

দক্ষিণ কোরিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার শতাধিক সেনা নিহত হয়েছে। দেশটির একজন সংসদ সদস্য জানান, চলতি মাসে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর থেকে অন্তত ১০০ জন উত্তর কোরীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
লি সাং-কওন নামে ওই এমপি জানান, হতাহতদের মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সেনাদের অপরিচিত যুদ্ধক্ষেত্র এবং ড্রোন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
গত অক্টোবর মাসে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তার জন্য ১০ হাজার সেনা পাঠায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে, প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার সেনাদের হতাহতের খবর পাওয়া যায়।
এর আগে, স্থানীয় সময় সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র উত্তর কোরীয় সেনাদের নিহত হওয়ার কথা জানান, তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
মুম্বইয়ে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে মহারাষ্ট্রের বিধায়ক ও সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিককে। তার এই মৃত্যুকে ঘিরে ভারতে তোলপাড় চলছে। সব মিডিয়ায় সংবাদ শিরোনাম হয়েছে এ ঘটনা। লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ সব কাহিনী। কারণ, বাবা সিদ্দিক একজন নামকরা রাজনীতিক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন হরিয়ানার গুরমাইল বলজিত সিং (২৩) এবং উত্তর প্রদেশের ধর্মরাজ কাশ্যপ (১৯)। তৃতীয় জন উত্তরপ্রদেশের শিব কুমার গৌতম হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে চতুর্থ একজন এই ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে মনে করা হয়। তিনি পলাতক রয়েছেন। তবে লরেন্স বিষ্ণুই শনিবার রাতের হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তাকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, তিনি একটি কুখ্যাত গ্যাংয়ের সদস্য। এই গ্যাংয়ের নাম লরেন্স বিষ্ণুই। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। অভিযোগ আছে লরেন্স বিষ্ণুই পাঞ্জাবের খালিস্তানপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। এই গ্যাংয়ে অস্ত্র চালাতে দক্ষ এমন সদস্য আছে ৭০০।
কে এই লরেন্স বিষ্ণুই: লরেন্স বিষ্ণুইয়ের জন্ম ১৯৯৩ সালে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে। ২০১০ সাল পর্যন্ত তাঁর জীবন কেটেছে রাজ্যের আবোহার শহরে। এরপর তিনি ডিএভি কলেজে ভর্তি হতে চণ্ডিগড়ে পাড়ি জমান। ২০১১ সালে যোগ দেন পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস স্টুডেন্টস কাউন্সিলে। সেখানে তার পরিচয় হয় ‘গ্যাংস্টার’ গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে। এরপর ধীরে ধীরে অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিষ্ণুইয়ের বিরুদ্ধে দুই ডজনের বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। রয়েছে হত্যা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ। যদিও এসব অভিযোগের কোনোটাই স্বীকার করেননি তিনি। গ্যাংয়ের সদস্যদের মাধ্যমে কারাগারে বসেও বাইরের অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে চণ্ডিগড়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড শুরু করেন বিষ্ণুই। ২০১৩ সাল নাগাদ তিনি ত্রাস সৃষ্টিকারী এক চরিত্রে পরিণত হন। কয়েকটি হত্যার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে পড়ে। পরে তার গ্যাং মদ বেচাকেনা ও অস্ত্র চোরাচালানে অর্থ লগ্নি শুরু করে। হত্যাকারীসহ ভয়ংকর সব অপরাধীদেরও আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে আসছে তারা। লরেন্স বিষ্ণুইয়ের নাম নতুন করে সামনে আসে ২০২২ সালে। সে বছরের ২৯ মে পাঞ্জাবের গায়ক সিধু মুসওয়ালাকে হত্যা করা হয়।
কারাগারে বিষ্ণুই: ২০১৪ সালে রাজস্থান পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ হয় লরেন্স বিষ্ণুইয়ের। এরপর তিনি কারাবন্দী হন। সেখান থেকেই আরও সংঘবদ্ধভাবে অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। কারাগারে থাকাকালে জস্বিন্দর সিং ওরফে রকি নামের আরেক অপরাধীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তার। ২০১৬ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন রকি। বন্দী অবস্থায়ও লরেন্স বিষ্ণুইয়ের প্রভাব-প্রতিপত্তি বেড়েই চলেছিল। রাজস্থানের ভারতপুর জেলায় যে কারাগারে তিনি বন্দী ছিলেন, সেখানকার কর্মকর্তাদের হাত করে নানা কার্যসিদ্ধি করতেন। ২০২১ সালে তাকে সেখান থেকে দিল্লির তিহার কারাগারে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই কারাগারের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আইপি কলের মাধ্যমে গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বিষ্ণুই। এ ছাড়া ২০২৩ সালে ভারতের ডানপন্থী নেতা সুখদেব সিং গোগামেদিকে জয়পুরে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সুখদেবের