকর্তারা জানান, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে মাঠ প্রশাসনে বদলির রেওয়াজ রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকেন ডিসি-ইউএনও। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকেন ডিসি। আর সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন ইউএনও। পুরো নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান জেলার এসপি এবং ওসিরা।
আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তপশিলের পর সরকার চাইলেও বদলি করতে পারে না। বদলির জন্য কমিশনের অনুমতি লাগে। কমিশনের যদি মনে হয় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণ নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিপক্ষে, তখন তাকে বদলি করতে পারে।
তফশিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গত ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হবে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৮ ডিসেম্বর।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে ছাত্র-শিক্ষক সমাজ আবার তাঁদের চিন্তার স্বাধীনতা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা ফিরে পেয়েছেন। এর সঙ্গে এখন যোগ করতে হবে বিশ্ব-বিজ্ঞানে অবদান রাখার সক্ষমতা। আকাক্সক্ষাকে উচ্চে রেখে দৈনন্দিন পঠন-পাঠন গবেষণার মাধ্যমেই সেটি অর্জিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার
(৭ নভেম্বর) ঢাকায় ‘বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যানের শতবর্ষ উদযাপন : ঢাকার উত্তরাধিকার’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন
তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগ এবং সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ ইন ন্যাচারাল সায়েন্সেস, ঢাবি যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার বিপ্লবের ফসল। তাই আমরা বিশ্ব-বিজ্ঞানে অবদান রাখতে প্রয়োজনীয় সব সংস্কার এবং উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির সকল প্রয়াস নিতে প্রস্তুত রয়েছি। এই কাজে নিবেদিত সবার কাছ থেকে চাহিদা, পরামর্শ আসতে হবে। নিজের ওপর আস্থা থাকলে এটি আমরা পারবো- যেমন আস্থা সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ছিল বলে তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত হয়েও আইনস্টাইনকে লিখতে পেরেছিলেন। ১৯২৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর আবিষ্কারের পরিবেশ যেভাবে গড়ে ওঠেছিলো, আজও সেভাবেই গড়ে উঠবে। এর কোন বিকল্প নেই। আমাদের তরুণদের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে যে আমরাই বিশ্ব। আজ আমরা সেই আকাঙ্খারই শতবার্ষিকী পালন করছি। বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে বাংলাদেশের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আজ আমরা আমাদের দেশের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একজন উজ্জ্বলতম তারকার মহত্তম অবদানের শতবার্ষিকী উদযাপন করতে এসেছি। যিনি ১৯২৪ সালের এমন একটি সময়ে তাঁর আবিষ্কার বোস-আইনস্টাইন কোয়ান্টাম স্ট্যাটিসটিক্সের জন্য বিজ্ঞান ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। আর তিনি এটি করেছিলেন আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নবীন অধ্যাপক হিসেবে কার্জন হলের একটি কামরায় বসে, আজো যেটি পদার্থবিদ্যার ছাত্র-শিক্ষকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত। তাঁর আবিষ্কারের গুরুত্বের কারণে পৃথিবীর নানা দেশের পদার্থবিদগণ এই শতবার্ষিকী উদযাপন করছেন। কিন্তু আমাদের জন্য এই আবিষ্কারের মর্মটাই আলাদা। পদার্থবিদরা বলেন, বিংশ শতাব্দীর ওই পর্যায়ে পদার্থবিদ্যায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিলো কোয়ান্টাম থিওরির মাধ্যমে, এটি ছিল তার মধ্যে একটি বড় সংযোজন। এর মাধ্যমে বসু বিশ্ব-বিজ্ঞানের মানচিত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের ঢাকা নগরীকে উজ্জ্বলভাবে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন। আজ আমরা যখন ছাত্র-জনতার একটি সর্বাত্মক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশকে নতুন ভাবে গড়ার প্রয়াস নিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়কে তার যথাযথ চর্চার জায়গায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছি, তখন পরিবর্তনের দিগদর্শিকা হিসেবে উদযাপনের জন্য বসুর আবিষ্কারের এই শতবার্ষিকীর থেকে যথাযথ বিষয় আর কী হতে পারে? আমাদের বিপ্লবের নায়ক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রেরণা হিসেবেও বা এর থেকে বড় গৌরবের স্মরণও আর কী হতে পারে? ১৯২৪ সাল অনেক পেছনে রেখে এসেছি। কালের পরিক্রমায় বসুর আবিষ্কারটি কি এতটুকু ম্লান হয়েছে? পদার্থবিদরা বলছেন মোটেই না। যার প্রমাণ এই আবিষ্কারের ভবিষ্যদ্বাণীকে সত্য প্রমাণ করে সৃষ্ট বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে ২০০১ সালে। এ নিয়ে গবেষণা চলছেই।
তিনি উল্লেখ করেন, সারা দুনিয়ার পদার্থবিদ্যার ছাত্ররা জানে যাবতীয় পদার্থ-শক্তি সব কিছুর একেবারে মূলে যে মৌলিক কণিকাগুলো এদের শ্রেণী বিভাজনে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে বসুর থিওরির দ্বারা ঠিক করে দেয়া নির্দেশিকা।
প্রধান উপদেষ্টা
আরও বলেন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু শিক্ষার সর্বস্তরে, বিশেষ করে উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষায় বাংলা ভাষা প্রচলনের জন্য তর্ক বিতর্ক করছেন, বাংলায় বই লিখছেন, পত্রিকা বের করছেন, নিজের পাঠদানে বাংলা ব্যবহার করছেন। শহরের সাহিত্যানুরাগী সংস্কৃতিসেবীদের কয়েকজনকে নিয়ে নিয়মিত বৈঠকি আড্ডা গড়ে তুলেছেন। পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখনকার ঢাকার সঙ্গে বসুর ঢাকারই মিল বেশি ছিল। কাজেই পরিবেশটি বেশ কল্পনা করতে পারি, ঢাকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেই শান্ত ছোট শহরকে, সেই সবুজ রমনাকে আর ফেরত আনা যাবে না, কিন্তু সেই গৌরবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা অবশ্যই ফেরত আনতে পারি, আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে। বোস- আইনস্টাইন তত্ত্বের শতবার্ষিকীতে একথা আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় পুলিশের গুলিতে
আহত রকিবুল সরদার (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ভোর ৬টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু
হয়।
নিহত রকিবুল মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর এলাকার দক্ষিণ কামাইপুর
গ্রামের কালু সরদারের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, রকিবুলের পরিবারে স্ত্রী,
২ মেয়ে, বাবা, ৩ ভাই ও ১ বোন রয়েছে। তিনি ঢাকার উত্তর বাড্ডায় একটি ফার্নিচারের দোকানে
কাজ করতেন। দরিদ্র পরিবারের মাত্র ভরসা ছিলেন তিনি। তার উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল ছিল
পুরো পরিবার।
গত ২০ জুলাই বিকালে উত্তর বাড্ডা এলাকায় ছাত্র-জনতার একটি মিছিল বের
হলে আ. লীগের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ মিছিল দেখতে বাসা থেকে রকিবুল
রাস্তায় বের হয়। এসময় দুই পক্ষের মিছিলের মাঝখানে পড়ে যান তিনি। তখন হঠাৎ পুলিশের একটি
ছোড়াগুলি রকিবুলের পেটের সামনে দিয়ে ঢুকে পিছন দিয়ে বের হয়ে যায়। মুহূর্তেই মাটিতে
লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী শাবনুর বেগম বলেন, আমার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল ছিল আমাদের
সংসার। এখন আমাদের সংসার কে চালাবে। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। একটি গুলিতে সব স্বপ্ন
আজ মিথ্যা হয়ে গেল। এখন আমরা কীভাবে বাঁচবো।
নিহতের মামা এইচ এম মশিউর রহমান বলেন, রকিবুল ঢাকায় সোপা কাপড় সেলাইয়ের
কাজ করে তার সংসার চালাতো। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের ধাওয়া পালটা ধাওয়ার মধ্যে
থেকে একটি গুলি এসে লেগে রকিবুলকে শেষ করে দিল। তার সংসারে বাতি আজ নিভে গেল।
মন্তব্য করুন


নেত্রকোনার
কেন্দুয়ায় আশ্রয় দেওয়ার নামে সদ্য তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে (২৪) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
উঠেছে। এ সময় এক মাস বয়সী নবজাতক শিশুকে ছুড়ে ফেলে দেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ।