সঙ্গে অস্ত্রধারী একজন চা পান করছেন। তিনিই গুলি চালান। পরে বিষ্ণুইয়ের গ্যাংয়ের সদস্য রোহিত গোদারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সুখদেবকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। ২০১৮ সালে বলিউড তারকা সালমান খানকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে বিষ্ণুই গ্যাং। সে বছর মুম্বইয়ে সালমানের বাসায় হানা দেন সাম্পাথ নাথ নামে বিষ্ণুই গ্যাংয়ের এক সদস্য। তিনি দাবি করেন, কালো হরিণ শিকারের কারণে সালমানকে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তার ওপর। বিরল প্রজাতির এই হরিণকে বিষ্ণুই সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করে। সালমান খানকে সরাসরি হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন লরেন্স বিষ্ণুই। ভারতের যোধপুরে আদালতে এক শুনানি চলাকালে তিনি বলেছিলেন, ‘সালমান খানকে এই যোধপুরেই হত্যা করা হবে। তারপর তিনি আমাদের সত্যিকারের পরিচয় জানতে পারবেন।’
এরপর ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বইয়ের বান্দ্রায় সালমান খানের বাসার বাইরে গুলি চালানো হয়। এই এলাকাতেই শনিবার হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বাবা সিদ্দিক। সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও ছিল তার। সালমানের বাসার বাইরে গুলির পর সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল, এ কাজের জন্য দু’জনকে ভাড়া করেছিল বিষ্ণুই গ্যাং।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্যাপিটল ওয়ান অ্যারেনায় শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শপথ গ্রহণের পর তার প্রথম ভাষণে তিনি জানান, বাইডেন আমলের সব নির্বাহী আদেশ দ্রুত বাতিল করা হবে। শপথের অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে শুরু করেন তিনি।
জানা গেছে, শপথ নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প ওভাল অফিসে গিয়ে একাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাইডেনের শাসনামলের ৭৮টি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন। এর মধ্যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের আদেশও রয়েছে।
ট্রাম্প আদেশে স্বাক্ষর করার পর সেটি জনসাধারণকে দেখান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা ছাড়ার আগে রেকর্ডসংখ্যক ব্যক্তিকে ক্ষমা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, এমন আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেন বাইডেন।
ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, "যে ক্ষমাগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও দ্রুত বাতিল করা হবে।"
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি নির্বাহী আদেশেও স্বাক্ষর করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ট্রাম্পকে শপথ পাঠ করান। এ সময় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, তার স্ত্রী জিল বাইডেনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৭ সালে ন্যাশনাল মলে বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রথমবার শপথ নিয়েছিলেন। তবে এবার তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শপথ অনুষ্ঠান ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে একই কারণে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে শপথ নিয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের তাড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি জেপি নাড্ডা। গতকাল শনিবার ঝাড়খণ্ডের পালামৌতে এক জনসভায় তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে বের করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের নাগরিক ঝাড়খণ্ডের স্থানীয় নারীদের বিয়ে করেছেন, তাদের সন্তানদের আদিবাসী অধিকার দেওয়া হবে না। এই তথ্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া থেকে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, “প্রত্যেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ঝাড়খণ্ড থেকে ‘ঝেঁটিয়ে’ বিদায় করা হবে। তারা আমাদের স্থানীয় আদিবাসী বোনদের বিয়ে করে আদিবাসী জমির অধিকার পেতে চায়, কিন্তু তাদের সে ইচ্ছা পূর্ণ হবে না। তাদের কখনোই আদিবাসী অধিকার দেওয়া হবে না, এমনকি তাদের সন্তাদেরও আদিবাসী অধিকার দেওয়া হবে না।"
তিনি অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশের পেছনে ক্ষমতাসীন জনমুক্তি মোর্চা ও কংগ্রেসের জোট সরকারের হাত রয়েছে। তাদেরই ইন্ধনে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বেড়েছে। জেপি নাড্ডা আরও বলেন, বিজেপি ঝাড়খণ্ডে ক্ষমতায় এলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে ঝাড়খণ্ডে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেছিলেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার গড়লে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের "উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হবে"।
মন্তব্য করুন


ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের এমপি ও দলটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এ সময় তার বোন ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, শিব সেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) নেতা সঞ্জয় রাউতসহ একাধিক বিরোধী দলের সংসদ সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে তাদের আটক করা হয়। এ নিয়ে আজ সোমবার সকালে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, বহু রাজনীতিবিদ ও কর্মী প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছেন। পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি আরো নাটকীয় হয়, যখন তৃণমূল সংসদ সদস্য মিতালি বাগ আচমকা অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং রাহুল গান্ধী তাকে সাহায্য করেন।
দিনের শুরুতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছিল।
কিন্তু পুলিশ আগেই পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশের রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং প্রচুর নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে। কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড টপকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ঘেরাও করে আটক করা হয়। এই পরিস্থিতির জেরে লোকসভা ও রাজ্যসভা দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ — নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা পরিবর্তন ও ভোট কারচুপির মাধ্যমে বিজেপিকে জেতাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।
গত বছরের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই অভিযোগ বাড়ছে। কংগ্রেস, শিব সেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) ও এনসিপি (শারদ পাওয়ার গোষ্ঠী) অভিযোগ করেছে, ভোটার তালিকায় হেরফের করে বিজেপিকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তারা দেখিয়েছে—ফেডারেল নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের ছয় মাসের মধ্যেই মহারাষ্ট্রে অস্বাভাবিক হারে নতুন ভোটার যোগ হওয়া। একই ধরনের অভিযোগ কর্ণাটকের লোকসভা নির্বাচন নিয়েও উঠেছে।
গত সপ্তাহে রাহুল গান্ধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে তথ্য-প্রমাণ দেখিয়ে দাবি করেন, ভোটার তালিকায় ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে।
তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান—ভোটার তালিকার একটি খসড়া প্রকাশ করা হোক, যাতে বিরোধীরা ভুল খুঁজে বের করতে পারে।
বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়, যখন নির্বাচন কমিশন বিহারের ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়া শুরু করে। যা রাজ্যের নির্বাচনের কয়েক মাস আগে চালু হয়। এই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়।
আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, কমিশনের এই পদক্ষেপ তার ক্ষমতার বাইরে এবং সময়টি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—যাতে বিরোধীদের ভোটব্যাংক বাদ দেওয়া যায়। এ ছাড়া ভোটার পুনর্যাচাইয়ের জন্য আধার বা কমিশনের নিজস্ব পরিচয়পত্রের মতো সাধারণ সরকারি আইডি বাতিল করায় বিতর্ক বাড়ে। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়া চালু রাখতে অনুমতি দেয়, তবে নির্দেশ দেয় যেন প্রকৃত ভোটারদের বাদ না দেওয়া হয় এবং যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের আপিল করার যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগের জবাবে কমিশন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছে—তিনি যেন সই করা হলফনামায় প্রমাণসহ তার দাবি জমা দেন।
সূত্র : এনডিটিভি
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পতন হয় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। ওই দিন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে খবর প্রকাশ করছে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশ থেকে দলে দলে পালিয়ে ভারতে যাচ্ছেন।
তবে ভারতের প্রসিদ্ধ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ এ ধরনের খবরকে ভুয়া বলে আখ্যা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটছে না। হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ থেকে দলে দলে মানুষের ভারতে পালিয়ে যাওয়া বা ভারতে ঢোকার কোনও চেষ্টা হয়নি।
রবিবার প্রকাশিত দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এমনটাই বলা হয়েছে।