সোমবার
(১৮ মে) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আব্দুর রউফ মিয়া (৬০) মদন উপজেলার বাসিন্দা
এবং পেশায় একজন মুদি দোকানদার।
ভুক্তভোগী
নারী আনোয়ারার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নূরনগর গ্রামে। প্রায় এক বছর আগে
নেত্রকোনার মদন উপজেলার রিপন মিয়ার (৩০) সঙ্গে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে এক মাস
৭ দিন বয়সী একটি নবজাতক শিশু রয়েছে।
তবে
যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৫ মে স্বামী রিপন মিয়া আনোয়ালাকে একতরফা ডিভোর্স
(তালাক) দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
স্বামীর
ঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে রোববার বিকেলে ভুক্তভোগী তার শিশুকে কোলে নিয়ে বাপের বাড়ি সিরাজগঞ্জের
উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউরা ইউনিয়নের তেতুলিয়া কৈজানী নদী
পার হয়ে ঘাটে পৌঁছান তিনি। সেখানে ঘাট সংলগ্ন মুদি দোকানদার আব্দুর রউফের দোকানে গাড়ির
জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
পরেসন্ধ্যা
৭টার দিকে রউফ মিয়া রাতে তার বাড়িতে থেকে পরদিন সকালে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দেন ভুক্তভোগীকে।
নারী রউফের সঙ্গে রওনা হন। কিন্তু পথে গিয়ালী খালের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে রউফ তাকে
‘কুপ্রস্তাব’ দেয়।
আনোয়ারা
এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রউফ ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে নির্মমভাবে মাটিতে ছুড়ে ফেলে
দেয়। এরপর দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
ধস্তাধস্তির
একপর্যায়ে আনোয়ারা কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যান। তিনি সেখান থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে
চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে চিৎকার করে স্থানীয়দের বিস্তারিত জানান। স্থানীয়রা
তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেয়।
প্রায়
২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজিপ পর একটি পাটক্ষেত থেকে ওই নবজাতক শিশুটিকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায়
উদ্ধার করা হয়।
খবর
পেয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদ দ্রুত ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে ছুটে
যান। তিনি ভুক্তভোগী মা ও শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশ কেন্দুয়া
ও মদন থানা পুলিশ যৌথ অভিযান নামেন এবং সোমবার (১৮ মে) সকালে অভিযুক্ত আব্দুর রউফ মিয়াকে
গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মদন
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী
হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর
রউফকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুর শারীরিক অবস্থা
স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্য করুন


গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্যরা
(দ্য কমিশন অব এনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসাপিয়ারেন্স) আজ রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা জানান শিগগিরই তিনি আয়নাঘর পরিদর্শনে যাবেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে গুমের ঘটনায়
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল’ যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছে সেগুলো পরিদর্শনের
অনুরোধ জানান কমিশনের সদস্যরা। প্রধান উপদেষ্টা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করলে গুমের শিকার ব্যক্তিরা
আশ্বস্ত হবেন এবং অভয় পাবেন বলে জানান তারা।
বৈঠকে কমিশন সদস্যরা কয়েকটি গুমের ঘটনার
নৃশংস বর্ণনা দেন। এমনকি ৬ বছরের শিশুও গুমের শিকার হয়েছে বলে কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রধান উপদেষ্টা কমিশনের আহ্বানে সাড়া
দিয়ে বলেন, আপনাদের তদন্তে যে ঘটনাগুলো উঠে এসেছে তা গা শিউরে ওঠার মতো। আমি শিগগিরই
আয়নাঘর পরিদর্শনে যাব।
মন্তব্য করুন