দ্য হিন্দু বলছে, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সীমান্তে এক হাজার ৩৯৩ বাংলাদেশি আটক হয়েছেন। এর আগে জানুয়ারি থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত (আওয়ামী লীগ সরকারের সময়) ১ হাজার ১৪৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। যার অর্থ আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর হাজার হাজার মানুষের সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার কোনও চেষ্টার ঘটনা ঘটেনি।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সব মিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্তে মোট ৩ হাজার ৯০৭ অনথিভুক্ত ব্যক্তি আটক হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশি, ভারতীয়, এবং অন্যান্য জাতীয়তার মানুষ। ২০২৩ সালে এ সময় পর্যন্ত আটক হওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩ হাজার ১৩৭, যা ২০২২ সালের ৩ হাজার ৭৪ জনের কাছাকাছি।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ জানিয়েছে, গত আগস্ট মাস থেকে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে সীমান্ত। এমএইচএ’র নির্দেশে বৈধ নথি ছাড়া কাউকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত কোনও কাগজপত্র ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশকারী ৮৭৩ ভারতীয়কে আটক করা হয়েছে।
বিএসএফের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পর সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের নিরাপত্তার ভয়ে ভারতে প্রবেশ করতে চাইতে পারে। কিন্তু রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এমন কোনও দৃশ্য দেখা যায়নি। উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর থেকে কয়েকটি খবর পাওয়া গেলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারতে আশ্রয়ের জন্য কোনও বড় ধরনের গণ-অভিবাসনের খবর পাওয়া যায়নি।
বিএসএফ আরও বলেছে, ৫ আগস্ট থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন এমন ভারতীয়র সংখ্যা ৩৮৮ জন। এ বছর মিয়ানমারসহ অন্যান্য জাতিসত্তার ১০৯ জনকেও সীমান্তে আটক করা হয়েছে।
২০১৮, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ এবং ২০২২ সালে সীমান্তে আটক বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৯৯৫ জন, ২ হাজার ৪৮০ জন, তিন হাজার ২৯৫ জন, দুই হাজার ৪৫১ জন এবং তিন হাজার ৭৪ জন।
অর্থাৎ ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সীমান্তে আটক হওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা ২,৪৮০ থেকে ৩,২৯৫-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই ধারাবাহিকতা থেকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনে বৈধ নথিপত্র ছাড়া কাউকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
৫ আগস্টের পর বিএসএফ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনেক বার বৈঠক করেছে। সূত্র: দ্য হিন্দু
মন্তব্য করুন


হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য একটি যুগান্তকারী সুবিধা চালু করেছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। এখন থেকে ইন্টারনেট বা মোবাইল ডেটা ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে নুসুক অ্যাপ।
বৃহস্পতিবার (০৭ আগস্ট) সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর গালফ নিউজের।
এ বিষয়ে হজ ও ওমরাহবিষয়ক মুখপাত্র ড. ঘাসান আল নুওয়াইমি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রাপথ আরও সহজ, সাশ্রয়ী এবং ডিজিটালভাবে সাবলীল হবে। ইন্টারনেট ছাড়াই সুবিধা মিলবে আল রওদাহ আল শরিফায় প্রবেশের অনুমতিপত্র ইস্যু, হারামাইন হাই-স্পিড ট্রেনের টিকিট বুকিং, নুসুক ম্যাপের মাধ্যমে পথনির্দেশনা, যে কোনো জিজ্ঞাসা বা রিপোর্ট জমা দেওয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ‘নুসুক এআই’ সহায়তা।
নুসুক অ্যাপের সিইও আহমেদ আল মাইমান বলেন, এই সুবিধা ভ্রমণকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করে তুলবে, ভিড় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং হজযাত্রীদের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা কমাবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা একটি সর্বজনীন, প্রতিবন্ধকতাহীন প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে আগত হজ ও ওমরাহ যাত্রী নির্বিঘ্নে সব ডিজিটাল সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
নুসুক অ্যাপ (Nusuk App) হলো সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক একটি সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এটি মূলত হজ ও ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি ওয়ান-স্টপ সলিউশন। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের যাত্রা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ভিসা, ফ্লাইট, হোটেল বুকিং এবং মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশের অনুমতি সবকিছু একটি অ্যাপের মাধ্যমে সহজে সম্পন্ন করতে পারে।
নুসুক অ্যাপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
ই-ভিসা আবেদন
এই অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই ই-ভিসার জন্য আবেদন করা যায়।
প্যাকেজ বুকিং
হজ ও ওমরাহর জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ বুক করার সুবিধা রয়েছে।
হোটেল ও ফ্লাইট বুকিং
মক্কা ও মদিনায় থাকার জন্য হোটেল এবং ভ্রমণের জন্য ফ্লাইট বুক করা যায়।
পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ
মসজিদে নববী এবং মসজিদুল হারামে প্রবেশের জন্য অনুমতি পাওয়া যায়।
ট্র্যাকিং ও নেভিগেশন
এই অ্যাপে মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন স্থান সহজে খুঁজে বের করার জন্য ট্র্যাকিং ও নেভিগেশন সুবিধা রয়েছে।
অফলাইন সুবিধা
সম্প্রতি চালু হওয়া একটি ফিচারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই নুসুক অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য আরও সুবিধা নিয়ে এসেছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
জাতিসংঘের এইড চিফ মার্টিন গ্রিফিথস এক বিবৃতিতে বলেছেন, "বিশ্ব কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে রাফাহকে রক্ষা করার জন্য আবেদন জানালেও সেখানে অবিলম্বে একটি স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সহজ ভাষায় বললে, রাফাহতে স্থল অভিযান চালালে সেটি এমন এক ট্র্যাজেডি হবে যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব না।”
গাজার রাফাহতে অবস্থিত উদ্বাস্তুদের একটি ক্যাম্প।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, ইসরায়েল শীঘ্রই গাজার রাফাতে হামলা চালাতে পারে। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, গাজায় সাহায্য প্রদানে ইসরায়েলের ধীর অগ্রগতিকে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হওয়ার বা ন্যায্যতা দেওয়ার একটি অজুহাত হিসেবে দেখা উচিত নয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েলের ওপর প্রভাব আছে এমন দেশগুলোকে সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে ১.২ মিলিয়নেরও বেশি উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনি রাফাতে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রায় সাত মাসব্যাপী যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার জন্য হামাসের সর্বশেষ প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি 'দীর্ঘ প্রতিশ্রুত' হামলা চালানো হবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন।
জাতিসংঘের এইড চিফ মার্টিন গ্রিফিথস এক বিবৃতিতে বলেছেন, "বিশ্ব কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে রাফাহকে রক্ষা করার জন্য আবেদন জানালেও সেখানে অবিলম্বে একটি স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সহজ ভাষায় বললে, রাফাহতে স্থল অভিযান চালালে সেটি এমন এক ট্র্যাজেডি হবে যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব না।"
গাজার উত্তরাঞ্চলে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে বলে আন্তোনিও গুতেরেস জানালেও তিনি সেখানে আরো সাহায্য পাঠানোর ওপর জোর দিয়েছেন। গুতেরেস বিশেষভাবে ইসরায়েলের প্রতি গাজার উত্তরাঞ্চলের দুটি সংযোগস্থল খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্চ মাসে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজায় দুর্ভিক্ষ আসন্ন এবং সম্ভবত মে মাসের মধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চলে গাজায় ও জুলাই মাসের মধ্যে ছিটমহলগুলোতে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। গুতেরেস বলেন, গাজার উত্তরাঞ্চলের অসহায় মানুষ "ইতোমধ্যেই ক্ষুধা ও রোগে মারা যাচ্ছে।"
সাহায্য বাড়াতে এবং রাফাহতে হামলা এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ইসরায়েলের উপর কী প্রভাব রাখতে পারে এমন প্রশ্ন করা হলে গুতেরেস বলেন, "একটি সম্পূর্ণ বিধ্বংসী ট্র্যাজেডি এড়াতে সম্ভাব্য সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করাই গুরুত্বপূর্ণ।"
মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, গাজায় সাহায্য বাড়ানোর জন্য ইসরায়েলকে যে পদক্ষেপ নিতে হবে তা নিয়ে তিনি বুধবার (১ মে) নেতানিয়াহুর সাথে আলোচনা করবেন।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় হাজারের ওপর মানুষ নিহত হয় এবং ২৫০ জনের বেশী মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারপরেই হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ও জিম্মিদের উদ্ধার করতে গাজায় সামরিক অভিযান চালানো শুরু করে ইসরায়েল। ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় মৃতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন


ভারতের কর্ণাটক রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অন্তত ৪০০ মুসলিম পরিবারকে রাতারাতি গৃহহীন করার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে প্রায় ২০০টি ঘর গুঁড়িয়ে দেয়ার ফলে শত শত মুসলিম পরিবার মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্ণাটকে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস এবং কেরালার বাম ফ্রন্টের মধ্যে নজিরবিহীন বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, উত্তর ভারতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিতর্কিত ‘বুলডোজার রাজ’ এখন কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারও অনুসরণ করছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২২ ডিসেম্বর ভোর ৪টায় বেঙ্গালুরুর কোগিলু গ্রামের ফকির কলোনি ও ওয়াসিম লেআউটে উচ্ছেদ অভিযান চালায় বেঙ্গালুরু সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। বেঙ্গালুরুতে বছরের এই সময়টায় প্রচণ্ড শীত বিরাজ করছে। এমন এক সময়ে ৪০০ মুসলিম পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করল কংগ্রেস।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, তারা প্রায় ২৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। তাদের প্রত্যেকের কাছে বৈধ আধার কার্ড এবং ভোটার আইডি রয়েছে। কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই পুলিশ তাদের জোরপূর্বক বের করে দিয়েছে। অনেক পরিবার তাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং আসবাব সরিয়ে নেয়ারও সময় পায়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সবচেয়ে সোচ্চার হয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন। কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুবিরোধী রাজনীতির অভিযোগ তুলে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘দুঃখজনক, কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারের অধীনে এখন সংখ্যালঘুবিরোধী রাজনীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কোনো সরকার ভয় এবং পাশবিক শক্তির মাধ্যমে শাসন করলে সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মানবিক মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়।’
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে দেশটির বাংলাভাষী মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। এ ছাড়া খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিনকে ঘিরেও দেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।
মন্তব্য করুন


তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ইরানে একটি বড় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংক্রান্ত এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, গত মাসে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েলের দিকে ১৮০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে একটি বড় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে, যদিও তারা এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, “ইসরায়েল বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিজেদের আত্মরক্ষা জোরদার করে তারা এই হামলা চালাবে।” তবে সূত্রটি হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এছাড়াও, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা তেল ও পারমাণবিক স্থাপনার পরিবর্তে ইরানের সামরিক স্থাপনায় সীমিত আক্রমণের পরিকল্পনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সূত্রের মতে, ইসরায়েল আগামী ৫ নভেম্বরের আগে, অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালাতে পারে। চলতি মাসেই এ হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
মন্তব্য করুন


চাঁদে সূর্য ওঠার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভারের কোনো সাড়া পায়নি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।
ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, চাঁদে যতক্ষণ সূর্যের আলো থাকবে, তত ক্ষণ বিক্রম এবং প্রজ্ঞানের জেগে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ইসরো এক চন্দ্রদিবস, অর্থাৎ পৃথিবীর হিসাবে আগামী ১৪ দিন অপেক্ষা করবে।
তিনি আরও বলেন, এখনও পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু সাড়া যে পাওয়া যাবেই না, তেমন কথা বলতে পারছি না। আমরা চাঁদের হিসাবে গোটা একটা দিন অপেক্ষা করতে পারি। কারণ, এই সময়ের মধ্যে অনবরত সূর্যের আলো পড়বে চাঁদের মাটিতে। ফলে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। ১৪তম দিনেও সাড়া মিলতে পারে বিক্রম, প্রজ্ঞান থেকে।
চাঁদের মাটিতে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়েছে বিক্রম এবং প্রজ্ঞান। তারপর তাদের ‘স্লিপ মোডে’ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাতে সূর্যের আলো না থাকায় এই যন্ত্রগুলো নিষ্ক্রিয় ছিল। চাঁদে রাতের তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। কখনও কখনও হিমাঙ্কের ২০০ থেকে ২৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত নীচে নামতে পারে পারদ। এই তীব্র ঠান্ডা চন্দ্রযানের যন্ত্রপাতি সহ্য করতে পেরেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে সূর্যের আলো পেয়ে যন্ত্রগুলো গরম হলে আবার তা থেকে সাড়া মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার যাতে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, তার জন্য বিক্রমের রিসিভার চালু রেখেছিল ইসরো।
মন্তব্য করুন